দিল্লিতে ভারতের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাইকমিশনার রিয়াজ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
দিনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের খবর মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে জানায় জয়শঙ্কর ও রিয়াজ। জয়শঙ্কর পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হাইকমিশনার রিয়াজ বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন লাভের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানানো হয়েছে।
সন্ধ্যায় হাইকমিশনার রিয়াজ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreকলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের নবজাতক বিভাগ থেকে ১০ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে আলোচনায় আসা শিশু বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেড দে মেডিকোস হিস্পানোহাবলান্তেস এন আলেমানিয়া বা রেমা চিকিৎসক জার্মান আন্দ্রেস সোমোয়ারকে পেশাগতভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়। অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকানার ষষ্ঠ তলায় তখন নবজাতক বিভাগে ১০টি শিশু ছিল। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক সোমোয়ার অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। সোমোয়ারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রথমে রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ দেখান। এরপর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নবজাতকদের কাছে ফিরে যান। দুই চিকিৎসক ও তিন নার্সের সহায়তায় তারা একে একে শিশুদের কোলে নিয়ে ভবন থেকে বের করে আনেন। উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে একজন ওই দিনই জন্মেছিল বলে সোমোয়ার জানিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, তাদের সবাইকে একইভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। সোমোয়ার জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা কিছু শিশুর দায়িত্ব একজন সহকর্মী সামলাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ওই সহকর্মী অন্য এক রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করছিলেন। অন্যদিকে, যারা নিজেরা নিরাপদে বের হতে পারছিল না, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়। ভূমিকম্পের পর সোমোয়ারের দুই নবজাতককে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দ্রুত কলম্বিয়ায় সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে। অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান রেনদোনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সাহসিকতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। সোমোয়ার মূলত কলম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যা ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়ও অনলাইনে যাচাই করা যায়, যেখানে তার শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং ওই হাসপাতালের সঙ্গে কাজের তথ্য রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় তার ভূমিকার খবর জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেমার কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর সংগঠনটি সোমোয়ারকে জার্মানিতে তার পেশাগত ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সনদ জার্মানিতে স্বীকৃত করার প্রক্রিয়া, শিশু চিকিৎসায় তার বিশেষায়িত যোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমা এখন পর্যন্ত তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এবং সোমোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে। সংগঠনটি বিদেশি চিকিৎসকদের জার্মানিতে সনদ স্বীকৃতি, ভাষা শিক্ষা, নথিপত্রের অনুবাদ এবং বিশেষায়ন বা চাকরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব খরচ ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। রেমার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসকদের পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সনদ স্বীকৃতি, চিকিৎসকদের জন্য জার্মান ভাষা শেখা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতাল খোঁজার মতো বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সঙ্গে জার্মানিতে বসবাস ও কর্মরত ৪৫ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত রয়েছেন এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষকে তারা প্রাথমিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। সোমোয়ারের জন্য জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অর্জন নয়, বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে অসহায় রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কলম্বিয়ায় ১০ আগস্টের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রেও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় সোমোয়ার ও তার সহকর্মীদের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। সোমোয়ারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই রোগীর জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সিদ্ধান্তই এবার কলম্বিয়ার এই শিশু বিশেষজ্ঞের সামনে জার্মানিতে নতুন পেশাগত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার রবর্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির একজন সংসদ সদস্য এই দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কার্লোস নিজে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। দাবিটির মূল সূত্র তুরস্কের একে পার্টির গাজিয়ানতেপের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। ব্রাজিল সফরের সময় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবার্তো কার্লোসের ধর্মান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন। শাহিন জানান, ব্রাজিলের মুসলিম নেতা শেখ জিহাদ হাম্মাদেহের কাছ থেকে তিনি কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের কথা জেনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কার্লোসের সঙ্গে হাম্মাদেহের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের একটি সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাতের সময় রবার্তো কার্লোস শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন শাহিন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের সাবেক এই তারকাকে অভিনন্দন জানান। শাহিনের বক্তব্যের পর তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফুটবলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গোলও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রবার্তো কার্লোস নিজে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিজের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি। এ কারণে আলি শাহিনের বক্তব্যকে একটি দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। কার্লোস নিজে অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তার ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়। এর মধ্যেই রবার্তো কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরক্কোর বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নারী সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিয়ের কিছু ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়টি ব্যবহার করে কার্লোসের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রবার্তো কার্লোস বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টির বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি একাধিক লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী ফ্রি কিক, গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কার্লোস। এত বড় একজন ফুটবল তারকার ধর্মান্তরের খবর হওয়ায় দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ধর্মীয় পরিচয় একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত ঘোষণা করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথাযথ নয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন তুরস্কের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। কিন্তু কার্লোস নিজে সেই দাবি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি। তার নিজের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত বিষয়টি দাবি হিসেবেই থাকছে।
নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি, লন্ডনে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার তরুণী
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
শিশুকে শাসন করতে শারীরিক শাস্তি কার্যকর, বহু পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ফিলিপাইনের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. লিয়ানে আলামপে। দেশটির সিনেটে শিশু ও কিশোরদের আচরণ নিয়ে এক শুনানিতে তিনি বলেছেন, শিশুদের মারধর বা কঠোর শারীরিক শাস্তি তাদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলে, এমন দাবির পক্ষে গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই। বরং কঠোর শাসনের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের সিনেটের নারী, শিশু, পারিবারিক সম্পর্ক ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেন আলামপে। তিনি মেট্রো ম্যানিলার আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে শিশু লালনপালন ও শারীরিক শাস্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। আলামপে আইনপ্রণেতাদের জানান, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক গবেষণায় শারীরিক শাস্তিকে কার্যকর শৃঙ্খলা তৈরির নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করা হয়নি। বরং শিশুদের ওপর ঘন ঘন বা কঠোর শারীরিক শাস্তির সঙ্গে আগ্রাসন, উদ্বেগ এবং পরবর্তী সময়ে সহিংস আচরণের মতো সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত আলামপে ও অন্য গবেষকদের আগের গবেষণাতেও ফিলিপিনো পরিবারে শারীরিক শাস্তির ব্যবহার এবং শিশুদের আচরণগত সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিশু ও অভিভাবকদের ওপর পরিচালিত গবেষণায়ও শারীরিক শাস্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে কিশোর বা তরুণদের সহিংস আচরণের জন্য একটি মাত্র কারণকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও সতর্ক করেছেন আলামপে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, বেড়ে ওঠার ধরন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা এবং আশপাশের সামাজিক পরিস্থিতি মিলেই তার আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। ফলে তীব্র রাগ, হতাশা বা চাপের মুহূর্তে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি বোঝা তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এ কারণে শিশুদের আচরণ সংশোধনে শুধু ভয় বা শাস্তির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শেখানো, সীমা নির্ধারণ এবং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের শিশু বিচার ব্যবস্থার নীতিরও মিল রয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসন ও restorative justice-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আইনগত সমস্যায় জড়িয়ে পড়া শিশুদের মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। ফিলিপাইনের সমাজকল্যাণ বিভাগ এর আগেও বলেছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে restorative justice নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় শিশুকে শুধু অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তার আচরণের কারণ বোঝা, দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশু শাসনে মারধর নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। অনেক সমাজেই দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়েছে, শারীরিক শাস্তি না দিলে শিশু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কিন্তু শিশু বিকাশ নিয়ে সাম্প্রতিক দশকের গবেষণা এই ধারণাকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গবেষকদের মতে, শৃঙ্খলার উদ্দেশ্য যদি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুকে ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে শারীরিক শাস্তি কখনও কখনও সাময়িকভাবে আচরণ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু একটি শিশু কেন কোনো আচরণ ভুল, কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই শিক্ষা শুধু ভয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় না। এই কারণেই শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার