সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:১৪
১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইপুয়েট), বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছিল মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই সময় প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দরজায় হাজির হন তিন তরুণী - খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানা। তাঁদের দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ইপুয়েটে প্রকৌশলের বিভিন্ন বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশের পথ খুলে দেয়।

 

১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা এবং হলিক্রস কলেজের শিক্ষার্থী মনোয়ারা বেগম ইপুয়েটে প্রকৌশল পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্থাপত্য বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা পড়লেও প্রকৌশলের অন্য বিভাগগুলোতে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হতো না। বিশেষ করে পুরকৌশলকে নারীদের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হতো।

 

এর অন্যতম কারণ ছিল পুরকৌশলের ব্যবহারিক কাজ। শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হতো এবং সাভারে এক মাসের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পেও অংশ নিতে হতো। তৎকালীন রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় মেয়েদের এমন পরিবেশে পাঠানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল।

 

কিন্তু তিন তরুণী সেই আপত্তি মেনে নেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মেয়েদের প্রকৌশল পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। শেষ পর্যন্ত ইপুয়েট কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়। তিনজনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ইপুয়েটে ভর্তি হন।

 

তবে পুরকৌশল পড়ার পথ তখনো পুরোপুরি খোলেনি। প্রথম বর্ষের পর বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খালেদা ও শিরীন পুরকৌশল নিতে চাইলে আবার আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের সম্মতি নিয়ে সাভারের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তাঁদের পুরকৌশলে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মনোয়ারা বেগম কেমিকৌশল বেছে নেন। 

 

তিন নারীকে ঘিরে তখন ইপুয়েট ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল। তাঁদের দেখতে মানুষ ভিড় করত। বহু বছর পর স্মৃতিচারণ করে খালেদা শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে তখন পুরো শহরেই আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, ইপুয়েটে ভর্তি হতে তাঁদের কোনো মামলা করতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মামলা করে ভর্তি হওয়ার দাবি ছড়ালেও তা সঠিক নয়। 

 

১৯৬৮ সালে খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ওই বছর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ১১৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন এই দুই নারী। সমকালীন সংবাদপত্র মর্নিং নিউজ তাঁদের সাফল্যকে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য নতুন পেশার পথ উন্মোচন হিসেবে তুলে ধরেছিল। 

 

মনোয়ারা বেগম পরে ১৯৭০ সালে কেমিকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এভাবেই তিনজন হয়ে ওঠেন ইপুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের দল। 

 

খালেদা শাহরিয়ার কবিরের পথচলা এরপরও দীর্ঘ হয়েছে। ১৯৬৯ সালে একটি প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭০ সালে যোগ দেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে, যা পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে রূপ নেয়। সেখানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন এবং ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। 

 

দেশের গুরুত্বপূর্ণ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খালেদা শাহরিয়ার। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নসহ একাধিক পানি উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান। 

 

আজ বুয়েটে নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন প্রকৌশল শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণই ছিল ব্যতিক্রম। খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানার সেই পথচলা শুধু তাঁদের নিজেদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের নারী প্রকৌশলীদের জন্যও তৈরি করেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

 

সূএ: প্রথম আলো


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা

১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইপুয়েট), বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছিল মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই সময় প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দরজায় হাজির হন তিন তরুণী - খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানা। তাঁদের দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ইপুয়েটে প্রকৌশলের বিভিন্ন বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশের পথ খুলে দেয়।   ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা এবং হলিক্রস কলেজের শিক্ষার্থী মনোয়ারা বেগম ইপুয়েটে প্রকৌশল পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্থাপত্য বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা পড়লেও প্রকৌশলের অন্য বিভাগগুলোতে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হতো না। বিশেষ করে পুরকৌশলকে নারীদের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হতো।   এর অন্যতম কারণ ছিল পুরকৌশলের ব্যবহারিক কাজ। শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হতো এবং সাভারে এক মাসের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পেও অংশ নিতে হতো। তৎকালীন রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় মেয়েদের এমন পরিবেশে পাঠানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল।   কিন্তু তিন তরুণী সেই আপত্তি মেনে নেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মেয়েদের প্রকৌশল পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। শেষ পর্যন্ত ইপুয়েট কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়। তিনজনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ইপুয়েটে ভর্তি হন।   তবে পুরকৌশল পড়ার পথ তখনো পুরোপুরি খোলেনি। প্রথম বর্ষের পর বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খালেদা ও শিরীন পুরকৌশল নিতে চাইলে আবার আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের সম্মতি নিয়ে সাভারের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তাঁদের পুরকৌশলে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মনোয়ারা বেগম কেমিকৌশল বেছে নেন।    তিন নারীকে ঘিরে তখন ইপুয়েট ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল। তাঁদের দেখতে মানুষ ভিড় করত। বহু বছর পর স্মৃতিচারণ করে খালেদা শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে তখন পুরো শহরেই আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, ইপুয়েটে ভর্তি হতে তাঁদের কোনো মামলা করতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মামলা করে ভর্তি হওয়ার দাবি ছড়ালেও তা সঠিক নয়।    ১৯৬৮ সালে খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ওই বছর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ১১৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন এই দুই নারী। সমকালীন সংবাদপত্র মর্নিং নিউজ তাঁদের সাফল্যকে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য নতুন পেশার পথ উন্মোচন হিসেবে তুলে ধরেছিল।    মনোয়ারা বেগম পরে ১৯৭০ সালে কেমিকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এভাবেই তিনজন হয়ে ওঠেন ইপুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের দল।    খালেদা শাহরিয়ার কবিরের পথচলা এরপরও দীর্ঘ হয়েছে। ১৯৬৯ সালে একটি প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭০ সালে যোগ দেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে, যা পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে রূপ নেয়। সেখানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন এবং ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।    দেশের গুরুত্বপূর্ণ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খালেদা শাহরিয়ার। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নসহ একাধিক পানি উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান।    আজ বুয়েটে নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন প্রকৌশল শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণই ছিল ব্যতিক্রম। খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানার সেই পথচলা শুধু তাঁদের নিজেদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের নারী প্রকৌশলীদের জন্যও তৈরি করেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   সূএ: প্রথম আলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:১৪
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা

অটিজম জয় করে মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিস্ময় বালক জোশুয়া বেকফোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসা শান্তা যাদব। ছবি: সংগৃহীত

১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা

মার্কিন ভিসা ছবি:সংগৃহীত
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউএস এম্বাসি ঢাকা।   এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসটি জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে।   শুধু ভিসা বাতিলই নয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।তাই সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সবসময় ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস—শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থানের ক্ষেত্রে পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে পড়াশোনার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাও জরুরি।   দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনার জন্য দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৫:২৯
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি

বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি

ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক ভবন। ছবি:সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডিং নিয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ওয়েভার, নিয়মিত স্টাইপেন্ড এবং শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স পেতে পারেন। তবে সব বিভাগে একই ধরনের ফান্ডিং নিশ্চিত নয় এবং পরিবারকে সঙ্গে নিলে তাদের সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এমন দাবিও সঠিক নয়।   ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ৫০ শতাংশ এফটিই গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বছরে ২৩ হাজার ৯৩৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিভাগ ও ফান্ডিং প্যাকেজ অনুযায়ী প্রকৃত স্টাইপেন্ডের পরিমাণ এর চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।   ফুল ফান্ডিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি হলো টিউশন ওয়েভার। যোগ্য গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত টিউশন মওকুফের সুবিধা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি, আবাসন, খাবার, বই, যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত খরচ সব ক্ষেত্রে এই ফান্ডিংয়ের আওতায় পড়ে না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ফান্ডিংয়ের ধরনও আলাদা। যেমন, ফিলোসফি বিভাগের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে সাধারণত গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। সেখানে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক স্টাইপেন্ড ২১ হাজার ২১৮ ডলার। অন্যদিকে পলিটিক্যাল সায়েন্সসহ কিছু প্রোগ্রামে আলাদা ফান্ডিং প্যাকেজ এবং বহু বছরের আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে।   ইকোনমিকস বিভাগে নিয়মিত ফাইন্যান্সিয়াল এইড প্যাকেজ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেতে পারেন। এতে স্টাইপেন্ড, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ ৯০ ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত টিউশন ওয়েভারের ব্যবস্থা রয়েছে।সমাজবিজ্ঞান বিভাগও অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফান্ডিং দেওয়ার লক্ষ্য রাখে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ফাইন্যান্সিয়াল এইডের যোগ্য না হলেও সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেতে পারেন। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও যোগ্যতা ও বিভাগের শর্ত পূরণ করলে এসব ফান্ডেড পিএইচডি পজিশনের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।   পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তার স্ত্রী বা স্বামী এবং যোগ্য সন্তানদের ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে সঙ্গে নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদন ও ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টেশনের অংশ হিসেবে পাসপোর্ট, বিয়ের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিজের ও ডিপেন্ডেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে।   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিজের স্টুডেন্ট হেলথ প্ল্যানের প্রিমিয়াম বহন করে। স্ত্রী, স্বামী বা সন্তানকে একই হেলথ প্ল্যানে যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম শিক্ষার্থীকেই দিতে হয়। অর্থাৎ ‘আবেদনকারীসহ পুরো পরিবারের জন্য ফুল ফান্ডিং’ বললে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে।   আবেদনের নিয়মও বিভাগভেদে আলাদা। সাধারণভাবে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি সার্টিফিকেট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাওয়া অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। বিভাগ অনুযায়ী স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, রাইটিং স্যাম্পল কিংবা জিআরই স্কোরও প্রয়োজন হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডিং পাবেন না। কোন বিভাগে কত বছরের ফান্ডিং, কত স্টাইপেন্ড, টিউশনের কত অংশ মওকুফ এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের শর্ত কী, তা প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের পছন্দের পিএইচডি প্রোগ্রামের বর্তমান ফান্ডিং প্যাকেজ, ডেডলাইন এবং অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৭:১৩
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি সংগৃহীত।

বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান

তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, সাড়ে তিন বছরেও স্কুলে ফেরেননি প্রধান শিক্ষক

২৬ আগস্ট কানাডায় ২ হাজার ৯৭০ স্টাডি পারমিটের নতুন কোটা

২৬ আগস্ট কানাডায় ২ হাজার ৯৭০ স্টাডি পারমিটের নতুন কোটা, সুযোগ ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষীদের

0 Comments