যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি মহানগর এলাকায় বসবাসের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। একসময় কম কর, উষ্ণ আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে যেসব মানুষ নিউইয়র্ক ছেড়ে মায়ামিতে চলে যেতেন, সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য শহরটি এখনও আকর্ষণীয় হলেও মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ আঞ্চলিক মূল্যসূচক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মায়ামি–ফোর্ট লডারডেল–ওয়েস্ট পাম বিচ মহানগর এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি। বর্তমানে কেবল সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াই মায়ামির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক উচ্চ আয়ের মানুষ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসে। এতে আবাসন বাজারে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির মূল্য, ভাড়া, বীমা, ব্যক্তিগত স্কুলের খরচ এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালের পর থেকে মায়ামি অঞ্চলে ভোক্তা মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় মহানগরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাখাতের কর্মীরা। তাদের অনেকের আয় বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকায় চলে যাওয়া বা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে।
অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী, আর্থিক খাতের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মায়ামির আকর্ষণ এখনো কমেনি। কারণ, ফ্লোরিডায় এখনো কোনো অঙ্গরাজ্য আয়কর নেই। অনেকের মতে, উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ধনীদের জন্য কর-সুবিধা ব্যয় বৃদ্ধির একটি অংশ পুষিয়ে দেয়। তবে সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা কার্যত মিলছে না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মায়ামির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ আবাসনের সীমিত সরবরাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ বীমা ব্যয় এবং শক্তিশালী রিয়েল এস্টেট বাজার। এসব কারণে শহরটির দীর্ঘদিনের ‘সাশ্রয়ী বিকল্প’ হিসেবে পরিচিতি প্রায় হারিয়ে গেছে।
যদিও মায়ামি এখনও উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত ও কর-সুবিধার কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য, তবু জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় শহরটির ভবিষ্যৎ আবাসন বাজার এবং মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ধনী ব্যবসায়ী ও রিয়ালিটি টিভি ব্যক্তিত্ব ইয়াকির লেভি ফ্লোরিডার একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের ২৮ তলা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। বন্ধুদের কাছে শেষ টেক্সট পাঠানোর মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবার ও বন্ধুরা একে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ হলেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াকির লেভি গত সোমবার রাতে সানি আইলস বিচের আকোয়াটিনা রিসোর্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সে দুই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। বন্ধুরা যখন ভ্যালেটে গাড়ি থামান, ঠিক তখনই লেভি তাঁদের একটি মেসেজ পাঠান—‘আমি আসছি’। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই তাঁরা একটি জোরালো শব্দ শুনতে পান এবং হোটেলের বারান্দা থেকে একজনের নিচে পড়ার খবরে অতিথিদের মধ্যে চিৎকার শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইসরায়েলের রামলায় জন্ম নেওয়া ইয়াকির লেভি একসময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিশেষ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পকেটে মাত্র ৩০০ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি মেরামতের একটি সফল বহুজাতিক কোম্পানি গড়ে তোলেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প নিয়ে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর রিয়ালিটি সিরিজ ‘দ্য আমেরিকানস’-এ পর্বও প্রচারিত হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী এবং চার, দশ ও বারো বছর বয়সী তিন সন্তানের জনক ছিলেন। মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিসের হোমিসাইড ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘অশ্রেণিভুক্ত মৃত্যু’ হিসেবে তদন্ত করছে। যদিও পুলিশ রিপোর্টে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যাজনিত আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে নিহতের পরিবার ও বন্ধুরা তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ঘনিষ্ট বন্ধু এরান হার্শ জানান, মৃত্যুর আগের দিনও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় সময় কাটিয়েছেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন, ফলে তাঁর আত্মহত্যা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁর মরদেহ ইসরায়েলে দাফন করার কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আকাশে বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক হওয়া মার্কিন সেনা সার্জেন্ট লিওনার্ড জে. ম্যাকনিলের পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি । মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর তাঁর মরদেহ নিজ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ডিপিএএ জানায়, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী ম্যাকনিল যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি এয়ার ফোর্সের একজন টেল গানার ছিলেন। তিনি একটি বি-২৯ ‘সুপারফোর্ট্রেস’ বোমারু বিমানে দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৪৫ সালের ৫ মে জাপানের কিউশু দ্বীপের ওপর একটি সামরিক অভিযানের সময় তাঁর বিমানটি জাপানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়। তিনি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়লেও পরে যুদ্ধবন্দি হিসেবে মারা যান। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন তাঁর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ঐতিহাসিক নথি, সামরিক রেকর্ড, নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, দন্ত পরীক্ষার তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ডিপিএএ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে শনাক্ত করার পর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম্যাকনিলের মরদেহ পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় ফ্লোরিডায় দাফন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আট দশক ধরে চলা একটি পরিবারের অপেক্ষার অবসান ঘটছে। ডিফেন্স পিওডব্লিউ/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ বা অশনাক্ত হয়ে যাওয়া মার্কিন সেনাসদস্যদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বদেশে ফিরিয়ে আনার কাজ এখনও চলমান। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতি বছরই বহু দশক আগে নিখোঁজ হওয়া সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
দীর্ঘদিন বিক্রেতাদের দাপটের পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের আরও নয়টি বড় শহরের আবাসন বাজার দ্রুত ‘ক্রেতাবান্ধব’ বা বায়ার্স মার্কেটের দিকে এগোচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা বেশি দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ‘মার্কেট ক্লক’ প্রতিবেদনে ১০০টি মহানগর এলাকার আবাসন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে ১৯টি মহানগর এলাকা ইতোমধ্যেই বায়ার্স মার্কেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ৯টি শহর চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ নাগাদ সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে যেসব শহরকে দ্রুত ক্রেতাবান্ধব বাজারের দিকে এগোতে দেখা গেছে, সেগুলো হলো—আটলান্টা (জর্জিয়া), বেকার্সফিল্ড (ক্যালিফোর্নিয়া), বার্মিংহাম (আলাবামা), হনোলুলু (হাওয়াই), হিউস্টন (টেক্সাস), মেমফিস (টেনেসি), রিভারসাইড (ক্যালিফোর্নিয়া), সান অ্যান্টোনিও (টেক্সাস) এবং সিরাকিউজ (নিউইয়র্ক)। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব শহরে বাড়ির তালিকা বা ইনভেন্টরি বেড়েছে, বিক্রি হতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং অনেক বিক্রেতা মূল্য কমানো, ক্লোজিং কস্টে সহায়তা বা মর্টগেজ সুদের হার কমানোর মতো অতিরিক্ত সুবিধা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প এবং দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আটলান্টার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লিআ্যান ওয়েদার্স বলেন, বাজারে বাড়ির সরবরাহ বেড়েছে এবং উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে বিক্রেতারা এখন মূল্য ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে আলোচনায় বেশি নমনীয় হচ্ছেন। হিউস্টনের বাজারেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের মতে, একক পরিবারের বাড়ির ইনভেন্টরি প্রায় ৫.২ মাসে পৌঁছেছে। এর ফলে ক্রেতারা তাড়াহুড়া না করে বিভিন্ন বাড়ি তুলনা, পরিদর্শন এবং দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। সান অ্যান্টোনিওতে বিশেষ করে নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে নির্মাতারা সুদের হার কমানোর সুবিধা, ক্লোজিং কস্ট বহন এবং অন্যান্য প্রণোদনা দিচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মর্টগেজ সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না গেলে আগামী কয়েক মাসও ক্রেতাদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। রিয়েলটর ডটকমের এই বিশ্লেষণে আবাসন বাজারের ভারসাম্য নির্ধারণে বাড়ির সরবরাহ, বাজারে থাকার সময়, মূল্য পরিবর্তন এবং তালিকাভুক্ত দামের তুলনায় বিক্রয়মূল্যসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসন বাজারের চিত্র এখন একরকম নয়; কোথাও বিক্রেতাদের প্রভাব বজায় থাকলেও অনেক শহরে ধীরে ধীরে ক্রেতাদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।