বিশ্ব

দিল্লিতে ভারতের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২০, ২০২৬ ১৫:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাইকমিশনার রিয়াজ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

 

দিনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের খবর মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে জানায় জয়শঙ্কর ও রিয়াজ। জয়শঙ্কর পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে হাইকমিশনার রিয়াজ বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন লাভের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানানো হয়েছে।

 

সন্ধ্যায় হাইকমিশনার রিয়াজ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা বিষয়ক ফোরাম ‘অ্যালিস ইন আঙ্কারা’ | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ন্যাটো সম্মেলনের মাঝেই আঙ্কারায় বসছে বিশ্ব নিরাপত্তা ও কূটনীতির বড় আসর

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আগামী ৭ ও ৮ জুলাই দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ‘অ্যালিস ইন আঙ্কারা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স (এমএসসি) এবং সেটার (SETA) যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে।   ঐতিহাসিক ‘আঙ্কারা প্যালাস’ ভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে মোট ৪৫টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। অফিশিয়াল ন্যাটো সম্মেলনকে আরও ফলপ্রসূ করতে এবং মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে কথা হবে। এর মধ্যে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং হাইব্রিড হুমকির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।   এছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধের নিরাপত্তা, জ্বালানি করিডোর সংকট এবং কৃষ্ণসাগর, মধ্যপ্রাচ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিকের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে বৈশ্বিক কূটনীতি ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে আঙ্কারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১১:১৪
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি নেবে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি নেবে ইরান, মিত্র দেশগুলো পাবে বিশেষ সুবিধা

তেহরানে খামেনির জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিলেন তিন ছেলে

তেহরানে খামেনির জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিলেন তিন ছেলে

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের ‘পারমাণবিক শক্তির সমতুল্য

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের ‘পারমাণবিক শক্তির সমতুল্য’—মেদভেদেভের মন্তব্য

তেহরানে আজ খামেনির জানাজা
তেহরানে আজ খামেনির জানাজা, দেশজুড়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ আজ রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজার নামাজও আদায় করা হবে।   দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানানো হয়েছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শনিবার থেকে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং রাষ্ট্রীয় বিদায়ের জন্য রাখা হয়েছে।   তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জানাজার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান প্রাঙ্গণ হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ শেষবারের মতো এই প্রভাবশালী নেতাকে বিদায় জানাতে সেখানে সমবেত হন।   খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শোকানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন নানা প্রস্তুতি নিয়েছে।   জানাজার পর শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে আরও কয়েকটি বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।   সবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে এনে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে তাসনিম।   দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা খামেনির মৃত্যু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার জানাজা ও দাফন ঘিরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যাচ্ছে, তা তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১:৪০
নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অপেক্ষা স্বজনদের

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত প্রায় ৩ হাজার, নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অপেক্ষা স্বজনদের

পাকিস্তানে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

পাকিস্তানে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে দ্বিতীয় দিনের শোক

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে দ্বিতীয় দিনের শোক, তেহরানে জনতার ঢল

কস্তিয়ানতিনিভকা দখল নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দাবি
কস্তিয়ানতিনিভকা দখল নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দাবি, পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কস্তিয়ানতিনিভকা শহরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে আসায় বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।   রাশিয়া দাবি করছে, শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, কস্তিয়ানতিনিভকা এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে প্রতিরোধ অব্যাহত আছে।   শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি রাশিয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার প্রচারণা যুদ্ধেরই অংশ। তার ভাষায়, “যদি সত্যিই শহরটি রাশিয়ার দখলে থাকত, তাহলে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য পুতিনের সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করতে কোনো বাধা থাকত না।”   ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাদের সেনারা এখনো শহরের ভেতরে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে। রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেখানে তীব্র লড়াই চলছে বলেও জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির মন্তব্যকে বিদ্রূপ করে বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকা ইতোমধ্যেই রাশিয়ার অংশ। তিনি জেলেনস্কিকে মস্কো সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগের আমন্ত্রণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দাবি করেছে, শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এসেছে এবং অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ দ্রুত দমন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সোমবার (৬ জুলাই) ছয় ঘণ্টার একটি মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।   এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইউক্রেনকে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ৯টা (জিএমটি) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রতিরক্ষা বলয়ে কস্তিয়ানতিনিভকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে গেলে ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলের দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার পথও আরও সুগম হয়ে উঠবে।   ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দোনেৎস্ক অঞ্চলটি উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে, যা পুরো সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে কস্তিয়ানতিনিভকার প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ০:১৩
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

‘ভেবেছিলাম মানুষ খামেনি ঘৃণা করে কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’– ট্রাম্প

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশ, রাশিয়া থেকে চীন, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় শতাধিক দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সমাগম

পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নতুন বাড়ি কেনা এবং মেয়ের ডিজনিল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছে পরিবারটি। ছবি: সংগৃহীত

৪ বছরের অপেক্ষার পর ২ কোটি ৫০ লাখ দিরহাম জিতলেন, পূরণ হচ্ছে বাড়ি ও মেয়ের স্বপ্ন

0 Comments