আন্তর্জাতিক

জিএসপি সুবিধা বাতিল

শুল্ক বাড়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে ভারতীয় পণ্য

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0

ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা বা জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস) স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই সিদ্ধান্ত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে ইইউ।

 

ইইউর অফিশিয়াল জার্নাল সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় কমিশন গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি বিধিমালা জারি করে। এর আওতায় ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার কিছু পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধিমালাটি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় চলতি মাস থেকেই ইইউর বাজারে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা। কারণ, ভারত থেকে ইইউতে রপ্তানি হওয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এখন বেশি শুল্ক দিতে হবে আমদানিকারকদের। মাত্র ১৩ শতাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা বহাল থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত পণ্য।

 

জিএসপি সুবিধার আওতায় আগে ভারতীয় পণ্য ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি’ (এমএফএন) শুল্কহারের তুলনায় কম হারে শুল্ক দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করত। কিন্তু বর্তমানে ৮৭ শতাংশ পণ্যে সেই সুবিধা বাতিল হওয়ায় পূর্ণ এমএফএন শুল্ক দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো তৈরি পোশাকে সাধারণ শুল্কহার যদি ১২ শতাংশ হয়, জিএসপি সুবিধায় তা কমে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ হতো। এখন ওই পণ্যে পুরো ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

 

ইইউ ভারতের প্রায় সব বড় শিল্প খাতেই জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও রাবার, বস্ত্র ও পোশাক, পাথর ও সিরামিক, মূল্যবান ধাতু, লোহা ও ইস্পাত, মৌলিক ধাতু, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং পরিবহন সরঞ্জাম—যেগুলো ইউরোপে ভারতের রপ্তানির মূল ভিত্তি।

 

এর আগেও ২০১৩ ও ২০২৩ সালে ধাপে ধাপে ভারতের জিএসপি সুবিধা কমিয়েছিল ইইউ। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই সুবিধা কার্যত পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো।

 

ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও স্বল্প মেয়াদে রপ্তানিকারকেরা বড় সংকটে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন জিটিআরআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, “ভারত–ইইউ এফটিএ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও বাস্তবে রপ্তানিকারকদের বড় বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ, জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের সময়ই ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) করপর্ব কার্যকর হচ্ছে।”

 

২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল ৭৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৬০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ যায় ইইউর বাজারে। অন্যদিকে, ইইউর মোট রপ্তানির প্রায় ৯ শতাংশের গন্তব্য ভারত।

 

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, “ইইউ ভারতের প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করায় অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যকে এখন পূর্ণ এমএফএন শুল্কে ইউরোপে প্রবেশ করতে হবে। আগে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাওয়া যেত, এখন তা আর থাকছে না।” তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশের তুলনায় ভারতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে, কারণ ওই দেশগুলোর পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে ইউরোপে প্রবেশ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
হরমোজ প্রণালীতে ইরানের গানবোট। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন জাহাজকে ধাওয়া ইরানের

হরমোজ প্রণালীতে মার্কিন তেলবাহী জাহাজকে ইরানের গানবোট ধাওয়া ও চ্যালেঞ্জ করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক।    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওমান থেকে প্রায় ১৬ নটিক্যাল মাইল উত্তরে প্রণালীটি অতিক্রম করার সময় ‘স্টেনা ইম্পারেটিভ’ নামের জাহাজটির গতিরোধ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সশস্ত্র সদস্যদের বহনকারী তিনজোড়া ছোট বোট।   নিরাপত্তা সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানি বোটগুলো রেডিওর মাধ্যমে জাহাজটিকে ইঞ্জিন বন্ধ করে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়। তবে জাহাজটির ক্যাপ্টেন সেই নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত গতিতে নিজ গন্তব্যে এগিয়ে যান। সংস্থাটি জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, জাহাজটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেনি এবং বর্তমানে এটি মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজের পাহারায় নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।   এর আগে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও জাহাজটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, একটি নামহীন জাহাজ অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। ইরানি বাহিনী জাহাজটির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে সেটি দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে।   বিশ্বের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হরমোজ প্রণালী দীর্ঘকাল ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহেও আইআরজিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মার্কিন হামলার আশঙ্কায় এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।   সূত্র: আল আরাবিয়া  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি

লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

পিটার ম্যান্ডেলসন

হাউজ অব লর্ডস থেকে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিদায়

নরওয়ের রাজকুমারী মেত-মারিত

প্রকাশ্যে নরওয়ের রাজকুমারীর কুকীর্তি

রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি
দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি, রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় ভারত

দিল্লি এখন উত্তপ্ত! লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন’। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি রাতারাতি সই করার নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ চাপ কাজ করছে?   রাহুল গান্ধীর দাবি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলা এবং রহস্যময় 'এপস্টিন ফাইলস'-এর ভয়েই নাকি প্রধানমন্ত্রী এই আপস করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সত্যটা ঠিক কোথায়?   কেন এই বিতর্ক? একনজরে দেখে নিন মূল পয়েন্টগুলো: তড়িঘড়ি চুক্তি: রাহুল গান্ধীর মতে, নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে চাপের মুখে তাড়াহুড়ো করে এই বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন মোদি। সংসদে হট্টগোল: চীন ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা। এপস্টিন ফাইলস ও আদানি কানেকশন: রাহুল দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে এমন কিছু তথ্য আছে যা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর, আর সেই কারণেই এই ‘আপস’। প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: এনডিএ বৈঠকে মোদি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ধৈর্য এবং সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।   দেশের অর্থনীতি কি সত্যিই সুরক্ষিত, নাকি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0

কে এই কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন?

ভারতীয় পণ্যে ২৫ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

এপস্টেইন ফাইলে ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স

এপস্টেইন ফাইলস: ক্ষমতার অন্দরমহল, জনমতের উত্তাপ ও ন্যায়ের সন্ধান

ভারতে মিষ্টি খেয়ে ৩ দিনে তিনজনের মৃত্যু। ছবি: এনডিটিভি
‘রহস্যময়’ মিষ্টি খেয়ে ৩ দিনে তিনজনের মৃত্যু, তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছিন্দওয়াড়া জেলায় মিষ্টি খেয়ে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করলেও পরে পুলিশি তদন্তের বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই নারীকে হত্যা করতে বিষমিশ্রিত মিষ্টির ফাঁদ পেতেছিলেন তারই শ্বশুর পক্ষের আত্মীয়রা। ওই নারীর পাশাপাশি সেই ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন তার দাদা ও এক নিরাপত্তারক্ষীও।   ঘটনার সূত্রপাত ৯ জানুয়ারি। ছিন্দওয়াড়ার জুননারদেও এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের (পিএইচইডি) অফিসের কাছে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটিতে ছিল কিছু সবজি ও একটি মিষ্টির বাক্স। দীর্ঘ সময় কেউ সেটি দাবি না করায় কৌতূহলই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।   বিষমিশ্রিত মিষ্টির প্রথম শিকার হন ৫০ বছর বয়সি দাশরু যাদুবংশী। তিনি ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। মিষ্টি খাওয়ার পর তীব্র বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১১ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত না হওয়ায় ঘটনাটি প্রথমে রহস্যজনক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল।   পরবর্তীতে ওই একই মিষ্টির বাক্সটি কাছাকাছি এক দোকানির পরিবার বাড়িতে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ২২ বছর বয়সি খুশবু কথুরিয়া, তার ৭২ বছর বয়সি দাদা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা দেয়া হলেও খুশবু ও তার দাদার মৃত্যু হয়। তবে খুশবুর মা ও বোন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।   মাত্র তিন দিনে তিনটি মৃত্যু, সবগুলোর যোগসূত্র একটি পরিত্যক্ত মিষ্টির বাক্স। তদন্তের মোড় ঘুরে যায় যখন পুলিশ হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্‌ঘাটন করে। তদন্তকারীদের মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিয়ের পর খুশবু তার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন। এই অভিযোগে সমাজে তার শ্বশুরের পরিবার চরমভাবে অপমানিত হয়।   এরপরই প্রতিশোধের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, খুশবুর শ্বশুর ঝাড়ু কাসার, দেবর শুভম এবং ননদ শিবানী মিলে তাকে চুপ করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেন।   পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা মিষ্টির মধ্যে আর্সেনিক মিশিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাগটি খুশবুর বাবার দোকানের কাছাকাছি রেখে যায়, যাতে খুশবু বা তার পরিবারের কেউ না কেউ সেটি খেয়ে ফেলে।   ফরেনসিক পরীক্ষার পরই আসল সত্য সামনে আসে। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির রিপোর্টে বলা হয়, মিষ্টিতে আর্সেনিকের মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ছিল, যা একাধিক মানুষকে হত্যার জন্য যথেষ্ট। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা ভাবেনি যে প্রথমে পিএইচইডি-এর নিরাপত্তারক্ষীই মিষ্টি খেয়ে ফেলবেন।   প্রযুক্তিগত ও সাইবার প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা অনুযায়ী খুন ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা হয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কিনা বা আগে থেকে জানত কিনা, সে বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   সূত্র: এনডিটিভি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
কঙ্গোয় ভয়াবহ ভূমিধস

কঙ্গোর খনিতে ভয়াবহ ভূমিধস: মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ২০০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা!

ভেনেজুয়েলার অধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট থেকে

ভেনেজুয়েলার খ্যাতিমান মানবাধিকারকর্মী জাভিয়ের তারাজোনা কারামুক্ত

ইউক্রেনে বাসে রুশ হামলার পর চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১২, আহত ৭

0 Comments