আমেরিকা

৭ হাজার পৃষ্ঠার যৌন টেক্সট! নিউজার্সির শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:১৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক এক স্কুলশিক্ষিকার বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক ভয়াবহ অভিযোগ আনা হয়েছে। গত বুধবার অ্যাশলে ফিসলার (৩৬) নামের ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান তৈরিসহ মোট ১২টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গ্লুচেস্টার কাউন্টির প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন এই অভিযোগগুলোর মধ্যে নাবালককে যৌন নির্যাতন এবং পেশাগত অসদাচরণের মতো গুরুতর অপরাধও রয়েছে।

 

প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্যমতে, ভুক্তভোগী ওই ছাত্র বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তিনি যখন অরচার্ড ভ্যালি মিডল স্কুলে পড়তেন, তখন শিক্ষিকা ফিসলারের সঙ্গে তার অবৈধ যৌন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকার গাড়ি এবং শ্রেণিকক্ষের ভেতরে একাধিকবার তাদের মধ্যে এই যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। তদন্তকারীরা এই অবৈধ সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে অসংখ্য টেক্সট মেসেজ উদ্ধার করেছেন, যা তাদের সম্পর্কের বেআইনি দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

 

এনজে অ্যাডভান্স মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাত্রটি হাইস্কুলে ওঠার পরও ফিসলার তার সঙ্গে হাজার হাজার যৌন উত্তেজক খুদে বার্তা বা টেক্সট মেসেজ আদান-প্রদান চালিয়ে যান। তদন্তকারীদের সংগ্রহ করা প্রায় সাড়ে সাত হাজার পৃষ্ঠার এসব মেসেজের মধ্যে একটিতে ওই ছাত্র লিখেছিলেন যে, এই শিক্ষিকা তাকে মানসিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। তবে ফিসলারের আইনজীবী রোকো সিপারোন এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আদালতে দাবি করেছেন, প্রসিকিউটরদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই এবং উদ্ধারকৃত টেক্সট মেসেজগুলোর খণ্ডিত অংশ প্রসঙ্গবহির্ভূতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

এর আগে গত মার্চ মাসে ফিসলারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে নাবালককে যৌন নির্যাতন ও শিশুকল্যাণ বিপন্ন করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন করে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান তৈরি, সংরক্ষণ ও নাবালকের কাছে অশ্লীলতা ছড়ানোর মতো প্রথম ও তৃতীয় মাত্রার বিভিন্ন অভিযোগ যুক্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথম মাত্রার প্রতিটি অভিযোগের জন্য তাকে সর্বোচ্চ ২০ বছর, দ্বিতীয় মাত্রার জন্য ১০ বছর এবং তৃতীয় মাত্রার অভিযোগের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটন টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্টে সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ দেখে ফেরার পথে গাড়িচাপায় নিহত দুই নারী, গ্রেপ্তার চালক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক প্রাণহানির শিকার হয়েছেন দুই নারী। গত শনিবার নিউজার্সির নেওয়ার্ক এলাকার পার্ক অ্যাভিনিউ এবং নর্থ সেভেনথ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এই ভয়াবহ 'হিট-অ্যান্ড-রান' বা গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত ওই দুই নারীর নাম মারিয়ানা এলিজাবেথ ভালভার্দে বেলট্রান (৫৮) এবং মারিয়া ইসাবেল দেলসঅ্যাঞ্জেলেস সালগাদো আয়ালা (৬১)।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৬ বছর বয়সী ডেভিড জে. জাপাতা-ভেরা নামের এক যুবক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে ওই দুই নারীকে সজোরে ধাক্কা দেন, যার তীব্রতায় তারা ছিটকে শূন্যে উড়ে যান। ম্যানুয়েল ক্যান্ডেলেরিয়া নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাফিক সিগন্যালের আলো পরিবর্তনের ঠিক আগমুহূর্তে ঘাতক চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিয়ে ক্রসওয়াক অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না তা নিশ্চিত না হলেও, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এই প্রত্যক্ষদর্শী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত নেওয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।   অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যুতে নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনরা মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিহত বেলট্রানের চাচাতো ভাই জেফরি চ্যাকন জানান, ইকুয়েডরে থাকা তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানাতে গিয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে, প্রাণঘাতী এই ঘটনার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার ঘাতক চালক জাপাতা-ভেরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি ভেহিকুলার হোমিসাইড, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং আহতদের বিপদে ফেলে যাওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে বিনা জামিনে এসেক্স কাউন্টি কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৫:১০
ফাইল ছবি

সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগে প্রবাসী পরিবারগুলো, অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ফ্লোরিডায় ভুয়া পুলিশ সেজে আসল পুলিশের গাড়ি থামানোর চেষ্টা l ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় ভুয়া পুলিশ সেজে আসল পুলিশের গাড়ি থামানোর চেষ্টা, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

৭ হাজার পৃষ্ঠার যৌন টেক্সট! নিউজার্সির শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগ

মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া দুই আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসা এক নিখোঁজ সমকামী যুগল বা দুই সঙ্গীর মরদেহ মেক্সিকোর রাজধানী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে মেক্সিকো সিটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই দুই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত সপ্তাহে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনাটি মেক্সিকোতে চলমান অপরাধমূলক সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।   নিখোঁজ হওয়া এই দুই ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জাফর পাদামিস মাওয়ানি এবং তার সমবয়সী সঙ্গী গুইলারমো জাফেট হিদালগো ওরতিজ। তারা দুজনেই শিকাগো এবং মেক্সিকো সিটিতে বসবাস করতেন। মেক্সিকান পুলিশ এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাফর মাওয়ানির অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই এই দুই সঙ্গী মেক্সিকোতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। মে মাসে তারা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল শিকাগোর স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সূত্র ধরেই মেক্সিকান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে বুধবার মেক্সিকোর জাতীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।   জাফরের পরিবারের মুখপাত্র কেট টেইলর এক বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর সরকারি নিখোঁজ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সেই স্থানটি লা মার্কেসা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তা এখনও প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে অপরাধমূলক সহিংসতার কারণে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার কিছুটা কমলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত মে মাসেই দেশটিতে নতুন করে ৯৭৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে মেক্সিকোতে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপ চলার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলে প্রশাসন যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৩:৩৬
সান ফ্রান্সিসকোর একটি ভবনের সামনে ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের একটি ডেলিভারি ভ্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস

ট্রাম্পের প্রস্তাবে ভোটার তালিকা না দিলে ব্যালট পাঠাবে না মার্কিন ডাক বিভাগ

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস | ছবি: এপি

ডেমোক্রেটিক পার্টি ধ্বংসের অভিযোগে মামদানির ওপর চটলেন লেটিটিয়া জেমস

ছবি: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা

টেক্সাসে ১৭০০ অপরাধে জড়িত ৭৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই

ছবি: আউটফ্রন্ট মিডিয়া
নিউইয়র্কের বাসে ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক, অপসারণের দাবি ধর্মীয় নেতাদের

নিউইয়র্কের রাস্তায় চলাচলকারী হাজারো বাসের সামনের অংশে এখন বড় অক্ষরে লেখা একটি নাম— ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসজুড়ে তিন হাজারেরও বেশি বাসে প্রদর্শিত এই বিজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা বিজ্ঞাপনটি অপসারণের দাবি জানালেও নিউইয়র্কের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ (এমটিএ) বলছে, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর কারণে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। বুধবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত এমটিএর মাসিক বোর্ড সভায় অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বিজ্ঞাপন শিশু-কিশোরদের সামনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে এবং তা তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ২০০২ সালে উদ্যোক্তা ড্যানিয়েল গ্লাক ম্যানহাটনের ফ্ল্যাটআয়রন এলাকায় ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল মানব যৌনতার ইতিহাস, বিবর্তন ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে জাদুঘরের কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম যৌনতাবিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।   প্রতিষ্ঠার সময় নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব রিজেন্টস জাদুঘরটির অলাভজনক মর্যাদার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের মতে, এমন ধারণা প্রচলিত জাদুঘর ব্যবস্থার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।   ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউ ও ২৭তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত জাদুঘরটিতে শিল্প, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির আলোকে যৌনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপার ফানল্যান্ড: জার্নি ইনটু দ্য ইরোটিক কার্নিভাল’ নামে একটি স্থায়ী ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনীও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।   জাদুঘরটির সংগ্রহে রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি নিদর্শন, যার মধ্যে শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র, পোশাক, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী রয়েছে। এখানে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হয়।   বর্তমান বিজ্ঞাপন প্রচারণায় বাসের সামনে শুধু ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ নাম এবং প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ছবি বা অতিরিক্ত বার্তা এতে নেই। জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল গ্লাকের লক্ষ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির নামকে নিউইয়র্কের পরিচিত নগর প্রতীকের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।   তবে বিজ্ঞাপন প্রচারণা শুরু হওয়ার ছয় মাস পর বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগেও ২০১৮ সালে একই ধরনের বিজ্ঞাপন বাসের সামনে প্রদর্শনের পর নারী বাসচালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের দাবির মুখে বিজ্ঞাপনগুলো বাসের পেছনে সরিয়ে নেওয়া হয়।   সেন্ট্রাল র‍্যাবিনিক্যাল কংগ্রেসের রাব্বি আব্রাহাম জিমারম্যান এমটিএ বোর্ড সভায় বলেন, “অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মে যৌনতার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে এমন ছবি বা বিজ্ঞাপন স্বেচ্ছায় দেখা নিষিদ্ধ। আমরা আমাদের সন্তানদের এসব বিষয় থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু প্রতিদিন তারা এসবের মুখোমুখি হচ্ছে।”   হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এক পরিবারের সদস্য রিটা ফ্রিডম্যানও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের নৈতিক মূল্যবোধ কোথা থেকে শিখবে, সেটি নিয়ে আমি চিন্তিত।”   এদিকে এমটিএ চেয়ারম্যান জ্যানো লিবার স্বীকার করেছেন, কিছু যাত্রী বাসে উঠে চালক ও অন্য যাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করছেন। তবে তিনি বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী এমটিএ বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু সেন্সর করার ক্ষমতা রাখে না। তার ভাষায়, “আমি তাদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। কিন্তু আমরা প্রথম সংশোধনীর অধীনে পরিচালিত একটি সংস্থা।”   লিবার আরও জানান, আইনগতভাবে ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ একটি স্বীকৃত শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এর বিজ্ঞাপন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রচার হিসেবে বিবেচিত হয়, যা গণপরিবহনে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পায়।   এমটিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আগে জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞাপনে ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছিল, যাতে যাত্রীরা বুঝতে পারেন এটি একটি নির্দিষ্ট স্থান ও প্রতিষ্ঠান, কোনো চলমান কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন নয়।   এমটিএ প্রতিবছর বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা তাদের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য। তবুও বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সংস্থাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের এক সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে বাকস্বাধীনতার অধিকারের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে।   তবে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের একটি অংশ বিষয়টিকে বড় কোনো ইস্যু হিসেবে দেখছেন না। এক যাত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সত্যি বলতে, আমি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবি না।” এদিকে বিতর্ক চললেও ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’-এর বিজ্ঞাপন এখনো নিউইয়র্কের বাসগুলোর সামনের অংশে প্রদর্শিত হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১২:৩৯
ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তন, বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীর আর দেখাতে হবে না পরিচয়পত্র

বৈশাখী উৎসবের পর আগামীকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সাধারণ সভা

বৈশাখী উৎসবের সফল আয়োজনের পর আগামীকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সাধারণ সভা

ছবি: গেটি ইমেজেস

মেয়েদের গোপন কক্ষে ছেলেদের প্রবেশের সুযোগ, আমেরিকার তিন স্কুলের বিরুদ্ধে বড় তদন্ত

0 Comments