আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত এই জোট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোটটির সদস্যসংখ্যা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এর গুরুত্ব বেড়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য নয়। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণকে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং দেশটিতে থাকা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় দেখতে চায়।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আশা করে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত তার জনগণের অবস্থান বিবেচনা করবে এবং চলমান সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিদেশি নাগরিকরা কীভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে সাতটি প্রধান আইনি পথের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক, বসবাসের ইতিহাস ও আইনি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা হয়। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং কিছু ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আওতায় আবেদন। সরকারের প্রকাশিত সাতটি প্রধান পথ হলো: প্রথমত, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না; বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা ও জন্মের সময়কার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারের মাধ্যমে আবেদন। নির্ধারিত সময় যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তৃতীয়ত, আইরিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ। নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিছু আইরিশ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। চতুর্থত, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বিধান। যাদের কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেতে পারেন। পঞ্চমত, আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন ব্যক্তিরা। যারা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনরায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। ষষ্ঠত, বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদন। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তমত, চাগোসিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট বংশধররা বিশেষ নিয়মের অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে বৈধ বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা ভালো নৈতিক অবস্থানের প্রমাণ দেওয়া। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসার ধরন, যুক্তরাজ্যে থাকার ইতিহাস, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে নিজেদের রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে বেইজিং। এরই অংশ হিসেবে গত এক বছরে মধ্য এশিয়ায় চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর ব্যাপক সম্প্রসারণ লক্ষ করা গেছে। চীনের প্রধান শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং তাজিকিস্তানের লজিস্টিক হাবগুলোকে যুক্ত করতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন রেল ও সড়কপথ চালু করা হয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং মহাদেশীয় লজিস্টিক ব্যবস্থায় মধ্য এশিয়ার শক্তিশালী অবস্থানের কারণেই এই অঞ্চলের প্রতি চীনের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। গত বছর প্রথমবারের মতো মধ্য এশিয়ার সব কটি দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। এ সময় তাদের বাণিজ্য ১২ শতাংশ বেড়ে ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। অঞ্চলটিতে চীনের রপ্তানি করা উচ্চমূল্যের পণ্যের পরিমাণ আমদানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এদিকে, সামুদ্রিক শিপিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে গত বছর চীন-ইউরোপ সরাসরি রুটে ২০ হাজারেরও বেশি মালবাহী ট্রেন চলাচল করেছে এবং চলতি বছরের প্রথমার্ধে এই হার ২০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে চীনের ১২৯টি শহরের সঙ্গে ইউরোপের ২৬টি দেশের ২৩৫টি শহরের সরাসরি রেলযোগাযোগ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ মধ্য এশিয়ার ওপর দিয়ে যায়। স্থলপথে রপ্তানি বহুমুখীকরণের এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে গত বছরের এপ্রিল থেকে চীনের চংকিং এবং উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দের মধ্যে সরাসরি মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। মাসে দুবার ছেড়ে যাওয়া এসব ট্রেন কাজাখ সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৪,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় মাত্র ১২ দিনে। এর ফলে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মধ্য এশিয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় ৩০ শতাংশ কমার পাশাপাশি বাণিজ্যে লাভজনকতাও বেড়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বছরে প্রায় দেড় কোটি টন পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। এটি পূর্ব এশিয়া থেকে দক্ষিণ ইউরোপের বাণিজ্য রুটকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার কমিয়ে আনবে এবং পণ্য ডেলিভারির সময় অন্তত এক সপ্তাহ সাশ্রয় করবে। নতুন সিল্ক রোডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিট রুট পুনরুজ্জীবিত করার কৌশলের সঙ্গেও এই সম্প্রসারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেখানে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কিংহাইয়ের জিনিং থেকে তুর্কমেনিস্তানের বলকান ভেলায়েতের উদ্দেশে একটি কন্টেইনার ট্রেন ছেড়ে গেছে। এছাড়া গত বছর চীনের ঝেংঝু থেকে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাত পর্যন্ত সরাসরি সড়কপথ উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র নয় দিন। এর পাশাপাশি চলতি বছর চীন ও তাজিকিস্তানের মধ্যেও কন্টেইনার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। চীনের এই বিপুল স্থলবাণিজ্যের চাহিদা মধ্য এশিয়ার কার্গো প্রবাহকে নতুন করে সাজাচ্ছে। একসময়কার বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলটি এখন ইউরেশিয়ার অন্যতম প্রধান আন্তঃমহাদেশীয় হাব বা কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই মেগা উদ্যোগ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করবে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি এই অঞ্চলের পাঁচটি প্রজাতন্ত্রকে স্বাধীন ও সমন্বিত পরিবহন নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।
বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাবন্দী হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা কেরি এনওয়াচুকু। দুইজন বাড়িওয়ালার প্রায় ১৯ হাজার পাউন্ড বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ইউএই ত্যাগ করতে পারছেন না। লন্ডনের বাসিন্দা কেরি সথবিজ-এর মার্কেটিং ডিরেক্টরের চাকরি ছেড়ে তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে জন-কে নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে একটি মার্কেটিং এজেন্সি খোলার উদ্দেশ্যে দুবাই যান। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ হাজার পাউন্ডের বেশি বকেয়া বিল না পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তিনি এই ভাড়া অনাদায়ে পড়েন। ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী আদালতের (আরডিসি) দুই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নিজের ব্যবসায়িক লাইসেন্সও নবায়ন করতে পারেননি। গত ২২ এপ্রিল একটি শপিং মল থেকে তাঁকে আটক করে বার দুবাই পুলিশ স্টেশনে দুই সপ্তাহ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে আল আবির সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। কারাগারে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কেরি বলেন, শুরুতে তাঁর কোনো ম্যাট্রেস ছিল না এবং তাঁকে খুনের মামলার আসামি ও মাদক বিক্রেতাদের সাথে একই সেলে রাখা হয়েছিল। টয়লেটের মেঝেতে অন্যের প্রস্রাব এড়াতে তিনি ৩ পাউন্ড খরচ করে এক জোড়া স্লিপার কেনেন। কেরির ছেলের বারবার আবেদনের পর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৩,০০০ পাউন্ড পরিশোধের পর ১৫ মাসের কিস্তি চুক্তিতে তিনি সাময়িক মুক্তি পান। তবে তিন সপ্তাহ পর বিচারক সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো অর্থ পরিশোধের জন্য মাত্র ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ায় তিনি এখন যেকোনো মুহূর্তে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, ৪,০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করতে পারলে বিচারক হয়তো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করতে পারেন, তবে তাও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্যে তাঁর বন্ধু ও পরিবার দৈনন্দিন খরচ ও ভাড়ার কিস্তি মেটাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ চালু করেছে। কিন্তু কেরি জানিয়েছেন, দুবাইয়ে গোফান্ডমি কোনো অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম নয় এবং এটি ব্যবহারের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো সাজা বা নতুন করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাজ্যের নিজ বাড়িতে ফেরার আকুল অপেক্ষায় থাকা কেরি দুবাইয়ের চাকচিক্যের পেছনের কঠোর ও বিপজ্জনক আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।