বিশ্ব

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকসহ নিহত ১০, তীব্র নিন্দা ভারতের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২২:১০
রুশ হামলার পর কৃষ্ণসাগরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
রুশ হামলার পর কৃষ্ণসাগরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওদেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউক্রেনের নৌবাহিনী সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওদেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক। হামলায় চার ভারতীয় নিহত হন এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।

 

ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টাবোঝাই জাহাজটিতে রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। নিহতদের মধ্যে চার ভারতীয় ছাড়াও সিরীয় নাবিক এবং একজন ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক পাইলট রয়েছেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে নয়াদিল্লি।

 

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওদেসা বন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুধু মানবিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নতুন কৌশলে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা সংগঠনের। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশি বাধার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ভারতের ‘তেলাপোকা’ জোটের

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু সমর্থক আহত হওয়ার পরও সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন। তবে আপাতত রাজপথে নতুন কোনো মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ফের মিছিল হলে পুলিশ আবারও বলপ্রয়োগ করতে পারে।   রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে মিছিল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না।   সংগঠনটির ভাষ্য, আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না। বরং বিকল্প উপায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অনেক তরুণ-তরুণী আহত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মসূচি দিলে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।   সোমবার দিল্লির মধ্যাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। তবে হতাহত ও আহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।   মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় প্রায় ৫০০ আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।   আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “আমরা আপাতত আর কোনো মিছিল করব না। কারণ আমরা চাই না আবারও তরুণদের ওপর হামলা হোক।” একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সমর্থকদের, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।   ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন সময়ের সঙ্গে বড় আকারের সরকারবিরোধী যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আন্দোলনটি নতুন গতি পায়।   আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়ম নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির প্রতিফলন।   আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী নেতা সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ।   এদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করাই উচিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাকরির সংকট, নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সরকারের জন্য ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৬:২৮
জর্ডানের আল-রুকবান এলাকায় মার্কিন সেনা আবাসনে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বহু সেনা নিহতের দাবি

ইরানের হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় দুই সপ্তাহে আহত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা, চাপের মুখে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-১এ ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এদুয়ার্দো বলসোনারো। ছবি: সংগৃহীত

কারাদণ্ডের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেলেন ব্রাজিলের সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে

রুশ হামলার পর কৃষ্ণসাগরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকসহ নিহত ১০, তীব্র নিন্দা ভারতের

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওদেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউক্রেনের নৌবাহিনী সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওদেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক। হামলায় চার ভারতীয় নিহত হন এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।   ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টাবোঝাই জাহাজটিতে রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। নিহতদের মধ্যে চার ভারতীয় ছাড়াও সিরীয় নাবিক এবং একজন ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক পাইলট রয়েছেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।   ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে নয়াদিল্লি।   ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওদেসা বন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুধু মানবিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২২:১০
নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে গ্রেপ্তার করা হবে না, স্পষ্ট জানালেন ট্রাম্প

ইবোলায় প্রাণ হারানো একটি এতিমখানার চতুর্থ শিশুর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস

কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে প্রাণহানি ৯৩০ ছাড়াল, একদিনেই মারা গেছেন ৩৭ জন

ভারতে দুর্যোগ, ছবি: সংগৃহীত

বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত, প্রাণহানি বেড়ে ২৫

সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া এক তরুণের মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছে মানসিক চাপের বিষয়টি। ছবি: সংগৃহীত
৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর ‘সরি পাপা’ লিখে ভারতীয় যুবকের আত্মহত্যা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হওয়ার মানসিক চাপে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগে তিনি বাবার উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে বারবার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি না পাওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, নিহত তরুণের নাম আনন্দ। তিনি ২০২৪ সালে কানপুরের বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএসআইটি (PSIT) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় তারা বড় ছেলের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে বিহারে গিয়েছিলেন। পরে বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে গৃহকর্মী প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ লাইনের একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিরকুটে তিনি লিখেছেন, “সরি পাপা, আমি সরকারি চাকরির জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।”   নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ পাওয়ার গ্রিড করপোরেশনে এক বছরের শিক্ষানবিশি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আনন্দ নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না। গত কয়েক মাস ধরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। পরিবার তাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের ব্যর্থতা নিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।   গোবিন্দ নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অশোক কুমার দুবে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে না পারার হতাশা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় কানপুরের ভৈরব ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।   ভারতে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। সীমিত সংখ্যক পদ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিষ্ঠানের মানসিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ২২:৩৩
ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত

ইরাকে ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে নিহত মার্কিন সেনা, আহত আরও একজন

ইরানে নতুন দফার বিমান হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হতেই ইরানে মার্কিন বিমান হামলা শুরু

বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে পশ্চিম তীরে নিহত এক ফিলিস্তিনি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণ

0 Comments