বিশ্ব

ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ: মার্কিন কর্মকর্তা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৩:১
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে সরে আসাই সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট।

 

মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কেন্ট। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিল না এবং যুদ্ধের পক্ষে তিনি সমর্থন দিতে পারছেন না। 

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হবে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এটিই ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে ভালো সুযোগ।

 

কেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। 

 

পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এমন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মকে পাঠানো এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা সমর্থনযোগ্য নয়।

 

তবে কেন্টের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। তার পদত্যাগের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন্টের নিরাপত্তা মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের নীতির পাশাপাশি এর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

 

কেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য মূলত যুদ্ধের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে দ্রুত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে তার অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি

কানাডায় থাকার বৈধতা হারানো বা অভিবাসন আইন না মানার কারণে দেশটি থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯৬৮ বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।   সিবিএসএর সর্বশেষ প্রকাশিত অভিবাসন অপসারণসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩০ জুন পর্যন্ত কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪০ হাজার ৮২৭। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক, ৭ হাজার ৬৬৯ জন। এরপর মেক্সিকোর ৬ হাজার ৫৬১, যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৭৯, চীনের ১ হাজার ৮৯২, নাইজেরিয়ার ১ হাজার ৬৪৭, কলম্বিয়ার ১ হাজার ২৩৭, পাকিস্তানের ১ হাজার ১৩৯, ব্রাজিলের ১ হাজার ১১৮ এবং চিলির ১ হাজার ৩০ জন রয়েছেন। ৯৬৮ জন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশম।   সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, এই ৪০ হাজার ৮২৭ জনের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন এমন শরণার্থী আবেদনকারী, যাদের আবেদন বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে কানাডা থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৯১ জন শরণার্থী আবেদনকারী নন এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগে অপসারণ প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ, ভুল তথ্য দেওয়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণেও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপসারণের ব্যবস্থা রয়েছে।   কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ফেরত পাঠানো একই বিষয় নয়। সিবিএসএর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখনই দেশে ফেরত পাঠানো হবে, এমন নয়; অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, ভ্রমণ নথি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে সময় লাগে।   বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে ৩০৮ জন বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে।   কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শরণার্থী আবেদনকারীদের একটি বড় অংশের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে বাংলাদেশিদের জন্য শুধু কানাডা নয়, ইউরোপেও আশ্রয় পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের সর্বশেষ বার্ষিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রায় ৩৭ হাজার আশ্রয় আবেদন করেন। আগের বছরের তুলনায় আবেদন কমলেও বাংলাদেশ তখনও ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করা নাগরিকদের প্রধান উৎস দেশগুলোর একটি ছিল। প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।    ২০২৬ সালেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে বাংলাদেশিরা প্রায় ৩ হাজার আশ্রয় আবেদন করেন এবং ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের স্বীকৃতির হার ছিল ৩ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ব্যবস্থায় কম স্বীকৃতির হার থাকা দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুততর প্রক্রিয়ার আওতায় আনার ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।    কানাডার ক্ষেত্রে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা ৯৬৮ বাংলাদেশির সংখ্যা তাই দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যান দিয়ে বাংলাদেশিদের সবাই অবৈধভাবে কানাডায় অবস্থান করছেন বা সবাই একই কারণে ফেরত পাঠানোর মুখে রয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সিবিএসএর তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, অপসারণের পেছনে শরণার্থী আবেদন, অভিবাসন আইন না মানা, অপরাধ, ভুল তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৪:১৪
হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ

ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ: মার্কিন কর্মকর্তা

বাবা-মা ও ক্রুর ব্যর্থ চেষ্টার পর বাতিল কানাডার ফ্লাইট

সিটে বসতে নারাজ শিশু, বাবা-মা ও ক্রুর ব্যর্থ চেষ্টার পর বাতিল কানাডার ফ্লাইট

স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ

মেক্সিকোর সেলাইয়া শহরে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ স্ত্রীকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে খেলনা বিক্রি করতে বসেছিলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারি ‘দিয়া দে রেয়েস’ উপলক্ষে ব্যস্ত বাজারেও তার খেলনা বিক্রি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে যখন তিনি দোকান গুটাতে শুরু করেন, তখন স্থানীয় সাংবাদিক মার্কো মানসেরা তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এরপরই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।   মেক্সিকোতে ‘দিয়া দে রেয়েস’ বা ‘তিন রাজা দিবস’ শিশুদের উপহার দেওয়ার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য। এই উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাতে সেলাইয়ার বুলেভার্দ আদলফো লোপেস মাতেওস এলাকায় খেলনা বিক্রির অস্থায়ী দোকান বসেছিল। সেখানেই নিজের ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেছিলেন ডন হুয়ানিতো।   বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ত্রী অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন ছিল তার। সেই আশায় তিনি নতুন ও ব্যবহৃত কিছু খেলনা কিনে বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়েছিলেন। খেলনা কেনার জন্য তিনি আগেই ঋণও নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আশানুরূপ ক্রেতা পাননি তিনি। চারপাশে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও তার দোকানে বিক্রি ছিল খুবই কম। দিনের শেষে মাত্র প্রায় এক হাজার মেক্সিকান পেসোর খেলনা বিক্রি করতে পেরেছিলেন বলে একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   পরদিন সকালে দোকান গুটানোর সময় তাকে হতাশ অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিক মার্কো মানসেরা। কথা বলার একপর্যায়ে হুয়ানিতো তার আর্থিক সংকট ও স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানান। এরপর সাংবাদিক তার পরিস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরেন এবং মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান।   ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে হুয়ানিতোর গল্প দেখে সেলাইয়ার মানুষজন তার দোকানে আসতে শুরু করেন। কেউ খেলনা কিনেছেন, কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন, আবার কেউ শুধু তাকে উৎসাহ দিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় আগের দৃশ্য। একের পর এক মানুষ খেলনা কিনতে থাকায় তার দোকানের পণ্য দ্রুত কমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আজতেকা বাজিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তার প্রায় পুরো পণ্যই বিক্রি হয়ে যায়।   শুধু খেলনা কেনাই নয়, অনেকেই হুয়ানিতোর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে এমনকি কয়েকজন ট্রাফিক কর্মকর্তারও তার সঙ্গে দেখা করে অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।   হুয়ানিতোর গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানো নাগরিকদের প্রশংসা করেন এবং বয়স্ক মানুষের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।   একটি ব্যর্থ বিক্রির দিন শেষ পর্যন্ত সেলাইয়ার মানুষের সম্মিলিত সহায়তার ঘটনায় পরিণত হয়। ৮১ বছর বয়সী হুয়ানিতোর ছোট্ট খেলনার দোকান হয়তো বড় কোনো ব্যবসা ছিল না, কিন্তু তার গল্প সামাজিক মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা তৈরি করেছে, সেটিই হয়ে উঠেছে দিয়া দে রেয়েসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ০:৪৪
রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়

রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়, শেষে বেরিয়ে এলেন অন্য নবদম্পতি

জার্মানির হালবারস্টাডের বুরখার্ডি গির্জায় চলছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ধীরগতির অর্গান সংগীত পরিবেশনা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির গান বাজছে জার্মানির এক অর্গানে, শেষ হবে ২৬৪০ সালে

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি। ছবি: সংগৃহীত

যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ইরান: লারিজানি

বিয়ের আগে আইল্যাশ এক্সটেনশন করিয়ে গুরুতর অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হন যুক্তরাজ্যের তরুণী পলি বিবি। ছবি: সংগৃহীত
বিয়েতে 'রাজকন্যার' মতো সাজতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম কনের, যেতে হলো হাসপাতালে

বিয়ের দিন নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাতে চান সব নারীই। আর এই বিশেষ দিনে রাজকন্যার মতো সাজার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ারের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী পলি বিবির। পেশায় ইলাস্ট্রেটর এই তরুণী সাধারণত খুব হালকা মেকআপ করতে পছন্দ করলেও, বিয়ের জন্য নিজেকে একটু ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। আর সেই শখ পূরণ করতে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম পাপড়ি বা 'ফলস আইল্যাশ' লাগিয়েছিলেন তিনি, যার জেরে মারাত্মক অ্যালার্জির শিকার হয়ে প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন এই হবু কনে।   মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইল্যাশ এক্সটেনশন বা চোখের কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন পলি। এর জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৮ মার্কিন ডলার। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাঁর ত্বকে প্যাচ টেস্ট বা সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে কোনো ধরনের অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় তিনি মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। শুরুতে নিজের এই নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন তিনি।   কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। পার্লার থেকে ফেরার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁর হবু স্বামী ২৯ বছর বয়সী বেঞ্জামিন মে খেয়াল করেন পলির চোখ কিছুটা লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে পানি পড়া এবং ব্যথার উপসর্গগুলোকে পলি প্রথমে সাধারণ অ্যালার্জি বা হে ফিভার ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চোখ অসম্ভব লাল হয়ে যায়, তীব্র জ্বালা করতে থাকে এবং হলদেটে আঠালো পদার্থ বের হয়ে চোখের পাতা একে অপরের সঙ্গে আটকে যেতে থাকে।   নিজের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পলি। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তিনি প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। উপায় না দেখে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাসেবা নম্বরে কল করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কেমব্রিজের হিঞ্চিংব্রুক হাসপাতালের চক্ষু ইউনিটের নার্সরা তাঁর চোখ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, আইল্যাশ এক্সটেনশনে ব্যবহৃত আঠা বা রাসায়নিক থেকেই এই মারাত্মক অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়েছে।   চিকিৎসকরা পলিকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেন। সেই সঙ্গে চোখের ফোলা ভাব কমানোর জন্য কৃত্রিম পাপড়িগুলো খোলার আগে তাঁকে তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। পাপড়িগুলো অপসারণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পলি জানান, তাঁর মনে হচ্ছিল যেন চোখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যথায় তিনি চিৎকার করছিলেন ও কাঁদছিলেন। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও তাঁর চোখ লালচে হয়ে আছে, পাতা ফুলে আছে এবং দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা রয়ে গেছে।   এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আমেরিকান একাডেমি অফ অফথালমোলজির ওয়েবসাইটের এক বিবৃতিতে ন্যাশভিলের বোর্ড-সার্টিফাইড চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রেবেকা জে. টেলর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, চোখের নিরাপত্তার জন্য সব সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অভিজ্ঞ রূপসজ্জাকরের মাধ্যমে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো উচিত। এ ছাড়া ত্বকের জন্য নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় চোখের পাতা বা কর্নিয়ায় আঘাত, সংক্রমণ, আঠার কারণে অ্যালার্জি এবং স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে আসল পাপড়ি ঝরে যাওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলেও চোখে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও বিয়ের দিন পর্যন্ত চোখের লালচে ভাব সম্পূর্ণ দূর হবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন পলি। অন্য কনেদের সতর্ক করতে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় দিনের এত কাছাকাছি সময়ে নতুন কোনো বিউটি ট্রিটমেন্ট বা রূপচর্চার ঝুঁকি নেওয়া মোটেও উচিত নয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষের মুখে বিয়ের দিন নানা অঘটন ঘটার কথা মজার ছলে শুনলেও, নিজের বেলায় এমন কিছু ঘটবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। কৃত্রিম পাপড়ির বদলে সাধারণ মাশকারা ব্যবহার করাই তাঁর জন্য ভালো ছিল বলে এখন মনে করছেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২১:১৫
টাইট অ্যাকটিভওয়্যার নিয়ে মন্তব্য করে ভাইরাল হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টিকটকার পপি। ছবি: সংগৃহীত

ব্যায়ামের পোশাক পরে শপিংমলে নারীরা, 'ভদ্রতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপের মুখে তরুণী

চীনের জিনহুয়ায় লিপমোটরের উৎপাদন লাইনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি ইতালি সরকারের ক্রয়ের অনুদান প্রকল্প ব্যবহার করে বিক্রি বাড়ানোয় ভূমিকা রেখেছে। ছবি: ভিসিজি/গেটি

ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের দাপট বাড়ছে

সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড

সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড! দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল ৬ হাজার ডলার

0 Comments