বাংলাদেশ

নিহতের মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ সদস্য দেখলেন নিথর দেহটি নিজের ছেলের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ৭:৯
সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন পুলিশ কনস্টেবল। ছবি: সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন পুলিশ কনস্টেবল। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করতে যান এক পুলিশ কনস্টেবল। সেখানে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, যে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করতে এসেছেন, সেটি তাঁরই একমাত্র ছেলে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

 

শুক্রবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তুহিন (১০) ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত একজন কনস্টেবল। তাদের গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে রাস্তা পার হওয়ার সময় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক তুহিনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কনস্টেবল সামসুল। তখনও তিনি জানতেন না, নিহত শিশুটি তাঁর নিজের সন্তান।

 

ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলের নিথর দেহ দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই মর্মান্তিক দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

 

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, কনস্টেবল সামসুল থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তাঁর নিজের ছেলে। ঘটনাটি পুরো পুলিশ সদস্যদের জন্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

 

ওসি আরও জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার
নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার বিকেলে স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।    সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অথবা তিনি অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।    এদিকে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ৯:১৪
সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন পুলিশ কনস্টেবল। ছবি: সংগৃহীত

নিহতের মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ সদস্য দেখলেন নিথর দেহটি নিজের ছেলের

ড. ইউনূসের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়েছেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি সংগৃহীত

ড. ইউনূস কি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন? যা জানালেন সাবেক প্রেস সচিব

একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি

সৌদিতে ওমরাহ পালনে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মা-সহ একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির

কলমের শক্তিতে দুই বাংলা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়েছেন লেখক শাম্মী তুলতুল | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
লেখালেখি দিয়ে দুই বাংলা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান হয়েছেন শাম্মী তুলতুল

বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক ও কথাসাহিত্যিক শাম্মী তুলতুল। চট্টগ্রামের মাটি থেকে দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনে নিজস্ব আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক নাম। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে যাঁরা বহুমাত্রিক পরিচয়ে কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে আলোচিত একজন জনপ্রিয় লেখক ও কথাসাহিত্যিক।   একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। পারিবারিক ইতিহাসেই যেন লুকিয়ে আছে সাহিত্যচর্চার বীজ। তাঁর দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, লেখক এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। নানী কাজী লতিফা হক বেগমও ছিলেন পত্রিকার সুপরিচিত লেখক। ফলে শাম্মী তুলতুলের বেড়ে ওঠা ছিল চিন্তা, চেতনা ও সংস্কৃতির এক আলোকিত পরিবেশে।   ছোটবেলা থেকেই তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের প্রথম সারির বিভিন্ন পত্রিকায় লিখে আসছেন। তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকাল, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রতিদিনের সংবাদ, খোলা কাগজ, সরকারি পত্রিকা শিশু ও নবারুণে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্যারিস, কানাডা, নিউইয়র্ক, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও জার্মানির বাংলা পত্রিকাতেও নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাঁকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমেও বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।   শৈশবে তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত ও ডানপিটে স্বভাবের। নাচ, গান, আবৃত্তি ও খেলাধুলায় সমান আগ্রহ থাকলেও সময়ের সঙ্গে লেখালেখিই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান পরিচয়। বর্তমানে তিনি একাধারে লেখক, উপন্যাসিক, গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, নজরুল-অনুরাগী, রেডিও সংবাদ পাঠিকা, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ভয়েস প্রেজেন্টার ও মডেল। বহুমাত্রিক এই পরিচয় তাঁর সৃষ্টিশীলতার বিস্তারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।   এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। ২০২২ সালের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ ‘নরকে আলিঙ্গন’ পাঠকমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বর্তমানে ভারতের জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে চোরাবালির বাসিন্দা, পদ্মবু, মনজুয়াড়ি, একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল, পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ, গণিত মামার চামচ রহস্য এবং নান্টু ঝান্টুর বক্স রহস্য। এসব বই পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে বেস্টসেলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিটি বইয়ে তিনি বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষণীয় বার্তা রাখার চেষ্টা করেন, যা তাঁর লেখাকে শুধু গল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেও পরিণত করেছে।   তাঁর উপন্যাস ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’ কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। লেখকের মতে, বইটি লেখা ছিল তাঁর জন্য সাহসের একটি কাজ। বর্তমানে এই বইয়ের তথ্য অনেক গবেষক ও লেখক তাঁদের বিভিন্ন লেখায় রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা তিনি তাঁর অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।   শিশু-কিশোর সাহিত্যে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা ‘পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’ গল্পটি দীপ্ত টিভিতে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর রচনায় নির্মিত ‘লাল শরবত’ নাটক সম্প্রচারিত হয়েছে সিটি এফএম-এ। সম্প্রতি তাঁর একটি গল্প ভারতে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা তাঁর সাহিত্যকর্মের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার আরেকটি উদাহরণ।   সামাজিক নানা অসঙ্গতি নিয়েও তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। তাঁর বই বাংলাদেশের বৃহত্তম অনলাইন বইয়ের বাজার রকমারি, প্রথমা, দারাজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। এছাড়া রবি বইঘর অ্যাপ, বাংলালিংক ও এয়ারটেলের ই-বুক প্ল্যাটফর্মেও তাঁর বই পাঠকের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড, মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড, সাউথ এশিয়া গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড, নজরুল অগ্নিবীণা সাহিত্য পুরস্কার, সোনার বাংলা সাহিত্য সম্মাননা, রোটারি সম্মাননা, উইমেন পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫, ময়ূরপঙ্খী স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এবং খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক সম্মাননা। খাগড়াছড়ির পাঠকসমাজ ভালোবেসে তাঁকে ‘রাজকন্যা’ উপাধিতেও ভূষিত করেছে। তাঁর সম্মানে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন টানা দুইবার একক বইমেলার আয়োজন করে। সম্প্রতি তিনি ভারত থেকে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রবীন্দ্র রত্ন পুরস্কার ২০২৬ লাভ করেছেন।   সম্প্রতি তিনি বেগম রোকেয়া চরিত্রে একটি ম্যাগাজিনের কভার মডেল হিসেবে উপস্থিত হয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন, যা তাঁর বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার আরেকটি দৃষ্টান্ত।   সামাজিক ও পারিবারিক নানা বাধা অতিক্রম করে নিজের অবস্থান তৈরি করার যে সংগ্রাম, সেটিই শাম্মী তুলতুলের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। তাঁর লেখালেখি কেবল সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং আত্মবিশ্বাস, প্রতিরোধ এবং সামাজিক বার্তারও ধারক।   নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শাম্মী তুলতুল বলেন, লেখালেখি তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়—এটি দায়বদ্ধতা, মানুষের হৃদয়ে আলো পৌঁছে দেওয়ার এক অবিরাম প্রয়াস। তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্য মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলো জ্বালাতে পারে। প্রতিটি বইয়ে তিনি বিনোদনের সঙ্গে শিক্ষণীয় বার্তা রাখতে চান। পাঠকের হৃদয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। নারী হিসেবে পথচলায় নানা প্রতিবন্ধকতা ও সামাজিক বাধার মুখোমুখি হওয়ার কথাও তিনি অকপটে স্বীকার করেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিকূলতাই মানুষকে আরও শক্ত করে তোলে। পিছুটান নয়, সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৯:২৬
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি। ছবি:সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের  নেপথ্যে কি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ?

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

জামায়াতের এমপি বহিষ্কার নিয়ে যা বললেন হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা গালিব

এমপি গাজী নজরুল। ছবি:সংগৃহীত
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত, জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল

সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।    বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।    জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি দ্রুত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।    এর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে জামায়াতে ইসলামী। তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাহী পরিষদের কাছে উপস্থাপনের পরই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৮:৩৮
বাংলাদেশের পাসপোর্ট।ছবি:সংগৃহীত

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

তামীরুল মিল্লাতের এক শাখা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে ২০৪ জন, ছাত্র সংসদে বিজয়ী ৪৮

শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার কী হবে? আত্মসমর্পণ, গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনা

0 Comments