সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এক দেহে দুই মাথা, সব শঙ্কা উড়িয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বিরল গেকো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২২:১
পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার ক্রেস্টেড গেকো। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার ক্রেস্টেড গেকো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার একটি গেকো টিকে থেকে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। জন্মের পর এর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হলেও, চার সপ্তাহ পার করে এখন সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে প্রাণীটি। এর দুটি মাথার নাম রাখা হয়েছে ‘সাইমন’ ও ‘গারফাঙ্কেল’।

 

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব পেনসিলভানিয়ার সরীসৃপ প্রজনন প্রতিষ্ঠান ‘রকস্টার গেকোস’-এ গত ২৯ জুন এই বিরল গেকোটির জন্ম হয়। জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুতই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

 

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। সাধারণত এ ধরনের প্রাণী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তবু শুরু থেকেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রাণীর একাধিক মাথা নিয়ে জন্মানোর ঘটনাকে ‘পলিসেফালি’ বলা হয়। ভ্রূণের বিকাশের সময় জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এমনটি ঘটতে পারে।

 

দুই মাথার প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মাথার আলাদা মস্তিষ্ক থাকে। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে চলাফেরা, খাবার গ্রহণ কিংবা দিক নির্ধারণে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দুটি মাথা ভিন্ন দিকে যেতে চাইলে চলাফেরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে, যা বন্য পরিবেশে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেয়।

 

তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, শুরুতে দুটি মাথা কখনও কখনও ভিন্ন দিকে যেতে চাইলেও ধীরে ধীরে তারা চলাফেরায় সমন্বয় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মাথাকেই অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি।

সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গেকোটির বয়স এখন চার সপ্তাহ। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম হলেও এটি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে। দুটি মাথাই আলাদাভাবে কোনো সহায়তা ছাড়াই খাবার গ্রহণ করছে।

 

আরও একটি স্বস্তির বিষয় হলো, গেকোটির মাথা দুটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে তারা একে অপরকে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকিও নেই।

নিউ ক্যালেডোনিয়ার স্থানীয় এই প্রজাতির ক্রেস্টেড গেকো পূর্ণবয়সে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম। তবে দুই মাথার এই গেকোটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা জানতে এখনও আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রাণীপ্রেমীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেকোটির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকেই শুরু থেকেই এর বেড়ে ওঠার খবর অনুসরণ করছেন। কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, বিরল এই প্রাণীটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে।

রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, গেকোটির পাঁচ সপ্তাহ পূর্ণ হলে তারা আবারও এর নতুন অবস্থা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই মাথার প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাপ ও কচ্ছপের মধ্যে। তবে মাছ, শূকর, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেও অতীতে পলিসেফালির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এমন প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু নিয়ে প্রতিবেদনে এআই সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ায় আলোচনায় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম
এআই প্রম্পটসহ সংবাদপত্র প্রকাশ, ট্রলের শিকার টাইমস অব বাংলাদেশ

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:৫৪
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি

নিউইয়র্কে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা ভারী বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বিভিন্ন এলাকা

যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকামূল্য এক বছরের তুলনায় কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বাজারে শীতলতা, ২০২৭ সালেও কমতে পারে দামের গতি

ট্রাম্প মোবাইলের টি১ স্মার্টফোন। দাম বাড়িয়ে এখন ৭৪৯ ডলারে বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

আইফোনের চেয়ে বাড়লো ট্রাম্প ফোনের দাম, এক লাফে ৭৪৯ ডলার

ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা
ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস এলাকার ১৮ বছর বয়সী মাইকেল ট্যালবার্টকে সমকামী হওয়া থেকে ‘বদলে দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে একটি ধর্মীয় কনভার্সন থেরাপি প্রোগ্রামে পাঠিয়েছিলেন তাঁর বাবা গ্রেগরি ট্যালবার্ট। প্রায় এক মাস পর সেই প্রোগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার পর ছেলের কাছ থেকে খরচ করা ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে মামলা করেন বাবা। তবে টেলিভিশনভিত্তিক আদালত অনুষ্ঠান ‘ইকুয়াল জাস্টিস’-এর সালিশি শুনানিতে বিচারক ইবনি কে. উইলিয়ামস ওই দাবি খারিজ করে মাইকেলকে বলেন, তিনি অভিশপ্ত নন এবং তাঁকে ‘ঠিক’ করার কোনো প্রয়োজন নেই।   ঘটনাটি ‘ইকুয়াল জাস্টিস উইথ জাজ ইবনি কে. উইলিয়ামস’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে উঠে আসে। তবে এটি বাস্তব সরকারি আদালত নয়। অনুষ্ঠানটি নিজেকে ছোট দাবির বিরোধ নিষ্পত্তির সালিশি কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্বটির ভিডিও নতুন করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।   অনুষ্ঠানে গ্রেগরি জানান, মাইকেল তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। ছেলেকে একজন পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখার পর তিনি তার যৌন অভিমুখিতা নিয়ে আপত্তি জানান। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ছেলে তাঁর কথা না শুনলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে মাইকেল কনভার্সন থেরাপি প্রোগ্রামে যেতে রাজি হন।   মাইকেলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক হারানো এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই তিনি প্রোগ্রামে যেতে সম্মত হয়েছিলেন। কয়েক দিন পর তিনি একটি ধর্মীয় প্রোগ্রামে যোগ দেন। সেখানে প্রায় এক মাস থাকার পর তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়। মাইকেল বিচারককে জানান, সেখানে তাঁকে বলা হয়েছিল তিনি ‘অভিশপ্ত’, নরকে যাবেন এবং তাঁকে ও অন্য অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন রয়েছে।   একপর্যায়ে মাইকেল প্রোগ্রাম ছেড়ে তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই তিনি জীবনে প্রথমবারের মতো নিজেকে মুক্ত মনে করেন। এরপর তাঁর বাবা প্রোগ্রামে ব্যয় করা ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে দাবি তোলেন। গ্রেগরির বক্তব্য ছিল, ছেলে পুরো প্রোগ্রাম শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা করেননি।   শুনানিতে বিচারক উইলিয়ামস মাইকেলের সম্মতি ও তাঁর বাবার দেওয়া চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি গ্রেগরিকে বলেন, ছেলেটি পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই প্রোগ্রামে যেতে রাজি হয়েছিল। পরে তিনি গ্রেগরির অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি পুরোপুরি খারিজ করেন।   রায়ের পর মাইকেলের সঙ্গে কথা বলার সময় বিচারক উইলিয়ামস আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে বলেন, তিনি অভিশপ্ত নন। তিনি ভালোবাসা ও সম্মানের যোগ্য এবং তাঁকে পরিবর্তন বা ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন নেই। বিচারক আরও বলেন, একজন সন্তানের এমন একটি বাড়ি প্রাপ্য, যেখানে সে নিরাপদ ও ভালোবাসার মধ্যে থাকতে পারে।   কনভার্সন থেরাপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সংগঠনগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব প্রচেষ্টার কার্যকারিতার পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই এবং এগুলো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   গবেষণায় বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক ফলাফলের সঙ্গে এসব প্রচেষ্টার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   তবে মাইকেল ও তাঁর বাবার এই ঘটনা বাস্তব আদালতের রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ‘ইকুয়াল জাস্টিস’ একটি টেলিভিশন সালিশি অনুষ্ঠান, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের প্রযোজনা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রকৃত পক্ষের ঘটনা উপস্থাপনের পাশাপাশি কিছু ঘটনা পুনর্নির্মাণও থাকতে পারে। ফলে টেলিভিশনের এই সিদ্ধান্তকে কোনো সরকারি আদালতের বিচারিক রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৪:১৭
ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি

ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি

বাড়ি কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে ক্রেতারা

বাড়ি কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে ক্রেতারা, শীর্ষে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড

অক্টোবরে রাজ্যের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ

স্ন্যাপ থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাদ, অক্টোবরে রাজ্যের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ

স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়
৮ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছরের দাম্পত্য! স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর দম্পতি জিনেট ও আলেকজান্ডার টকজকো প্রায় ৭৫ বছর সংসার করার পর ২০১৫ সালের জুনে একে অপরের খুব কাছেই জীবনের শেষ সময় কাটান। আলেকজান্ডার ১৭ জুন স্ত্রীর কোলে মারা যাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে জিনেটও মারা যান। তাদের জীবনের শেষ অধ্যায়টি পূর্ণ হয়েছিল বহু বছর আগে সন্তানদের কাছে বলা একটি ইচ্ছায়, শেষ সময়টুকুও যেন তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন।   জিনেট ও আলেকজান্ডার দুজনেরই জন্ম ১৯১৯ সালে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে। তাদের বাবা-মা ছিলেন পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী। মাত্র আট বছর বয়সে তাদের পরিচয় হয়। শৈশবের সেই সম্পর্কই পরে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। ১৯৪০ সালে তারা বিয়ে করেন এবং পরবর্তী সাত দশকের বেশি সময় একসঙ্গে কাটান।   বিয়ের পর আলেকজান্ডার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ব্যবসায় যুক্ত হন। সান দিয়েগোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর জিনেটও তার সঙ্গে কাজ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্টাইলিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের পাঁচ সন্তান, ১০ নাতি-নাতনি এবং ছয় প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী ছিল।   জীবনের শেষ সময়ে এসে দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০১৫ সালের মে মাসে পড়ে গিয়ে আলেকজান্ডারের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরিবার বুঝতে পারে, সময় খুব বেশি নেই। তখন হসপিস কেয়ার তাদের বাড়িতেই ব্যবস্থা করা হয়। আলেকজান্ডারের জন্য একটি বিছানা এনে সেটি জিনেটের বিছানার পাশে রাখা হয়, যাতে তারা শেষ সময়েও পাশাপাশি থাকতে পারেন।   তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকী ছিল ২৯ জুন। কিন্তু আলেকজান্ডারের অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় পরিবার আগেই ছোট করে সেই দিনটি উদযাপন করে। ঘরে আনা হয় ফুল ও বেলুন। পরিবারের সদস্যরা তাদের বিবাহের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেন, যখন আলেকজান্ডার জীবনের শেষ সময় পার করছিলেন।   ১৭ জুন আলেকজান্ডার স্ত্রীর কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্য অ্যাইমি টকজকো-কুশম্যান পরে জানান, মাকে স্বামীর মৃত্যুর কথা বলার পর জিনেট তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তিনি তাকে ভালোবাসেন এবং অপেক্ষা করতে, তিনি শিগগিরই তার কাছে আসবেন।   এরপর জিনেটকে কিছু সময় স্বামীর পাশে থাকতে দেওয়া হয়। পরদিন, ১৮ জুন, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৯৬ বছর বয়সী জিনেটও মারা যান। পরিবারের কাছে এটি ছিল তাদের দীর্ঘ জীবনের ভালোবাসা ও একসঙ্গে থাকার শেষ প্রতিশ্রুতির এক আবেগঘন পরিণতি।   আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর জিনেটের বলা শেষ কথাগুলোই পরে এই দম্পতির গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। সন্তানদের বর্ণনা অনুযায়ী, সারাজীবন একসঙ্গে থাকা এই দুজন জীবনের শেষ মুহূর্তেও আলাদা থাকতে চাননি। তাদের শেষ ইচ্ছা ছিল নিজেদের ঘরে, একে অপরের হাত ধরে এবং কাছাকাছি থেকে বিদায় নেওয়া।   ২০১৫ সালের ২৯ জুন তাদের যৌথভাবে দাফন করা হয়। একই দিনে তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকীও ছিল। জীবনের শুরুতে আট বছর বয়সে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, সাত দশকের বেশি সময় পর সেই সম্পর্কের শেষ অধ্যায়ও তারা প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি থেকেই শেষ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:১২
ইউটাহতে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া

ইউটাহতে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া, কিনতে পারছেন না ৯১% ভাড়াটিয়া

ম্যাসাচুসেটসের সালেমের সৈকত, যেখানে নয় বছরের ব্যবধানে দুটি জীবনরক্ষার ঘটনা ঘটেছিল বলে বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নয় বছর আগে যে নারী বাঁচিয়েছিলেন জীবন, সেই নারীর স্বামীকেই পরে বাঁচালেন সেই ছেলে

৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়ালে নিহতদের স্মরণ করেন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ৯/১১ স্মৃতিসৌধে সাব্বির আহমেদের পরিবারের শ্রদ্ধা, ২৫ বছর পরও অমলিন শোক

0 Comments