বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ২৭টি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, বিনা খরচেই ইউরোপে যেসব স্কলারশিপে আবেদন করবেন
উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়।
দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো।
১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান।
বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে।
২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে।
৩. শেভেনিং স্কলারশিপ
শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়।
৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ
সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে।
এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে।
৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি
জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে।
উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়।
৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি
অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে।
স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা।
৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ
সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য।
এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি
সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়।
এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না।
৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি
নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়।
তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।
১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি
ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না।
এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি
ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়।
তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়।
১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি
ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়।
নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে।
১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ
ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়।
১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ
ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে।
তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।
১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ
ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়।
এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ
ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়।
সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে।
১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা
নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়।
কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়।
১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে।
সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি
এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে।
এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে।
২০. চেক সরকারের বৃত্তি
চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে।
চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে।
২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি
পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে।
‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত।
২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ
লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা।
২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি
লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে।
তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে।
২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি
ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে।
এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে।
২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ
রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে।
আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে।
২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি
তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি।
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা।
২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস
মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন।
শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায়
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ।
সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না।
আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।
কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।
বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreবাংলাদেশের প্রকৌশল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির সঙ্গে পরিচিত অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে উদ্ভাস এখন একটি পরিচিত নাম। তবে এই বড় শিক্ষা উদ্যোগের শুরুটা ছিল অত্যন্ত ছোট পরিসরে। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বুয়েটে পড়ার সময় মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও তাঁর বন্ধু হামিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে মাত্র ৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি ছোট কক্ষে উদ্ভাসের যাত্রা শুরু করেন। মাসিক ৮০০ টাকা ভাড়ার ওই কক্ষে ছিল তিনটি বেঞ্চ। শুরুতে পর্যাপ্ত অর্থ, অবকাঠামো বা বড় কোনো প্রচারব্যবস্থা—কিছুই ছিল না। উদ্ভাসের পেছনের গল্পটি মূলত সোহাগের নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তাঁর বেড়ে ওঠা। এসএসসি পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করার বদলে তার কারণ ও মূল ধারণা বোঝার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। এ কারণে নিয়মিত প্রশ্ন করতেন। সরিষাবাড়ীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু জ্যোতিষ চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষক প্রয়াত চন্দ্র নাথ তাঁর এই কৌতূহলকে উৎসাহ দিতেন। এমনকি তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষকেরা আলাদা সময় দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন। ঢাকায় কলেজজীবনে এসে অভিজ্ঞতাটি বদলে যায়। সোহাগের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্ন করার বিষয়ে তিনি সবসময় প্রত্যাশিত উৎসাহ পাননি। কখনো প্রশ্ন করার কারণে উপেক্ষা বা তিরস্কারের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এর প্রভাব তাঁর পড়াশোনায় পড়লেও সেই অভিজ্ঞতাই পরে একটি নতুন চিন্তার জন্ম দেয়। তিনি এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ভাবতে শুরু করেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারবে এবং কোনো বিষয় না বুঝলে আবার জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাবে। পরে ঢাকা কলেজে পড়াশোনায় ঘুরে দাঁড়িয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন সোহাগ। এরপর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪১তম হন। ২০০০ সালের নভেম্বরের মধ্যে তাঁর বুয়েটে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। সে সময় বুয়েটে দীর্ঘ সেশনজট চলছিল। হাতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় থাকায় বন্ধু হামিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় উদ্ভাসের পথচলা। শুরুর দিকে মোহাম্মদপুরের ছোট কক্ষটিই ছিল পুরো প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র। তিনটি বেঞ্চ বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হতো। কিছু লিফলেট ছাপিয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে বিতরণ করা হয়। পরে প্রচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাণীও লেখা হতো। শুরুতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য ছিল প্রচলিত কোচিং ব্যবস্থার মতো শুধু নোট, সাজেশন বা পরীক্ষার শর্টকাট দেওয়া নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বিষয় বুঝিয়ে শেখানো। এই অবস্থানটি শুরুতে ব্যবসায়িক দিক থেকে সহজ ছিল না। অভিভাবকেরা এসে যখন জানতে চাইতেন, হ্যান্ডনোট বা সাজেশন দেওয়া হবে কি না, তখন উদ্ভাসের পক্ষ থেকে উত্তর ছিল ‘না’। ফলে অনেক সম্ভাব্য শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিত। তবে একই উত্তর আবার এমন কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছেও উদ্ভাসকে আলাদা করে তুলেছিল, যারা মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির বাইরে যেতে চেয়েছিলেন। প্রথম কয়েক বছর উদ্ভাসকে টিকে থাকতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি, পরে ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা চলে। সীমিত অর্থের কারণে ভাড়া, শিক্ষক, কর্মী ও দৈনন্দিন পরিচালনার খরচ সামলানো কঠিন ছিল। উদ্যোক্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, এমন সময়ও গেছে যখন কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবু শিক্ষকতা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রতিষ্ঠানটিকে চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি ছিল। উদ্ভাসের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে সময়ও লেগেছে দীর্ঘদিন। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় আট বছর পর্যন্ত এটি ব্রেক-ইভেনে পৌঁছাতে পারেনি। সেই সময় উদ্যোক্তা ও দলের সদস্যরা অনেক মাস পূর্ণ পারিশ্রমিকও পাননি। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন এই সময়ের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি দায়বদ্ধতা বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে সোহাগ জানিয়েছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভাসের শিক্ষক দলও বড় হতে থাকে। শিক্ষক নিয়োগে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, ধারণাগত সক্ষমতা ও মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সোহাগ। নতুন শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু পাঠদাতা নন; তাঁদের আচরণ ও মানসিকতাও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে। পরে উদ্ভাসের কার্যক্রম স্কুল ও কলেজের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিতেও বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে প্রকৌশল ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে উদ্ভাসের ৪২টি শাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়েছে। শুধু প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতির মধ্যেই উদ্ভাসকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি উদ্যোক্তারা। নিয়মিত পরীক্ষা, অনুশীলন এবং বিষয় বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত বইভিত্তিক পরীক্ষার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়। বিতর্কসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রকাশনার উদ্যোগও ছিল এর অংশ। উদ্ভাসের বিস্তারের পাশাপাশি সোহাগের উদ্যোক্তা জীবনও শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। বুয়েটে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এসব উদ্যোগ থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তবে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতির অন্যতম প্রধান জায়গা হয়ে থাকে শিক্ষা খাত। উদ্ভাসের পর শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় উন্মেষসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ। অন্যরকম গ্রুপের অধীনে এসব শিক্ষা কার্যক্রমকে সোহাগ প্রচলিত কোচিংয়ের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল বা ছায়া শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর শিক্ষাদর্শের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—শিক্ষার্থী যা শিখবে, তা যেন বুঝে শেখে। দুই দশকের বেশি সময়ের যাত্রায় উদ্ভাসের পরিসর সেই শুরুর ছোট কক্ষের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু এর শুরুর গল্পটি এখনও বাংলাদেশের শিক্ষা উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। মাত্র ৬ হাজার টাকার বিনিয়োগ, ৮০০ টাকা মাসিক ভাড়ার একটি কক্ষ, তিনটি বেঞ্চ এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, সেটিই সময়ের সঙ্গে দেশের ভর্তি প্রস্তুতির পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাহমুদুল হাসান সোহাগের নিজের শিক্ষাজীবনের একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা থেকেই যে ভাবনার জন্ম হয়েছিল, তার মূল কথা ছিল—শিক্ষার্থী যেন প্রশ্ন করতে ভয় না পায়। সেই ধারণাই ধীরে ধীরে উদ্ভাসের শিক্ষা-দর্শনের অংশ হয়ে ওঠে। তাই উদ্ভাসের গল্প শুধু একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের বড় হয়ে ওঠার গল্প নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর কৌতূহল থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা উদ্যোগ তৈরির গল্পও। সূত্র: পাবলিকিয়ান
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। আবেদন করা যাবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিস্টার অবস্থান করে একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন। একই সময়ে তারা একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। প্রোগ্রামটির আওতায় শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই নয়, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণ নেতৃত্বের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিদেশে পড়াশোনার কর্মসূচি নয়, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির একটি বিনিময় কর্মসূচিও। শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে মেধার ভিত্তিতে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ইয়েস প্রোগ্রাম ২০০৪ সালে চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদন করতে হবে। স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন শিক্ষা পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা
চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল শান্তার। চা-বাগানের জীবন এবং সেখানকার শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের নানা বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। লংলা চা-বাগানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন শান্তা। এরপর চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও এই আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। চা-বাগানের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের বাস্তবতা তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন শান্তা। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেলেও নিজের লক্ষ্য ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি বেছে নেন তিনি। এই কর্মসূচিতে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, মানুষের কাছে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন শান্তা। তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। শান্তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিজের শিকড় থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন, চা-বাগান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ কতটা সীমিত হতে পারে। সেই বাস্তবতাই তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করেছে। শিক্ষাজীবনে চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করেছেন শান্তা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার সময় তিনি চা-ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে শান্তার। তাঁর লক্ষ্য নিজের অর্জিত জ্ঞানকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। লংলা চা-বাগানের সীমিত সুযোগের পরিবেশ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর শান্তার এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেশের চা-বাগান ও অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ। শুরুর জায়গা সীমিত হলেও শিক্ষা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় লক্ষ্য একজন মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে, শান্তার পথচলা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়