উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান থেকে এসেছে আকর্ষণীয় এক সুযোগ। দেশটির কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (কেইউটি) ২০২৭ সালের স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি কর্মসূচি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, নিবন্ধন ফি এবং সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য মাসিক ভাতা, গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা এবং যাতায়াত ব্যয়ের সুবিধাও দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হবে না।
গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে এই বিশেষ বৃত্তি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তিন বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা এপ্রিল অথবা অক্টোবর সেশনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি জাপানের অন্যতম স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত।
এই বৃত্তির আওতায় ইন্টেলিজেন্ট মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফোটোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স, ইনফরমেটিকস, ডেটা অ্যান্ড ইনোভেশন এবং ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রথমে নির্ধারিত গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার বা প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রি-অ্যাপ্লিকেশন রিকোয়েস্ট ফরম পাঠাতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে অনলাইন আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্টের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ, গবেষণা প্রস্তাবনা, কভার লেটার এবং ব্যক্তিগত বিবৃতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের তিন বছর অধ্যয়ন, নির্ধারিত ক্রেডিট অর্জন, চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিরক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং অন্তত একটি স্বনামধন্য পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে।
বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী জাপানে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পথ।
২০২৭ সালের এই স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬।
সূত্র: কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাপান
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreআইইএলটিএসে সর্বোচ্চ ৯ ব্যান্ড অর্জন করেছেন রাইসা শাম্মা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামে পড়ছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইইএলটিএস পরীক্ষার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে ছোটবেলা থেকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বই পড়া, ইংরেজি কনটেন্ট দেখা এবং ভাষা শেখার অভ্যাসই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর পেতে সবচেয়ে বেশি কাজে এসেছে। আইইএলটিএসের চারটি অংশ হলো লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। রাইসার মতে, পরীক্ষার কৌশল জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কেবল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দিয়ে ভাষায় শক্ত ভিত্তি তৈরি করা কঠিন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায়, দীর্ঘদিনের চর্চার ফলে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার দক্ষতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়েছে। লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি অনুষ্ঠান, খবর, সিনেমা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট শোনার অভ্যাস ছিল রাইসার। শুরুতে সবকিছু বুঝতে না পারলেও নিয়মিত শোনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্যের ধরন বুঝতে শেখেন। বিভিন্ন দেশের মানুষের উচ্চারণ বুঝতে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও প্রথমে সাবটাইটেল ব্যবহার করে এবং পরে সাবটাইটেল ছাড়া কনটেন্ট দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি। রাইসার পরামর্শ, যারা ইংরেজি শেখা শুরু করছেন তারা সহজ কনটেন্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। অ্যানিমেটেড সিনেমা, সহজ গল্প, পডকাস্ট বা সংবাদ শোনা যেতে পারে। শুরুতেই প্রতিটি শব্দ বুঝতে না পারলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত শোনার অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে ভাষার সঙ্গে কান পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে আইইএলটিএসের লিসেনিং অংশে শুধু ইংরেজি বুঝতে পারলেই হবে না, পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নির্দিষ্ট তথ্য শোনার ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতায় ভুল হতে পারে। তাই মক টেস্ট দিয়ে প্রশ্নের ধরন ও সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রিডিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় সহায় ছিল দীর্ঘদিনের বই পড়ার অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার বই পড়েছেন তিনি। সহজ বই দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন বই পড়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ভোকাবুলারি বাড়ানোর জন্য শুধু শব্দের অর্থ মুখস্থ করার চেয়ে বাস্তব বাক্যে শব্দটির ব্যবহার বোঝা বেশি কার্যকর। একটি শব্দ কোনো বাক্য বা গল্পের মধ্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি বুঝে পড়লে শব্দটি মনে রাখা সহজ হয়। তাই আইইএলটিএসের আগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শব্দ মুখস্থ করার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাইসা। রিডিং পরীক্ষায় তাঁর কৌশল ছিল প্রথমে পুরো লেখাটির মূল বিষয় বোঝার চেষ্টা করা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, নাম, সংখ্যা ও নির্দিষ্ট তথ্যের দিকে নজর দেওয়া। একই লেখা বারবার পুরোপুরি পড়ার পরিবর্তে প্রথমে সামগ্রিক ধারণা তৈরি করে পরে প্রশ্ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করলে সময় বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। রাইটিং অংশকে অনেক পরীক্ষার্থী কঠিন মনে করেন। রাইসার মতে, এখানে শুধু ইংরেজি জানা যথেষ্ট নয়, নিজের চিন্তাকে পরিষ্কার ও যুক্তিসংগতভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করার দক্ষতাও প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকে কোনো কিছু পড়ে তার সারাংশ লেখা, নতুন শব্দ লিখে রাখা এবং নিজের চিন্তা লিখে রাখার অভ্যাস তাঁর রাইটিং দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করেছে। রাইটিং ভালো করার জন্য গ্রামারের ভিত্তি পরিষ্কার থাকা জরুরি বলে মনে করেন রাইসা। বিশেষ করে বাক্যের গঠন, টেন্স এবং কর্তা ও ক্রিয়ার সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কঠিন শব্দ ব্যবহার করলেই ভালো লেখা হয় না। বরং সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় যুক্তিগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএস রাইটিংয়ে জটিল বাক্য গঠনের দক্ষতাও প্রয়োজন। একই ভাবকে কয়েকটি ছোট বাক্যে আলাদা করে না লিখে প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে সেগুলোকে সুন্দরভাবে একসঙ্গে প্রকাশ করা যায়, সেটি অনুশীলন করা দরকার। আবার কোনো গ্রাফ বা চার্ট দেওয়া হলে শুধু সংখ্যাগুলো উল্লেখ না করে তথ্যের পরিবর্তন ও প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করে তুলে ধরতে হয়। স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো ভয় কাটিয়ে নিয়মিত কথা বলা। অনেকেই ইংরেজি বুঝতে ও লিখতে পারলেও কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা কাটাতে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। আশপাশের ভালো ইংরেজি বক্তাদের কথা শুনে তাদের বাক্য গঠন ও উচ্চারণও লক্ষ্য করতেন। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা এবং নিজের চিন্তা ইংরেজিতে প্রকাশ করার অভ্যাস স্পিকিং দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন রাইসা। তাঁর মতে, আইইএলটিএস স্পিকিংয়ে মুখস্থ উত্তর দিয়ে ভালো করা কঠিন। কারণ পরীক্ষায় প্রার্থীকে নিজের অভিজ্ঞতা, পছন্দ, মতামত ও চিন্তা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে হয়। কোথায় থাকেন, কী ধরনের বই পড়েন, কী পছন্দ করেন বা কী ধরনের কনটেন্ট দেখেন, এমন সাধারণ বিষয় পরীক্ষায় আসতে পারে। এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে নিজের জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলার অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাইসা শাম্মার মতে, একজন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য শুধু ইংরেজি শেখাই যথেষ্ট নয়। ভালো শ্রোতা হওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনা রাখা এবং নিজের চিন্তা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাসও জরুরি। তাঁর আইইএলটিএস প্রস্তুতির অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, কোনো দক্ষতাই রাতারাতি তৈরি হয় না। ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়মিত চর্চা এবং শেখার আগ্রহ দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল এনে দিতে পারে। রাইসা শাম্মা বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। আইইএলটিএসে তাঁর ৯ ব্যান্ড অর্জনের অভিজ্ঞতা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি শেখার দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের গুরুত্বও তুলে ধরে।
ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু, সোহাগের উদ্ভাস এখন প্রকৌশল ভর্তি প্রস্তুতির বড় নাম
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বৈধ পাসপোর্টধারীদের আলাদা ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নিয়মে এসব দেশের নাগরিকরা ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে ছাড়ের আওতায় রয়েছেন। ছাড় পাওয়া পাঁচ দেশ হলো - যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। তবে এই সুবিধা শুধু নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীও ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর জমা দেওয়া থেকে ছাড় পেতে পারেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ফরেন অ্যাফেয়ার্স বা ডিফেন্স স্পনসরড শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা বা আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময় ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় থাকার সময় গত দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট মাধ্যমিক বা উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন করলেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। বাংলাদেশ এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার কারণে এই নির্দিষ্ট ছাড় পাবেন না। তবে তারা অন্য কোনো ছাড়ের শর্ত পূরণ করলে ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। অন্যদিকে ছাড়ের আওতায় না থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে নির্দিষ্ট অনুমোদিত পরীক্ষার ফল গ্রহণ করে। এর মধ্যে আইইএলটিএস, পিটিই, টোফেল, কেমব্রিজ, সেলপিপ, ওইটি, এমইটি এবং ল্যাঙ্গুয়েজসার্ট রয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে এসব পরীক্ষার নিয়ম ও গ্রহণযোগ্য স্কোরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি শুধু স্টুডেন্ট ভিসার বিষয় নয় - অস্ট্রেলিয়ার কিছু অন্যান্য ভিসাতেও পাঁচ দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেমন কম্পিটেন্ট ইংলিশ ও ফাংশনাল ইংলিশ-এর সরকারি সংজ্ঞাতেও একই পাঁচ দেশের নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা
চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা
অটিজম নিয়ে বেড়ে ওঠা জোশুয়া বেকফোর্ড মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি বিশেষায়িত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ শেখার ক্ষমতার পরিচয় দেওয়া এই ব্রিটিশ তরুণ পরবর্তী সময়ে অটিজম সচেতনতা ও শিক্ষাবিষয়ক কাজেও যুক্ত হয়েছেন। জোশুয়ার শেখার ক্ষমতা তাঁর বাবা নক্স ড্যানিয়েলের নজরে আসে মাত্র ১০ মাস বয়সে। কম্পিউটারের কিবোর্ডে বিভিন্ন অক্ষর দেখিয়ে দিলে জোশুয়া সেগুলো মনে রাখতে এবং চিহ্নিত করতে পারতেন। এরপর অল্প বয়সেই তাঁর শেখার গতি স্বাভাবিক বয়সভিত্তিক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে যায়। তিন বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ধ্বনিভিত্তিক পদ্ধতিতে সাবলীলভাবে পড়তে পারতেন এবং জাপানি ভাষা শেখা শুরু করেছিলেন। কম্পিউটারে টাইপ করাও তিনি ছোট বয়সেই আয়ত্ত করেন। মানুষের শরীর ও অ্যানাটমির প্রতিও তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় খুব অল্প বয়সে। জোশুয়ার মেধা বিকাশের জন্য প্রচলিত বয়সভিত্তিক শিক্ষার বাইরে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা। ২০১১ সালে তিনি অক্সফোর্ডের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেন। কর্মসূচিটি মূলত ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হলেও জোশুয়া তখন মাত্র ছয় বছরের ছিলেন। তাঁর বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর জোশুয়াকে বিশেষভাবে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অক্সফোর্ডে জোশুয়া দর্শন ও ইতিহাসের ওপর বিশেষায়িত কোর্স করেন এবং উভয় বিষয়েই কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করেন। তবে তাঁর এই পথচলা প্রচলিত অর্থে ছয় বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং মেধাবী শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষায়িত শিক্ষাকর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। জোশুয়ার গল্পকে ঘিরে তাই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে, অসাধারণ প্রতিভাবান শিশুদের কীভাবে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের জন্য কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। সমর্থকদের মতে, বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের পাঠ্যক্রমে সব শিশুকে আটকে না রেখে মেধা ও শেখার সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, শিশুদের খুব অল্প বয়সে অত্যন্ত দ্রুতগতির শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার পাশাপাশি তার সামাজিক বিকাশ, মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং বয়স উপযোগী পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। জোশুয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর অসাধারণ মেধা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অটিজম নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অটিজম আক্রান্ত মানুষের জন্য সুযোগ ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কাজেও তিনি যুক্ত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির একটি প্রচারণার সঙ্গেও কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। শৈশবের সেই অসাধারণ শিক্ষাযাত্রার পর তাঁর দীর্ঘদিনের আরেকটি লক্ষ্য নিউরোসার্জন হওয়া। অল্প বয়স থেকেই মানবদেহ ও মস্তিষ্কের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল এবং সেই আগ্রহই ভবিষ্যৎ পেশার স্বপ্নকে প্রভাবিত করেছে। জোশুয়া বেকফোর্ডের পথচলা শুধু একজন মেধাবী শিশুর সাফল্যের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে, যেখানে প্রতিটি শিশুর সক্ষমতা, শেখার ধরন এবং প্রয়োজনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তাঁর গল্প দেখিয়েছে, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি সেই প্রতিভাকে সমাজের জন্য ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের পথ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি