সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:১৮
মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড
মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

একজন মানুষের কাছে ক্রেডিট কার্ড থাকতে পারে কতটি? পাঁচটি, দশটি কিংবা কয়েক ডজন। কিন্তু ভারতের মণীশ ধামেজার কাছে ছিল ১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড। এই সংখ্যার জন্য ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল হায়দরাবাদে তাকে ‘সবচেয়ে বেশি বৈধ ক্রেডিট কার্ডের সংগ্রহ’-এর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দেওয়া হয়। গিনেসের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, যাচাইয়ের সময় কার্ডগুলোর সবই বৈধ ছিল। 

 

মণীশের এই বিপুল সংগ্রহ শুধু কার্ড জমিয়ে রাখার জন্য নয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দেওয়া তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কার্ডের আলাদা আলাদা সুবিধা কাজে লাগান তিনি। পুরস্কার পয়েন্ট, বিমানযাত্রার মাইল, ক্যাশব্যাক, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ, রেলওয়ে লাউঞ্জ, হোটেল সুবিধা, ভ্রমণ, খাবার, কেনাকাটার ভাউচার, সিনেমার টিকিট, গলফ সেশন এবং জ্বালানির সুবিধার মতো নানা ধরনের অফার তিনি ব্যবহার করেন। 

 

একটি কার্ডে যে সুবিধা বেশি, অন্য কার্ডে সেটি নাও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কার্ড ব্যবহারের কৌশল নিয়েছেন মণীশ। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণ, কেনাকাটা, জ্বালানি বা হোটেলের মতো আলাদা খরচের জন্য তিনি আলাদা কার্ড ব্যবহার করেন। প্রতিটি কার্ডের নিয়ম, বিলিং সাইকেল ও পুরস্কার সুবিধা বুঝে ব্যবহার করাই তার ব্যবস্থাপনার অন্যতম দিক। 

 

মণীশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৫ সালে তিনি প্রথম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে কার্ডের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২০২১ সালে তা ১,৬৩৮-এ পৌঁছায়। গিনেসের রেকর্ডের সময় এই ১,৬৩৮টি কার্ডই বৈধ হিসেবে যাচাই করা হয়। 

 

২০১৬ সালে ভারতের নোটবন্দির সময়ও ক্রেডিট কার্ড তার কাজে এসেছিল বলে গিনেসকে দেওয়া বক্তব্যে মণীশ জানিয়েছেন। ওই সময় নগদ টাকার সংকটের মধ্যে তিনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন চালিয়ে যান। গিনেসের রেকর্ড পাতাতেও তার এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে। 

 

এত বিপুল সংখ্যক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হিসাব রাখা। প্রতিটি কার্ডের বিলিং সাইকেল, পেমেন্টের সময়সীমা, ফি এবং পুরস্কারের শর্ত আলাদা হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মণীশের ক্ষেত্রে নিয়মিত হিসাব রাখা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে বকেয়া ঋণ ছাড়াই কার্ড ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

 

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মণীশ ধামেজার রেকর্ডের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ১,৬৩৮ এবং রেকর্ডটি অর্জনের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২১। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে তার বর্তমান কার্ডের সংখ্যা আরও বেশি বলে বিভিন্ন দাবি প্রকাশিত হলেও, সেগুলোকে নতুন গিনেস রেকর্ড হিসেবে ধরা যায় না। গিনেস নিজেই জানিয়েছে, রেকর্ড প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে এবং সব পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে প্রকাশিত হয় না। 

 

মণীশের ঘটনা দেখায়, ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বাড়ানোই মূল বিষয় নয়, বরং প্রতিটি কার্ডের শর্ত ও সুবিধা বোঝা এবং সময়মতো বিল পরিশোধ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তার ১,৬৩৮টি কার্ডের রেকর্ডটি অবশ্যই ব্যতিক্রমী। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সংখ্যক ক্রেডিট কার্ড মানেই অতিরিক্ত সুবিধা নয়। হিসাবের জটিলতা, ফি, সুদ ও বকেয়া এড়াতে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী কার্ড ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।

 

সূত্র: এনডিটিভি


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাবেক এডিসি মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল ১২ বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর ৩০ বছর বয়সে সময়পূর্ব অবসর নিয়েছেন। ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই সেনা কর্মকর্তার অবসরের কারণও এখন সামনে এসেছে। ঋষভ জানিয়েছেন, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবার ও বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন ঋষভ। পরে একটি ভিডিওতেও তিনি অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। এত দ্রুত ইউনিফর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এমনটা তিনি কখনো ভাবেননি। তবে জীবনের একটি পর্যায়ে এসে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।    ঋষভ জানান, ২০১৪ সাল থেকে সামরিক জীবনের কারণে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের পাশে থাকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি এই অবসরকে সহজ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না; বরং নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।    ঋষভের সামরিক ক্যারিয়ারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জাট রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের পর তিনি ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে কাজ করেন। ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে জাট রেজিমেন্টের কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন তিনি। ওই কন্টিনজেন্ট সেরা মার্চিং কন্টিনজেন্ট ট্রফিও জেতে।    ২০২৩ সালের মার্চে ঋষভকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এডিসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও বিদেশ সফরে তাঁর উপস্থিতি নিয়মিত চোখে পড়ে। দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সামরিক শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রপতির পাশে তাঁকে দেখা যাওয়ার পর তাঁর পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে।    অবসরের পর ঋষভের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। বিশেষ করে বিয়ে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি সেনাবাহিনী ছেড়েছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ঋষভ এসব ধারণা নাকচ করে জানিয়েছেন, তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ পরিবার ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব। নিজের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে তরুণদের অনুপ্রাণিত করার মতো কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:৫৭
মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি
ধ্বংসস্তূপে ২ দিন না খেয়ে থাকা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ভয়াবহ হ্যারিকেন ওটিসের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় ক্ষুধার্ত চার মাস বয়সী এক শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে আলোচনায় আসেন মেক্সিকো সিটির পুলিশ কর্মকর্তা আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিও। মানবিক এই উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে, হ্যারিকেন ওটিস আকাপুলকোয় আঘাত হানার পর।    ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেন ওটিস আঘাত হানে। ঝড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর মেক্সিকো সিটির পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার, ত্রাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে সেখানে মোতায়েন হন। অ্যামব্রোসিওও তাদের সঙ্গে আকাপুলকোয় যান। তিনি তখন ৩৩ বছর বয়সী এবং নিজেও দুই সন্তানের মা ছিলেন। একই সময়ে তিনি নিজের এক বছর বয়সী শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন।    ঝড়ের পর উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় অ্যামব্রোসিও একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তিনি কান্নার উৎসের দিকে গিয়ে এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই নারী শিশুটির মা অথবা স্বজন ছিলেন বলে অ্যামব্রোসিও পরে জানান। শিশুটির বয়স ছিল প্রায় চার মাস। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে খাবার পায়নি এবং ক্ষুধায় কাঁদছিল। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা খাবার ছাড়াই ছিল।    অ্যামব্রোসিও তখন বুঝতে পারেন, তিনি নিজেও যেহেতু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাই শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারেন। তিনি ওই নারীর অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়ান। অ্যামব্রোসিওর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে তার কাছে দেওয়ার পর কান্না ধীরে ধীরে থেমে যায়। তিনি পরে বলেন, ওই মুহূর্তে নিজের দুই সন্তানের কথা তার মনে পড়েছিল এবং প্রয়োজনের সময় শিশুটিকে প্রয়োজনীয় কিছু দিতে পেরে তার মনে শান্তি এসেছিল।    ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে অ্যামব্রোসিওকে শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে দেখা যায়। আকাপুলকোয় তখন যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অ্যামব্রোসিও নিজেও প্রথমে জানতে পারেননি যে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি প্রায় আট দিন সেখানে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেন বলে মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল জানিয়েছে।    আকাপুলকো থেকে ফিরে আসার পর তাকে মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা বিভাগের সদর দপ্তরে ডাকা হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাবলো ভাসকেস কামাচো তার কাছে শিশুটিকে সহায়তা করার ঘটনাটি জানতে চান। এরপরই তাকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। তিনি ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে উন্নীত হন, যা তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। কামাচো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যামব্রোসিওর সেবার প্রশংসা করে বলেন, আকাপুলকোয় শিশুটির জীবন রক্ষায় তার ভূমিকা মানবিকতার উদাহরণ।    তবে অ্যামব্রোসিও নিজে ঘটনাটিকে অসাধারণ বা বীরত্বপূর্ণ কিছু হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে যা করা দরকার ছিল, তিনি সেটিই করেছেন। শিশুটিকে সাহায্য করার পর তিনি আবার হেলমেট, ফার্স্ট এইড কিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে ফিরে যান। শিশুটির সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ দেখা। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সুযোগ পেলে সেই পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করে শিশুটিকে দেখতে চাইতেন।    হ্যারিকেন ওটিসের পর আকাপুলকোয় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে অ্যামব্রোসিওর এই ঘটনা উদ্ধারকাজের আরেকটি মানবিক দিক সামনে আনে। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দায়িত্বের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের প্রতি নজর দেওয়ার ঘটনাটিও তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষও তার এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১:৩৫
৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ,

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ, দুই দেশই কূটনীতিক তলব

ইয়েমেনেরহুতি বাহিনী

সৌদি আরবের অত্যাধুনিক এফ-১৫ ভূপাতিত করলো হুতি বিদ্রোহীরা

কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত
কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ২০২০ সালে সীমান্তে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় দেন।   কায়েসং সীমান্ত এলাকায় থাকা ওই কার্যালয়টি ২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ১৬ জুন উত্তর কোরিয়া বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভবনটি ধ্বংস করে। সে সময় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছিল, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমান্তে সরকারবিরোধী প্রচারপত্র পাঠানো বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।   ঘটনার তিন বছর পর, ২০২৩ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করে। এটিই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সরাসরি করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও এপি।   আদালত দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি করা পুরো ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওনই অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ধ্বংস হওয়া যোগাযোগ কার্যালয়ের জন্য ১০ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ওন এবং পাশের একটি সহযোগিতা কেন্দ্রের ক্ষতির জন্য ৩৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ওন ধরা হয়েছে।   তবে রায় হলেও উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা কঠিন। মামলার শুনানিতে উত্তর কোরিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পিয়ংইয়ংকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রায়টি বাস্তবে অর্থ আদায়ের চেয়ে প্রতীকী আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার মধ্যে আবারও সংলাপ ও সহযোগিতা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।   সোর্স: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৮:১৯
প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায়  নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার

প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

বিশ্বের মানুষ চায় একে-অপরের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত

হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি

0 Comments