৩০% আমেরিকানরা দোকান থেকে পণ্য চুরি করে! বার্ষিক জরিপে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে দোকান থেকে পণ্য চুরি (শপলিফটিং) সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জরিপের ফলাফল দেশটির খুচরা ব্যবসা খাতে চুরি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ফক্স ১৩ নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া অনেক আমেরিকান জানিয়েছেন, তারা অন্তত একবার দোকান থেকে কোনো পণ্য মূল্য পরিশোধ না করে নিয়ে গেছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় বা নির্দিষ্ট ঘটনা প্রকাশ করা হয়নি।
দোকান চুরি শুধু বড় ধরনের অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক সময় ছোটখাটো পণ্য চুরি থেকেও খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খুচরা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শপলিফটিংকে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, কৌতূহল, আর্থিক চাপ, সুযোগ পাওয়া কিংবা মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা এমন কাজ করেছেন। তবে অনেকেই এটিকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দোকান চুরি প্রতিবছর ব্যবসায়ীদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চুরি ঠেকাতে অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে খুচরা দোকানে চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, চুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের নিরাপত্তা ব্যয় বাড়াতে হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকায় কার্যক্রম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে।
দোকান চুরির পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মানসিক চাপ, অপরাধ প্রবণতা এবং আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জরিপের ফলাফল দেখিয়েছে, দোকান চুরি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন নিরাপত্তা জোরদার করছে, তেমনি সমাজবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকরাও এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল এ সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম চারটি গেট চালু হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমেরিকান এয়ারলাইনস এই অগ্রগতির ঘোষণা দেয়। বিমানবন্দরের ১২ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রসারণটি করা হচ্ছে। শীতকালীন ছুটির ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম সামনে রেখে পুরো সম্প্রসারিত অংশ চালুর প্রত্যাশা রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ১০, এ১১, এ১৩ ও এ১৫ গেট দিয়ে আগের সপ্তাহেই ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এই অংশে মোট ১০টি গেট থাকবে। এর মধ্যে পাঁচটি পুরোনো গেট পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত পাঁচটি গেট যুক্ত হচ্ছে। ফলে বিমানবন্দরের গেটসংখ্যা নিট পাঁচটি বাড়বে। সম্প্রসারণের মাধ্যমে টার্মিনাল এ-তে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গা যুক্ত হচ্ছে। যাত্রীদের চলাচলের জন্য প্রশস্ত পথ, উঁচু ছাদ, বেশি প্রাকৃতিক আলো এবং সহজে পথ চেনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন দোকান ও খাবারের স্থান, আধুনিক রেস্টরুম এবং অন্যান্য যাত্রীসুবিধাও থাকবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, যাত্রীদের চলাচল ও অপেক্ষার অভিজ্ঞতা উন্নত করা। টার্মিনাল এ-র এই কাজ বৃহত্তর ‘ডিএফডব্লিউ ফরোয়ার্ড’ পরিকল্পনার একটি অংশ। বিমানবন্দরজুড়ে টার্মিনাল, এয়ারফিল্ড ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই অর্থ শুধু টার্মিনাল এ সম্প্রসারণের ব্যয় নয়। এর আগে গত ৮ জুন টার্মিনাল সি সম্প্রসারণের আওতায় নয়টি গেট উদ্বোধনের ঘোষণা দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমেরিকান এয়ারলাইনস। সেখানেও পাঁচটি পুনর্নির্মিত গেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত চারটি গেট যুক্ত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা প্রকল্পে টার্মিনাল সি পুরোপুরি পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন অংশে ইলেকট্রনিক বোর্ডিং গেট, বাড়তি বসার জায়গা ও চার্জিং সুবিধা রাখা হয়েছে। চলমান নির্মাণকাজের কারণে বিমানবন্দরের কিছু প্রবেশপথ, পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থানে পরিবর্তন রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, টার্মিনাল সি-র দক্ষিণ পার্কিং গ্যারেজ পুনর্নির্মাণের জন্য বন্ধ রয়েছে। নতুন টার্মিনাল এফ নির্মাণের জন্য এক্সপ্রেস সাউথ পার্কিং লটও বন্ধ করা হয়েছে। যাত্রার আগে পার্কিংয়ের অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
২০৩২ সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসরভাতা কমার ঝুঁকি ২২%, প্রয়োজন জরুরি পদক্ষেপ
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, জানুন সম্পূর্ণ তালিকা
হাঙর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই, ১১১ দিনে ৯০০ মাইল সাঁতরে ইতিহাস মার্কিন নারীর
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে মূল্যস্ফীতি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচকও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যু দ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলটির বামপন্থী অংশের সমালোচনা করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে মানেই সব পণ্যের দাম একই হারে বেড়েছে, এমন নয়। কোনো কোনো পণ্যের দাম কমেছে, আবার জ্বালানির মতো কিছু খাতে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে এই পার্থক্য স্পষ্ট। জ্বালানির ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির সামগ্রিক মূল্য আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই খাতের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মার্চের পর এক মাসে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। মার্চ ছিল ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর প্রথম পূর্ণ মাস। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের খরচেও প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের আক্রমণ বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। এসব ঘটনার কারণে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রল ও ডিজেলের বাজারে। পেট্রলের দামেও বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। সরকারি মূল্যসূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে পেট্রলের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির অন্যতম বড় উদাহরণ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম প্রায় ৪ ডলার ২৬ সেন্টে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক মাস আগে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৪৮ সেন্ট। তবে এক বছর আগের তুলনায় এখন প্রতি গ্যালনে ১ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৬ ডলারের ওপরে। ওয়াশিংটন ও নেভাডায় তা ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। বিদ্যুতের বিলও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম গত এক বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগের মাসে একই পরিমাণ কমেছিল বিদ্যুতের দাম। ফলে মাসভিত্তিক ওঠানামা থাকলেও বার্ষিক হিসাবে বিদ্যুতের ব্যয় বেশি রয়েছে। নতুন ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুতের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রযুক্তি এবং বড় কম্পিউটিং অবকাঠামোর বিস্তারের সঙ্গে এসব কেন্দ্রের সংখ্যা ও বিদ্যুতের প্রয়োজন বাড়ছে। ট্রাম্প বলেছেন, বড় ও নতুন ডেটা সেন্টারগুলোকে নিজেদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা স্থানীয় জনগোষ্ঠী বা বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ কিংবা বিক্রি করার কথাও বলেছেন তিনি। তার বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহের খরচ সাধারণ গ্রাহকের বিলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। খাদ্যপণ্যে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হলেও খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে অপরিবর্তিত ছিল। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় খাদ্যের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম মাসে ০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, রেস্তোরাঁ বা বাইরে খাবার খাওয়ার খরচ বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। কিছু খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে এক ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ২ ডলার ২৭ সেন্ট। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের মার্চে ডিমের দাম প্রতি ডজনে ৬ ডলার ২৩ সেন্টে উঠেছিল, যা ছিল দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। তবে মাংসের বাজারে চিত্র একরকম নয়। গরুর মাংসের কিমার দাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি ছিল। প্রতি পাউন্ডের দাম দাঁড়ায় ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট। যদিও জুনে দাম ছিল ৬ ডলার ৯৮ সেন্ট, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটি। মুরগির মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ২ ডলার ৬ সেন্ট, যা এক বছর আগের দামের সমান। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে মুরগির মাংসের দাম প্রতি পাউন্ডে ২ ডলার ১ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৯ সেন্টের মধ্যে ওঠানামা করেছে। পুরোনো গাড়ির দামে কিছুটা স্বস্তি সব খাতে দাম বাড়েনি। ব্যবহৃত গাড়ি ও ট্রাকের দাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাই ও আগস্ট—দুই মাসেই এই খাতে ০ দশমিক ৪ শতাংশ করে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং বলেছেন, গাড়ি মেরামত ও সংশ্লিষ্ট শিল্প বর্তমানে একাধিক চাপের মুখে রয়েছে। যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, স্থানীয় মেরামতের দোকানগুলোতে গ্রাহকেরা যে বেশি খরচের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেখানে বিভিন্ন মূল্যচাপ একসঙ্গে কাজ করছে। মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে উঠেছিল, যা ছিল প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর মূল্যস্ফীতি কমলেও সাম্প্রতিক বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি বর্তমান পর্যায়ে রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। খাদ্যপণ্যের কিছু দামে স্বস্তি থাকলেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যয় কমার স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের মধ্যে এ সময়ে সর্বোচ্চ ফ্লু সংক্রমণ, নতুন মিউটেশন নিয়ে সতর্ক চিকিৎসকেরা
সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ, তিন ধর্মের তিন প্রার্থীর প্রচারে সংবিধান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ
জর্জিয়া থেকে উইসকনসিন, গভর্নর নির্বাচনে কোন ইস্যুতে মুখোমুখি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের নেতৃত্বে থাকা ৪৩ বছর বয়সী জেনিফার গনজালেজ প্রতিটি বিয়ের আয়োজনের জন্য ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই কার্যক্রম থেকে তিনি বছরে কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা। ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারের বাসিন্দা গনজালেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সুবিধা পেতে আগ্রহীদের মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল সম্পর্ককে প্রকৃত দাম্পত্য হিসেবে দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) কাছে আবেদন করা এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সুবিধা পাওয়া। মামলায় গনজালেজের পাশাপাশি অভিযুক্ত হয়েছেন এরিকা ড্যানিয়েলস, ক্রেইসে আলেহান্দ্রো, আমারা পিউ, জেসিকা তাভারেস ও জেলিন হিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি, ভুয়া বিয়ের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং এ কাজে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি, গনজালেজের পরিচালিত এই কার্যক্রমে বছরে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করা হতো। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গনজালেজ নিজেও এক সহযোগী সাক্ষীর সঙ্গে কথোপকথনে দাবি করেছিলেন, তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ কাজ করছেন এবং এতে তিনি বেশ দক্ষ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গনজালেজের কাছে সাধারণত প্রতিটি বিয়ের জন্য ৪০ হাজার ডলার চাওয়া হতো। এক পর্যায়ে তিনি এক সম্ভাব্য গ্রাহককে ৩৮ হাজার ডলারে ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে বিয়েতে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকের জন্য অতিরিক্ত অর্থও দিতে হতো। তদন্তকারীদের দাবি, শুধু বিয়ের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকতেন না গনজালেজ। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্ককে বাস্তব বলে প্রমাণ করার জন্য কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন, সে বিষয়ে গ্রাহকদের নির্দেশনা দিতেন তিনি। এর মধ্যে ছিল যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা, একসঙ্গে বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দম্পতি হিসেবে ছবি তোলা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও গ্রাহকদের জানানো হতো। অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে তাঁদের সঙ্গে চুক্তিও করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, একবারের বিয়ের জন্য অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বিয়েতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিকে মাসে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। একটি ঘটনায় ব্রাজিলের এক নাগরিক এরিকা ড্যানিয়েলসের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতে গনজালেজকে অর্থ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে চলাকালে ড্যানিয়েলসকে মাসে ৫০০ ডলার দেওয়ার বিষয়ে বার্তা বিনিময়ের তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্যানিয়েলস, আলেহান্দ্রো, তাভারেস ও হিল এক বা একাধিক ভুয়া বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে পিউ এই কার্যক্রমে সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিয়ের ছবি ও একসঙ্গে বাইরে ঘোরার ছবি সংগ্রহ করা হতো, যাতে দম্পতির সম্পর্ককে প্রকৃত বলে দেখানো যায়। তদন্তের সময় রেকর্ড করা কথোপকথনে গনজালেজকে নতুন প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠোর হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই কথোপকথনে ম্যাসাচুসেটসকে অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়দাতা রাজ্য হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়া বিয়ের কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে গনজালেজ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে জমি, সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি সেখানে নিজের সম্পদ গড়ে তোলার কথা কথোপকথনে উল্লেখ করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপির সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কার্যক্রমটি পরিচালনার সময় গনজালেজ ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি খাদ্যসহায়তা ব্যবহার করেছিলেন। বুধবার, ২১ অক্টোবর, গনজালেজসহ পাঁচজনকে গ্রে প্তার করা হয়। অপর অভিযুক্ত হিল আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একটি অপরাধে ম্যাসাচুসেটসের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রত্যেককেই নির্দোষ বলে বিবেচনা করা হবে।
সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র
হুথি হা ম লার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাস থেকে কূটনীতিক ও পরিবার সরানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প