ইতিহাস গড়লেন জাকিয়া, প্রথম আফগান নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন জাকিয়া আহমাদ, যিনি পরিচিত মহলে 'রিভার' নামেও সমাদৃত। প্রথম আফগান নারী হিসেবে তিনি এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের খুম্বু অঞ্চলের থেম গ্রামের দুই নেপালি গাইড দাওয়া তেনজিং শেরপা এবং ফুরবা গ্যালজেন শেরপাকে সাথে নিয়ে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। পাকিস্তানের সরকারি পর্বতারোহণ সংস্থা 'আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান' বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পেশায় মানবাধিকার কর্মী ও বর্তমান জীবনে একজন শরণার্থী জাকিয়ার পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার এই সফল এভারেস্ট আরোহণ আফগানিস্তানের জন্য এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের নারী পর্বতারোহীদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। জাকিয়ার এই অর্জনকে বিশ্বজুড়ে নারী, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের মানুষের অদম্য সাহসিকতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তার সমর্থকেরা।
চরম উচ্চতা এবং পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি ও বিপজ্জনক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও হিমালয় পর্বতমালার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট প্রতি বছর সারা বিশ্বের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। এদিকে, জাকিয়া আহমাদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই দিনে এভারেস্ট জয় করেছেন পাকিস্তানি পর্বতারোহী সালমান আতিকও। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু জয়ের ঠিক এক বছর পূর্তিতে তিনি এই নতুন সাফল্য পেলেন। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট করার হায়দরি সালমানের এই অদম্য সংকল্প ও সাহসিকতাকে পাকিস্তানের তরুণ অভিযাত্রীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreআকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি) প্রযুক্তির নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে চীন। এর মাধ্যমে হাজার মাইল দূরে থাকা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে সহজেই নিখুঁত নিশানায় পরিণত করা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের ঘাটতির এই সময়ে চীনের নতুন প্রযুক্তির খবরটি সামনে এল। বেইজিং বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এই অত্যাধুনিক এইচজিভি প্রযুক্তির অস্ত্র উন্নয়ন ও চালনা করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রের সাহায্যে বহুদূরে থাকা আমেরিকার রিফুয়েলিং ট্যাংকার ও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া বিমানগুলোকে সহজেই লক্ষ্যবস্তু করা যাবে। চীনের ‘ডিএফ-১৭’ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নির্গত এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে, যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের খুব কাছাকাছি। অন্যদিকে, তাদের উন্নত ‘ডিএফ-২৭’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জকেও হামলার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের অস্ত্রভাণ্ডারে ৩ হাজার ১৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ও ৩০০টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে দূরপাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চলন্ত বিমানে হামলা চালানো বেশ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্লুমবার্গের মতে, দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এটি ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় নিতে পারে এবং এর জন্য সার্বক্ষণিক নিখুঁত রিয়েল-টাইম তথ্যের প্রয়োজন হয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের হামলা পারমাণবিক হামলার ভুল ধারণা তৈরি করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ‘এইম-১৭৪বি’ ও ৩০০ মাইল পাল্লার ‘এইম-৪২৪ ম্যালিস’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষাসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের ‘এইম-২৬০’ বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপে ব্যবহৃত হচ্ছে ১০০ মাইল পাল্লার ‘মিটিওর’ ক্ষেপণাস্ত্র।
ইরানের শীর্ষ ৫ কমান্ডারের খোঁজে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার পাল্টা আ ঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার কানাডা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আরোপিত এই পাল্টা শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র আকার নিয়েছে। কানাডার ঘোষণার আওতায় প্রায় ৭০০ ধরনের মার্কিন পণ্য থাকছে। এসব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। নতুন এই ব্যবস্থা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কানাডার এই পদক্ষেপ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের পর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবেই কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাব সমান হারে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। মঙ্গলবারের ঘোষণায় সেই অবস্থান বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে। নতুন কানাডীয় শুল্কের আওতায় বিভিন্ন ধরনের মার্কিন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্পাত, ইলেকট্রনিক পণ্য, সরঞ্জাম, খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর এই পাল্টা ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের জবাব দেওয়া হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও চাপে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ এরই মধ্যে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পর কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কানাডার ঘোষণায় প্রায় ৭০০ মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশটির পাল্টা ব্যবস্থা বিস্তৃত পরিসরে নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হবে। কিছু পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ এবং কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দুই দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। কানাডার মঙ্গলবারের ঘোষণা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের সরাসরি জবাব দিয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ময়লায় ফেলে দেওয়া হলো চকলেট, কুড়াতে মানুষের হুড়োহুড়ি
ইমরান খানের চিকিৎসা ও বন্দিত্ব নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান জেমিমা
বিয়ের দিন মেয়েকে দেয়া বাবার কথা, ‘তোমাকে আমরা বিক্রি করে দিয়েছি’
যুক্তরাজ্যে আট বছর ধরে বসবাস করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক নারী স্পেন থেকে দেশে ফেরার পথে ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটের কারণে বিমানে উঠতে পারেননি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তার পরিচয় তার অভিন্ন যমজ বোনের সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। নিদিয়া ওয়েব নামের ওই নারীকে পরে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় পরিচিত প্রযুক্তিগত ত্রুটি। চলতি মাসের শুরুতে স্পেনে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন নিদিয়া ওয়েব। বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। তার নির্ধারিত বিমানটি তাকে ছাড়াই চলে যায়। এরপর তিনি সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা নম্বরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যোগাযোগ করেন। ওয়েব জানান, তার ইলেকট্রনিক স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা তার নিজের তথ্যের পরিবর্তে অভিন্ন যমজ বোনের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তার বসবাসের মর্যাদার তথ্য তার পরিচয়ের সঙ্গে সঠিকভাবে মেলানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তাকে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় এমন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওয়েব বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে যোগাযোগ না করলে কতদিন বিদেশে আটকে থাকতে হতো, তা তিনি জানেন না। তার অভিজ্ঞতাটি রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যমের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে আলাদা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কাগজের নথির ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর লাখ লাখ মানুষ ইভিসা ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা, বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দেশটিতে ভ্রমণের অধিকার প্রমাণ করা যায়। তবে ইভিসা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভুলের কারণে কিছু মানুষ এসব অধিকার প্রমাণ করতে সমস্যায় পড়েছেন। এর আগে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা ইভিসা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারেননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির পরিচয় অন্য ব্যক্তির সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার কারণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি প্রচার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মনিক হকিন্স বলেন, অন্য ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা কারও ইভিসা হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার মতো অনেক ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানানোর পরও এমন সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। হকিন্সের মতে, ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এটি মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় ইভিসার তথ্য সঠিকভাবে কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন। এর আগেও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তথ্য বিভ্রাটের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় কানাডার এক নারীর পাসপোর্টের তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস ও যোগাযোগের তথ্য ভুলভাবে রাশিয়ার এক নারীর কাছে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনার মাধ্যমে দুই ব্যক্তির তথ্য একে অপরের সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গত মাসে মানবাধিকারকর্মীরাও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ও অভিযোগের সংখ্যা প্রকাশের দাবি করেন। একই সঙ্গে তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এক কোটির বেশি মানুষ ইতোমধ্যে সফলভাবে ইভিসা ব্যবহার করে নিজেদের অভিবাসন মর্যাদা প্রমাণ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং ইভিসা ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজলভ্য রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত হয়, সেগুলোর অধিকাংশই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হয়। তবে নিদিয়া ওয়েবের অভিজ্ঞতা ইভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত ও আলাদা রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
সন্তান নিতে দরিদ্রদের নিষেধ করা উচিত, আর্জেন্টাইন টিকটকারের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক
৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশের জিয়া