খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের প্রতিনিধি, হরমুজ প্রণালিতে বন্ধু রাষ্ট্রকে ছাড়ের ঘোষণা ইরানের
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামিনি এর রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। কয়েক দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ইরান শুধু ধর্মীয় আয়োজন হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবেও তুলে ধরছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের প্রধান শোকানুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভারতসহ একাধিক দেশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের সড়কে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক বহন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং আকাশপথেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
এদিকে জানাজা উপলক্ষে ইরানের নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হবে। এই নীতির আওতায় নির্দিষ্ট দেশগুলোর জাহাজকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ এই সুবিধা পাবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা ইরানের কৌশলগত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
জানাজা উপলক্ষে ইরানের সরকার কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। রাজধানী তেহরানের বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া শোকানুষ্ঠান চলাকালে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আকাশসীমার ওপরও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা করিডোর তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং অবস্থানের জন্যও পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ইরানের সরকার জানিয়েছে, প্রয়াত নেতার মরদেহ তেহরানের আনুষ্ঠানিক জানাজার পর দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরে নেওয়া হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে আরও কয়েক দিন শোকানুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে জানাজা চলাকালে কিংবা শোকপর্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
এই রাষ্ট্রীয় জানাজা শুধু একজন নেতার বিদায় অনুষ্ঠান নয়; বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বহু দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন নীতিগত ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী ৭০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং হরমুজে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের তথ্য রাষ্ট্রীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত হলেও, সব দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ছাড়ের বিস্তারিত নীতিমালা এখনও স্বাধীনভাবে প্রকাশ বা যাচাই করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে দেশটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় আমিরাতজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্র দুটির কারণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। পরে মূল্যায়নে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। দুটিই শেষ পর্যন্ত সাগরে পড়ে। ঘটনার পর আমিরাতের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। কিছু এলাকায় মোবাইল ফোনে নিরাপত্তা সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আহ্বান জানায়। তবে ইরান এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল—এমন দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯ আগস্ট ঘোষণা করেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত থাকবে। আবুধাবি বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের জন্য এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও পুনঃরপ্তানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত হলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে সামরিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে এবং তেলের সরবরাহ নিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইরান থেকে ছোড়া এবং সমুদ্রপথের লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ছিল; অন্যদিকে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাই এটিকে নিশ্চিতভাবে ‘ইরানের আমিরাতের ভূখণ্ডে হামলা’ হিসেবে না লিখে ‘আমিরাতের দাবি, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে’—এই ভাষা ব্যবহার করাই সবচেয়ে তথ্যনির্ভর।
প্রেম ভাঙার প্রতিশোধে প্রেমিকার নামে ভুয়া টিন্ডার, যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে পাঠান একের পর এক পুরুষ
ঘুরতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে-সন্তানের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের পর স্বামীর নির্যাতনে খুন তরুণী, অভিযুক্ত স্বামী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
বিয়ে হয়েছে মেডিকেলে পড়ার সময়, পরের বছরই কোলে এসেছে প্রথম সন্তান। তখন আশপাশের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, কুদসিয়া হুদার পেশাজীবন হয়তো আর খুব বেশি দূর এগোবে না। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশের এই চিকিৎসক এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভা সদর দপ্তরে ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইউনিটের প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিও এসেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। কুদসিয়া হুদা ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলিক্রস কলেজে। এরপর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষে বিয়ে এবং চতুর্থ বর্ষে প্রথম সন্তানের জন্ম হলেও পড়াশোনা থামাননি। ১৯৯১ সালে এমবিবিএস শেষ করে চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়ে পঞ্চগড়ে কাজ করেন তিনি। দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখার সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্যের দিকে নিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হন। সেখান থেকেই দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা রক্ষার বিষয়টি তার পেশাজীবনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। উচ্চশিক্ষার জন্য একসময় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। দুই ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বোস্টনে সংসার, সন্তানদের দেখাশোনা এবং নিজের পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যেও হার্ভার্ড, টাফটস, এমআইটি ও ইউনিভার্সিটি অব লিডসে তার উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর তার কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইরানের ভূমিকম্প, দক্ষিণ এশিয়ার সুনামি, পাকিস্তানের বন্যা ও ভূমিকম্প থেকে শুরু করে আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মানবিক সংকটে কাজ করেছেন তিনি। জিকা, ইবোলা এবং কোভিড-১৯ মহামারির প্রস্তুতি ও মোকাবিলার কাজেও যুক্ত ছিলেন কুদসিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পরিষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুদসিয়া হুদার দুর্যোগ, জনস্বাস্থ্য, হেলথ সিকিউরিটি ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সিস প্রোগ্রামের ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইউনিটের প্রধান। বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার কৌশল তৈরিতে তার ইউনিট কাজ করে। এই দীর্ঘ পথচলার পেছনে আছে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতাও। ইরানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর একটি আশ্রয়শিবিরে চার বছরের এক শিশুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। ভূমিকম্পে মাকে হারানো শিশুটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তিনি তার মাকে ফিরিয়ে এনে দিতে পারবেন কি না। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ে সেই মুহূর্তটি কুদসিয়াকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের আরেকটি পরিচয় ধরে রেখেছেন তিনি। ‘দীপা ফিরোজ’ নামে লেখালেখি করেছেন, প্রকাশিত হয়েছে একাধিক বই। গান এবং লেখালেখিকে নিজের মানসিক প্রশান্তির জায়গা হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করলেও শাড়ি ও বাঙালি সাজের প্রতি তার ভালোবাসাও রয়ে গেছে। তার দুই মেয়েও এখন নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত। একজন বিশ্বব্যাংকে কাজ করছেন, অন্যজন স্থাপত্য পেশায় যুক্ত। কুদসিয়া হুদার পেশাগত পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দিক সম্ভবত কোনো একটি পদ নয়। বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় দুর্যোগ ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছাতে তাকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছে মাতৃত্ব, সংসার, উচ্চশিক্ষা ও পেশা। একসময় যাকে বলা হয়েছিল বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর তার ক্যারিয়ার আর এগোবে না, সেই কুদসিয়া হুদাই এখন জেনেভায় বসে বিশ্বজুড়ে দুর্যোগে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার নীতি তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পথচলা তাই শুধু একজন বাংলাদেশি নারীর পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, জীবনের দায়িত্ব সামলিয়েও নিজের স্বপ্ন ধরে রাখার এক দীর্ঘ যাত্রা।
গাজায় সমঝোতা ছাড়াই ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা, পরদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ ফিলিস্তিনি
তেলের দাম ও বৈশ্বিক বন্ডের চাপে ভারতের শেয়ারবাজারে টানা সপ্তম দিনের পতন
শেষ মুহূর্তে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, ‘চুক্তি হয়েছে’ দাবি
কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী সমীর গাড়োয়াল। কিন্তু তিন বছর পর পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, তা দেশ ছাড়ার সময়ের চেয়েও কয়েক গুণ ভয়াবহ। ভারত থেকে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ (এডুকেশন লোন) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো সমীরের মতো বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আলবার্টার পোর্টেজ কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করার পরও বৈধভাবে কাজের সুযোগ না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই শিক্ষার্থীরা। সমীর ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করেই তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কানাডায় কাজের অনুমতি পাবেন এবং সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়; কোনো সদুত্তর ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন। জানা গেছে, মূলত কোর্সের যোগ্যতাবিষয়ক আইনি জটিলতা থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনে কিছু কোর্সকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই তাঁরা এই কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, ফলে তাদের ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায্য। নতুন করে আর কোনো ঋণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সমীর এখন নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব মনে করছেন। কানাডায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ফি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আগেই তাঁর সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হয়ে সমীর একটি ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। বর্তমানে কানাডায় কাজের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়
যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার হামলা, ৩১ টেরাবাইট গবেষণা তথ্য চুরিতে অভিযুক্ত ১৭ ইরানি হ্যাকার