কানাডায় মসজিদের বাইরে ইমামের ওপর হামলা, চরম শঙ্কায় মুসলিমরা
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের বাইরে এক ইমামের ওপর ভয়াবহ ও ঘৃণ্য শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম শেখ ইব্রাহিম। দেশের মাটিতে একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পর দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস' শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদের বাইরে ঘটা এই নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক হামলার ঘটনাটি পুরো কানাডাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।
প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এশার নামাজ শেষ করে শেখ ইব্রাহিম যখন ভিক্টোরিয়ার বিসিএমএ মসজিদের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর একা বসেছিলেন, ঠিক তখনই এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জোরপূর্বক তার গাড়ির লক করা দরজা খুলে ফেলে। গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথেই ওই হিংস্র ব্যক্তি ইমামের ওপর অতর্কিত ও মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ শুরু করে। হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিক বিভিন্ন চরম আপত্তিকর গালিগালাজ করতে থাকে এবং ইমামকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, "তুমি অবিলম্বে তোমার নিজের দেশে ফিরে যাও।"
হৃদয়বিদারক এই নেতিবাচক ঘটনার পর গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কানাডার ওই শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠনটি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং উচ্চপদস্থ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে জড়িত মূল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের মুসলিম কমিউনিটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। তবে হামলার শিকার ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন বা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছে, আমাদের সমাজের একজন অত্যন্ত সজ্জন ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে এভাবে টার্গেট করে আক্রমণ করা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অমানবিক ঘটনাটি আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয় যে, কানাডায় দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা চরম ইসলামভীতি আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য প্রতিদিন কতটা বড় ধরণের সামাজিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন একটি জঘন্য ঘটনার পর আমরা কোনোভাবেই চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।
সংগঠনটি কানাডার সব স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের প্রতি এই মুসলিম বিরোধী ঘৃণ্য সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানোর এবং সমাজে দিন দিন বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ চিরতরে দূর করতে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা স্থানীয় প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভিক্টোরিয়া এলাকার স্থানীয় সাধারণ মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View more'বেআইনি কর্মকাণ্ড' ও 'কূটনৈতিক রীতি লঙ্ঘনের' গুরুতর অভিযোগে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের নির্দেশে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রটির (সিএলএফ) সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে কেবল ভাষা শিক্ষার আড়ালে অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। বিচার বিভাগের অভিযোগ, কেন্দ্রটি ভাষা শিক্ষালয় হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ মর্যাদার চরম অপব্যবহার করেছে। এ কই সঙ্গে তারা ইরানের মেধাবী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করা এবং তাদের দেশত্যাগে সরাসরি সহায়তা করার মতো অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন ও চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল প্যারিস। মূলত ইরানে নিযুক্ত দুই ফরাসি প্রতিনিধিকে সাময়িক আটক ও তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জের ধরেই ফ্রান্স ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর আগে তেহরানও ওই দুই ফরাসি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল। দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মাঝেই এবার ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিল তেহরান।
নেপালে বন্যার এক মাস পরও নিখোঁজ ৬ হাজার, মৃ তের সংখ্যা ছাড়াল ১,৪৫০
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও
ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে পেট্রলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের পর গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সরকার পেট্রলের দাম দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য জাফর ঘাদেরি জানিয়েছেন, দেশটিতে প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটার পেট্রলের ঘাটতি রয়েছে। আমদানি করা পেট্রলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ১ ডলার খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। আগে আমদানির প্রায় ৮৩ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রপথে আসত। রাজধানী তেহরানের ভেলেনজাক, ফারমানিয়েহ ও পাসদারানসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল স্টেশনে দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মাশহাদ, রাশত, সারাভান ও চাবাহারেও। কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে, আবার অনেক স্টেশন জ্বালানি শেষ হয়ে বন্ধ রয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, পেট্রল পেতে তাঁকে পাঁচটি স্টেশনে যেতে হয়েছে। সংকটের আরেকটি দিক হলো জ্বালানির মান। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পেট্রল নেওয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা, সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠা, গতি কমে যাওয়া ও ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শাহর-ই রে ও রাফসানজানেও জ্বালানি নেওয়ার পর একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকে পানি ঢোকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সমস্যার ঘটনায় জ্বালানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পেট্রল উৎপাদনে মিথানলের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত মাত্রার বেশি মিথানল থাকলে গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থা ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দেশটির তেল মন্ত্রণালয় বলছে, মিথানলের ব্যবহার সীমিত এবং নির্ধারিত মান মেনেই করা হচ্ছে। এর মধ্যে পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় স্তরের পেট্রলের দাম ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ হাজার তোমানে উঠবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের তুলনায় পেট্রল অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক ইরানি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বলেও বিভিন্ন বাসিন্দা জানিয়েছেন। পেট্রলের সংকটে যানবাহন কম চলাচল, গাড়ি মেরামতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার জ্বালানি সংকটের জন্য যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আমদানির উচ্চ ব্যয়কে দায়ী করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শোধনাগার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের ঘাটতি, পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি-অদক্ষ গাড়ি উৎপাদন এবং সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যয়ের কারণেও বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানে পেট্রল সংকট এখন শুধু জ্বালানি পাওয়ার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দাম, জ্বালানির মান নিয়ে উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ।
ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সীমিত করার পরিকল্পনা
ক্রিস্টোফার নোলান সহ সেলিব্রেটিদের যাওয়া মুম্বাইয়ের ক্যাফেতে মিলল তেলাপোকা! লাইসেন্স বাতিল
দুবাইয়ের মসজিদে আযান ও নামাজ পরাচ্ছে রোবট, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবের মতো মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের যুব সংগঠনের এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে। একইসঙ্গে ইতালীয় ভাষা শেখায় গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, সেই সংখ্যা মেলোনি এখনো নির্দিষ্ট করেননি। মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষা না জানলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তার ভাষা শেখা এবং স্কুলে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে তাদের একীভূত করার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুখঢাকা পোশাকের বিষয়ে মেলোনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। কোনো প্রচলিত রীতি বা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়—এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ইতালিতে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশটির মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনও একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে আছে। ইতালির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফন্ডাজিওনে আইএসএমইউর ২০২৩/২৪ শিক্ষাবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইতালির প্রি-স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অ-ইতালীয় নাগরিক। তারা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অবশ্য ইতালিতেই জন্মেছে। আইএসএমইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা ছোট বয়সে দেশটিতে আসা। ফলে স্কুলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মেলোনির ঘোষিত উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইতালিতে অভিবাসন, ধর্মীয় প্রতীক ও সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই পরবর্তী বিষয়।
মস্কোতে ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা, এক রাতে উড়ল হাজারের বেশি ড্রোন
ইরানের তিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা, ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় তেহরান