আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যু-পরবর্তী শেষকৃত্যের সূচি নিয়ে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ১ মার্চ তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে চলতি সপ্তাহে একাধিকবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা শঙ্কা, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে অনীহা এবং পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের অমীমাংসিত প্রশ্নই এই বিলম্বের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরান, কোম এবং মাশহাদ—এই তিন শহরে শোকমিছিল শেষে তাঁর নিজ শহরে দাফনের কথা ছিল। কিন্তু এর একদিন পরই তাঁর স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদের মৃত্যুর খবর আসায় পরিকল্পনা বদলে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে যৌথ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দফায় দফায় অসংগতি দেখা দেয়। সকালে কফিন তেহরানের মোসাল্লায় রাখার কথা থাকলেও দুপুরে তা স্থগিত করে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর আবারও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুলেপ্রুফ কাঁচের ঘেরা তৈরি করে সেখানে কফিন প্রদর্শনের প্রস্তুতিও দেশটিতে বিরাজমান চরম নিরাপত্তা অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে এবং ইসরায়েলের কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে ইরান কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিতে আসা হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া তেহরানেই নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ও হুথি নেতাদের মধ্যে এবার উপস্থিত হওয়া নিয়ে প্রবল ভীতি কাজ করছে। যদিও চীন ও রাশিয়ার নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে প্রভাবশালী বৈশ্বিক নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।
এদিকে, দাফনের আগেই নতুন উত্তরসূরি ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিয়ে ইরানি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের সদস্য আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, উত্তরসূরি নির্বাচনে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ দাফনের আগে ঘোষণা দেওয়াকে অনুচিত মনে করলেও, অন্য পক্ষ মনে করছে বিশাল জনসমাবেশে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করলে সরকারের বৈধতা ও ঐক্য দৃঢ় হবে। বিশেষ করে এ বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর জনসমর্থন প্রমাণের জন্য একটি বিশাল গণজমায়েত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ এখন মরিয়া হয়ে বিভিন্ন শহর থেকে বাসযোগে লোক আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে হলে এর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে সংসদের ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিরোধী দলের প্রসঙ্গে বলেন, ডেপুটি স্পিকারকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার এ বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি সামরিক হামলার ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ করেছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানের একটি Mil Mi-17 helicopterসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (Twitter)-এ প্রকাশিত ইনফ্রারেড ফুটেজে ওই হামলার দৃশ্য দেখানো হয়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেক ব্যবহারকারীর দাবি, ভিডিওতে যে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে সেটি প্রকৃত কোনো হেলিকপ্টার নয়; বরং মাটিতে আঁকা একটি হেলিকপ্টারের ছবি হতে পারে। তাদের যুক্তি, যদি এটি বাস্তব হেলিকপ্টার হতো, তাহলে হামলার পর এর কাঠামো বা পাখায় দৃশ্যমান পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে, ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ইসরাইলি বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওতে ধোঁয়ার গতিপথ ও তাপমাত্রার পার্থক্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, এটি কোনো ভুয়া লক্ষ্যবস্তু নয়; বরং প্রকৃত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি Israel Defense Forces। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে। এদিকে Iran ও Israel-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Iranian Red Crescent Society জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট Pir Hossein Kolivand বলেন, সংঘাতের কারণে ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০টি সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি।
ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ এবং অধিকার রক্ষায় কোনো অগ্রগতি না হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ (শান্তি বোর্ড) থেকে ইন্দোনেশিয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) সরকারের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই বোর্ডে অংশগ্রহণ এবং গাজায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রাবোও। স্থানীয় বিভিন্ন ইসলামি দল ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে শামিল হওয়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘকালীন নীতি ও সমর্থনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও। বৈঠকে তিনি তার এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, দেশের ও ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনা দেখা দিলেও তিনি এই জোট ত্যাগ করবেন। বৈঠক শেষে ইসলামিক ব্রাদারহুড ফ্রন্টের নেতা হানিফ আলাতাস বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, যদি তিনি দেখেন যে ফিলিস্তিনের জন্য এই বোর্ড আর কোনো উপকারে আসছে না এবং এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হচ্ছে, তবে তিনি অবিলম্বে এটি থেকে সরে আসবেন।” ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী ওলামা কাউন্সিল (MUI) ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে এই বোর্ড থেকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন ‘নাহদলাতুল উলামা’ মনে করে, ইন্দোনেশিয়া এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো এর আগে জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বোর্ড অফ পিস-এর সকল আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে প্রাবোও প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়া কোনো আপস করতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগটি শুরু থেকেই বিতর্কিত এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সংশয় রয়েছে।