আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের তথ্য প্রথমবার স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0

গাজায় সামরিক অভিযানে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। তবে এই সংখ্যায় এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পরদিন শুক্রবার দেশটির প্রায় সব সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয়।

 

২০২৩ সালের অক্টোবরে আকাশ, স্থল ও জলপথে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতাহতের নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে আসছে। নিহতদের নাম, বয়স, জন্মতারিখ এবং ইসরায়েল-প্রদত্ত পরিচয়পত্র নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলেও ইসরায়েল সরকার দীর্ঘদিন এসব তথ্যকে ‘অবিশ্বস্ত’ ও ‘হামাসের অপপ্রচার’ বলে দাবি করে এসেছে।

 

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে মোটাদাগে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করলেও ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী তা বরাবরই অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলের উদারপন্থী দৈনিক হারেৎজ ছাড়া দেশটির অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থানকেই সমর্থন করে এসেছে।

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর থেকে গাজা নগরী ও খান ইউনিসসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসনে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৭৬৯ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৩ জন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক স্বীকৃতি দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন, মানবাধিকার সংগঠন এবং গবেষকদের একটি অংশ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

 

এদিকে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা গাজায় ২২ হাজার যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। এই দাবি সত্য হলে নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসামরিক মানুষ। তবে সেনাবাহিনীর এক গোপন ডেটাবেজে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষের হার ৮৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

এ অবস্থায় দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ রোববার মিসর সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বাহিনী ক্রসিংটি তত্ত্বাবধান করলেও প্রবেশ ও বের হওয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসরায়েলের হাতে। তবে ক্রসিংটি কেবল যাত্রী চলাচলের জন্য খুলবে, ফলে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বড় কোনো অগ্রগতি হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঈদ ও নওরোজ বার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান।   মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।   তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ফাইল ছবি

মার্কিন বাহিনীকে নিজস্ব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম/ফাইল ছবি

তেলের দাম নিয়ে রাজনীতি বন্ধের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মোজতবা খামেনি/ফাইল ছবি
শত্রু দমনে ঐক্যের ডাক মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে।   আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ইফতার

এলবিট সিস্টেমসের অফিসে কোম্পানিটির লোগো দেখা যাচ্ছে। হাইফা, ইসরাইল, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরাইলি অস্ত্র জায়ান্ট এলবিট সিস্টেমসের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ

ছবি সংগৃহীত

আল-আকসায় ঈদের নামাজে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, মুসল্লিরা আহত

ছবি সংগৃহীত
২০ দিনে ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ইসরাইলের; মার্কিন খরচ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে প্রথম ২০ দিনেই প্রায় ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে ইসরাইল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার সমান। ইসরাইলি দৈনিক পত্রিকা 'হারেতজ'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২১.৮৬৭ টাকা ধরে এই হিসাব পাওয়া গেছে।   তথ্যমতে, এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩২ কোটি ডলার বা ১০০ কোটি শেকেল ব্যয় করছে ইসরাইল। দেশটির সরকার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দ করলেও বর্তমান ব্যয়ের হার সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত অর্থায়নের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইলসহ জরুরি সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার জন্য রোববার ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল সরকার।   এদিকে সংঘাতের আর্থিক বোঝা কেবল ইসরাইলের ওপরই নয়, বড় ধরনের ব্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, অভিযান শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করেছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে কংগ্রেসের কাছে ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি একটি সম্পূরক অর্থায়ন প্যাকেজ অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীয়সহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত কেবল প্রাণহানিই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পরস্পরবিরোধী অবস্থান; যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল বিরোধী জনমত তুঙ্গে

ছবি সংগৃহীত

আয়রণ ডোমের গোপন তথ্য ইরানে পাচার; ইসরাইলি রিজার্ভিস্ট সেনা সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

ইতিহাসে প্রথমবার ইরানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার

0 Comments