দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ- অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ ও অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নামবিও প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্ষের ক্রাইম ইনডেক্সে ঢাকার অপরাধ সূচক ৬২.২ এবং নিরাপত্তা সূচক ৩৭.৮। এ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে নিচে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ বড় শহরগুলোর শীর্ষ ১৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।
নামবিওর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার বিচারে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায়ও পিছিয়ে রয়েছে ঢাকা। শহরটিতে অপরাধ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ, রাতে একা চলাচলের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই, চুরি ও সহিংস অপরাধের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নামবিওর ক্রাইম ইনডেক্স কোনো সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। ফলে এই সূচক জনমতের প্রতিফলন হলেও, এটি কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অপরাধের হিসাবকে প্রতিস্থাপন করে না।
তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শহরের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে নামবিওর এই সূচক ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অনেকেই এ ধরনের সূচককে প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অধ্যাপক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি স্টার্টআপ সোনেরা ম্যাগনেটিকস অধিগ্রহণ করেছে অ্যাপল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে অ্যাপল বা সোনেরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেয়নি। সোনেরা এমন একটি নন-ইনভেসিভ সেন্সর প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা শরীরে কোনো যন্ত্র বসানো বা ত্বকে ইলেকট্রোড লাগানো ছাড়াই মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও পেশির তৈরি অত্যন্ত ক্ষুদ্র চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক সংকেতভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে খুলির মধ্য দিয়ে সংকেত দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখানো হয়েছে। সোনেরা ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষণার পরিবেশ থেকে যাত্রা শুরু করে। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নিশিতা ডেকা, ডমিনিক লাবানোস্কি ও সায়ীফ সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি প্রকাশ্যে আসার সময় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়নের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শনাক্তের প্রযুক্তিকে আরও ছোট, বহনযোগ্য ও সহজলভ্য করা। সোনেরার প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এস১ চিপ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি পেশির কার্যকলাপ থেকে তৈরি চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, নিউরোমাসকুলার রোগ পর্যবেক্ষণ এবং শরীরে পরিধানযোগ্য স্মার্ট ডিভাইসে নতুন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে। অ্যাপলের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে স্বাস্থ্য ও অ্যাক্সেসিবিলিটি সুবিধার ক্ষেত্রে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচ বা অন্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে শরীরের স্নায়ু ও পেশির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের নতুন সুবিধা যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে কোনো ইমপ্ল্যান্ট বসানো ছাড়াই মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে সোনেরা অধিগ্রহণের পর অ্যাপল ঠিক কোন পণ্যে বা কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বাংলাদেশি-আমেরিকান গবেষক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সেস বিভাগে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে চৌম্বকীয় সেন্সর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ম্যাটেরিয়ালস ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রয়েছে। সায়ীফ সালাহউদ্দিনের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স সম্মাননা দেন। প্রাথমিক ক্যারিয়ারের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। অ্যাপলের এই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপীয় কমিশনের নথি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সোনেরার নির্দিষ্ট সম্পদ অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ও ছিল। অধিগ্রহণের পর সোনেরার ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে যায়। সোনেরার প্রযুক্তি এখনো ব্যাপক ভোক্তা ব্যবহারের পণ্য হিসেবে বাজারে আসেনি। তবে মস্তিষ্ক ও শরীরের চৌম্বকীয় সংকেত ছোট আকারের সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করার সক্ষমতা অ্যাপলের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য, অ্যাক্সেসিবিলিটি ও মানব-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই এখন প্রযুক্তি খাতের আগ্রহের বিষয়।
স্বামীর জন্য নিজেই পছন্দ করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী, একই সংসারে দুই স্ত্রী থাকছেন বন্ধুর মতো
মর্গে ৫ দিন পড়ে ছিল মরদেহ, হঠাৎ জীবিত হয়ে ওঠেন খোরশেদ, চমকে যায় সবাই
দুই কিডনি বিকল, মায়ের কিডনি মিললেও মারা যাওয়ার ভয়ে কিডনি দিবেন না মা!
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুল ইসলাম নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর প্রাণ গেছে। একই মাছ খাওয়ার পর তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজহারুল ইসলাম বড়দল গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে এবং বড়দল বাজারের মুদি দোকানি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে পটকা বা টেপা মাছ কিনে বাড়িতে রান্না করে পরিবারের সদস্যরা খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজহারুলের বমি শুরু হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আজহারুলের আট বছরের ছেলে, ১১ বছরের মেয়ে এবং ৬০ বছর বয়সী মা-ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ওই মাছ খাননি। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, পটকা মাছ খাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের সতর্ক করেছিলেন। তবে আজহারুল বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে জানা গেছে। পটকা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো টেট্রোডোটক্সিন নামের শক্তিশালী এক ধরনের বিষ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির ডিম্বাশয়, যকৃত, অন্ত্র ও চামড়ায় এই বিষ বেশি থাকতে পারে। শরীরে এটি প্রবেশ করলে ঠোঁট ও মুখে অবশভাব বা ঝিনঝিন করা, বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কথা বলা, গিলতে কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যাও হতে পারে। পটকা মাছ রান্না করলেই এর ক্ষতিকর উপাদান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় না। কোন প্রজাতির মাছ কতটা ক্ষতিকর এবং এর কোন অংশে বিষের পরিমাণ বেশি—তা ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া পটকা মাছ প্রস্তুত করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন। জাপানে ‘ফুগু’ নামে পটকা মাছ খাবার হিসেবে পরিচিত। সেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রাঁধুনিরা মাছটি প্রস্তুত করেন। বিষাক্ত অংশ অপসারণের পর নির্দিষ্ট অংশ খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। জাপানের সরকারি তথ্যেও পটকা মাছের যকৃত ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অংশে উচ্চমাত্রার টেট্রোডোটক্সিন থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। আশাশুনির ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ার পর পটকা মাছের বিষের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, পটকা মাছ খাওয়ার পর বমি, মুখ বা শরীর অবশ হয়ে আসা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি।
শাপলা চত্বর মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ পলাতক আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
ব্রিকসে না গিয়ে দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ভুয়া মার্কিন কূটনীতিক সেজে প্রতারণা, মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়ে থানায় এনে শিশুদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাঁচ শিশু হলো মো. হিরোন (১১), জিসান (১৩), আবুজার (১৩), মো. আব্দুল্লাহ (১৩) ও খালিদ বিশ্বাস (১০)। তাদের সবার বাড়ি মাগুরা সদর থানার কাদিরাবাদ এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ শিশু পরস্পরের বন্ধু। কৌতূহল ও দুরন্তপনার বশে তারা সোমবার সকালে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। মাগুরা সদর থানা এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে তারা দৌলতদিয়ায় পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার টহল পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। পুলিশ সদস্যরা শিশুদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা জানায়, কৌতূহল থেকেই তারা একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এদিকে সন্তানদের বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ ফোন করে তাদের সন্তানদের দৌলতদিয়ায় পাওয়ার খবর জানালে অভিভাবকরা দ্রুত থানায় উপস্থিত হন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ শিশুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা কৌতূহলবশত মাগুরা থেকে একসঙ্গে বের হয়ে দৌলতদিয়ায় চলে আসে। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা থানায় এসে শিশুদের নিয়ে যান। ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের নজরদারির বিষয়টিও সামনে এনেছে। বাড়ি থেকে দূরে যাওয়ার আগে শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত, যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। সূত্র: কালবেলা
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড