বিশ্বের এআই র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে সিঙ্গাপুরের দুই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে গবেষণায় এশিয়া মহাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত ইউএস নিউজের ২০২৬–২০২৭ সালের 'বেস্ট গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিজ' সাবজেক্ট র্যাঙ্কিংয়ে। এই তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ দশটি এআই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ সিঙ্গাপুরের দুটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বৈশ্বিক এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ)। অন্যদিকে, আগের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (এনইউএস)। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে কেবল সিঙ্গাপুরই শীর্ষ দশে অবস্থান করতে পেরেছে। এই অঞ্চলের অপর দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার চারটি বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের ১৬৫ থেকে ২৪১তম স্থানের মধ্যে রয়েছে।
তালিকায় চীন এককভাবে তাদের সুস্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করেছে। শীর্ষ দশে কোনো মার্কিন বা ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকলেও, আটটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তালিকায় দাপট দেখাচ্ছে মূল ভূখণ্ডের চীন। চীনের স্বনামধন্য সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিকভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং।
ইউএস নিউজের এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০০টি এআই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের ২,২৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এআই ছাড়াও এনটিইউ এবং এনইউএস কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ও ফিজিক্সের মতো বিষয়গুলোতেও বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ স্থানগুলোতে অবস্থান করছে। সার্বিক বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে এনইউএস এশিয়ায় দ্বিতীয় ও বিশ্বে ১৬তম এবং এনটিইউ এশিয়ায় চতুর্থ ও বিশ্বে ২৭তম স্থান লাভ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজাপানের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে একটি বড়সড় ও উদ্বেগজনক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসরত জাপানি নাগরিকদের সংখ্যা ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। ১ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, জাপানি বাসিন্দাদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ জন (০.৭৬ শতাংশ) কমে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিগত ১৭ বছর ধরে দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা কমছে এবং এটিই রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বড় পতন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সংখ্যা কমলেও, জাপানে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৬ জন (৯.৬২ শতাংশ) বেড়ে ৪০ লাখ ৩১ হাজার ১৫৯-এ পৌঁছেছে, যা ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে, কোভিড-১৯ মহামারির পর ২০২৩ সাল থেকে জাপানে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল ২০২৫ সালেই রেকর্ড ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮ জন মানুষ বিদেশ থেকে দেশটিতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪৬টিতেই জাপানি নাগরিকের সংখ্যা কমেছে। এর মধ্যে আকিটায় সর্বোচ্চ ১.৯৫ শতাংশ পতন দেখা গেছে। একমাত্র টোকিওতেই টানা তৃতীয় বছরের মতো জাপানি বাসিন্দাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা হ্রাসের এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হলো জন্মহার কমা এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি। ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৭ জন শিশু, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৫। ফলে স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ৮ জনে। দেশটিতে জাপানি ও বিদেশি মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪২-এ নেমে এসেছে।
বিশ্বের এআই র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে সিঙ্গাপুরের দুই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়
আইফোন কিনতে আর এককালীন খরচ নয়, ভাড়ায় ব্যবহারের সুযোগ আনছে অ্যাপল
দুই নারী ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা, চলতি বছরে প্রাণ গেল ১৬ সেনাসদস্যের
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের এক ঘোষণায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বুধবার দেশটির চেন্নাহ এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম এই অগ্রগতিকে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী ও সতর্ক কূটনৈতিক সম্পর্কের সফল প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে অনেকেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি তুললেও মিয়ানমার রাজি না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার কারণে মিয়ানমার এখন এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। সতর্ক কূটনীতির মাধ্যমেই যে এমন জটিল ও সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেটি তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। প্রত্যাবাসনের এই ইতিবাচক খবরের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রতি কঠোর বার্তাও দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে মালয়েশিয়ার জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো ঘটনা তার সরকার মেনে নেবে না। রাস্তাঘাট ও জনসমাগমস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয় আইনকানুন মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা যেন কোনোভাবেই মালয়েশিয়ার নাগরিকদের ব্যবসা-বাণিজ্যে, যান চলাচলে বা সাধারণ মানুষের বসবাস এলাকায় ব্যাঘাত না ঘটায়। এটি মালয়েশিয়ানদের নিজস্ব দেশ উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, বাইরের কেউ এসে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চীনা গাড়ির প্রতিযোগিতায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে বিএমডব্লিউ
কেনিয়ার আম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানে ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্ত শুরু
আইসের মাধ্যমে দেশছাড়া করার কয়েক সপ্তাহ পর গুলিতে নিহত অভিবাসী দম্পতি
আঞ্চলিক সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখার পাঁচ মাসের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাক ও ইরানের প্রক্সি মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলার মুখে পড়ে রিয়াদ এখন এক বহুমুখী যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবকে অত্যন্ত জটিল ও ত্রিমুখী নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির লোহিত সাগর উপকূলীয় তেল স্থাপনা ও ট্যাংকারে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রো-ইরানি মিলিশিয়ারা রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে। এর বাইরে তেহরানের পক্ষ থেকেও নতুন করে বিভিন্ন হুমকি ও উসকানিমূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে দীর্ঘ সংযমের নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে সৌদি প্রশাসন। গত মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে সক্রিয় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা এবং তেল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রিয়াদের বহু বছরের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সংস্কার এজেন্ডাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। গত এক দশক ধরে সৌদি আরব মূলত দেশের অর্থনীতিকে বৈষয়িক বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আঞ্চলিক পাওয়ারহাউস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে আসছে। আর এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই বহু বছর ধরে চলা বৈরিতা ভুলে চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে তেহরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল রিয়াদ। তবে বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং ত্রিমুখী যুদ্ধের পদধ্বনিতে সেই কৌশলগত কূটনীতি এখন প্রায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। অসামান্য সমরাস্ত্র এবং আধুনিক প্রযুক্তির অধিকারী হলেও বিশাল ভূখণ্ড এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তেল শোধনাগারগুলোকে সার্বক্ষণিক সুরক্ষিত রাখা যেকোনো সামরিক পরিকল্পনাবিদের জন্যই এক দুঃস্বপ্নস্বরূপ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরব যখন লোহিত সাগরের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল, ঠিক তখন হুথিদের সামুদ্রিক অবরোধ ও ট্যাংকারের ওপর হামলা সেই বিকল্প পথগুলোকেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের আকস্মিক ও পরিবর্তনশীল নীতিমালার মাঝে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে রিয়াদ। ওয়াশিংটনের সহায়তা বা আগ্রহ যেকোনো মুহূর্তে কমে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় সৌদি আরব এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষার স্বার্থে সরাসরি ও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে দেশটি শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের চোরাবালিতে আসলে জড়িয়ে পড়ল কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: সিএনএন
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা
তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় চীনের রোবট ও প্রযুক্তি সরঞ্জামে নতুন বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের