জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল থাকছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ায় এই সময়সীমা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জাতীয় স্বার্থে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি মোকাবিলায় শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা বাধ্যতামূলক। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে অফিস এবং বাজার বন্ধের যে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, তা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
দোকান ও শপিংমল মালিক সমিতির নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা তারা মেনে নেবেন। তবে ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই এই সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশ ছাড়ার দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজনে “Sheikh Hasina’s Homecoming” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বলে আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচিতে জানানো হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি বক্তব্য রাখবেন তাঁর ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়া আলোচক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং সংগঠনটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার। পোস্টার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে দিল্লির অনুষ্ঠানের শিরোনামে “হোমকামিং” বা “স্বদেশে প্রত্যাবর্তন” শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, এর অর্থ শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসা নয়। এখন পর্যন্ত তাঁর প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। এদিকে শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশ না করার নির্দেশনার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, নয়াদিল্লির এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামত বা বক্তব্যকেও তারা সরকারি অবস্থান হিসেবে সমর্থন করে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশত্যাগের পর এটিই শেখ হাসিনার সবচেয়ে আলোচিত প্রকাশ্য ভার্চুয়াল উপস্থিতিগুলোর একটি। বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাকিব আল হাসানসহ বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের ঘোষণায় অনুষ্ঠানটি নতুন করে রাজনৈতিক ও জনমনে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা জোরালো হলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে শুধু তাঁর ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল বক্তব্য; বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখনো ঘোষিত পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের অংশীজনদের মতামত নিয়েই হবে সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটি
মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস: বাদ পড়তে পারেন ৩ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী
পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে জানা গেছে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এতে প্রায় চার দশক পর একই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একজন সরকারপ্রধান এবং একজন বাংলাদেশি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে প্রস্তুতি চলছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিউইয়র্কে বড় পরিসরে একটি নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলটির নেতারা ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাণিজ্য, জনশক্তি, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগে আপাতত অন্য কোনো বিদেশ সফরের পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রীর।
ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার
‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি, গ্রেপ্তারের পর দেখা গেল সেটি ‘লাইটার’
প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে
নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে চাঁদা দাবি করে হুমকির চিঠি দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিঠিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ চিঠিগুলো জব্দ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে পাঁচটি পরিবারের বাড়িতে আলাদাভাবে হুমকির চিঠি রেখে যায়। চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকাশে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে তা না মানলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। হুমকির চিঠি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিঠিগুলো জব্দ করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, চিঠিতে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, হুমকির এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বসুন্ধরায় ভুয়া চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার আস্তানা: ৬ হাজার সক্রিয় সিমসহ বিদেশি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন চাঁদপুরের সিফাতের