বিশ্ব

বাগদাদে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক—রহস্য ঘনীভূত, তল্লাশি জোরদার

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ১:৪০
মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসন
মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসন

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে বাগদাদ থেকে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা সামনে এসেছে। মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসন-কে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা।

 

ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

 

জানা গেছে, অপহরণের সময় শেলি কিটলসন একটি গাড়িতে ছিলেন। একাধিক গাড়ি ব্যবহার করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন গাড়িকে আটক করতে সক্ষম হলেও সেখানে সাংবাদিককে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অন্তত একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

শেলি কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে রিপোর্ট করে আসছেন এবং তিনি আল-মনিটর-এর নিয়মিত সহযোগী। অভিজ্ঞ এই সাংবাদিকের অপহরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তাকে আগেই নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে এবং অপহৃত সাংবাদিককে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো কোনো গোষ্ঠী এই অপহরণের দায় স্বীকার করেনি, তবে কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন যে ইরান-সমর্থিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এতে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করলো, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকদের কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের ৫৩ প্রশাসনিক এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা

ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।   মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।   আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১১:১২
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স

উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি: রয়টার্স

ছবি: সিএনএন

ট্রাম্পের মনোনীত গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিল পুল্টেকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

চীনে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু, বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক সংকট নিরসনে ইরান–কাতারের শীর্ষ পর্যায়ের ফোনালাপ

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির মধ্যে টেলিফোনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতারের গঠনমূলক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কাতারের আমির আরও বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে দোহার কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   দুই নেতার আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।   সূত্র: কাতার নিউজ এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৮:৫১
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মেলোনি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দিলেন

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কঠোর শর্ত দিল ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে তীব্র সংঘর্ষে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হবে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতারসহ ৬ উপসাগরীয় দেশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমানকে একক রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গালফ রেলওয়ে কেবল একটি পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অতিক্রম করে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।   জিসিসি পরিবহনমন্ত্রীদের বৈঠকে বলা হয়, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।   বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   কুয়েত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা তৈরির জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে কুয়েত পৌর কাউন্সিল সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে।   অন্যদিকে সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।   এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে, যা আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে এই রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   বহু বছর ধরে পরিকল্পনাধীন গালফ রেলওয়ে প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃদেশীয় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৬:৩৬
ছবি: রয়টার্স

কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি হতে পারেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

গ্রিস সীমান্তে সাগরে তেলের ট্যাংকার। ফাইল ছবি: রয়টার্স

১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহ হারিয়েছে বিশ্ববাজার, ঘাটতি পূরণে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

0 Comments