আন্তর্জাতিক

আল-আকসা মসজিদ চত্বরে শত শত ইহুদির প্রবেশ, প্রার্থনা ঘিরে নতুন উত্তেজনা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৫:৫৬
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ডোম অব দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ডোম অব দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে বৃহস্পতিবার শত শত ইহুদি প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। ইহুদিদের উপবাস দিবস তিশা বা’ভ উপলক্ষে এই প্রবেশ ও প্রার্থনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কয়েকশ ইহুদি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং এমন কিছু স্থানেও প্রার্থনা করেন, যেখানে ইহুদি প্রার্থনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তিশা বা’ভ ইহুদি ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শোক দিবস। ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে প্রাচীন ইহুদি ধর্মের প্রথম ও দ্বিতীয় টেম্পল ধ্বংস হয়েছিল। ইহুদিদের একটি অংশের দাবি, বর্তমানে আল-আকসা মসজিদ যে স্থানে অবস্থিত, সেটিই ঐতিহাসিক টেম্পল মাউন্টের স্থান। এ কারণে স্থানটি ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে আছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইহুদি উপাসকরা দলবদ্ধভাবে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করছেন। তাদের কেউ কেউ ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করছেন। কয়েকজনকে ইসরায়েলের পতাকা বহন করতেও দেখা গেছে।

 

ঘটনাস্থলে ইসরায়েলের উগ্রডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

 

বেন-গভির সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আজ এখানে যা হচ্ছে তা দেখুন। ইহুদিরা এখানে প্রার্থনা করছে। তারা অনুভব করছে এটি তাদেরও জায়গা। এর আগে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।”

 

আল-আকসা মসজিদ চত্বর পরিচালনা ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, মুসলিমদের জন্য স্থানটি উপাসনার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর অমুসলিমদের সাধারণত সেখানে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও প্রার্থনা করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

 

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে উত্তেজনা বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক নেতা সেখানে ইহুদিদের অধিকারের দাবি করে আসছেন।

 

আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিস্টান—তিন ধর্মের অনুসারীদের কাছেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ডোম অব দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত
আল-আকসা মসজিদ চত্বরে শত শত ইহুদির প্রবেশ, প্রার্থনা ঘিরে নতুন উত্তেজনা

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে বৃহস্পতিবার শত শত ইহুদি প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। ইহুদিদের উপবাস দিবস তিশা বা’ভ উপলক্ষে এই প্রবেশ ও প্রার্থনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কয়েকশ ইহুদি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং এমন কিছু স্থানেও প্রার্থনা করেন, যেখানে ইহুদি প্রার্থনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিশা বা’ভ ইহুদি ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শোক দিবস। ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে প্রাচীন ইহুদি ধর্মের প্রথম ও দ্বিতীয় টেম্পল ধ্বংস হয়েছিল। ইহুদিদের একটি অংশের দাবি, বর্তমানে আল-আকসা মসজিদ যে স্থানে অবস্থিত, সেটিই ঐতিহাসিক টেম্পল মাউন্টের স্থান। এ কারণে স্থানটি ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে আছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইহুদি উপাসকরা দলবদ্ধভাবে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করছেন। তাদের কেউ কেউ ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করছেন। কয়েকজনকে ইসরায়েলের পতাকা বহন করতেও দেখা গেছে।   ঘটনাস্থলে ইসরায়েলের উগ্রডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।   বেন-গভির সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আজ এখানে যা হচ্ছে তা দেখুন। ইহুদিরা এখানে প্রার্থনা করছে। তারা অনুভব করছে এটি তাদেরও জায়গা। এর আগে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।”   আল-আকসা মসজিদ চত্বর পরিচালনা ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, মুসলিমদের জন্য স্থানটি উপাসনার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর অমুসলিমদের সাধারণত সেখানে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও প্রার্থনা করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে উত্তেজনা বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক নেতা সেখানে ইহুদিদের অধিকারের দাবি করে আসছেন।   আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিস্টান—তিন ধর্মের অনুসারীদের কাছেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৫:৫৬
ছবি: দুই বছর পর ভাইবোনের আলিঙ্গন! Associated Press (AP)

দুই বছর পর সাত ভাইবোনের পুনর্মিলন, এরই মাঝে যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

বিশ্ববাণিজ্যের নতুন মানচিত্র আঁকছে চীন, মধ্য এশিয়ায় গড়ছে বিশাল স্থলবাণিজ্য নেটওয়ার্ক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

এক আঘাতেই শত্রুর যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসে সক্ষম ‘আকিয়া’ টর্পেডো উন্মোচন করল তুরস্ক

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দিল্লি ছাড়িয়ে রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে নিট-বিক্ষোভ, চরম বেকায়দায় মোদি সরকার

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   রাজনৈতিক এই উত্তাপ চরম আকার ধারণ করে মঙ্গলবার। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসার অপরাধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। শীর্ষ নেতাদের আটকের এই ঘটনার পরই আন্দোলনের আঁচ রাজধানী ছাড়িয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও রাজপথ শান্ত হয়নি। বরং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট মারাঠা আন্দোলনকারী মনোজ জারাঙ্গে পাতিলও সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন হাজারো প্রতিবাদী মানুষ।   এদিকে, উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে দেশ। সেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ পথ আটকালে কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় ধর্নায় বসেন, যার জেরে অজয় রাইসহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। এর পাল্টা হিসেবে রাজ্য বিজেপি প্রধান পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’-এর অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিল বের করেন বিজেপি কর্মীরা।   রাজপথের এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়েও। গত ২০ জুলাই সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৬:৩
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লাখের বেশি মানুষের ৭০ শতাংশই মুসলিম বলে দাবি সবর ইনস্টিটিউটের। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন বিতর্ক: বাদ পড়া ২৭ লাখের ৭০ শতাংশই মুসলিম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাবন্দী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা কেরি এনওয়াচুকু। ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে ১৯ হাজার পাউন্ড বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় কারাবন্দী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা

ইতালির রোমে একদল যুবকের হাতে রাস্তায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির রোমে প্রবাসী যুবকদের মারধরের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ। ছবি সংগৃহীত
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে উত্তাল ভারত, শিক্ষা সংকট ঘিরে বিক্ষোভে লাখো তরুণের ক্ষোভ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং জবাবদিহির দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়। এরপর সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং বহু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা যুব সংগঠন জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি শুধু একটি পরীক্ষা বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।   তবে কেন্দ্র সরকার এখনো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিপ্লবী ভগৎ সিং ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এর অর্থ ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনে এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ শুধু শিক্ষা খাতের সংকট নয়, বরং তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভ, কর্মসংস্থান সংকট এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেদিকে নজর রাখছে দেশটির রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৯:৪১
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের সর্বশেষ সংস্করণে তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম অবস্থানে বাংলাদেশ। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

পাসপোর্টের র‍্যাংকিংয়ে উগান্ডার চেয়েও ২৫ ধাপ পেছনে বাংলাদেশ

দাবানল ফ্রান্সে।ছবি;সংগৃহীত

দাবানলে ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা, ঘরছাড়া শত শত মানুষ

দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের আঘাত।ছবি:সংগৃহীত

দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের আঘাতে ২০ বছর বয়সী তরুণী আইসিইউতে ভর্তি

0 Comments