সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১:১৪
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি!আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি!আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পলিটিক্যাল সায়েন্স বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সরাসরি ভর্তির সুযোগ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি ছাড়াই স্নাতক শেষ করে পিএইচডিতে আবেদন করা যায়। এমনকি আবেদন করার আগে কোনো প্রফেসরের সম্মতি বা সুপারভাইজার নিশ্চিত করাও বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভর্তি ও ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে গবেষণার প্রস্তুতি, একাডেমিক যোগ্যতা, রাইটিং স্যাম্পল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে গবেষণার আগ্রহের মিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভারজিনিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ দেশটির পলিটিক্যাল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর দেওয়া নির্দেশনায় আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, গবেষণার বিষয় নির্বাচন, জিআরই, ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাডমিশন কমিটি। ফলে আবেদন করার আগে কোনো প্রফেসরকে ম্যানেজ করতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে কোনো শিক্ষকের কাজের মিল থাকলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কোনো শিক্ষক ইমেইলের উত্তর দিলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। আবার উত্তর না পেলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।

 

পলিটিক্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করার জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রোগ্রামে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেই সরাসরি আবেদন করা যায়। স্নাতকের বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান না হলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক গবেষণায় আগ্রহ, একাডেমিক প্রস্তুতি এবং গবেষণার সক্ষমতা তুলে ধরতে হয়।

আবেদনের আগে নিজের গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্সের পরিচিত সাবফিল্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে আমেরিকান পলিটিক্স, কম্পারেটিভ পলিটিক্স, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, পলিটিক্যাল থিওরি এবং পলিটিক্যাল মেথডোলজি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল ইকোনমি, পাবলিক ল এবং গবেষণাপদ্ধতির বিশেষায়িত ক্ষেত্রেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবফিল্ড ও আবেদনসংক্রান্ত নিয়ম এক নয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু র‍্যাঙ্কিং বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বিবেচনা করলেই হবে না। আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে বিভাগের শিক্ষক ও গবেষণার ক্ষেত্র কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রকাশনা এবং গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। স্টেটমেন্ট অফ পারপাস বা এসওপিতে শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁদের কাজের সঙ্গে নিজের গবেষণার প্রশ্নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে হবে।

পিএইচডি আবেদনের জন্য সাধারণত এসওপি, তিনটি রিকমেন্ডেশন লেটার, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি এবং রাইটিং স্যাম্পল প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে জিআরই এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার স্কোরও জমা দিতে হতে পারে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়ে আনঅফিশিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট গ্রহণ করে। তবে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অফিশিয়াল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

 

এসওপি পিএইচডি আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে আবেদনকারী কোন বিষয়ে গবেষণা করতে চান, গবেষণার প্রশ্নটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে পারেন এবং আগের একাডেমিক অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগবে, তা ব্যাখ্যা করতে হয়। পিএইচডিতে ভর্তির আগেই গবেষণার চূড়ান্ত বিষয় নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে গবেষণাযোগ্য প্রশ্ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

এসওপিতে নিজের পুরো জীবনকাহিনি কিংবা সিভির সব তথ্য পুনরায় তুলে ধরার পরিবর্তে গবেষণার প্রস্তুতি ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে পারসোনাল হিস্ট্রি বা লাইফ এক্সপেরিয়েন্সেস স্টেটমেন্ট চাইলে সেটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।

 

রাইটিং স্যাম্পলের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা নিয়ম রয়েছে। মো. ওবায়দুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ থেকে ৩৫ পৃষ্ঠার রাইটিং স্যাম্পল চাওয়া হয়। অন্যদিকে ইয়েলের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট পৃষ্ঠাসীমা উল্লেখ নেই। তবে এসব শর্ত আবেদনবর্ষ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

রাইটিং স্যাম্পল হিসেবে থিসিসের অংশ, কোর্সের জন্য প্রস্তুত করা গবেষণাপত্র কিংবা অন্য কোনো মানসম্মত একাডেমিক লেখা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকাশিত গবেষণাপত্র থাকা সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। এককভাবে লেখা গবেষণাপত্র থাকলে সেটি নিজের বিশ্লেষণী দক্ষতা তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে। যৌথভাবে লেখা গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম যাচাই করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রোগ্রামে কোয়ান্টিটেটিভ গবেষণাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণার অভিজ্ঞতা কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে সব সাবফিল্ডে কোয়ান্টিটেটিভ রাইটিং স্যাম্পল বাধ্যতামূলক নয়। গবেষণার প্রশ্ন ও বিষয় অনুযায়ী উপযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

রিকমেন্ডেশন লেটারের জন্য এমন শিক্ষক বা গবেষণা পরামর্শক নির্বাচন করা উচিত, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। শুধু পরিচিত বা উচ্চপদস্থ শিক্ষকের সুপারিশের চেয়ে গবেষণার দক্ষতা, লেখার মান এবং বিশ্লেষণী সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়ন দিতে পারেন, এমন ব্যক্তির চিঠি বেশি কার্যকর হতে পারে। থিসিস সুপারভাইজার কিংবা গবেষণাকাজে সরাসরি যুক্ত শিক্ষক এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত হতে পারেন।

জিআরই পরীক্ষার নিয়মও সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নয়। মো. ওবায়দুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফল ২০২৭ সেশনের জন্য স্ট্যানফোর্ডের পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রোগ্রামে জিআরই চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয় এবং ইউনিভার্সিটি অফ ভারজিনিয়া জিআরই গ্রহণ করছে না। ফলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ ভর্তি নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

আইইএলটিএস বা টোফেল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শর্ত আলাদা। আগে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। কোথাও ডিগ্রি অর্জনের দেশ বিবেচনা করা হয়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। শুধু মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন সনদ থাকলেই ছাড় নিশ্চিত, এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার জন্য ইংরেজি দক্ষতার শর্ত আলাদা হতে পারে। ফলে শুধু মোট স্কোর নয়, পরীক্ষার প্রতিটি অংশের ন্যূনতম স্কোরের শর্তও যাচাই করতে হবে।

পিএইচডিতে ভর্তি এবং ফান্ডিংয়ের বিষয়টি আলাদাভাবে বোঝা প্রয়োজন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সব পিএইচডি শিক্ষার্থীকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়। আবার কিছু প্রোগ্রামে ফান্ডিং ছাড়া ভর্তির প্রস্তাব কিংবা ফান্ডিংয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

ফান্ডিংয়ের অফার পাওয়ার পর কত বছরের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত, বছরে বা মাসে কত স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে, টিউশন ফি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না এবং গ্রীষ্মকালীন অর্থায়নের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের দায়িত্ব, অর্থায়ন অব্যাহত রাখার শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট শহরের জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

 

আবেদনপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেডলাইন, আবেদন ফি, পরীক্ষার শর্ত, এসওপির শব্দসীমা, রাইটিং স্যাম্পলের নির্দেশনা এবং রিকমেন্ডেশন লেটারের অবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি মওকুফের সুযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধার জন্য যোগ্য কি না, তা আগে নিশ্চিত হতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষার স্কোর এবং রিকমেন্ডেশন লেটার পৌঁছেছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন মূল্যায়নে সমস্যা হতে পারে।

 

পিএইচডিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধু ভালো সিজিপিএ বা জিআরই স্কোরই যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, এসওপি, রাইটিং স্যাম্পল, রিকমেন্ডেশন লেটার এবং বিভাগের গবেষণার সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের মিল একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। থিসিস, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ কিংবা অন্য গবেষণার অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে।

তবে যোগ্যতা ও প্রস্তুতি ভালো হলেও সীমিত আসন, গবেষণার ক্ষেত্রের অমিল কিংবা বিভাগের নির্দিষ্ট চাহিদার কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করতে আগ্রহীদের জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা, উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং প্রতিটি প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

মো. ওবায়দুল্লাহর তুলে ধরা নির্দেশনাগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রাথমিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজে আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত আবেদনের আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হালনাগাদ ভর্তি ও ফান্ডিং নীতিমালা যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্র: মো. ওবায়দুল্লাহ, পিএইচডি শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইউনিভার্সিটি অফ ভারজিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

 

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি!আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পলিটিক্যাল সায়েন্স বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সরাসরি ভর্তির সুযোগ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি ছাড়াই স্নাতক শেষ করে পিএইচডিতে আবেদন করা যায়। এমনকি আবেদন করার আগে কোনো প্রফেসরের সম্মতি বা সুপারভাইজার নিশ্চিত করাও বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভর্তি ও ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে গবেষণার প্রস্তুতি, একাডেমিক যোগ্যতা, রাইটিং স্যাম্পল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে গবেষণার আগ্রহের মিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভারজিনিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ দেশটির পলিটিক্যাল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর দেওয়া নির্দেশনায় আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, গবেষণার বিষয় নির্বাচন, জিআরই, ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাডমিশন কমিটি। ফলে আবেদন করার আগে কোনো প্রফেসরকে ম্যানেজ করতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে কোনো শিক্ষকের কাজের মিল থাকলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কোনো শিক্ষক ইমেইলের উত্তর দিলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। আবার উত্তর না পেলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।   পলিটিক্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করার জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রোগ্রামে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেই সরাসরি আবেদন করা যায়। স্নাতকের বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান না হলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক গবেষণায় আগ্রহ, একাডেমিক প্রস্তুতি এবং গবেষণার সক্ষমতা তুলে ধরতে হয়। আবেদনের আগে নিজের গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্সের পরিচিত সাবফিল্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে আমেরিকান পলিটিক্স, কম্পারেটিভ পলিটিক্স, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, পলিটিক্যাল থিওরি এবং পলিটিক্যাল মেথডোলজি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল ইকোনমি, পাবলিক ল এবং গবেষণাপদ্ধতির বিশেষায়িত ক্ষেত্রেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবফিল্ড ও আবেদনসংক্রান্ত নিয়ম এক নয়।   বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু র‍্যাঙ্কিং বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বিবেচনা করলেই হবে না। আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে বিভাগের শিক্ষক ও গবেষণার ক্ষেত্র কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রকাশনা এবং গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। স্টেটমেন্ট অফ পারপাস বা এসওপিতে শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁদের কাজের সঙ্গে নিজের গবেষণার প্রশ্নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে হবে। পিএইচডি আবেদনের জন্য সাধারণত এসওপি, তিনটি রিকমেন্ডেশন লেটার, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি এবং রাইটিং স্যাম্পল প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে জিআরই এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার স্কোরও জমা দিতে হতে পারে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়ে আনঅফিশিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট গ্রহণ করে। তবে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অফিশিয়াল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।   এসওপি পিএইচডি আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে আবেদনকারী কোন বিষয়ে গবেষণা করতে চান, গবেষণার প্রশ্নটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে পারেন এবং আগের একাডেমিক অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগবে, তা ব্যাখ্যা করতে হয়। পিএইচডিতে ভর্তির আগেই গবেষণার চূড়ান্ত বিষয় নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে গবেষণাযোগ্য প্রশ্ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। এসওপিতে নিজের পুরো জীবনকাহিনি কিংবা সিভির সব তথ্য পুনরায় তুলে ধরার পরিবর্তে গবেষণার প্রস্তুতি ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে পারসোনাল হিস্ট্রি বা লাইফ এক্সপেরিয়েন্সেস স্টেটমেন্ট চাইলে সেটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।   রাইটিং স্যাম্পলের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা নিয়ম রয়েছে। মো. ওবায়দুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ থেকে ৩৫ পৃষ্ঠার রাইটিং স্যাম্পল চাওয়া হয়। অন্যদিকে ইয়েলের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট পৃষ্ঠাসীমা উল্লেখ নেই। তবে এসব শর্ত আবেদনবর্ষ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। রাইটিং স্যাম্পল হিসেবে থিসিসের অংশ, কোর্সের জন্য প্রস্তুত করা গবেষণাপত্র কিংবা অন্য কোনো মানসম্মত একাডেমিক লেখা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকাশিত গবেষণাপত্র থাকা সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। এককভাবে লেখা গবেষণাপত্র থাকলে সেটি নিজের বিশ্লেষণী দক্ষতা তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে। যৌথভাবে লেখা গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রোগ্রামে কোয়ান্টিটেটিভ গবেষণাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণার অভিজ্ঞতা কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে সব সাবফিল্ডে কোয়ান্টিটেটিভ রাইটিং স্যাম্পল বাধ্যতামূলক নয়। গবেষণার প্রশ্ন ও বিষয় অনুযায়ী উপযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   রিকমেন্ডেশন লেটারের জন্য এমন শিক্ষক বা গবেষণা পরামর্শক নির্বাচন করা উচিত, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। শুধু পরিচিত বা উচ্চপদস্থ শিক্ষকের সুপারিশের চেয়ে গবেষণার দক্ষতা, লেখার মান এবং বিশ্লেষণী সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়ন দিতে পারেন, এমন ব্যক্তির চিঠি বেশি কার্যকর হতে পারে। থিসিস সুপারভাইজার কিংবা গবেষণাকাজে সরাসরি যুক্ত শিক্ষক এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত হতে পারেন। জিআরই পরীক্ষার নিয়মও সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নয়। মো. ওবায়দুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফল ২০২৭ সেশনের জন্য স্ট্যানফোর্ডের পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রোগ্রামে জিআরই চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয় এবং ইউনিভার্সিটি অফ ভারজিনিয়া জিআরই গ্রহণ করছে না। ফলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ ভর্তি নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। আইইএলটিএস বা টোফেল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শর্ত আলাদা। আগে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। কোথাও ডিগ্রি অর্জনের দেশ বিবেচনা করা হয়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। শুধু মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন সনদ থাকলেই ছাড় নিশ্চিত, এমন ধারণা করা ঠিক নয়।   এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার জন্য ইংরেজি দক্ষতার শর্ত আলাদা হতে পারে। ফলে শুধু মোট স্কোর নয়, পরীক্ষার প্রতিটি অংশের ন্যূনতম স্কোরের শর্তও যাচাই করতে হবে। পিএইচডিতে ভর্তি এবং ফান্ডিংয়ের বিষয়টি আলাদাভাবে বোঝা প্রয়োজন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সব পিএইচডি শিক্ষার্থীকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়। আবার কিছু প্রোগ্রামে ফান্ডিং ছাড়া ভর্তির প্রস্তাব কিংবা ফান্ডিংয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। ফান্ডিংয়ের অফার পাওয়ার পর কত বছরের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত, বছরে বা মাসে কত স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে, টিউশন ফি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না এবং গ্রীষ্মকালীন অর্থায়নের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের দায়িত্ব, অর্থায়ন অব্যাহত রাখার শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট শহরের জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।   আবেদনপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেডলাইন, আবেদন ফি, পরীক্ষার শর্ত, এসওপির শব্দসীমা, রাইটিং স্যাম্পলের নির্দেশনা এবং রিকমেন্ডেশন লেটারের অবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি মওকুফের সুযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধার জন্য যোগ্য কি না, তা আগে নিশ্চিত হতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষার স্কোর এবং রিকমেন্ডেশন লেটার পৌঁছেছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন মূল্যায়নে সমস্যা হতে পারে।   পিএইচডিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধু ভালো সিজিপিএ বা জিআরই স্কোরই যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, এসওপি, রাইটিং স্যাম্পল, রিকমেন্ডেশন লেটার এবং বিভাগের গবেষণার সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের মিল একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। থিসিস, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ কিংবা অন্য গবেষণার অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে যোগ্যতা ও প্রস্তুতি ভালো হলেও সীমিত আসন, গবেষণার ক্ষেত্রের অমিল কিংবা বিভাগের নির্দিষ্ট চাহিদার কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করতে আগ্রহীদের জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা, উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং প্রতিটি প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। মো. ওবায়দুল্লাহর তুলে ধরা নির্দেশনাগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রাথমিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজে আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত আবেদনের আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হালনাগাদ ভর্তি ও ফান্ডিং নীতিমালা যাচাই করা প্রয়োজন। সূত্র: মো. ওবায়দুল্লাহ, পিএইচডি শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইউনিভার্সিটি অফ ভারজিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।    

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১:১৪
স্নাতকে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ

কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী

নিউইয়র্কে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ১৩০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভর্তি আবেদনের ফি মওকুফ করছে। ফলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন ফি ছাড়াই পছন্দের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সালের ‘কলেজ অ্যাপ্লিকেশন ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ উদ্যোগের আওতায় এবার অক্টোবর ও নভেম্বর—দুই মাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে কর্মসূচিটি মূলত এক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানোই সময় বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উচ্চশিক্ষা সেবা করপোরেশনের নেতৃত্বে সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে। এ বছর নিউইয়র্কের ৭০০টিরও বেশি উচ্চবিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।    শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি এসেছে সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা থেকে। ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিনা আবেদন ফিতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।   এই সময়ের মধ্যে একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্যাম্পাসে বিনা আবেদন ফিতে আবেদন করতে পারবেন।   আবেদন করার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো সানির নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি এবং দ্বিতীয়টি হলো কমন অ্যাপ। সানির নিজস্ব পদ্ধতিতে আবেদন করলে প্রথম পাঁচটি ক্যাম্পাসের আবেদন ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হবে। কমন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ক্যাম্পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে এবং ফি মওকুফের প্রশ্নে সম্মতিসূচক উত্তর দিতে হবে।   নিউইয়র্কের আরেকটি বড় সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কেও আবেদন ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।নিউইয়র্ক সিটির সরকারি বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ অক্টোবর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত।   অর্থাৎ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করার সুযোগ আরও দুই সপ্তাহ থাকবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে একাধিক কলেজে আবেদন করতে দ্বিধায় থাকেন, তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।   কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের।পরিবারের মধ্যে প্রথমবার কলেজে পড়তে যাচ্ছেন এমন শিক্ষার্থীদের। উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের। আর্থিক বাধার কারণে কলেজে আবেদন করতে পিছিয়ে থাকা তরুণদের। তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী কিংবা নিউইয়র্কের বাইরে বসবাসকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ভর্তি ও আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৯:৩
যুক্তরাজ্যে বিদেশি স্নাতকদের ভিসার মেয়াদে পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ

একাধিক ডিগ্রির পরও নতুন শেখার পথে মিহিরকান্ত

পিএইচডি ও দুই মাস্টার্স ডিগ্রির পরও ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করছেন ইন্টেলের কর্মকর্তা! লক্ষ্য এআইে দক্ষতা

কানাডার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে লাগে না ফি! জেনে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

ব্রেক্সিটের পর ইরাসমাসে ফিরছে যুক্তরাজ্য, নভেম্বরেই আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচিতে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আবারও যুক্ত হচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ কর্মসূচির আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে আগামী নভেম্বর থেকেই আবেদন শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার শিক্ষার্থী, শিক্ষানবিশ, স্কুলশিক্ষার্থী, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এ সুযোগের আওতায় আসবেন।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরকারের পক্ষ থেকে ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার জানান, আবেদনপ্রক্রিয়া নভেম্বরেই শুরু হবে। এ সুযোগ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নিতে পারবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা বিদেশে কাজের প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। শিক্ষানবিশরা ইউরোপীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শেখার সুযোগ পাবেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে আন্তর্জাতিক বিনিময় কার্যক্রমে। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রশিক্ষকদের জন্যও থাকবে অংশগ্রহণের সুযোগ। শিক্ষা খাতের কর্মীরা বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের কাজের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন। ব্রিটিশ সরকারের আগের হিসাব অনুযায়ী, কর্মসূচিটি পুনরায় চালু হলে প্রথম বছরেই যুক্তরাজ্যে এক লাখের বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারেন। বিশেষ করে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ইরাসমাস প্লাসে অংশ নিতে শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিকে সরাসরি অর্থায়নের আবেদন করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল কিংবা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচ, কোর্স ফি, ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত ব্যয় এবং ভাষা শেখার খরচে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়মের ওপর। ব্রেক্সিটের কারণে ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের চুক্তির অধীনে যুক্তরাজ্য ইরাসমাস প্লাস থেকে বেরিয়ে যায়। সে সময় সরকার কর্মসূচিটিকে অর্থের যথাযথ ব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করছে না বলে যুক্তি দিয়েছিল। পরে এর বিকল্প হিসেবে চালু করা হয় টুরিং স্কিম।   ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরাসমাস প্লাসে ফেরার বিষয়ে সমঝোতা করে। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি চূড়ান্ত করে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত আর্থিক অবদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ৩০ শতাংশ ছাড়ও পেয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় লেবার পার্টির এমপি রোজেনা অ্যালিন-খান বলেন, ব্রেক্সিটের পর তরুণেরা বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।   সরকারের আশা, ইরাসমাস প্লাস পুনরায় চালুর ফলে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে এসে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও বাড়বে।   আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া সম্ভব। তবে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আবেদন করার পরিবর্তে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে যোগ্যতা, অর্থায়ন এবং আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:২৩
পড়াশোনা, চাকরি ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনায় আমেরিকার সেরা পাঁচ কলেজ শহর নির্বাচিত

কম খরচে ভালো শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ, আমেরিকার সেরা কলেজ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ

ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান

৫ কোটি টাকার ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশফাকুর

এইচএসসি-তে জিপিএ ২.৯৩ পাওয়ার পর নানা বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডিতে ভর্তির অফার পেয়েছেন রায়হান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান

0 Comments