ইরান যুদ্ধে কমেছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, রাশিয়া-চীনের সম্ভাব্য সুযোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো বড় সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৩৮ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসও এ বিষয়ে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক মজুত থেকেও অস্ত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে সম্ভাব্য অন্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কম থাকলে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে হিসাব করতে পারে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লাগতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, এসব অস্ত্রের কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধপূর্ব মজুত পুনর্গঠনে তিন বছর বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
এই পরিস্থিতির কৌশলগত প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব অস্ত্রের মজুত কমে গেলে একই সময়ে একাধিক সামরিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিপক্ষরা নতুন করে হিসাব করতে পারে।
তবে এর অর্থ রাশিয়া বা চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এমন নয়। উদ্বেগটি মূলত সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত দীর্ঘ সময় কম থাকলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে লকহিড মার্টিনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
তবে উৎপাদন বাড়ালেই দ্রুত ঘাটতি পূরণ হবে না। রাইনমেটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরমিন প্যাপারগার জানিয়েছেন, এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পুনর্গঠনে দুই বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ৬ আগস্ট বলেছেন, কিছু শক্তিশালী মার্কিন অস্ত্রের সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত থাকলেও কয়েকটি অস্ত্রের ক্ষেত্রে মজুত কমে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। .
ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয় নয়। দীর্ঘ সংঘাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র কত দ্রুত ব্যবহার হয়ে যেতে পারে এবং সেই মজুত পুনর্গঠনে কত সময় লাগে, সেটিও ওয়াশিংটনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মজুত দ্রুত পুনর্গঠন করা না গেলে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা আরও জটিল হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো বড় সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৩৮ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নিউইয়র্ক টাইমসও এ বিষয়ে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক মজুত থেকেও অস্ত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে সম্ভাব্য অন্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কম থাকলে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে হিসাব করতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লাগতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, এসব অস্ত্রের কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধপূর্ব মজুত পুনর্গঠনে তিন বছর বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিস্থিতির কৌশলগত প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব অস্ত্রের মজুত কমে গেলে একই সময়ে একাধিক সামরিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিপক্ষরা নতুন করে হিসাব করতে পারে। তবে এর অর্থ রাশিয়া বা চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এমন নয়। উদ্বেগটি মূলত সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত দীর্ঘ সময় কম থাকলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে লকহিড মার্টিনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়ালেই দ্রুত ঘাটতি পূরণ হবে না। রাইনমেটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরমিন প্যাপারগার জানিয়েছেন, এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পুনর্গঠনে দুই বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ৬ আগস্ট বলেছেন, কিছু শক্তিশালী মার্কিন অস্ত্রের সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত থাকলেও কয়েকটি অস্ত্রের ক্ষেত্রে মজুত কমে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। . ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয় নয়। দীর্ঘ সংঘাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র কত দ্রুত ব্যবহার হয়ে যেতে পারে এবং সেই মজুত পুনর্গঠনে কত সময় লাগে, সেটিও ওয়াশিংটনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মজুত দ্রুত পুনর্গঠন করা না গেলে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা আরও জটিল হতে পারে।
পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন, শেষ পর্যন্ত উঠল প্রায় ৩৫ লাখ টাকা!
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
কোকা-কোলার নিজের পছন্দমতো লেখা দিয়ে ক্যান তৈরির অনলাইন ব্যবস্থায় কোন বার্তা গ্রহণ করা হচ্ছে আর কোনটি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘যিশুই প্রভু’ ও ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’র মতো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বার্তা প্রত্যাখ্যান করলেও একই ব্যবস্থা ‘নাস্তিক হিসেবে গর্বিত’, ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ করো’ এবং শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনকারী অত্যন্ত আপত্তিকর একটি বার্তার নমুনা তৈরি করতে দিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর কোকা-কোলা জানিয়েছে, এটি কোম্পানির নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন নয়। তাদের দাবি, অনলাইন ব্যবস্থায় একটি ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’ তৈরি হয়েছিল। সমস্যাটি সমাধানের কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট নমুনা দেখানোর সুবিধা বন্ধ এবং নতুন ব্যক্তিগতকৃত পণ্যের অর্ডার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ফক্স নিউজ ডিজিটাল কোকা-কোলার অনলাইন ক্যান তৈরির ব্যবস্থায় ১৮ অক্ষরের মধ্যে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য লিখে পরীক্ষা চালায়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যিশুই প্রভু’ এবং ‘আল্লাহই প্রভু’ লেখা গ্রহণ করেনি ব্যবস্থাটি। একইভাবে ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নামও প্রত্যাখ্যান করা হয়। কোনো বার্তা প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যবহারকারীদের জানানো হচ্ছিল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন, পরিচিত ব্যক্তি, জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দল বা নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নামের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দের পাশাপাশি ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত বার্তা অনুমোদন নাও পেতে পারে। কিন্তু একই পরীক্ষায় ‘ঈশ্বর মৃত’, ‘নাস্তিক হিসেবে গর্বিত’ এবং ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ করো’ ধরনের বার্তা দিয়ে ক্যানের নমুনা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। এমনকি শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি চরম আপত্তিকর বার্তাও স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা এড়িয়ে নমুনায় দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও একই ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ফক্সের পরীক্ষায় ‘ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ান’ বার্তাটি গ্রহণ করা হলেও ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ প্রত্যাখ্যান করা হয়। আবার শ্বেতাঙ্গ বা কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় নিয়ে গর্ব প্রকাশকারী কয়েকটি বার্তা এবং ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও গুরুত্বপূর্ণ’ বার্তাটিও অনুমোদন পায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে অনলাইনে কোনো বার্তা দিয়ে ক্যানের নমুনা তৈরি হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেই বার্তাসহ ক্যান বা বোতল তৈরি করে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পাঠানো হতো। কোকা-কোলার নিয়ম অনুযায়ী, অর্ডার জমা দেওয়ার পর সেটি আরও একটি যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। বিতর্কের পর কোকা-কোলা জানায়, তাদের ‘শেয়ার আ কোক’ কর্মসূচির ব্যক্তিগতকরণ সুবিধাটি গ্রাহকদের বিশেষ নাম বা বার্তা দিয়ে ক্যান ও বোতল তৈরির সুযোগ দিতে চালু করা হয়েছিল। তবে অনলাইনে ক্যানের নমুনা দেখানোর ব্যবস্থায় একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে এবং সেটি ঠিক করতে কাজ করছে কোম্পানি। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নামসংক্রান্ত এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত বা নিষিদ্ধ বার্তাসহ পণ্য তৈরি ঠেকাতে তাদের আলাদা যাচাই ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অনলাইনে কোনো বার্তার নমুনা দেখা গেলেও সেটি চূড়ান্তভাবে উৎপাদনের অনুমোদন পাবে, এমন নিশ্চয়তা ছিল না। ফক্সের পরীক্ষায় আরও দাবি করা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রাখা অথবা অক্ষরের পরিবর্তে সংখ্যা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল। ফলে অনলাইন ব্যবস্থাটির শব্দ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোকা-কোলার ব্যক্তিগতকৃত ক্যান তৈরির ব্যবস্থা নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। ২০২১ সালেও অনলাইন ব্যবস্থায় ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বার্তা গ্রহণ এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল। তবে এবারের ঘটনায় কোকা-কোলা আপত্তিকর বার্তাগুলো অনুমোদন করাকে নিজেদের নীতি হিসেবে স্বীকার করেনি। কোম্পানির বক্তব্য, নমুনা তৈরির ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই এমন অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট সুবিধা বন্ধ করে নতুন অর্ডারও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ইহুদিদের উদ্বেগ স্বত্তেও, ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ
ছেলের ময়নাতদন্তের ছবি দেখে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা, বিচারক বললেন ‘শাট হার আপ’
৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার, বর্তমান চকলেটের পাশে রাখতেই চোখ কপালে
কিউবার ভিলা ক্লারা প্রদেশের সান্তো দোমিঙ্গোর বাসিন্দা ইয়াসমানি ফিগুয়েরোয়া চাভিয়ানোর দেয়ালে ঝুলছে তিনটি উচ্চশিক্ষার সনদ। অপটোমেট্রিতে ডিগ্রি, পেডিয়াট্রিক অপটোমেট্রিতে স্নাতকোত্তর এবং ভিশন সায়েন্সে ডক্টরেট অর্জন করেও এখন পরিবারের দৈনন্দিন খাবার জোগাতে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি। ইয়াসমানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিজের বিশেষায়িত পেশায় নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। সংসার চালাতে তাই পেশার সঙ্গে সম্পর্কহীন বিভিন্ন সৎ কাজ করতে হচ্ছে তাকে। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পরিবারের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে নিজের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতে হয়েছে। এমনকি পোশাকও বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন তিনি। খাদ্যসংকট তার নিজের শরীরেও প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করেছেন ইয়াসমানি। তার ভাষ্য, এক মাসেরও কম সময়ে তার ওজন প্রায় ৪৫ পাউন্ড কমেছে। তবে এই ব্যক্তিগত দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের একাধিক সদস্যের চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। ইয়াসমানির দাবি, তার ৯৩ বছর বয়সী দাদা প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যথার ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মা মৃগী রোগ ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের আরেক সদস্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের দামও তাদের সামর্থ্যের বাইরে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিডিওতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান জীবনের বৈপরীত্য। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও সেই যোগ্যতা দিয়ে পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে না পারার কথা বলতে গিয়ে তিনি সাহায্য চেয়েছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কিউবা এবং দেশটির বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে ভিডিওটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে। ইয়াসমানির ব্যক্তিগত পরিস্থিতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও কিউবায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট যে গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও উঠে এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কিউবা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বহু পরিবারের পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার ঘাটতির কারণে দেশীয় ও আমদানি করা খাদ্যের প্রাপ্যতাও কমেছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনও জানিয়েছে, কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির চাপে রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আগস্টের শুরুতেই কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থা একাধিকবার ভেঙে পড়ে। দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দায় নির্ধারণের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। কিউবা সরকার মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনারও সমালোচনা করে। এই বৃহত্তর সংকটের মধ্যেই ইয়াসমানির ভিডিওটি কিউবার বহু সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রামের একটি ব্যক্তিগত চিত্র হিসেবে সামনে এসেছে। উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও খাবার ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তার আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ কাড়ছে।
মক্কা চুক্তির পক্ষে মুসলিম বিশ্ব, সমর্থন জানাল ওআইসি ও একাধিক দেশ
গ্রিস উপকূলে ৪৮ ঘণ্টায় ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি