মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা বলেন, সবার আগে তাদের নিজেদের সরকারের আচরণ ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মূল্যায়ন করা উচিত। মূলত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জেরে বাহরাইনের শাসকের এক মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই এ কথা বলেছে তেহরান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদার ভিত্তি আরবি ভাষা বা ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সব সময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই কূটনৈতিক বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত মূলত বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার একটি মন্তব্যের জেরে। সম্প্রতি তিনি ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, মহানবী (সা.) ইরানকে শতাব্দীর অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিক, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, আর সেই কৃতজ্ঞতার খাতিরেই তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা।
এর জবাবে বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া কি ইসলামের ন্যায়বিচার ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তিনি কোরআনের আয়াত ও মহানবীর (সা.) বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, মুসলমানদের কখনোই জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। ইসলামের বিকাশে দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গণিতে ইরানের ঐতিহাসিক অবদানের কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটেই ইরান তার প্রতিবেশীদের ইসলামি মূল্যবোধ ও ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিল।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা বলেন, সবার আগে তাদের নিজেদের সরকারের আচরণ ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মূল্যায়ন করা উচিত। মূলত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জেরে বাহরাইনের শাসকের এক মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই এ কথা বলেছে তেহরান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদার ভিত্তি আরবি ভাষা বা ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সব সময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কূটনৈতিক বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত মূলত বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার একটি মন্তব্যের জেরে। সম্প্রতি তিনি ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, মহানবী (সা.) ইরানকে শতাব্দীর অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিক, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, আর সেই কৃতজ্ঞতার খাতিরেই তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা। এর জবাবে বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া কি ইসলামের ন্যায়বিচার ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তিনি কোরআনের আয়াত ও মহানবীর (সা.) বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, মুসলমানদের কখনোই জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। ইসলামের বিকাশে দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গণিতে ইরানের ঐতিহাসিক অবদানের কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটেই ইরান তার প্রতিবেশীদের ইসলামি মূল্যবোধ ও ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিল।
বেনজীরের তথ্য কেন প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ
মলের ছত্রাকের ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় স্কটল্যান্ডের তরুণ গবেষক
মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিকের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ‘ভুলবশত’ অনুমোদন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির হোম অফিস। ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ জনকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই তাদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় চাকরি, বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন অনেক অভিবাসী। একই সঙ্গে বিষয়টি যুক্তরাজ্য-ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি লঙ্ঘনের আশঙ্কাও তৈরি করেছে। হোম অফিসের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যাদের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস যথাযথ নথিপত্র ছাড়া অনুমোদিত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যতে সেটেলড স্ট্যাটাস পাওয়ার আবেদনও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমনই একজন গ্যাব্রিয়েলা, যিনি পর্তুগিজ নাগরিকত্বের অধিকারী। তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ কর্মরত এবং একই সঙ্গে পিএইচডি গবেষণা করছেন। হোম অফিসের চিঠি পাওয়ার পর তিনি জানান, তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গ্যাব্রিয়েলার ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত শুধু তার অভিবাসন অবস্থাকেই নয়, চাকরি, বাসা ভাড়া, ব্যাংকিং সেবা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বৈধভাবে বসবাসের অধিকার হারালে চাকরি ও বাসস্থানের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্রেক্সিটের আগে পাঁচ বছরের কম সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় ১৩ লাখ ইইউ নাগরিককে ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমের আওতায় প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তাদের অনেকেই সেটেলড স্ট্যাটাসে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পান। তবে বর্তমানে হোম অফিস বিশেষ করে যেসব আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে হয়েছে—যেমন শিশু, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)-বহির্ভূত পরিবারের সদস্য এবং ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের—তাদের কিছু আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করছে। গ্যাব্রিয়েলার ক্ষেত্রে হোম অফিসের দাবি, আবেদন করার সময় তিনি নিজেকে ‘প্রাসঙ্গিক ইইএ নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। তাই তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ভুলবশত অনুমোদিত হয়েছিল। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন গ্যাব্রিয়েলা। তার দাবি, বাবা পর্তুগিজ হওয়ায় তিনি জন্মসূত্রেই ইইউ নাগরিক। আবেদন করার সময় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি এবং সব প্রয়োজনীয় তথ্যই যথাযথভাবে দিয়েছেন। অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘দ্য থ্রি মিলিয়ন’ জানিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের আরও ডজনখানেক ঘটনার তথ্য রয়েছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্যক্তি একই ধরনের চিঠি পেতে পারেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসেই অন্তত ৯৫ জনকে এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স বলেন, বহু মানুষ হোম অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে বছরের পর বছর যুক্তরাজ্যে জীবন গড়েছেন। তাদের সন্তানরা এখানকার স্কুলে পড়ছে, অনেকেই স্থায়ী চাকরিতে আছেন। পাঁচ বছর পর এসে যদি বলা হয় তাদের স্ট্যাটাস শুরু থেকেই ভুল ছিল, তাহলে তা শুধু অন্যায্য নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর উদ্বেগের বিষয়। এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং অথরিটি জানিয়েছে, হোম অফিসের এই নীতি প্রত্যাহার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, তারা পৃথক কোনো মামলার বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে যাদের স্ট্যাটাস ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তারা চাইলে অন্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া কেউ যদি মনে করেন তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস সঠিকভাবেই দেওয়া হয়েছিল, তাহলে তিনি নতুন আবেদন করার পাশাপাশি আইনি আপিলের সুযোগও পাবেন।
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!
যুদ্ধে তিন সন্তানকে হারানোর পর এবারের হামলায় সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকেও হারালেন ফিলিস্তিনি মা
মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিআইএ ও মোসাদ
ইরানের ভবিষ্যৎ কোনো পরাশক্তি নয়, বরং দেশটির জনগণই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও উত্তেজনার সময়ে চরম ধৈর্য এবং দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়ায় নিজ দেশের জনগণকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এক্সে দেওয়া ওই বার্তায় পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং ধারাবাহিক বৈরিতার মধ্যেও ইরানের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই চলমান সংঘাতের সূত্রপাত হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। উল্লেখ্য, পেজেশকিয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ওই সময় তেহরানে অবস্থান করছিলেন হানিয়া। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, হানিয়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইরানকে লাগাতার বহুমুখী যুদ্ধ, নানাবিধ ভূ-রাজনৈতিক চাপ এবং অবিরাম শত্রুতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এত সব চরম প্রতিকূলতা ও সংকটের মধ্যেও দেশের জনগণ কখনো পিছপা হয়নি, বরং তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাতৃভূমির প্রতি সমর্থন জুগিয়েছে। জনগণের এই অটল মানসিকতা ও ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ইরানের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত এর জনগণই নিজেদের হাতে গড়ে তুলবে।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন
মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চীনের