আমেরিকা

ম্যানহাটনের আইসিই কার্যালয়ের বাইরে আগুন, সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য আটক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৫:৪
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে আগুন লাগানোর ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য অ্যান্ড্রু অ্যারাবাকাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই), অভিবাসন আদালত এবং এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক কার্যালয়সহ একাধিক ফেডারেল দপ্তর রয়েছে। ঘটনায় তিনজন সামান্য আহত হন এবং এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে।


কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে অ্যারাবাকা একটি বালতিতে আনা পেট্রোল ভবনের প্রবেশপথের সিঁড়িতে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি আতশবাজিও বিস্ফোরণ ঘটান। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আটক করেন।

 

 

 

 


এফবিআই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির কাছে একটি এয়ারসফট রাইফেল, ছুরি, কুঠার, হাতুড়ি, মাশেটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি গ্রেপ্তারের সময় আইসিই-বিরোধী ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দেন। ফক্স নিউজও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছে আইসিই-বিরোধী প্রচারসামগ্রী পাওয়া গেছে।


এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জেমস বার্নাকল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানুষকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়েই ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু অ্যারাবাকা ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দায়িত্বে কাজ করেছেন। 

 

 

 


নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়া এবং সন্দেহভাজনকে দ্রুত আটক করা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি পাওয়া গেছে। এদিকে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্স ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখছে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
গবেষণার বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন দায়িত্বে নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশি নাহিয়ান বিন খালেদ

যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত মর্যাদাপূর্ণ ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশি উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ নাহিয়ান বিন খালেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।   নাহিয়ান বিন খালেদ জানান, তিনি কানেক্টিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হেভেনে অবস্থিত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইয়েল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ অন ইনোভেশন অ্যান্ড স্কেল’-এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর উন্নয়ন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি, উদ্ভাবন এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।   তিনি জানান, তাঁর গবেষণার বড় অংশজুড়ে থাকবে বাংলাদেশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে গবেষণার পাশাপাশি অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   নিজের পোস্টে নাহিয়ান বিন খালেদ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণা খাতে অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় নতুন পিএইচডিধারী অর্থনীতিবিদদের জন্য চাকরির বাজার অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নীতিনির্ধারণ এবং একাডেমিক গবেষণায় পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।   এমন বাস্তবতায় ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং নীতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিজের আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ভালো অর্থনীতি চর্চা এবং গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যতটুকু সম্ভব অবদান রাখতে চান। সেই লক্ষ্য পূরণে সবার কাছে দোয়াও কামনা করেছেন তিনি।   ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এর অধীনস্থ ‘ইয়েল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ অন ইনোভেশন অ্যান্ড স্কেল’ উন্নয়ন অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নীতিনির্ধারণে কার্যকর গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। নাহিয়ান বিন খালেদের এই নিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন গবেষণাকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১০:২৭
ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে ইরানি ড্রোন ধ্বংসের অভিযানে নিহত মার্কিন সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটন। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে ১৭তম মার্কিন সেনার মৃত্যু, নিহত সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটনের পরিচয় প্রকাশ

মাত্র এক বছর আগে টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সহপাঠীদের সাথে উল্লাসরত ইসাবেলা গনজালেস। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

গ্র্যাজুয়েশনের এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরছে ১৯ বছরের ইসাবেলার মরদেহ, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বন্ধুরা

Trump and mark rubio ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

২ লাখ ৫০ হাজার চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের দাবি ট্রাম্পের, বাড়ছে উদ্বেগ

একই রাস্তায় পাশাপাশি থাকা ও সমমূল্যের দুটি বাড়ির হোম ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামে শত শত ডলারের নজিরবিহীন পার্থক্য। ছবি: সংগৃহীত
একই বাড়ি, কিন্তু ইন্সুরেন্স খরচ দ্বিগুণ! কেন আপনার প্রতিবেশী কম প্রিমিয়াম দিচ্ছেন?

যুক্তরাষ্ট্রে একই রাস্তায় পাশাপাশি থাকা, একই আকার ও মূল্যের দুটি বাড়ির জন্যও হোম ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়ামে বছরে শত শত ডলারের পার্থক্য হতে পারে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পার্থক্যের পেছনে শুধু বাড়ির অবস্থান বা নির্মাণমান নয়, বরং বাড়ির মালিকের আর্থিক প্রোফাইল, ক্রেডিট ইতিহাস এবং আগের ইন্সুরেন্স ক্লেম রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরবান ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই মূল্যের বাড়ির ক্ষেত্রেও নিম্ন আয়ের অনেক ক্রেতাকে তুলনামূলক বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম দিতে হয়। গবেষণায় মর্টগেজ ও হোম ইন্স্যুরেন্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এলাকার মধ্যম আয়ের ১২০ শতাংশের বেশি আয় করা বাসার মালিকরা প্রতি ১ হাজার ডলার বাড়ির মূল্যের বিপরীতে গড়ে ২ দশমিক ১০ ডলার কম ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম দেন, যেখানে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশের কম আয়ের ক্রেতাদের খরচ বেশি পড়ে।   গবেষকদের মতে, এই পার্থক্য কেবল বাড়ির অবস্থান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বা সম্পত্তির বৈশিষ্ট্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ক্রেতার আর্থিক অবস্থা, বিশেষ করে ক্রেডিট প্রোফাইল, বড় ভূমিকা রাখে।   ইন্সুরেন্স খাতের বিশেষজ্ঞ জন এসপেনশাইড, যিনি ইন্স্যুরেন্স ব্রোকার্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও এজেন্সি প্রধান, রিয়েলটর ডটকমকে বলেন, অনেকেই মনে করেন হোম ইন্স্যুরেন্সের দাম পুরোপুরি বাড়ির ওপর নির্ভর করে। বাস্তবে এর বড় অংশ নির্ধারিত হয় বাড়ির মালিকের রিস্ক প্রোফাইলের ভিত্তিতে।   তার ভাষায়, একই বাড়ি, একই ছাদ, একই রাস্তা হলেও দুই ব্যক্তির প্রিমিয়াম এক নাও হতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা জানান, ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো বাড়ির বয়স, নির্মাণমান, সংস্কারের ইতিহাস, অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকির পাশাপাশি মালিকের আগের ইন্সুরেন্স ক্লেম ইতিহাসও মূল্যায়ন করে। যাদের দীর্ঘদিন ইন্সুরেন্স থাকলেও ক্লেম করার সংখ্যা কম, তাদের তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   হোম ইন্স্যুরেন্স বিশেষজ্ঞ মেলানি মুসনের মতে, ক্রেডিট স্কোরও হোম ইন্স্যুরেন্সের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক বিমা কোম্পানি প্রচলিত ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ‘ইন্স্যুরেন্স বেইজড ক্রেডিট স্কোর’ ব্যবহার করে, যা ভবিষ্যতে ক্লেম করার সম্ভাবনা মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়।   তার মতে, একই বাড়ির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ ও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দুই মালিকের মধ্যে মাসিক প্রিমিয়ামের পার্থক্য ২০ থেকে ২০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে, যা বাড়ির মূল্য ও ঝুঁকির মাত্রার ওপর নির্ভর করে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কম আয়ের প্রত্যেক ব্যক্তির ক্রেডিট স্কোর খারাপ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক স্বল্প আয়ের মানুষেরও চমৎকার ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে। আবার উচ্চ আয়ের কারও স্কোরও দুর্বল হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত আর্থিক আচরণই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ বাড়ির ক্রেতাই বাড়ি কেনার প্রক্রিয়ার শেষ দিকে এসে বুঝতে পারেন যে তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের খরচে এত বড় প্রভাব ফেলছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ি কেনার আগে একাধিক ইন্সুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে কোটেশন নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে হোম ও অটো ইন্স্যুরেন্স একসঙ্গে করলে অনেক ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া ডিডাক্টিবল বাড়ানো এবং পুরোনো ছাদ পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপও প্রিমিয়াম কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নতুন ছাদ স্থাপন করলে হোম ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম ইন্স্যুরেন্সের খরচ কমাতে শুধু বাড়ির অবস্থান নয়, নিজের ক্রেডিট ইতিহাস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই সম্ভাব্য ইন্সুরেন্স ব্যয় সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৯:১৫
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মৃত্যুর পরও কার নামে যাচ্ছিল ১০ কোটি ডলার? শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ল বড় রহস্য

ফ্লোরিডার পাম বে শহরের একটি বাড়ির মূল দরজার সামনে দেখা যায় বিশাল অ্যালিগেটর। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির মূল দরজায় পৌনে ৮ ফুটের অ্যালিগেটর, গভীর রাতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে পুরো পরিবার

ছবি : সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইস সদর দপ্তরে হামলার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইসসহ আটক সশস্ত্র ব্যক্তি

ছবি : সংগৃহীত
ম্যানহাটনের আইসিই কার্যালয়ের বাইরে আগুন, সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য আটক

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে আগুন লাগানোর ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য অ্যান্ড্রু অ্যারাবাকাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই), অভিবাসন আদালত এবং এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক কার্যালয়সহ একাধিক ফেডারেল দপ্তর রয়েছে। ঘটনায় তিনজন সামান্য আহত হন এবং এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে অ্যারাবাকা একটি বালতিতে আনা পেট্রোল ভবনের প্রবেশপথের সিঁড়িতে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি আতশবাজিও বিস্ফোরণ ঘটান। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আটক করেন।         এফবিআই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির কাছে একটি এয়ারসফট রাইফেল, ছুরি, কুঠার, হাতুড়ি, মাশেটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি গ্রেপ্তারের সময় আইসিই-বিরোধী ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দেন। ফক্স নিউজও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছে আইসিই-বিরোধী প্রচারসামগ্রী পাওয়া গেছে। এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জেমস বার্নাকল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানুষকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়েই ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু অ্যারাবাকা ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দায়িত্বে কাজ করেছেন।        নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়া এবং সন্দেহভাজনকে দ্রুত আটক করা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি পাওয়া গেছে। এদিকে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্স ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৫:৪
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন পকেটে, গ্যাসের ছড়াল দাম ৪ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর নতুন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটা যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ, তাদেরই আইনজীবীর খরচ দিচ্ছেন করদাতারা

0 Comments