বিশ্ব

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখতে নেপথ্যে যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন। এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে সাময়িকভাবে প্রশমিত করতে সাহায্য করেছে। সংবাদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য একাধিক দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। বিশেষত তুরস্ক ও মিসর এই প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

 

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছেন। বার্তাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে তা ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের কারণ হতে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

 

আঞ্চলিক নেতারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে এই ব্যাপক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরও, যুদ্ধের ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান’ নিয়ে উভয় পক্ষ কতটা অগ্রগতি করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

এদিকে সোমবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এ ধরনের সমাধানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া, ‘ফক্স বিজনেস’-কে তিনি জানিয়েছেন, সর্বশেষ আলোচনাটি রবিবার রাতে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের মাধ্যমে হয়েছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ সেরা উদ্ভাবকের শীর্ষে ইলন মাস্ক: ফোর্বস

বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস আমেরিকার ২৫০ জন সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই তালিকায় বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী সব উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।   তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন টেক বিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক যাকে টেসলা, স্পেসএক্স এবং নিউরালিংকের মতো বৈপ্লবিক সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই অনন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষ দশে ইলন মাস্কের পাশাপাশি রয়েছেন জেফ বেজোস, বিল গেটস এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ওপেনএআই এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও এই তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।   ফোর্বস জানিয়েছে যে এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা, বাণিজ্যিক প্রভাব এবং শিল্পক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো এই তালিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্থান দখল করেছেন নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্ভাবকরা যা আমেরিকার বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ফোর্বসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রযুক্তিগত আধিপত্যের পেছনে এই উদ্ভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োটেকনোলজির মতো খাতে যারা পৃথিবীকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন তারাই এই তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই তালিকাটি আগামীর তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে আমেরিকার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্বজ্বালানির সংকট: নানা দেশের জরুরি পদক্ষেপ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দাবি নাকচ, স্পিকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্বীকার ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের দাবি: ইরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রধান বিষয়ে ঐকমত্য, চুক্তির পথে অগ্রগতি

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখতে নেপথ্যে যারা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন। এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে সাময়িকভাবে প্রশমিত করতে সাহায্য করেছে। সংবাদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য একাধিক দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। বিশেষত তুরস্ক ও মিসর এই প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছেন। বার্তাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে তা ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের কারণ হতে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।   আঞ্চলিক নেতারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে এই ব্যাপক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরও, যুদ্ধের ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান’ নিয়ে উভয় পক্ষ কতটা অগ্রগতি করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে সোমবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এ ধরনের সমাধানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া, ‘ফক্স বিজনেস’-কে তিনি জানিয়েছেন, সর্বশেষ আলোচনাটি রবিবার রাতে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের মাধ্যমে হয়েছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধসহ ১৫ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, ঘৃণাজনিত হামলার আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালিতে একটি জ্বালানি পরিবহন জাহাজ। ফাইল ফটোছবি: সংগৃহীত

হামলা স্থগিতের ঘোষণায় তেলের দামে ধস, ব্যারেল ৯৬ ডলারে নেমে এলো

ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
হামলা স্থগিতের ঘোষণার মধ্যেই ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ব্যাপক আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘বিস্তৃত হামলা’ চালাচ্ছে। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার অভিযোগ করেন, ইরান জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা কুম প্রদেশে ড্রোন ও বিমানযন্ত্রাংশ তৈরির একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।   ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, খোররামাবাদে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাবরিজে পৃথক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বান্দার আব্বাস, ইসফাহান, কারাজ ও আহভাজসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহভাজে একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘাতে ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। সেখানে হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে।   তবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, উপসাগরীয় উপকূল বা দ্বীপে হামলা হলে সমুদ্রপথে মাইন পেতে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।   চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আবুধাবির আল-ধাফরা ঘাঁটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

‘পিছু হটেছেন ট্রাম্প’, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: তেহরান

সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই মানবিক কাজে অংশ নিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে কাশ্মীর, অর্থ-স্বর্ণ দানে এগিয়ে মানুষ

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের দাবি নাকচ ইরানের: হামলা স্থগিত ‘জ্বালানির দাম কমানোর কৌশল’

0 Comments