ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণআন্দোলন দমনে নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫,৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে তদন্তাধীন আরও ১৭ হাজার ৯১টি মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হলে নিহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত ৮ জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তথ্য সেন্সরশিপ: পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে আড়াল করতে ইরানি কর্তৃপক্ষ টানা ১৮ দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। নেটব্লকস একে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গণগ্রেফতার: এইচআরএএনএ-র দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইরানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওই অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যে কোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।” তারা ওয়াশিংটনকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সতর্ক করেছে।
মাঠপর্যায়ে তথ্যের অভাব এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি পাওয়া যাচ্ছে:
ইরান সরকার: সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭ জন বলে দাবি করা হয়েছে (যাদের অধিকাংশ নিরাপত্তা কর্মী)।
এইচআরএএনএ: নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৫,৮৪৮ জন।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল: এই চ্যানেলটির দাবি অনুযায়ী, কেবল ৮ ও ৯ জানুয়ারির মধ্যেই ৩৬,৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এএফপি এই সংখ্যার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালেও পরিস্থিতির কোনো কন্টকহীন সমাধান তো দূরে থাক, উল্টো এক চরম অনিশ্চয়তা দানা বাঁধছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’, অন্যদিকে রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে প্রকম্পিত, তখন খোদ ওয়াশিংটনেই প্রশ্ন উঠছে—ট্রাম্প কি আসলে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই এক ভয়াবহ চোরাবালিতে পা বাড়াচ্ছেন? ট্রাম্পের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য এবং পেন্টাগনের সামরিক তৎপরতার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট যখন বলছেন পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে, ঠিক তখনই মার্কিন মেরিন ইউনিটের মতো শক্তিশালী স্থল বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এমনকি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ট্রাম্পের শিথিল বক্তব্য বিশ্ববাজারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। যেখানে তিনি বলছেন এই পথ উন্মুক্ত করা একটি ‘সহজ কৌশল’, সেখানে বর্তমানে কেবল ইরানের অনুগত জাহাজগুলোই ওই পথে যাতায়াত করতে পারছে। শনিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। অথচ এর একদিন আগেই তার প্রকাশিত সামরিক লক্ষ্যমাত্রার তালিকায় এই প্রণালির নিরাপত্তার কথা উল্লেখই ছিল না। ট্রাম্পের দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর নেওয়া উচিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ মানুষের পকেটেই টান ফেলবে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের ছক কষছেন। প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্যের দুটি মেরিন ইউনিট ইতিমধ্যেই সমুদ্রপথে রওনা দিয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে এই দ্বীপ দখল করলে ইরানের রাজস্ব বন্ধ হয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে—এমন পদক্ষেপ নিলে তারা লোহিত সাগরকে ‘অনিরাপদ’ করে তুলবে এবং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় আগুন জ্বালিয়ে দেবে। হোয়াইট হাউস যখন ২০০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি যুদ্ধ তহবিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন খোদ রিপাবলিকান শিবিরেই অস্বস্তি বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ব্যয় এবং প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ঝানু রাজনীতিকরাও। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব থেকে শুরু হওয়া এই বৈরিতার কি কোনো সম্মানজনক সমাপ্তি টানতে পারবেন ট্রাম্প? নাকি ‘যুদ্ধের কুয়াশা’য় পথ হারিয়ে এক অন্তহীন সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের জলসীমায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। নিয়মিত মিশন পরিচালনার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারের ক্রু ও যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে নির্ধারিত জলসীমায় নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হেলিকপ্টারটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন, সে বিষয়ে কাতার সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত জোরালো হলে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় ইরান। যদিও অধিকাংশ হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কাতার সেনাবাহিনীর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর সামনে এলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটনকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিলে যুক্তরাজ্যের ভূমিও নিরাপদ থাকবে না। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিক্ষিপ্ত দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি উড্ডয়নকালেই ব্যর্থ হয়। অন্যটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ইন্টারসেপশন কতটা সফল হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার সময়কাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে এই হামলা প্রমাণ করে যে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা তাদের পূর্বের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। এই ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।