আন্তর্জাতিক

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের অপেক্ষা ২০২৭ নয়, এখনই সহায়তা চায় ইউক্রেন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৬:০
মিখাইলো ফেদোরোভ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
মিখাইলো ফেদোরোভ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, নতুন করে চুক্তিবদ্ধ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র আগামী বছর পর্যন্ত হাতে আসবে না। তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় অংশীদার দেশগুলোর বিদ্যমান মজুত থেকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ প্রয়োজন।

 

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেদোরভ জানান, ইউক্রেন ইতোমধ্যে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর কেনার চুক্তি করেছে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলো আগামী বছর আগে পাওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তিনি মিত্র দেশগুলোকে আহ্বান জানান, নিজেদের মজুত থেকে সাময়িকভাবে ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনকে দিতে, পরে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

 

ফেদোরভ বলেন, “ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই ক্ষেপণাস্ত্র এখনই দরকার।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যে হারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, একই সময়ে বিশ্বের মোট প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের হার তার চেয়েও কম। ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই আহ্বান জানানো হয়। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর না থাকায় সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এতে বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

ইউক্রেন সরকার আশা করছে, ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্ররা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের বিদ্যমান মজুত থেকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা আরও কার্যকর হবে এবং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নাগরিকত্বের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের সুযোগ দেয় ফিনল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেলে যে ৬টি বিশেষ অধিকার পাওয়া যায়, সেগুলো কী?

ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব শুধু দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগই তৈরি করে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। দেশটির সরকারি তথ্যসেবা ইনফোফিনল্যান্ডে নাগরিকত্বের সঙ্গে যুক্ত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার অর্জন করা। নাগরিকদের জন্য ফিনিশ পাসপোর্ট দেশের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি নাগরিকদের সাধারণ বসবাসের অনুমতির তুলনায় নাগরিকত্বের এই অধিকার আলাদা।   দ্বিতীয়ত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের নিজের দেশে প্রবেশের অধিকার রয়েছে। বিদেশে অবস্থান করলেও নাগরিকরা ফিনল্যান্ডে ফিরে যেতে পারেন। নাগরিকত্বের সঙ্গে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিশেষ সুরক্ষাও যুক্ত রয়েছে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।   তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ফিনিশ নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নিতে পারেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব অর্জনের পর একজন বিদেশি শুধু দেশটিতে বসবাসকারী ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন।   চতুর্থত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে নাগরিকরা শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; তারা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।   পঞ্চম অধিকার হলো নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজের সুযোগ। ফিনল্যান্ডের কিছু সরকারি দায়িত্ব ও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকত্ব প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে এমন কিছু সরকারি চাকরি ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়, যেগুলো বিদেশি নাগরিকদের জন্য সীমিত।   ষষ্ঠ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব। ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় ফিনিশ নাগরিকরা একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন অধিকার পান। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোতে অবাধে চলাচল, বসবাস ও কাজের সুযোগ অন্যতম। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে অন্য সদস্যদেশে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও রয়েছে।তবে ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্বের সঙ্গে শুধু অধিকার নয়, কিছু দায়িত্বও রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ ফিনিশ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় পড়তে হতে পারে।   নারীদের জন্য সামরিক সেবা স্বেচ্ছামূলক। ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের দেশের আইন মেনে চলার দায়িত্বও রয়েছে।নাগরিকরা বিদেশে অবস্থান করলেও কিছু পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের আইনের আওতায় আসতে পারেন। একই সঙ্গে ফিনল্যান্ড একাধিক নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুমতি দিলেও সংশ্লিষ্ট অন্য দেশের আইন ও নাগরিকত্বের বিধান আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে নাগরিকত্ব এবং বসবাসের অনুমতি এক বিষয় নয়। ফিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না।নাগরিকত্বের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হয়।আবেদনকারীর পরিচয়, ফিনল্যান্ডে বসবাসের সময়কাল, ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে।    ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব একজন বিদেশির জন্য শুধু একটি পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে চলাচল ও কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নাগরিকদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও আইন মেনে চলার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাজ্যে অবিবাহিত দম্পতিদের অধিকার বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব নিয়ে শঙ্কিত ক্লেয়ার লংহার্স্ট ও তাঁর পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে না করেও সংসার, নতুন আইনি প্রস্তাবে সঞ্চয় নিয়ে শঙ্কায় ব্রিটিশ নারী

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের খবর

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শাস্তি ছবি:সংগৃহীত
পরকীয়ার অভিযোগে চার জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত, শাস্তি দেওয়ার সময় ‘মায়া’ হলো জল্লাদেরও

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সময় ব্যতিক্রমী এক মুহূর্তের দেখা মিলেছে। পরকীয়ার অভিযোগে চারজনকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়ার সময় মুখোশধারী ‘আলগোজো’ বা শাস্তি কার্যকরকারী এক নারীর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরিয়াহ আইন কার্যকর রয়েছে। সেখানে বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, পরকীয়া, মদ্যপান, জুয়া এবং কিছু যৌন আচরণের মতো অপরাধে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তি কার্যকরের সময় অভিযুক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুখোশধারী আলগোজো। তবে চারজনের মধ্যে এক নারীকে বেত্রাঘাত করার সময় পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হয়ে যায়। ওই নারীর কাছে গিয়ে আলগোজো নিচু স্বরে কিছু বলেন এবং তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আচেহতে এ ধরনের শাস্তি সাধারণত জনসমক্ষে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট সংখ্যক বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন শরিয়াহ পুলিশ ও কর্মকর্তারা। বিভিন্ন ঘটনায় শাস্তি দেখতে সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়।‘   আলগোজো’ শব্দটি মূলত শাস্তি কার্যকরকারী ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আচেহর নিয়ম অনুযায়ী, নারী অভিযুক্তদের শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে নারী আলগোজো ব্যবহারের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। ২০২০ সালে সেখানে প্রথমবার নারী আলগোজোদের একটি দল গঠন করা হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।   প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন শাস্তি নিষ্ঠুর ও অমানবিক। অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় আইন ও সামাজিক ব্যবস্থার সমর্থকেরা এটিকে শরিয়াহভিত্তিক আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন।   আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রাঘাত বন্ধ করে তা কারাগারের ভেতরে নেওয়ার আলোচনা ও উদ্যোগ আগেও হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়েও জনসমক্ষে এই শাস্তি কার্যকর হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।   চারজনের শাস্তির সময় ওই আলগোজোর কথিত সহানুভূতির মুহূর্তটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিশেষ নজর কেড়েছে। কঠোর শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন মানবিক আচরণই ঘটনাটিকে অন্য অনেক বেত্রাঘাতের ঘটনার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৯:২৩
অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত

লটারি জিততে ভাগ্য নয়, গণিতকে ব্যবহার করে ১৪ বার জিতলেন জ্যাকপট!

খাবার গ্রহণ ছবি:সংগৃহীত

বিমানের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট ৩০০ বার রিবুক করে এক বছর খেলেন ফ্রি খাবার!

হুতি বাহিনী ছবি:সংগৃহীত

হুথিদের দমন করা সৌদি আরবের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধা ছবি:সংগৃহীত
ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৮৪ বছরের বৃদ্ধা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পলিনা পোবি নামের এক ৮৪ বছর বয়সি বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবারের এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করা হয়। টানা তিন দিন পানাহার ছাড়া আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা এই অভাবনীয় বেঁচে ফেরার ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   গত শনিবার সকালে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দা। ভূমিকম্পের পরপরই সৃষ্ট প্রবল ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেখানেই নিজের বাঁশের তৈরি ঘরের নিচে আটকা পড়েছিলেন পলিনা। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি নড়াচড়া করতে বা কাউকে ডাকতেও পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা তাকে ওই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন।   বর্তমানে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চারপাশের ধ্বংসস্তূপের কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইতিমধ্যে দুর্গম এলাকাগুলোতে সামরিক বিমান ও জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ৩৯৮ টন খাদ্য, তাঁবু এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।   শনিবারের মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়াকে নিয়মিতভাবেই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:১৮
অস্ত তৈরি প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত।

অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় হুমকি, সহায়তা করলে দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির সতর্কতা

মার্কিন মুদ্রা ছবি:সংগৃহীত

যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ

0 Comments