সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ০:২২
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে  ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ছাড়ার সময় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়ছেন, তা গোপন রাখতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পনা করেন।

 

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রকাশ্যে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই তিনি বিমানে ওঠেন। কিন্তু পরে বিমানের অন্য পাশ দিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ একটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

সেই সামরিক বিমানটি ছিল এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ, যা আকারে ছোট হলেও প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহৃত বিমানের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীও ওই গোপন ফ্লাইটে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিমানে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

এদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রাখা হয়েছিল। ফলে বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ট্রাম্প ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

 


গোপন সামরিক বিমানে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিমূলক ফ্লাইটটি পৌঁছানোর প্রায় নয় মিনিট আগেই ট্রাম্পের প্রকৃত বিমান সেখানে অবতরণ করে। পরে তাঁকে আবার প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। কীভাবে তাঁকে আবার ওই বিমানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। 

 


ট্রাম্প তুরস্কে যাওয়ার সময় কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বিমানটি নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিমানটিকেই পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। 

 

হোয়াইট হাউস গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও নতুন কাতার-দেওয়া বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। 

 


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের এই গোপন অভিযান সামনে এলো। প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও অবস্থান গোপন রাখতে এমন জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু
যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু, প্রশাসনকে কটাক্ষ জনতার

ভারতের দিল্লি অঞ্চলে যমুনা নদীর তীর পরিষ্কার করে প্রায় ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন ২১ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত এই তরুণ ২০ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। তাঁদের উদ্যোগের পর নদীর তীরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রশ্ন উঠেছে।    ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবীদের নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক, পূজার সামগ্রী, ফুলের মালাসহ বিভিন্ন বর্জ্য তুলতে দেখা যায়। চৌধুরীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্জ্যের পরিমাণটি তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।    ভিডিওটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান দিল্লিভিত্তিক উদ্যোক্তা ও উইকেন্ড ইনভেস্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা অলোক জৈন। স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের প্রশংসা করে তিনি একে স্থানীয় প্রশাসনের জন্য ‘কড়া বার্তা’ বলে মন্তব্য করেন। সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় অনেকে নাগরিকদের যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।    এর আগে মধ্যপ্রদেশের বিয়াওরা শহরে বর্জ্যে ভরা একটি নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন চৌধুরী। যমুনার অভিযানের দুই দিন পর তিনি ও তাঁর দল গুরুগ্রামের খেড়কি দৌলাতেও পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। দেশের অন্যান্য জায়গায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১০:৩১
আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা!

আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা! নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্যে তেল-গ্যাস খাতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তরুণরা। ছবি: সংগৃহীত

তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ

ইউরোপে বড় উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ইন্ডিগো। ছবি: সংগৃহীত

খরচের চাপে ইউরোপ কৌশল বদলাচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো, বন্ধ হচ্ছে লন্ডন ফ্লাইট

আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে দাভুদ আনসারিয়কে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে উজবেক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ

আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে প্রায় এক দশক ধরে পলাতক দাভুদ আনসারিকে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী আনসারি উজবেকিস্তানের নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিক। ২৩ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি থেকে তাকে নিউইয়র্কে আনা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আনসারির বিরুদ্ধে আইসিস এবং আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট জজ লারা কে. এশকেনাজির সামনে হাজির করার কথা জানানো হয়। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আনসারি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনকেন্দ্রিক একটি উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। ওই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কেউ সিরিয়ায় গিয়ে আইসিস বা আল-নুসরা ফ্রন্টের যোদ্ধা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, আবার অন্যরা তাদের সিরিয়া যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করতেন।   নেটওয়ার্কটির সদস্যরা নিজেদের দলকে ‘চাইখানা’ নামে ডাকতেন। উজবেক ভাষায় এর অর্থ ‘টি হাউস’ বা ‘টি পার্টি’। বিচার বিভাগের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক সিরিয়ায় যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানে যাওয়া যোদ্ধাদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের বিধবা স্ত্রী ও পরিবারের জন্যও অর্থ সংগ্রহ করত।   প্রসিকিউটরদের দাবি, ‘চাইখানা’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে আনসারি ও তার সহযোগীরা ২০১৩ সালে অন্তত তিন ব্যক্তির সিরিয়া যাওয়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। ওই তিনজনই পরে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে মার্কিন সরকার। তবে এটিও সরকারের মামলায় আনা অভিযোগের অংশ।   ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে আনসারি একমুখী টিকিটে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে চলে যান। তার এক কথিত সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর প্রত্যর্পণের আগে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি। ২০২১ সালের নভেম্বরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।   দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৬ সালের আগস্টে উজবেকিস্তান থেকে জর্জিয়ার তিবলিসিতে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক দপ্তর, তিবলিসিতে এফবিআইয়ের আইনশৃঙ্খলা অ্যাটাশে অফিস এবং জর্জিয়ার প্রসিকিউটর অফিসের সহযোগিতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়।   আদালতের ডিটেনশন মেমো অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর আনসারিকে বহনকারী ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রত্যর্পণের পর তাকে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা তাকে আটক রাখার আবেদনও করেছেন।    মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআই। তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, পোর্ট অথরিটি পুলিশ এবং ইউএস মার্শালস সার্ভিস সহায়তা করেছে। আনসারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক, ফেডারেল কোর্ট ডিটেনশন মেমো, এফবিআই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২২:৭
চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যু নিশ্চিত করতে কানাডায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যথামুক্ত ইনজেকশন বা ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে

গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের

গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের

ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা

ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হ্যাক করেছে এআই এজেন্ট

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। গত জুনে ঘটানো এই ঘটনায় এআই এজেন্টটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার তথ্য বা রোগীর ব্যক্তিগত নথি অ্যাক্সেস করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যালবানিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ১৮ জুন ঘটেছিল এবং Services Australia পরিচালিত Medicare Statistics Reporting Service নামের একটি সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্টটি অননুমোদিত প্রবেশ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা জানতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে।   অস্ট্রেলীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি মূলত মেডিকেয়ার কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির গড় হিসাব, প্রবণতা ও পরিসংখ্যান রাখা হয়। এর মধ্যে বাল্ক বিলিং, টিকাদান, ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম এবং অঙ্গদাতা-সংক্রান্ত কিছু সামগ্রিক তথ্যও ছিল।   অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এআই এজেন্টটি শুধু প্রকাশ্য তথ্যই দেখেনি, এমন কিছু ফাইলেও প্রবেশ করেছিল যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য এতে প্রকাশ বা চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার বিষয়ে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি জানান, ঘটনাটি জুনে ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে বিষয়টি শনাক্ত করে। সে সময় কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে মডেলগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।   ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবাগুলোতে এমন কিছু কাজ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে ছিল না। কোম্পানিটি পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়।   অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে ঘটনাটি জানানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালবানিজ বলেছেন, জুনে ঘটনা ঘটার পর সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে সরকারকে জানানো পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তিনি এই দেরিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।   সরকারি তথ্যমতে, এআই এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছিল। একটি সাধারণ গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের সময় এজেন্টটি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানের পোর্টালে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি না পাওয়ার পর এটি এমন কিছু ফাইলে প্রবেশ করে, যেগুলো সাধারণভাবে উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল না।   ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মূলত এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য সংরক্ষণকারী কোনো ব্যবস্থা নয়। তবু একটি এআই এজেন্ট কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় এসেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি অস্ট্রেলীয় সরকার বা ওপেনএআই।   এ ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্টের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের পৃথক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু এআই এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই কার্যক্রম এবং মেডিকেয়ার পোর্টালে অননুমোদিত প্রবেশ একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ বা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার পূর্ণ পরিধি, কোন কোন ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এবং সরকারি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোগী বা মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য অ্যাক্সেসের প্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এবিসি নিউজ, রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ০:৯
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

গোলান মালভূমি নয়, ইসরায়েলকে বরং নিজেদের নিউজার্সি দিয়ে দিন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন পেদ্রো সানচেজ। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ তীব্র নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

ঘানার ইস্টার্ন অঞ্চলে মিস্টারবিস্টের উদ্যোগে নির্মিত আবনা ডাকওয়া ভিলেজ। ছবি: সংগৃহীত

শিশুশ্রম ঠেকাতে ঘানায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারে গ্রাম বানালেন মিস্টারবিস্ট

0 Comments