সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: মাটিচাপা দেওয়ার পরও ১০ দিন ধরে চাওয়া হচ্ছিল মুক্তিপণ
সাইপ্রাসে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমনকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির লারনাকা শহরের একটি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হলেও তার মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে দিনের পর দিন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার ছিলেন সবার বড়। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় মাত্র তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান তিনি। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ খুঁজছিলেন।
পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন শাহরিয়ার। তিনি জানান, একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাতেই কাজে যোগ দেবেন। নতুন কাজ পাওয়ার খবরটি তিনি তার বাবা এবং একই এলাকার বাসিন্দা ও রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানিয়েছিলেন।
সেদিন রাত ৯টার দিকে কাজের স্থানে পৌঁছে রুমমেটকে নিজের অবস্থানের তথ্য পাঠান শাহরিয়ার। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কিছু সময় পর তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে পরিবারের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শাহরিয়ারকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে ফিরে পেতে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে পারেননি। তাদের ধারণা ছিল, হয়তো তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।
কিন্তু পরদিন সকালেও শাহরিয়ার বাসায় না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তার পাঠানো সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য অনুসরণ করে অনুসন্ধান চালালেও প্রথমদিকে কোনো সাফল্য পায়নি।
এদিকে প্রতিদিনই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছিল। শাহরিয়ারের ব্যবহৃত নম্বরটি সারাক্ষণ সক্রিয় থাকায় পরিবার শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় আলোচনায় বসে। একপর্যায়ে দাবি করা অর্থ কমিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অর্থ পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই তারা জানতে পারেন যে সাইপ্রাস পুলিশ শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
সাইপ্রাস পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই শাহরিয়ারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ লারনাকার কোফিনু এলাকার একটি স্থানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। গত রোববার সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। স্বজনদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি।
শাহরিয়ারের পরিবার জানায়, বিদেশে পড়াশোনার খরচ চালাতে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি খুঁজছিলেন। নতুন কাজ পাওয়ার আনন্দ নিয়ে যে তরুণ সেদিন রাতে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার জীবন থেমে যায়।
নিহত শিক্ষার্থীর মা পাপিয়া বেগম ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক তরুণের এমন মর্মান্তিক পরিণতি বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বাংলাদেশ
View moreকক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত সেনাসদস্যের নাম মো. তিতাস শেখ (২৭)। এ সময় মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রঙ্গীখালীর গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল। তাঁদের উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর সৈনিক তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা ৫৭ জনের মধ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র অপরাধীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়। এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ওই পাহাড়ি আস্তানায় বেশ কয়েকজনকে আটকে রাখা হয়েছিল। সীমান্তবর্তী টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের তৎপরতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। অভিযানে নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: ইকরামুল হাসান শাকিল
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?
১ জানুয়ারি বর্ধিত মজুরি পাবেন পোশাক শ্রমিকরা, মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পিয়া ডান্ডিয়া। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত শক্তিশালী রিপাবলিকান প্রার্থী কেসি আসকারকে হারিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিক। নির্বাচনে পিয়া ডান্ডিয়া ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকার পান ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্লোরিডা থেকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি। পিয়া ডান্ডিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তার বাবা-মা ১৯৮০-এর দশকে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শৈশবে বিভিন্ন সময় ভারতে কাটানো স্মৃতি এবং আন্তর্জাতিক বৈষম্য দেখার অভিজ্ঞতাই তার জীবন ও চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা পিয়া তার ক্যারিয়ার শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি হারলেমের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তার নেতৃত্বে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরাও শতভাগ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। এছাড়া তিনি হোয়াইট হাউস ফেলো হিসেবে শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক পরিষদে কাজ করেছেন এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলেও সরকারি খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় পিয়া মূলত জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি দমন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আগ্নেয়াস্ত্রের নিরাপত্তার মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ফ্লোরিডার রাজনীতিতে এই নির্বাচনটি ছিল অন্যতম ব্যয়বহুল। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিয়া প্রায় ৪৬ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আসকারের সংগ্রহ ছিল প্রায় ৭৪ লাখ ডলার। এর বাইরেও পিয়াকে হারাতে ট্রাম্পপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রায় ৬৫ লাখ ডলার এবং আসকারকে রুখতে ডেমোক্র্যাট সমর্থিত গোষ্ঠী প্রায় ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করে। সব সমীকরণ পেছনে ফেলে ইন্ডিয়ান আমেরিকান ইমপ্যাক্ট ফান্ডসহ স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার সমর্থন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন পিয়া ডান্ডিয়া।
ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা বন্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি
হাসিনার সম্পত্তির বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার
'পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের হত্যার অধিকার আছে '- তথ্য উপদেষ্টা
রাজধানীর ডেমরায় একটি ইনসুলেশন কারখানা থেকে বিরল হালকা গোলাপি রঙের একটি গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক ফুট লম্বা সাপটি মনোকলড কোবরা প্রজাতির বাচ্চা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যালবিনিজম বা রঞ্জক পদার্থের ঘাটতিজনিত জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সাপটির শরীরে এমন অস্বাভাবিক রং দেখা গেছে। ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি) নামের একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনের নির্দেশনায় সাপটি উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সাইফ রুদ্র। কারখানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা সাপটির অস্বাভাবিক রং সাধারণ গোখরার তুলনায় একেবারেই আলাদা। মনোকলড কোবরা বাংলাদেশে পরিচিত বিষধর সাপের একটি প্রজাতি। সাধারণত এদের শরীর বাদামি, জলপাই বা কালচে রঙের হয়ে থাকে। ফণা তুললে পেছনের দিকে একক গোলাকার চিহ্ন দেখা যায়, যেখান থেকে মনোকলড কোবরা নামটির উৎপত্তি। তবে উদ্ধার হওয়া সাপটির শরীরে স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তে হালকা গোলাপি আভা দেখা গেছে। বন্যপ্রাণীবিজ্ঞানে অ্যালবিনিজম বলতে এমন একটি জিনগত অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শরীরে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন অনুপস্থিত বা অত্যন্ত কম থাকে। এর ফলে প্রাণীর স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে সাদা কিংবা ফ্যাকাশে হতে পারে। তবে শুধু শরীরের রং দেখে কোনো প্রাণীর অ্যালবিনিজম নিশ্চিত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে লিউসিজমসহ অন্যান্য রঞ্জকজনিত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হয়। উদ্ধার হওয়া সাপটির ক্ষেত্রে অ্যালবিনিজমের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা বা জিনগত বিশ্লেষণের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে সাপটির অস্বাভাবিক রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ হওয়ায় বাচ্চা অবস্থাতেও এটি বিপজ্জনক হতে পারে। আকারে ছোট হলেও এর কামড়ে গুরুতর বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের সাপ চোখে পড়লে নিজে ধরতে বা সরাতে না গিয়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কিংবা সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাপের ভূমিকা রয়েছে। মানুষের বসতি, কারখানা কিংবা কৃষিজমির আশপাশে সাপ পাওয়া গেলে সেটিকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত। ডেমরায় উদ্ধার হওয়া বিরল রঙের গোখরাটি বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা সেটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম
বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫