হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাগুলো চলছেই, যদিও তেহরান ‘সর্বজনীন কৌশলগত বক্তব্য’ দিচ্ছে। রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনাগুলো অব্যাহত রয়েছে এবং ভালোভাবে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তেহরানের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শাসনব্যবস্থার সর্বজনীন কৌশলগত বক্তব্য এবং মিথ্যা রিপোর্টিং সত্ত্বেও আলোচনা এগোচ্ছে এবং ফলপ্রসূ হচ্ছে। প্রকাশ্যে যা বলা হচ্ছে, তা আমাদের ব্যক্তিগতভাবে জানানো তথ্যের সঙ্গে অনেক ভিন্ন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreস্পেসএক্সের স্টারশিপ প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপণের পর রকেটটির ওপরের অংশ প্রশান্ত মহাসাগরে নামে। তবে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রায় ১০ ঘণ্টার পরিকল্পিত পরীক্ষা তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করে স্পেসএক্স। এটি ছিল স্টারশিপের চতুর্দশ পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার রকেটটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। নিচের সুপার হেভি বুস্টার স্টারশিপকে মহাকাশের পথে তুলে দেওয়ার পর নিজেও সমুদ্রে নামে। উড্ডয়নের সময় স্টারশিপের একটি ইঞ্জিন আগেভাগে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও যানটি কক্ষপথে পৌঁছে নতুন প্রজন্মের ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ছাড়তে সক্ষম হয়। ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে পরিকল্পিত ছয়বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ না করিয়ে যানটিকে আগেই ফিরিয়ে আনা হয়। সাগরে নামার পর স্টারশিপটি কাত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দৃশ্য দেখে রকেটটি উৎক্ষেপণের পরপরই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে এর আগেই সেটি কক্ষপথে পৌঁছায় এবং স্যাটেলাইট স্থাপনের কাজ শেষ করে। অবশ্য সমুদ্রে নামা ও আগুনে পুড়ে যাওয়া দেখায়, রকেটটির পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। স্টারশিপকে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর কাজে ব্যবহার করতে চায় স্পেসএক্স। এবারের পরীক্ষায় কক্ষপথে পৌঁছানো ও স্যাটেলাইট স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও ইঞ্জিনের সমস্যার কারণ এবং যানটিকে অক্ষত ফেরানোর সক্ষমতা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর জন্য বড় বিষয় হয়ে থাকছে।
চীনের মাধ্যমে ইরানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি পাচার, ইরানি নাগরিকের ১৮ মাসের কারাদণ্ড
১০০ বছরের বেশি সময় পর নতুন প্রজাতির পেঙ্গুইন আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা
অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসে সবজি চাষ, টোকিওর হোটেলের ছাদে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব না পরে গান গাওয়ার অভিযোগে গায়িকা পারাস্তো আহমাদির ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির একটি আপিল আদালত। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত কোনো শুনানি ছাড়াই আপিল খারিজ করে আগের সাজা বহাল রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে হাতাকাটা পোশাক পরে গান গাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ২৯ বছর বয়সী পারাস্তো আহমাদি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সংগীতানুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেন। অনুষ্ঠানে তিনি মাথায় হিজাব পরেননি এবং হাতাকাটা পোশাক পরেছিলেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ তা দেখেন। এরপর ইরানের বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে দেশটির আইন ও সাংস্কৃতিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়। দেশটিতে নারীদের প্রকাশ্যে গান পরিবেশনের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে এবং তাদের হিজাব ও শালীন পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে কোম শহরের একটি ফৌজদারি আদালত আহমাদি ও তার ব্যান্ড এবং অনুষ্ঠান নির্মাণ দলের আরও আট সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, তারা প্রকাশ্যে অশালীন ও অনৈতিক উপাদান প্রচারের মাধ্যমে ‘জনসাধারণের শালীনতায় আঘাত’ করেছেন। মামলায় আহমাদিসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দুই বছরের জন্য দৃশ্যশ্রাব্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আহমাদির আইনজীবীরা আপিল করে বলেন, ওই সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করাই কোনো অপরাধ ছিল না। তাদের একজন বিবিসিকে জানান, একই অভিযোগে জরিমানা বা তুলনামূলক কম শাস্তির সুযোগ থাকলেও নিম্ন আদালত কঠোরতম শাস্তিগুলোর একটি দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল আদালতের শুনানি করার সুযোগ থাকলেও আদালত কোনো শুনানি করেনি এবং আগের রায় বহাল রেখেছে। আইনজীবীদের ধারণা, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানোর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এই রায়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। প্রাথমিক রায়ের খবর প্রকাশের পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নির্বাসিত ইরানি গায়িকা গুগুশ ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমাদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নারীদের নিজেদের জীবন ও পোশাক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার কথা বলেন। সংগীতশিল্পী হোসেইন আলিজাদেহও আহমাদির পরিবর্তে নিজে ৭০ বেত্রাঘাতের শাস্তি নিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছিলেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সাজার সমালোচনা করে বেত্রাঘাতকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানে নারীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি নতুন নয়। দেশটির আইনে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো নারী ও কিশোরীদের চুল হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখতে এবং শরীরের গঠন আড়াল করে এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরতে বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশটির অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিজাব ঠিকভাবে না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের আটক করা ২২ বছর বয়সী কুর্দি-ইরানি তরুণী আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২২ সালের ওই বিক্ষোভে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলেন বা মাথার কাপড় বাতাসে উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও ইরানের বিভিন্ন শহরে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, সতর্কবার্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে এর আগেও বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুর্দি-ইরানি অধিকারকর্মী রোয়া হেশমতিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া একটি ছবি প্রকাশের ঘটনায় ‘জননৈতিকতা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে ৭৪ বার বেত্রাঘাত করা হয় বলে কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছিল। হেশমতি পরে জানান, তেহরানের একটি প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক নারী কর্মকর্তা জোর করে তার মাথায় স্কার্ফ পরিয়ে দেন এবং পরে একজন পুরুষ কর্মকর্তা তাকে বেত্রাঘাত করেন। পারাস্তো আহমাদির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানে নারীদের পোশাক ও প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতিক ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য গোলামালি হাদ্দাদ-আদেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হিজাববিষয়ক বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আপাতত আগের মতো মনোযোগ দিতে পারছে না। তবে দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। আহমাদির বিরুদ্ধে রায়ের ফলে ইরানে নারী শিল্পীদের প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালতে কোনো শুনানি না করেই আগের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এখন ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হবে কি না এবং মামলাটির বিরুদ্ধে আরও কোনো আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য
২৮০ কেজি সোনায় মোড়ানো কাবার দরজা তৈরির কারিগর থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ এখন সৌদি বাদশাহর অতিথি
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড
হন্ডুরাস থেকে যাত্রা শুরু করা ৬০০-এর বেশি অভিবাসীর একটি বহর বর্তমানে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। ‘ফে ই এসপেরানজা’ বা ‘বিশ্বাস ও আশা’ নামের এই বহরে হন্ডুরাসের পাশাপাশি এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হাইতির নাগরিকরাও রয়েছেন। স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউজউইক জানিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হন্ডুরাসের সান পেদ্রো সুলা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ অভিবাসী ছোট ছোট দলে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করেন। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল গুয়াতেমালার সীমান্তে পৌঁছানো। এরপর মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে বহরটির সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এতে ৬০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ সদস্য নিয়ে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তাপাচুলায় পৌঁছেছিল। পরে দক্ষিণ মেক্সিকোতে আগে থেকেই অবস্থান করা আরও অভিবাসীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ফলে বর্তমানে ৬০০-এর বেশি মানুষের এই বহরকে শুধু হন্ডুরাস থেকে যাত্রা করা অভিবাসীদের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অভিবাসীদের কয়েকজন ইএফইকে জানিয়েছেন, হন্ডুরাস ছাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক সংকট ও কাজের অভাব। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করা এক নারী জানান, দেশে তার জন্য কোনো কাজ নেই। আরেক অভিবাসী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো কঠিন হবে জানলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। সান পেদ্রো সুলার বাসিন্দা হোসে সেলাইয়া জানান, তিনি ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে হন্ডুরাস ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে কাজ করে দেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিবাসীদের কেউ তাদের পরিচালনা করছে না বলেও দাবি করেন সেলাইয়া। তার ভাষায়, তাদের সামনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই, ক্ষুধা ও প্রয়োজনই তাদের এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এই বহর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। শেষ পর্যন্ত কতজন উত্তর মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে পারবেন বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতেও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়া অভিবাসী বহরের অনেকগুলো সংগঠিত দল হিসেবে মার্কিন সীমান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ অতীতেও উত্তরমুখী অভিবাসী বহরগুলোকে থামিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। কখনো অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে, আবার কখনো তাদের মেক্সিকোর অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি বছর আগস্টেও তাপাচুলা থেকে প্রায় ৮০০ অভিবাসীর একটি বহর মেক্সিকো সিটির দিকে যাত্রা করেছিল। ওই দলটির অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে মেক্সিকোতেই বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এবারের বহরের যাত্রা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তায় সামরিক ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব নীতির পর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ৮ হাজার ৮৭০টি গ্রেপ্তারের ঘটনা রেকর্ড করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ের মাসিক গড়ের তুলনায় এটি ৯৪ শতাংশ কম। একই মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে ছেড়ে দেয়নি এবং টানা ১৬ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ নতুন বহরের সদস্যদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তেগুসিগালপায় মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবপাচারকারীদের কথায় বিশ্বাস না করতেও অভিবাসীদের সতর্ক করা হয়। বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন রাজনীতিক এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন এই বহরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসন ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে তাপাচুলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকাগামী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর শহরটিতে বহু অভিবাসী আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের আগস্টে ইএফই জানিয়েছিল, বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অভিবাসী মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে নথিপত্র ও বৈধ অবস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। বর্তমান বহরটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় এবং মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ তাদের কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছানোর পর এই অভিবাসীরা প্রবেশের চেষ্টা করবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাজ্যে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী