১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি ভবনেও বড় পরিকল্পনা
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের এই উদ্যোগের পেছনে সাধারণ মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মীর শাহে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এর ব্যবহার বাড়িয়ে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিকল্পনায় বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সগুলো। মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কর্মসূচির জন্য মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এক ঘণ্টার ব্যাকআপসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। উপজেলা প্রকৌশলীদের দ্রুত এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সকে এই কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব স্থাপনায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসেন। সেখানে সৌর প্যানেল ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দৃশ্যমান হলে সাধারণ মানুষ প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবেন এবং নিজেদের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারেন।
সরকারের পরিকল্পনায় শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বিষয়টিও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। গত আগস্টে মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি অফিসেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমেও জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিজমিতে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিসহ অন্যান্য উৎস থেকেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্রেডার তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রায় ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট গ্রিডের বাইরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘোষণাকে তাই বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং সরকারি স্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায় পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের প্রচলিত উৎসের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও দৃশ্যমান হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত মজুরি পাবেন শ্রমিকেরা। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য গঠিত অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর এবং জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে তা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। তিনি জানান, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী সভায় শ্রমিকপক্ষ লিখিত প্রস্তাব জমা দেবে। এ জন্য সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক মজুরি প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান তিনি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই চায় ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের কাজ শেষ হোক, যাতে জানুয়ারিতে শ্রমিকেরা বর্ধিত বেতন পান। নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া, বোর্ডের কার্যক্রম এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত শিল্প খাতের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় মাস সময় থাকে। তবে এবার দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পরবর্তী সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার আশা করছেন তিনি। সভায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, ছুটি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ এবং গ্রেপ্তার শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য অধিকার রক্ষাও জরুরি। তিনি কারখানার উৎপাদন বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নিম্নতম মজুরির সুপারিশ তৈরি করা। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের বিষয়ে একমত হলেও চূড়ান্ত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই শ্রমিকেরা কত টাকা বর্ধিত বেতন পাবেন, তা স্পষ্ট হবে। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া
ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা বন্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি
হাসিনার সম্পত্তির বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার
পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনের আওতায় পুলিশের প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে বিক্ষোভ দমনে বিগত সরকারের মতো অতিরিক্ত বল প্রয়োগ বর্তমান বিএনপি সরকার চায় না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকার পরও সরকার কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছে। তাঁর প্রত্যাশা, বাংলাদেশের পুলিশ আর বিগত সরকারের সময়ের মতো আচরণ করবে না। পুলিশের ক্ষমতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার পুলিশের রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের কিছু ঘটনাও তাঁর নজরে এসেছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনকারী কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে পরিচয়েরই হোক না কেন, তাঁরা রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতে যেভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করা হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় না বলে জানান তিনি। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান স্বীকার করেন, শুরুতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁদের আর্থিক চাপ বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়নি। জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর প্রকৃত শ্রমিকেরা আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের দাবি সমাধানের সুযোগ পাবেন এবং চলমান বিক্ষোভ দ্রুত শেষ হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ঢাকার ডেমরায় কারখানা থেকে উদ্ধার বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা, লোকজন হতবাক
বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম
বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে ঢাকার ওয়ারীতে নিজের বাসায় স্থাপিত ‘কুশ’ চাষের ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে তৌসিফ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রোববার ( ১ নভেম্বর) সকালে ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিটের বাসা থেকে ২২ বছর বয়সী এই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসির অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানের সময়ও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম তদারকি করতেন তিনি। আগের মাদক মামলায় তাঁকে পলাতক আসামি করা হয়েছিল। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তৌসিফকে গ্রেপ্তার করে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে তাঁর কাছ থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর ডোপ টেস্টও করা হয়। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা মাদক নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাঠানোর চেষ্টার তদন্ত করতে গিয়ে তৌসিফের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ওয়ারীতে তাঁর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ঘরের ভেতর কুশ চাষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ল্যাবের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। ওই সময় তৌসিফকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এরপর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির অভিযানে বাসা থেকে কুশের বীজ, চাষ করা গাছ, সদ্য সংগ্রহ করা কুশ এবং চাষের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছিল। বাসার ছাদেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ কক্ষে একাধিক টবে চাষের ব্যবস্থা পাওয়া যায়। ডিএনসির অভিযোগ, তৌসিফ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানের সময় এ ধরনের চাষের কৌশল শেখেন এবং পরে দেশে এসে নিজের বাসায় ওই ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। বিদেশে ফিরে যাওয়ার পরও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেখানকার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। একই তদন্তে তৌসিফের এক বান্ধবীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে আসে। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ৩২টি ইয়াবা ক্যালিফোর্নিয়ায় তৌসিফের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কুরিয়ার কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকার খিলগাঁও থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তৌসিফের বাসার তত্ত্বাবধায়ককেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছিল। ডিএনসির উপপরিচালক মেহেদী হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের উৎস এবং এই কার্যক্রমে অন্য কারা যুক্ত ছিলেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তৌসিফ বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ডিএনসির কর্মকর্তাদের বক্তব্য হিসেবে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবা ও গাঁজা নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় নতুন মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। পাশাপাশি আগের কুশ ল্যাবসংক্রান্ত মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে। আরও তথ্য জানতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে রিমান্ডের বিষয়ে আদালতের কোনো আদেশের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অধিদপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আসামে দেখা গেল যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার