আমেরিকা

আবারও আকাশে ডানা মেলছে ‘প্যান অ্যাম’: এক সময়ের কিংবদন্তি বিমান সংস্থার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২১:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

এভিয়েশন বা বিমান চলাচলের ইতিহাসে ‘প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ’ বা সংক্ষেপে ‘প্যান অ্যাম’ একটি রূপকথার নাম। ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই মার্কিন বিমান সংস্থাই বিশ্ববাসীকে প্রথম দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের স্বাদ দিয়েছিল। তবে ভুল ব্যবসায়িক কৌশল আর বৈশ্বিক সংকটের কারণে ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায় এই কিংবদন্তি ব্র্যান্ড। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর, সেই গৌরবময় সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনতে একবিংশ শতাব্দীতে এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

The Boeing 747 entered commercial service on a historic Pan Am flight between New York's John F. Kennedy International Airport (JFK) and London Heathrow Airport (LHR) on January 12, 1970.

 

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্যোক্তা ক্রেইগ কার্টারের নেতৃত্বাধীন একদল বিনিয়োগকারী প্যান অ্যামের সমস্ত স্বত্ব ও লাইসেন্স কিনে নেন। তাঁদের লক্ষ্য—প্যান অ্যামকে কেবল একটি বিমান সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা।

 

নস্টালজিয়ার জাদুতে সফল ‘এয়ার ক্রুজ’

দীর্ঘ ৩০ বছর বন্ধ থাকলেও বিমানপ্রেমীদের মনে প্যান অ্যামের আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মেলে গত বছরের (২০২৫) জুন মাসে। সে সময় প্যান অ্যামের লোগো ও নীল-সাদা রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বিমান ১২ দিনের এক ঐতিহাসিক ‘এয়ার ক্রুজ’ বা বিমান সফরের আয়োজন করে। আইসল্যান্ড এয়ার থেকে লিজ নেওয়া বোয়িং ৭৫৭-২০০ বিমানটিতে মাত্র ৫০টি বিলাসবহুল আসন ছিল।

 

The airline changed its name to Pan American World Airways in 1950. It launched the Boeing 707, pictured, in 1958.

 

নিউইয়র্ক থেকে রওনা হয়ে বারমুডা, লিসবন, মার্সেই, লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের শ্যাননের মতো পুরোনো রুটে যাতায়াত করা এই সফরের টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চড়া দাম সত্ত্বেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে সফরের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এই সাফল্যই বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্যিকভাবে আবারও আকাশে ফেরার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

 

বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরা ও নতুন পরিকল্পনা

প্যান অ্যামের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং এভিয়েশন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এড ওয়েগেল জানান, প্যান অ্যামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা হিসেবে আকাশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তবে এবার বোয়িং নয়, প্যান অ্যামের নতুন চালিকাশক্তি হবে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ‘এয়ারবাস এ২২০’ এবং ‘এ৩২০’ মডেলের বিমান।

 

The new Pan Am is based in Miami, where the original company was based too.

 

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকার মিয়ামি শহরকে প্রধান কেন্দ্র (বেস) করে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বাজারগুলোকে লক্ষ্য করে চার্টার্ড এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এই বিমানগুলোতে ইকোনমি থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার তিন শ্রেণির আসন বিন্যাস থাকবে। তবে বিমান সংকটের কারণে প্রথম ফ্লাইটের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

 

ভবিষ্যতের প্যান অ্যাম হোটেল ও রেস্তোরাঁ:

বিমান সংস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতেও প্যান অ্যামের নাম যুক্ত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার কমার্স শহরে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘প্যান অ্যাম হোটেল’। বিখ্যাত হোটেল চেইন হিলটনের ব্যবস্থাপনায় এই হোটেলে থাকবে আশির দশকের বিমান ভ্রমণের নস্টালজিক আবহ। এছাড়া ২০২৬ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে চালু হবে প্রথম ‘প্যান অ্যাম রেস্তোরাঁ’। ২০২৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্যান অ্যাম লাউঞ্জ এবং ঘড়ি ও লেগো সেটের মতো বিভিন্ন লাইসেন্সড পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

 

The Venice Simplon-Orient-Express is currently operated by the luxury hotel brand Belmond.

 

চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা

প্যান অ্যামের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা দারুণ এক রোমাঞ্চকর উদ্যোগ বললেও এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিমান শিল্প বিশ্লেষক অ্যাডিসন শোনল্যান্ডের মতে, বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নতুন একটি প্রিমিয়াম বিমান সংস্থার টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকট যখন প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থাগুলোকেই ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য করছে, তখন প্যান অ্যামের মতো ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
আবারও আকাশে ডানা মেলছে ‘প্যান অ্যাম’: এক সময়ের কিংবদন্তি বিমান সংস্থার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

এভিয়েশন বা বিমান চলাচলের ইতিহাসে ‘প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ’ বা সংক্ষেপে ‘প্যান অ্যাম’ একটি রূপকথার নাম। ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই মার্কিন বিমান সংস্থাই বিশ্ববাসীকে প্রথম দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের স্বাদ দিয়েছিল। তবে ভুল ব্যবসায়িক কৌশল আর বৈশ্বিক সংকটের কারণে ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায় এই কিংবদন্তি ব্র্যান্ড। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর, সেই গৌরবময় সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনতে একবিংশ শতাব্দীতে এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।     ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্যোক্তা ক্রেইগ কার্টারের নেতৃত্বাধীন একদল বিনিয়োগকারী প্যান অ্যামের সমস্ত স্বত্ব ও লাইসেন্স কিনে নেন। তাঁদের লক্ষ্য—প্যান অ্যামকে কেবল একটি বিমান সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা।   নস্টালজিয়ার জাদুতে সফল ‘এয়ার ক্রুজ’ দীর্ঘ ৩০ বছর বন্ধ থাকলেও বিমানপ্রেমীদের মনে প্যান অ্যামের আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মেলে গত বছরের (২০২৫) জুন মাসে। সে সময় প্যান অ্যামের লোগো ও নীল-সাদা রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বিমান ১২ দিনের এক ঐতিহাসিক ‘এয়ার ক্রুজ’ বা বিমান সফরের আয়োজন করে। আইসল্যান্ড এয়ার থেকে লিজ নেওয়া বোয়িং ৭৫৭-২০০ বিমানটিতে মাত্র ৫০টি বিলাসবহুল আসন ছিল।     নিউইয়র্ক থেকে রওনা হয়ে বারমুডা, লিসবন, মার্সেই, লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের শ্যাননের মতো পুরোনো রুটে যাতায়াত করা এই সফরের টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চড়া দাম সত্ত্বেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে সফরের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এই সাফল্যই বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্যিকভাবে আবারও আকাশে ফেরার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।   বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরা ও নতুন পরিকল্পনা প্যান অ্যামের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং এভিয়েশন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এড ওয়েগেল জানান, প্যান অ্যামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা হিসেবে আকাশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তবে এবার বোয়িং নয়, প্যান অ্যামের নতুন চালিকাশক্তি হবে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ‘এয়ারবাস এ২২০’ এবং ‘এ৩২০’ মডেলের বিমান।     প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকার মিয়ামি শহরকে প্রধান কেন্দ্র (বেস) করে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বাজারগুলোকে লক্ষ্য করে চার্টার্ড এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এই বিমানগুলোতে ইকোনমি থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার তিন শ্রেণির আসন বিন্যাস থাকবে। তবে বিমান সংকটের কারণে প্রথম ফ্লাইটের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।   ভবিষ্যতের প্যান অ্যাম হোটেল ও রেস্তোরাঁ: বিমান সংস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতেও প্যান অ্যামের নাম যুক্ত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার কমার্স শহরে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘প্যান অ্যাম হোটেল’। বিখ্যাত হোটেল চেইন হিলটনের ব্যবস্থাপনায় এই হোটেলে থাকবে আশির দশকের বিমান ভ্রমণের নস্টালজিক আবহ। এছাড়া ২০২৬ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে চালু হবে প্রথম ‘প্যান অ্যাম রেস্তোরাঁ’। ২০২৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্যান অ্যাম লাউঞ্জ এবং ঘড়ি ও লেগো সেটের মতো বিভিন্ন লাইসেন্সড পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।     চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা প্যান অ্যামের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা দারুণ এক রোমাঞ্চকর উদ্যোগ বললেও এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিমান শিল্প বিশ্লেষক অ্যাডিসন শোনল্যান্ডের মতে, বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নতুন একটি প্রিমিয়াম বিমান সংস্থার টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকট যখন প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থাগুলোকেই ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য করছে, তখন প্যান অ্যামের মতো ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২১:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছর প্রবাসে বাঙালির শেকড় খোঁজার অনন্য এক ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনে জয়ের কোটি ডলারের বিবাহবিচ্ছেদের গোপন সমঝোতা নথির তথ্য প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

সম্মান গ্রহণের মুহূর্তে আফরিন মাহমুদ । ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে স্যালুটেটোরিয়ান বাংলাদেশি আফরিন, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিনে যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক অর্জন এনে দিয়েছেন আফরিন মাহমুদ অনুশকা। চলতি বছরের গ্র্যাজুয়েটিং ব্যাচে “স্যালুটেটোরিয়ান” বা শ্রেণির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তার এই সাফল্যে পরিবার, বন্ধু ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।   টেক্সাসের হাটো মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে আফরিন বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে মঞ্চে বক্তব্য দেন। কয়েক হাজার দর্শকের সামনে তার স্যালুটেটোরিয়ান বক্তৃতা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।   আফরিন মাহমুদ তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বাবা ডা. আরিফ মাহমুদ বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। মা শেহেরিন জামানও সন্তানদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানান।   পরিবারটির শিক্ষাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির। আফরিনের বড় বোন জারিন মাহমুদ ও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে কলেজ জীবন সম্পন্ন করেছেন। তিনিও ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া পরিবারের ছোট ভাইও বর্তমানে পড়াশোনায় মনোযোগী।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আফরিন ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী, পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং বিনয়ী মনোভাব তাকে এই অর্জনের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা বলেন, “একসময় যে মেয়ে হাত ধরে হাঁটত, আজ সে নিজ যোগ্যতায় সবার সামনে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে।”   শুধু পড়াশোনায় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন আফরিন। তিনি এইচওএসএ (HOSA), লিও ক্লাবসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কমিউনিটি সেবায় শত শত ঘণ্টা কাজ করেছেন। স্থানীয় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগেও তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।   ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আফরিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে বায়োকেমিস্ট্রি ও প্রি-মেড নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশা, তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও মানবসেবার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।   প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আফরিনের এই অর্জনকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনায় ভাসাচ্ছেন শুভানুধ্যায়ীরা।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ১:৬
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট, যেভাবে আবেদন করবেন

আটলান্টা শহরের দৃশ্য | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহরের তালিকায় আবারও আটলান্টা

ছবি: সংগৃহীত

মেমোরিয়াল ডে-র ছুটি: আটলান্টা বিমানবন্দরে রেকর্ড ৩০ লাখ যাত্রীর ভিড়ের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বাসযোগ্য শহর কার্মেল

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬–২০২৭ সালের জন্য প্রকাশিত “আমেরিকার সেরা ২৫০ বাসস্থান” তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর কার্মেল। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের এই তালিকায় গত বছর দ্বিতীয় স্থানে থাকা শহরটি এবার এক নম্বরে উঠে এসেছে। ইন্ডিয়ানাপলিস থেকে প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই শহরটি সামগ্রিক জীবনমান, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে শীর্ষে স্থান পেয়েছে।   তালিকায় কার্মেলের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একই অঙ্গরাজ্যের প্রতিবেশী শহর ফিশার্স। একই কাউন্টির আরেক শহর নোবেলসভিল ১৮তম স্থানে রয়েছে। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই বাসযোগ্য শহর একে অপরের পাশাপাশি অবস্থিত শহর হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   ৮৫৯টি শহরের মধ্যে মূল্যায়নে কার্মেল জীবনমান সূচকে ১৫তম, কর্মসংস্থানে ৪০তম, আকর্ষণীয়তায় ৯০তম এবং মূল্যমান সূচকে ১১৪তম অবস্থানে রয়েছে। সব সূচক মিলিয়ে সামগ্রিক স্কোরে শহরটি শীর্ষে উঠে আসে।   শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৬৮ জন। গড় যাতায়াত সময় ২১ মিনিট, মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৫ ডলার এবং গড় মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৪৫৭ ডলার। গড় পারিবারিক আয় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৫ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা কার্মেলকে শান্ত, নিরাপদ এবং পরিবারবান্ধব শহর হিসেবে বর্ণনা করেন। শহরটির ডাউনটাউন এলাকা হাঁটার উপযোগী এবং এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক স্কুলগুলোর কিছু অবস্থিত।   দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্যারি হলে কার্মেলকে “আমাদের ছোট্ট স্বর্গ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শহরটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি নির্বাহী পেশাজীবী মাসুম মাহবুব জানান, এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবেশ এবং প্রতিবেশীদের আন্তরিকতা জীবনযাত্রাকে সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।   কার্মেলের মেয়র সু ফিনকাম এই অর্জনকে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউএস নিউজের ভোক্তা বিশ্লেষক এরিকা জিওভানেটি বলেন, কম খরচে উচ্চমানের জীবনযাত্রা কার্মেল ও ফিশার্সকে বড় শহরগুলোর তুলনায় এগিয়ে নিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণে চারটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো আবাসন ব্যয়, জীবনমান, দৈনন্দিন পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতি। জীবনমান সূচকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বায়ুর মান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ১৬:৪৮
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আরও ২৫ নতুন স্টোর খুলছে ট্রেডার জো’স

ছবি: মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দিচ্ছেন আয়োজক কমিটি

৪০তম ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম শাখা খুলছে কানাডার বিখ্যাত এশিয়ান সুপারশপ ‘টিঅ্যান্ডটি’

0 Comments