আন্তর্জাতিক

পদত্যাগের পথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, সোমবারই আসতে পারে ঘোষণা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৮:৫৫
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার l ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'দ্য অবজারভার'। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদত্যাগের পাশাপাশি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিজের বিদায়ের একটি চূড়ান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন তিনি।

 

মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, দলের অর্থদাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর স্টারমার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

 

রাজনৈতিক মহলে স্টারমারের এই সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থানকে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। তার এই জয় লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় এবং ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার লড়াইয়ে বার্নহ্যামের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে।

 

যদিও এর আগে শুক্রবার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দলের ভেতরে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তবে তিনি তাতে লড়বেন এবং কোনোভাবেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

 

'দ্য অবজারভার'-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে স্টারমার বর্তমানে তার চেকার্স কান্ট্রি বাসভবনে স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় আলোচনা করছেন।

 

তবে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা ধারণা করছেন যে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে খুব দ্রুত, সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই স্টারমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি প্রদান করবেন। তার এই সম্ভাব্য বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় মুসলিমদের ওপর হামলা, আহত ৫—কড়া প্রতিক্রিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

স্কটল্যান্ডের এডিনবরা শহরে মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো এক ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর দেশটির কাউন্টার-টেরোরিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন শাখার গোয়েন্দারা জোর তদন্ত শুরু করেছেন। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে একাধিক হামলার খবর পাওয়ার পর স্কটল্যান্ড পুলিশ ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় আহত পাঁচজনের বয়স যথাক্রমে ২২, ২৪, ২৭ এবং ৩৯ বছর। তাদের বিভিন্ন ধরনের জখম হয়েছে এবং তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। তবে কারও আঘাতই জীবনসংকটাপন্ন নয়। এদিকে, 'মুসলিম এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' নামের একটি দাতব্য সংস্থা এবং 'স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন অফ মস্কস' জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়ে ফেরার পথে তাদের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।   যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই হামলাটি স্পষ্টতই মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষ থেকে অনুপ্রাণিত। তিনি এমন ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না জানিয়ে অভিযুক্তকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং এটি যুক্তরাজ্যের প্রকৃত রূপ নয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শার্টবিহীন এক ব্যক্তি হাতে লম্বা একটি অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং একটি রেস্তোরাঁর দরজায় আঘাত করছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ওই ব্যক্তিকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে এবং সে 'দেশ রক্ষার' কথা বলে চিৎকার করছে। যুক্তরাজ্যের মুসলিম কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনায় পুরো মুসলিম সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এটি বিদ্বেষমূলক রাজনৈতিক প্রচারণার প্রত্যক্ষ ফলাফল।   পুলিশ স্কটল্যান্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ক্যাট্রিওনা প্যাটন এই ঘটনাকে 'মর্মান্তিক' আখ্যা দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, স্কটল্যান্ডে বর্ণবাদ বা ধর্মভিত্তিক বিদ্বেষের কোনো জায়গা নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৯:৫৭
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার l ছবি: সংগৃহীত

পদত্যাগের পথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, সোমবারই আসতে পারে ঘোষণা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

রাশিয়ার একেবারে হৃদপিণ্ডে ইউক্রেনের আঘাত, আগুনে জ্বলছে সাইবেরিয়ার তেল সাম্রাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের সরকারি কর্মীদের বেতন মেটাতে ৬০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে নরওয়ে

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নরওয়ে সরকার। শুক্রবার (১৯ জুন) নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নরওয়ের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোভাবেই অবৈধ বসতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখা উচিত নয়, কারণ ইসরায়েলের এই উপনিবেশিক নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।   নরওয়ে সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন বিল অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড—গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বসতিতে সম্পত্তির কেনাবেচা, নির্মাণ বা সংস্কার সংক্রান্ত কোনো ধরনের পরিষেবা দেওয়া এবং সেখানে প্রধান কার্যালয় বা উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এমন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই খসড়া বিলটির ওপর প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে অসলো প্রশাসন।   নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, তারা এই অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চান। কারণ এসব বসতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত এই বিলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনের বৈধ সীমানায় ফিলিস্তিনিদের যেকোনো বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার সঙ্গে নরওয়ের সম্পর্ক ও বাণিজ্য আগের মতোই নির্বিঘ্নে অব্যাহত থাকবে।   উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য না হয়েও ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের সঙ্গে একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল নরওয়ে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউভুক্ত ২৭টি দেশকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রাখা ইসরায়েলের এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৫:৭
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

তহবিল বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৪০ কোটি রুপির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে আ.লীগ সমর্থকদের হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে।   ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।   বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।   ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৩:৩০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় তীব্র ধস, রাজনীতি থেকে বিদায় চাইছেন ৫৯% ইসরাইলি

ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ, ধস নেমে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে এসে মোদীর মুখে নোয়াখালীর দাঙ্গা ও বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গ

0 Comments