কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে রমনা কমিউটার লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে কুড়িগ্রাম–তিস্তা রেলপথে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে কুড়িগ্রাম থেকে রংপুরগামী রমনা কমিউটার লোকাল ট্রেন (ডাউন–১৩৩) রাজারহাট সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের পাশে রাখা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রেনের ইঞ্জিনের মেইন রিজার্ভার পাইপ খুলে যাওয়ায় ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় লোকোমাস্টার ট্রেনটি রাজারহাট ভূমি অফিস সংলগ্ন রেললাইনে থামিয়ে দেন। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই রুটে সাময়িকভাবে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশে রাখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেন পরিচালক মো. কিবরিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ইঞ্জিনের মেইন রিজার্ভার পাইপ খুলে গেছে। এছাড়া কয়েকটি পা-দানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অবস্থায় ইঞ্জিনটি দিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। বিকল্প রেক এনে ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজারহাট স্টেশন মাস্টার সুমন মিয়া জানান, দুর্ঘটনার কারণে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। বিকল্প ইঞ্জিন এনে দ্রুত লাইন সচল করার চেষ্টা করা হলেও রাত ৭টা পর্যন্ত সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। ফলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে সরানো সম্ভব হয়নি।
পরে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় রেল কর্তৃপক্ষ।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
নতুন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর নামে তোলা চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থ’ হিসেবে দেখার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি জোরপূর্বক আদায় করা হয় না, তাই সাধারণ চাঁদা হিসেবে গণ্য করা যায় না। গত বৃহস্পতিবার নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এই অর্থ তাদের কল্যাণে ব্যয় করে। এখানে বিতর্কের বিষয় হতে পারে, কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এটি করছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করবে যে, এই সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কি না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনস্বার্থে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা নিয়ে বলা হয়— রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খাল পুনঃখনন ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা। ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমানোর পদক্ষেপ। ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস বিশেষ লেন (বিআরটি) প্রকল্প পুনঃপর্যালোচনা। পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা এই মনোভাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, পরিবহন খাতে যেকোনো ছায়া খরচ বা চাঁদা অপ্রকাশ্য চাপ তৈরি করে। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শুধু নিয়োগপত্র ও বেতন যথেষ্ট। ২০২৪ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে প্রায় ১,০৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান বিলাল এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্কের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (TIKA)-এর চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লাহ। বিমানবন্দরে প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান। পরে তারা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বিলাল এরদোয়ান বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে শিক্ষা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তুরস্ক সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তুরস্ক সরকার ও জনগণ সবসময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখবে। ব্রিফিং শেষে প্রতিনিধি দলটি সড়কপথে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যান। সফরসূচিতে ক্যাম্প-৯–এ তুরস্কের ফিল্ড হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-১৬–এ টিকার সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ইফতার কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করবেন তারা।
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানী ঢাকার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ভালো মানের এক হালি (চারটি) লেবু কিনতে খরচ হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ একটি লেবুর দামই প্রায় ২৫-৩০ টাকা। যেখানে কিছুদিন আগেও মাঝারি মানের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। গত বছরের রোজার আগে একই লেবুর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার—মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু লেবুই নয়, ইফতারসংশ্লিষ্ট আরও অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। বেগুন, শসা, টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে, আর শসা ৮০-১০০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দাম ৫৫-৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজানে ইফতারে লেবুর শরবত, সালাদ ও ভাজাপোড়া তৈরির জন্য এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। বিক্রেতারা জানান, মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় লেবুর সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা সাধারণত পাইকারি দামের সঙ্গে ১০-২০ টাকা লাভ যোগ করে বিক্রি করছেন। মাংস ও মাছের বাজারেও একই চিত্র। দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ২০০-২২০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩২০-৩৫০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ফার্মের ডিমের দাম তেমন বাড়েনি। বর্তমানে এক ডজন ডিম ১০৫-১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা এক হালি লেবুর দামের কাছাকাছি। মাছের ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে। তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন মাছ কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলের বাজারেও রমজানের প্রভাব স্পষ্ট। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৩৪০ টাকা কেজি দরে এবং আপেল ৩৩০-৪০০ টাকা কেজিতে। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এসব ফলের দাম ৫০-৮০ টাকা বেশি। দেশীয় ফল যেমন কলা, পেঁপে, পেয়ারা ও বরইয়ের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে ছোলা, ডাল ও চিনি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা বলছেন, রমজান উপলক্ষে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, প্রায় সবকটির দামই এবার বেড়েছে। ফলে সংসারের ব্যয় সামলাতে তাঁদের বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।