বিশ্ব

ইরানের ‘পানি অস্ত্র’ হুমকি: কৌশলগত চাপে ট্রাম্পের সাময়িক পিছু হটা?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর হঠাৎ ‘হামলা-বিরতি’ ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ইরানকে আরও পাঁচ দিন সময় দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা বিশ্লেষকদের মতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

 

শুরুর দিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়, যখন ইরান পাল্টা হুমকি দেয়—মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘পানি অস্ত্র’ বা পানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার হুমকিই ট্রাম্প প্রশাসনকে কিছুটা সতর্ক করে তোলে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল পানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল সমুদ্রের পানি পরিশোধনাগারের ওপর। এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জ্বালানি শিল্প বিপর্যস্ত হতে পারে। 

 

ইতিহাস বলছে, পানিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা বহুদিন ধরেই আলোচিত। বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট Ismail Serageldin একসময় সতর্ক করে বলেছিলেন, “এই শতাব্দী তেল নিয়ে যুদ্ধ করলেও পরবর্তী শতাব্দীতে যুদ্ধ হবে পানিকে কেন্দ্র করে।” একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব Boutros Boutros-Ghali-ও।

 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর পানির চাহিদার বড় অংশই মেটানো হয় সমুদ্রের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে। ফলে এসব স্থাপনা ধ্বংস হলে তাৎক্ষণিকভাবে পানীয় জলের সংকট তৈরি হবে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে দিতে পারে।

 

চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে পানি শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্র কেবল সামরিক নয়, বরং অবকাঠামোগত ও মানবিক সংকটের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত হুমকি ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাকে অন্তত সাময়িকভাবে ‘পিছিয়ে’ আসতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেও দেখছেন, যেখানে সময় নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

 

সব মিলিয়ে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ইরানের ‘পানি অস্ত্র’ হুমকি কি সত্যিই ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে, নাকি এটি কেবল বড় কোনো কৌশলগত চালের অংশ? উত্তর যাই হোক, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে পানি এখন সম্ভাব্য ‘নতুন অস্ত্র’ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ‘পানি অস্ত্র’ হুমকি: কৌশলগত চাপে ট্রাম্পের সাময়িক পিছু হটা?

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর হঠাৎ ‘হামলা-বিরতি’ ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ইরানকে আরও পাঁচ দিন সময় দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা বিশ্লেষকদের মতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।   শুরুর দিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়, যখন ইরান পাল্টা হুমকি দেয়—মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘পানি অস্ত্র’ বা পানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার হুমকিই ট্রাম্প প্রশাসনকে কিছুটা সতর্ক করে তোলে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল পানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল সমুদ্রের পানি পরিশোধনাগারের ওপর। এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জ্বালানি শিল্প বিপর্যস্ত হতে পারে।    ইতিহাস বলছে, পানিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা বহুদিন ধরেই আলোচিত। বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট Ismail Serageldin একসময় সতর্ক করে বলেছিলেন, “এই শতাব্দী তেল নিয়ে যুদ্ধ করলেও পরবর্তী শতাব্দীতে যুদ্ধ হবে পানিকে কেন্দ্র করে।” একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব Boutros Boutros-Ghali-ও।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর পানির চাহিদার বড় অংশই মেটানো হয় সমুদ্রের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে। ফলে এসব স্থাপনা ধ্বংস হলে তাৎক্ষণিকভাবে পানীয় জলের সংকট তৈরি হবে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে দিতে পারে।   চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে পানি শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্র কেবল সামরিক নয়, বরং অবকাঠামোগত ও মানবিক সংকটের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত হুমকি ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাকে অন্তত সাময়িকভাবে ‘পিছিয়ে’ আসতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেও দেখছেন, যেখানে সময় নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।   সব মিলিয়ে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ইরানের ‘পানি অস্ত্র’ হুমকি কি সত্যিই ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে, নাকি এটি কেবল বড় কোনো কৌশলগত চালের অংশ? উত্তর যাই হোক, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে পানি এখন সম্ভাব্য ‘নতুন অস্ত্র’ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম দ্রুত কমার আশা, বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী চাপের আশঙ্কা

ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি

সস্তা ড্রোন, ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা: ইরানি হামলা ঠেকাতে চাপে উপসাগরীয় দেশগুলো

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন — ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা জার্মান প্রেসিডেন্টের

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে: মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরও প্রায় ৩ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ৮২ এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ক্যারোলাইনা ভিত্তিক এই ইউনিটটি মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী হিসেবে পরিচিত। জরুরি পরিস্থিতিতে এই ডিভিশন ১৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি ব্যাটালিয়ন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণ ব্রিগেড মোতায়েন করতে সক্ষম। খবরটি প্রথম প্রকাশ করে The Wall Street Journal, যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই মোতায়েনের ঘোষণা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনকে প্রায়ই উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়, কারণ বিশ্বের যেকোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে এই ইউনিটটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তিগুলোর একটি। অতীতে ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন সংঘাতে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।   তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে নাকি শুধুমাত্র ঘাঁটি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহায়তা বা মিত্র দেশকে সমর্থন দেওয়ার কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইরানকে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখন নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস

ছবি: সংগৃহীত

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় আমিরাতি সামরিক ঠিকাদার নিহত, ৫ সেনা আহত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর তুরস্ক: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে তুরস্ক তার সমস্ত শক্তি ও সম্পদ নিয়ে কাজ করে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।  মঙ্গলবার আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, এই যুদ্ধ কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি তুরস্কের অর্থনীতিসহ পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি "অগ্নিবলয়" হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করে বলেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে আজ পুরো বিশ্বকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলো এই যুদ্ধের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই যুদ্ধ থেকে তুরস্কের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। আঙ্কারা বর্তমানে পাকিস্তান, মিশর এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে যাতে একটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে এই মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর ও হাইফা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা

ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক উদ্ধারকর্মী। ২৪ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে ইরানের দফায় দফায় হামলা, হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের মন্তব্যে তেহরানের কটাক্ষ

ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে ৮৭ শিশু: ইউনিসেফের ভয়াবহ রিপোর্ট

0 Comments