বাহামার প্রাইভেট দ্বীপে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ে, যোগ দিলেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং পাম বিচের সমাজসেবী ও মডেল বেটিনা অ্যান্ডারসন আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। শনিবার বাহামাসের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে ছোট পরিসরে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয় বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের পাঁচ সন্তান, তার ভাই-বোন ইভাঙ্কা ট্রাম্প, এরিক ট্রাম্প ও টিফানি ট্রাম্প এবং তাদের জীবনসঙ্গীরা। এছাড়া বেটিনা অ্যান্ডারসনের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের আয়োজনের দায়িত্বে ছিল পরিচিত অনুষ্ঠানসজ্জা প্রতিষ্ঠান লুইস মিলার ডিজাইন। বিয়ের কেক তৈরি করে ফ্লোরিডার পাম বিচভিত্তিক বেকারি সুইট স্টেসিস। অতিথিদের জন্য বিশেষ হাতের লেখার নকশায় খাবারের তালিকা তৈরি করেন খ্যাতিমান শিল্পী বার্নার্ড মেইসনার।
প্রথমদিকে এই জুটি হোয়াইট হাউসে বড় আকারের বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা ভাবছিলেন বলে জানা যায়। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবুও চলতি বছরের শেষ দিকে বন্ধু ও বৃহৎ পারিবারিক পরিসরে আরও বড় একটি উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, সরকারি দায়িত্ব ও ওয়াশিংটনে চলমান গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তার হোয়াইট হাউসেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনা অ্যান্ডারসনের বাগদানের খবর প্রথম প্রকাশ করে পেজ সিক্স। পরে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও তাদের বাগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন।
বেটিনা অ্যান্ডারসন ফ্লোরিডার পাম বিচের পরিচিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা হ্যারি লয় অ্যান্ডারসন জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
এর আগে এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে “মায়াবী বাগান” প্রতিপাদ্যে বেটিনা অ্যান্ডারসনের কনেবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইভাঙ্কা ট্রাম্প, টিফানি ট্রাম্পসহ ট্রাম্প পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ইকুয়েডরের এক মা ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী মেয়ে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর দুজনকেই আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘটেছে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার পইনসিয়ানা এলাকায়। ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস স্টেফানি কালোরো কাবানিয়া ও তাঁর মেয়ে জিউলিয়ানা মিয়া কারিয়েল কালোরো ২০ আগস্ট মারিগোল্ড অ্যাভিনিউ ও শেলড্রেক রোডের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিসের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের এইচসিএ ফ্লোরিডা পইনসিয়ানা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অন্য একটি গাড়ি তাঁদের গাড়ির যাত্রীপাশে আঘাত করলে সেটি কয়েকবার উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের এক সদস্য নিউজউইককে জানান, ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাঁরা প্রাণে বেঁচে যাওয়াকেই সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মা ও মেয়েকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেসকে তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সে সময় তিনি ঘাড়ে ব্রেস পরেছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত করতে হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে গ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরে তাঁর মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর আইসিই দুজনের বিরুদ্ধেই ডিটেইনার জারি করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাঁদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। আইসিইও জানিয়েছে, গ্রেস ২০২৩ সালের মার্চে এবং তাঁর মেয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সংস্থার দাবি, দুজনই অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, জরুরি বিভাগে আসা প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে এলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনে চলতে হয় বলেও জানিয়েছে হাসপাতালটি। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অবস্থায় ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন এবং চিকিৎসা শেষে আটক করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোতে আইসিইর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে, ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
১৩ বছর ধরে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত সহপাঠীকে আগলে রাখলো দুই বন্ধু, শেষে একসঙ্গেই গ্র্যাজুয়েশন
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মীর বিদায়ের খবর সামনে আসছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিদায়গুলোর একটি হলো হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের। তিনি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার জন্য লেভিট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি ট্রাম্পের বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। লেভিটের বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চলে যাওয়ার খবর এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর জেমস ব্রেইড, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটন এবং ইউএস পারডন অ্যাটর্নি এড মার্টিন। জেমস ব্রেইড কংগ্রেসের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্প তার বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেসে প্রশাসনের বিভিন্ন আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে ব্রেইডের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনও প্রশাসন ছাড়ছেন। তার জায়গায় দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইল শার্ফকে নতুন শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক এই বিদায়গুলোকে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কিছু পর্যবেক্ষক। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত, প্রশাসনের জনপ্রিয়তা এবং আসন্ন রিপাবলিকান প্রাইমারি নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেভিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখপাত্রের বিদায়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন। তার বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনে সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদায়কে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদল, নাকি মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগাম প্রস্তুতি? আগামী কয়েক মাসে আরও কর্মকর্তা হোয়াইট হাউস ছাড়েন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম,নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নির্দেশনা, ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ৩০টি বাড়ির মালিক, কলেজে পড়ার সময়ই শুরু রিয়েল এস্টেট ব্যবসা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সবসময় বৈধ গ্রিন কার্ড সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্থায়ী বাসিন্দাদের এই আইনি দায়িত্ব আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণ। তাই গ্রিন কার্ড শুধু বাড়িতে রেখে দিলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় প্রদর্শনের জন্য তা নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কার্ডটির মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সবসময় সঙ্গে রাখার নিয়মও মেনে চলতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড সঙ্গে থাকলে তা বৈধ গ্রিন কার্ড বহনের শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের প্রমাণ সঙ্গে রাখার নিয়ম রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মধ্যে বৈধ অভিবাসন নথি বা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের মতো নথি থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের আওতায় থাকা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সঙ্গে না রাখলে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানা অথবা ৩০ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড, কিংবা দুটিই হতে পারে। তবে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা সাধারণত আগেই নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হন। তাই শুধু এই নিয়মের কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে—এমন নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেসব অ-নাগরিক আগে নিবন্ধিত হননি এবং যাদের ৩০ দিন বা তার বেশি সময় থাকার কথা, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করা এবং কার্ডটি সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলারে নিতে কংগ্রেসে নতুন বিল
চাঁদপুরের জুম্মান তপদার যোগ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে