সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে কবিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৫:২৬
২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হন সামিন ইরতিজা নূর। ছবি: সংগৃহীত
২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হন সামিন ইরতিজা নূর। ছবি: সংগৃহীত

২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন সামিন ইরতিজা নূর। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। একই বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় সপ্তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম হয়েছিলেন। এক দশকের বেশি সময় পর সেই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন দেশের বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসিতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্যের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বুয়েটকে বেছে নেন সামিন। ভর্তি হন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগে। ২০১৯ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কর্মজীবনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসায় প্রশাসনের জ্ঞান যুক্ত করে নিজের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

 

একসঙ্গে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা সামিনের নিজের কাছেও ছিল বিস্ময়কর। ফলাফল প্রকাশের পর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না এত বড় অর্জনের কথা। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় তাঁর কৃতিত্বের খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতে থাকে অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন তিনি।

 

সেই সময় অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে পরামর্শ চাইতেন। কীভাবে পড়াশোনার রুটিন তৈরি করতে হয়, প্রতিদিন কতক্ষণ পড়তে হয় কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখার উপায় কী, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো তাঁকে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের সহায়তা করার সুযোগও পেয়েছিলেন সামিন।

 

ভর্তি পরীক্ষার সময়কার একটি ঘটনা এখনো বিশেষভাবে মনে রেখেছেন তিনি। রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় নিজের ছবি দেখতে পান। যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন, সেখানেই নিজের ছবি টাঙানো দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন সামিন। ঘটনাটি তাঁর কাছে আনন্দের পাশাপাশি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।

 

নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন সামিন। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বাবার আবেগ ও গর্ব, মায়ের আনন্দ এবং ছোট বোনের উচ্ছ্বাস তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। বিশেষভাবে মনে রেখেছেন গণিতের শিক্ষক উজ্জ্বল ভাইকে। রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার আগে ওই শিক্ষক তাঁকে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ফল প্রকাশের পর তিনিই প্রথম ফোন করে সামিনকে অভিনন্দন জানান।

 

তবে শিক্ষাজীবনের সেই সাফল্য যে কর্মজীবনেও সবকিছু সহজ করে দেবে, এমনটা মনে করেন না সামিন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা নামকরা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের সামর্থ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশের পর এই উপলব্ধি আরও স্পষ্ট হয়েছে তাঁর কাছে। অতীতের অর্জন একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, কিন্তু সেই অর্জনের ওপর নির্ভর করে থেমে থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

 

বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছেন সামিন। ভবিষ্যতে প্রকৌশল, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখতে চান তিনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তিকে প্রকৌশল খাতে কাজে লাগানোর বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। দেশের উন্নয়নে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও সামিনের অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবাই প্রথম হতে পারবে না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সম্ভব। প্রত্যাশিত ফল অর্জনের পর অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভোগা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়াও উচিত নয়। একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে জীবনের সামগ্রিক সাফল্য নির্ধারিত হয় না।

 

২০১৪ সালে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যে তরুণ দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন, এক দশকের বেশি সময় পর তাঁর পরিচয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। বুয়েট থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন সামিন ইরতিজা নূর। ভর্তি পরীক্ষার সেই সাফল্য তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এখন নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।


সূত্র: পাবলিকিয়ান


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
ইউরোপের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ! মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভাতা

ইউরোপের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। ইরাসমাস মুন্ডাসের অর্থায়নে পরিচালিত ইউরোপিয়ান মাস্টার্স ইন সাসটেইনেবল সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএমএসএসই) প্রোগ্রামে ২০২৭ থেকে ২০২৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১৫ নভেম্বর। নির্বাচিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দুই বছর প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।   টাইমস টুডের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রোগ্রামসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের সুবিধা রয়েছে।   দুই বছর মেয়াদি এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা ইউরোপের একাধিক দেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও আলবেনিয়ার চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য টেকসই প্রকৌশলব্যবস্থা, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা।   বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ২৪ মাসে মোট ৩৩ হাজার ৬০০ ইউরো পাবেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   এই প্রোগ্রামে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, কেমিক্যাল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকসে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।   আবেদনের যোগ্যতা আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ১৮০ ইসিটিএস ক্রেডিটের সমমানের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সাধারণভাবে এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তত তিন বছরের পড়াশোনার সমতুল্য।   এ ছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার সনদ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত ক্ষেত্রে ভাষাগত যোগ্যতার ছাড়ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ ইএমএসএসই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিশেষায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতালির ইউনিভার্সিটি অব জেনোয়ায় সিস্টেমস অব সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হবে। এখানে বিভিন্ন প্রকৌশলব্যবস্থার পদ্ধতি, কাঠামো এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হবে।   ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অব কম্পিয়েনে অ্যাডভান্সড অপটিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজিস ফর সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এই বিশেষায়নে বিভিন্ন সিস্টেমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পূর্বাভাস তৈরি এবং উন্নত অপটিমাইজেশন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   এ ছাড়া স্পেনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি অব কাতালোনিয়ায় অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেমস বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।   আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের বৈধ পাসপোর্টের কপি, স্নাতক ডিগ্রির মূল সনদ অথবা গ্রহণযোগ্য সাময়িক সনদ, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার সনদ অথবা অনুমোদিত ছাড়ের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।   পাশাপাশি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের মোটিভেশন লেটার অথবা সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ডের পরিচিতিমূলক ভিডিও এবং সুপারিশপত্র প্রয়োজন হবে।   আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আবেদনের সময়সূচি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর ২০২৬। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭।   আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ভর্তির শর্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নিয়ম এবং বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পর নির্ধারিত অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।   ইউরোপে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশে প্রকৌশল বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারে এই প্রোগ্রাম। বিশেষ করে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৫:৪৭
২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হন সামিন ইরতিজা নূর। ছবি: সংগৃহীত

তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে কবিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী

যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি!আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

স্নাতকে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিক্ষাস্তরেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি, বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার সুযোগ ও শর্ত আলাদা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ বলতে সাধারণত টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়। তবে সব স্কলারশিপে একই সুবিধা থাকে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু টিউশন ফি মওকুফ করে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা অন্যান্য খরচের জন্যও সহায়তা দেয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তার পাশাপাশি স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ভর্তি মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, ফেলোশিপ কিংবা গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থায়ন পেতে পারেন। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের সব প্রোগ্রাম একই ধরনের অর্থায়নের আওতায় পড়ে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন উল্লেখযোগ্য। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতির ওপর নির্ভর করে।   স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারেও বিভিন্ন পর্যায়ে স্কলারশিপ ও গবেষণাভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পান না। যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে বিভাগভিত্তিক স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়ন নীতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।   একইভাবে আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভার্জিনিয়া টেক, বেমিডজি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেইলর ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্কলারশিপের তালিকায় থাকা মানেই সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার নিশ্চয়তা নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অর্থায়নের পার্থক্য বোঝা। ব্যাচেলর পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক বা প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ দেয়। মাস্টার্স পর্যায়ে কিছু প্রোগ্রামে আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই বা অন্যান্য পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেক প্রোগ্রামে এসব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। স্কলারশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ। কোনো প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কিছু পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে। অফার লেটারে টিউশন, স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবিমা, অতিরিক্ত ফি এবং অর্থায়নের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম একাধিকবার এসেছে এবং কয়েকটি ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে তালিকাটিকে ২৮টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়ন ব্যবস্থা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন, ফিন্যান্সিয়াল এইড এবং গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং বিভাগের তথ্য দেখে আবেদন করলে স্কলারশিপের প্রকৃত সুযোগ, শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:৫
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ

কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি

কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী

যুক্তরাজ্যে বিদেশি স্নাতকদের ভিসার মেয়াদে পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ

একাধিক ডিগ্রির পরও নতুন শেখার পথে মিহিরকান্ত
পিএইচডি ও দুই মাস্টার্স ডিগ্রির পরও ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করছেন ইন্টেলের কর্মকর্তা! লক্ষ্য এআইে দক্ষতা

উচ্চশিক্ষার একাধিক ডিগ্রি অর্জনের পরও শেখার আগ্রহে ভাটা পড়েনি মিহিরকান্ত উপাধ্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের গ্লোবাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই পেশাজীবী ৪১ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছেন হাইব্রিড এমবিএ প্রোগ্রামে। তাঁর লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল করপোরেট দুনিয়ায় নিজের দক্ষতা প্রাসঙ্গিক রাখা।   পিএইচডি ও দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি থাকার পরও নতুন করে এমবিএ করার সিদ্ধান্ত পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য সময়ের সঙ্গে দক্ষতা হালনাগাদ করার গুরুত্ব তাঁর এই সিদ্ধান্তে নতুন করে সামনে এসেছে। মিহিরকান্তের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে এআইনির্ভর কর্মপরিবেশে নিজেকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার কৌশল বদলে যাচ্ছে। ফলে শুধু পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। হাইব্রিড এমবিএ প্রোগ্রামে অনলাইন ও সরাসরি শিক্ষার সমন্বয় থাকে। কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এ ধরনের প্রোগ্রাম পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মিহিরকান্ত উপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও শেখার নতুন সুযোগ গ্রহণ করা যায়। বয়স কিংবা আগে অর্জিত ডিগ্রির সংখ্যা নতুন কিছু শেখার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এআইয়ের বিস্তারের কারণে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা, দুই ক্ষেত্রেই নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, এমবিএ প্রোগ্রামের নাম এবং ভর্তির সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করার সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য এআই সম্পর্কে শেখা এবং পরিবর্তনশীল করপোরেট পরিবেশে নিজের দক্ষতা ধরে রাখা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৮:২২

কানাডার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে লাগে না ফি! জেনে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

ব্রেক্সিটের পর ইরাসমাসে ফিরছে যুক্তরাজ্য, নভেম্বরেই আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা

পড়াশোনা, চাকরি ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনায় আমেরিকার সেরা পাঁচ কলেজ শহর নির্বাচিত

কম খরচে ভালো শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ, আমেরিকার সেরা কলেজ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ

0 Comments