দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ
দক্ষিণ আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জাতিগত বৈষম্য, সহিংসতায় উসকানি এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের মতো নীতির সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।
রুবিওর অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গ্রামীণ এলাকায় অপরাধ, সহিংস ও অবমাননাকর বক্তব্য এবং আফ্রিকানারসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্যমূলক নীতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে এসব নীতি তৈরি বা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের নীতি, জাতিগত বৈষম্য এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আসন্ন সহিংসতায় উসকানির অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী বা এতে সহযোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি আইন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধের নির্দেশ এবং নির্যাতনের শিকার আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। দেশটির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, বৈষম্য ও ভূমি সংস্কারের বাস্তবতা যথাযথভাবে তুলে ধরে না। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে নিজেদের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে নতুন ভিসা নীতির আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের নাম প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূমি সংস্কার, জাতিগত নীতি, গ্রামীণ অপরাধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন এই পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বড় আকারের কৃত্রিম স্তন, নারীদের পোশাক ও প্রসাধনী ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ম্যাট র্যাটলি। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট হিল্ডা’স কলেজে জীবরসায়নের খণ্ডকালীন অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজটির শিক্ষক পরিচিতিতে তাঁর নাম রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বড় আকারের কৃত্রিম স্তন, নিচু গলার পোশাক, লিপস্টিক ও নখে রং ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘আনক্যাপচার্ড’ জানায়, এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন বর্তমান শিক্ষার্থীর অভিভাবক, তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাবেক তিন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে শিক্ষকের পোশাক ও আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষের মতো পেশাগত পরিবেশে এ ধরনের উপস্থিতি নারী শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তাঁরা কলেজের আচরণবিধি এবং যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়টিও সামনে আনেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের অধ্যক্ষ ডেম সারাহ স্প্রিংম্যান ২ জুন সাবেক শিক্ষার্থীদের চিঠির জবাব দেন। সেখানে তিনি আইনের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বৈষম্য, হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক আচরণমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে কলেজের অঙ্গীকারের কথা জানান। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের উত্থাপিত নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর ওই জবাবে পাওয়া যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল বিগস বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং শিক্ষকতার পেশাগত মান বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তবে তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে যথাযথ পেশাগত আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করা হয়। কোনো শিক্ষার্থীর অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সেন্ট হিল্ডা’স কলেজ ১৮৯৩ সালে নারীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৮ সাল থেকে কলেজটি পুরুষ শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি করতে শুরু করে। ফলে নারী শিক্ষার ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে বর্তমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ম্যাট র্যাটলির বক্তব্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ম্যানচেস্টার শহরের ৭৮ বছরের খাবার সরবরাহকারী বৃদ্ধের ভিডিও দেখে লাখ ডলার দিলেন অপরিচিত মানুষ
টেক্সাসে স্বেচ্ছাশ্রমে চাষাবাদ, সেই ফসলের আয়েই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কলেজের স্বপ্নপূরণ
অভিবাসীদের পাশে হাজারো মানুষ, এক উৎসবে মিলল ভালোবাসা ও প্রতিবাদের বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিল শহরে সাশ্রয়ী আবাসন ধরে রাখা এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগর কমিশন আবাসন সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের হাউজিং রেভিনিউ বন্ড অনুমোদন করেছে। এই অর্থ ব্যয় করা হবে শহরের অ্যাশ স্ট্রিট এলাকায় অবস্থিত ট্রপিক্যাল গার্ডেনস নামের একটি আবাসন প্রকল্পের সংস্কারকাজে। সেখানে মোট ১৫৮টি আবাসন ইউনিট রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য নতুন ভবন নির্মাণ নয়, বরং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনগুলো সংস্কার করে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী রাখা। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কারকাজের মাধ্যমে আবাসনগুলোর নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব পরিবার সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই বন্ড ব্রাউনসভিল হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। নগর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ড ইস্যুর জন্য শহর সরকারকে সরাসরি অর্থায়নের দায় নিতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো আবাসন সংস্কার করে সেগুলো সংরক্ষণ করা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্রাউনসভিল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যমান আবাসন সুবিধা ধরে রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ, স্কুলে ছুটি ও জরুরি সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধন শুরু, যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পড়া নিয়ে নতুন বিধিনিষেধের জেরে এক শিক্ষিকার চাকরি হারানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁর শিক্ষার্থীরা। রাজধানী বাকুর একটি স্কুলের এই ঘটনা দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাকুর রিচার্ড সরগে নামের ৯০ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থী হিজাব পরা এক শিক্ষিকাকে ঘিরে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষিকাকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর চাকরি ছাড়ার বা বরখাস্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আজারবাইজান সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করে। এরপর ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন নিয়মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পোশাক ও অতিরিক্ত পোশাকসামগ্রী ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও বিধিমালায় সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ নেই, বাস্তবে কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আল জাজিরার ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকুর একটি বিদ্যালয়ে ২৩ বছরের অভিজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষিকা গুলশান আলিয়েভাকে হিজাব পরে কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মেয়েকেও একই কারণে স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। গুলশান জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়তে চান না তিনি। প্রয়োজনে নিজের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার কথাও জানান এই শিক্ষিকা। আরেক শিক্ষিকা জাহরা হাসানোভা আল জাজিরাকে জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে হিজাব পরে ক্লাসে আসতে নিষেধ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা বা না পরা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে আজারবাইজান সরকার। দেশটির পার্লামেন্টের মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ ওরুজ জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের বাইরে হিজাব পরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পোশাকনীতি বজায় রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য। এদিকে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাজধানী বাকুতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ৩৭ জনকে আটক করার কথা জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, পোশাকের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে। সংগঠনটি হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ আজারবাইজান সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশটির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিতর্ক তাই শুধু হিজাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। সংবাদসূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যে হ্যালোইনের ক্যান্ডিতে সূচ ও ধাতব বস্তু, বিশেষ সতর্কতা জারি ; তদন্তে পুলিশ
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় তরুণীকে গলায় ছুরিকাঘাত,হামলাকারীকে ধরতে ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা