নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ৩০% কম দামে নিত্যপণ্য বিক্রিতে সরকারি সুপারমার্কেট আনছেন মামদানি
নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। 'এনওয়াইসি গ্রোসারিজ' (NYC Groceries) নামের এই উদ্যোগের আওতায় শহরের পাঁচটি বরোতে পাঁচটি সরকারি সুপারমার্কেট স্থাপন করা হবে, যার জন্য ৭০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সুপারমার্কেটগুলোতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, দুধ এবং ডিমের মতো প্রায় ২০টি প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি 'কোর বাস্কেট' বাজারের গড় মূল্যের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে। মেয়রের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসে প্রায় ৯০ ডলার এবং বছরে এক হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে।
এই সুপারমার্কেটগুলো সরাসরি সিটি প্রশাসন পরিচালনা করবে না; বরং প্রাইভেট অপারেটরদের মাধ্যমে এগুলো পরিচালিত হবে। শহরের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (EDC) ইতিমধ্যে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করেছে, যারা মূলত পণ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। সরকার এই সুপারমার্কেটগুলোকে স্থান ভাড়া ও প্রপার্টি ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি দেবে এবং কম দামে পণ্য বিক্রির ফলে যে আর্থিক ঘাটতি হবে, তা ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। স্থানীয় ছোট দোকান বা বোদেগাগুলোর (bodegas) ব্যবসায় যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তাই এখানে সিগারেট, বিয়ার বা গরম খাবারের মতো পণ্যগুলো বিক্রি করা হবে না। প্রথম দুটি সুপারমার্কেট ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এবং ইস্ট হারলেমের লা মার্কেটা এলাকায় যথাক্রমে ২০২৭ ও ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এই বিশাল উদ্যোগের সমালোচনাও কম হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কে সস্তা ও বড় সুপারমার্কেটের অভাব বা 'ফুড ডেজার্ট'-এর পেছনে মূল কারণ মুক্তবাজারের ব্যর্থতা নয়, বরং শহরের সেকেলে জোনিং আইন। ১৯৭০-এর দশকে তৈরি একটি আইনের কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং বা 'এম' (M) জোনগুলোতে ১০ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের রিটেইল স্টোর নির্মাণ করতে হলে সিটি প্ল্যানিং কমিশন এবং সিটি কাউন্সিলের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বড় বড় বেসরকারি সুপারমার্কেট চেইনগুলো চাইলেও অনেক এলাকায় বিনিয়োগ করতে পারে না, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারি ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের এই নীতি হিতে বিপরীত হতে পারে। পণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম থাকায় অসাধু ক্রেতারা এসব পণ্য বেশি করে কিনে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দোকানে দ্রুত মজুত ফুরিয়ে তাক খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পণ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সমালোচকদের মতে, সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি খাতের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় না গিয়ে, মেয়রের উচিত জোনিং আইন সংস্কার করে বড় বড় সুপারমার্কেট চেইনগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। এতে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ পাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের কুইন্সের একটি সরকারি স্কুলের চিমনিতে জুনে পাওয়া পচনধরা মরদেহের পরিচয় প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকা ২৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ কোলাডো হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে তিনি স্কুলের ভেতরে ঢুকলেন, কীভাবে চিমনিতে পৌঁছালেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তার কোনো উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর কারণ, সময় ও ধরন এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কোলাডো কুইন্সের একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী র্যাপার ছিলেন এবং A.K. Nash নামে গান করতেন। তাঁর মা সোফিয়া উডের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ মে ভোর ৩টা ২২ মিনিটের দিকে তাকে জামাইকার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার আগে মাকে তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন পর পরিবারের সঙ্গে মাদার্স ডে উদযাপন করবেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে তিনি আর উপস্থিত হননি। ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উড পুলিশে নিখোঁজের রিপোর্ট করেন। পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে ও অনলাইনে তথ্য ছড়িয়ে ছেলের সন্ধান চালান। কোলাডোর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তিনি তাঁর ফোন ও ওয়ালেট পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। দরজাটিও ডেডবোল্ট দিয়ে এমনভাবে খোলা ছিল, যা দেখে তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর কোলাডোর একটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলেও তাঁর মা জানিয়েছেন। এরপর ৩০ জুন সকালে কুইন্সের গ্লেনডেল এলাকার P.S./I.S. 113 Anthony Pranzo School-এ দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে এক এক্সটারমিনেটর চিমনির ভেতর মরদেহটি দেখতে পান। তখন স্কুলটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বন্ধ ছিল এবং ভবনে সংস্কারকাজ চলছিল। এক্সটারমিনেটর চিমনির ছাই বের করার অংশ খুলে প্রথমে একটি জুতা দেখতে পান। পরে ভেতরে হাত দিয়ে তিনি একটি পায়ের অংশ অনুভব করেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশের পর কোলাডোর মা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর ছেলে নিখোঁজ থাকায় তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমদিকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, চিমনি থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁর ছেলের বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর তদন্তকারীরা উডের ডিএনএ সংগ্রহ করেন। ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে মরদেহটি কোলাডোর বলে নিশ্চিত করে বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও রহস্যের সমাধান হয়নি। তদন্তকারীদের হাতে কোলাডো কীভাবে স্কুলে ঢুকেছিলেন বা কীভাবে চিমনির ভেতরে পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো নজরদারি ভিডিও নেই বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। স্কুলটির সঙ্গে কোলাডোর কোনো পরিচিত সম্পর্কও পরিবারের জানা ছিল না। ফলে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে এখনো একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কোলাডোর মা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে উচ্চতার ভয় পেতেন এবং আগুন ও ধোঁয়াও অপছন্দ করতেন। তাই কীভাবে তিনি একটি চিমনির ভেতরে গেলেন, সেটি তাঁর কাছে আরও বিস্ময়কর। তবে তিনি কোনো অনুমান বা অভিযোগ করতে চান না। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু ঘটনার সত্যতা ও নির্ভুল ব্যাখ্যা চান। কোলাডো পূর্ব এলমহার্স্টে বেড়ে ওঠেন এবং সংগীত তৈরি করতেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন গান ও বিট তৈরি করতেন এবং অনলাইনে তাঁর কিছু গানও রয়েছে। এখন ছেলের কণ্ঠ শোনার জন্য সেই গানগুলোর কাছেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে। কোলাডোর পরিবার এখনো তাঁর মৃত্যুর কারণ ও স্কুলের চিমনিতে পৌঁছানোর ঘটনাটি জানতে চাইছে। তাঁর মা এ ঘটনার সত্য উদঘাটনে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ধরন সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে, চাপে গ্র্যাজুয়েটরা
কলেজের পড়াশোনায় ফেডারেল ঋণ, পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীর হার কোথাও ৮০%
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জোয়েল ওয়েগেনার চেয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তান মেরি ও জশ যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তৈরি করেন একটি নতুন পথ। পুরোনো একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সন্তানদের নিয়ে শুরু করেন পারিবারিক ব্যবসা ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়ে মেরি কেট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে পরিবারে চিন্তা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সীমিত হওয়ায় জোয়েল সিদ্ধান্ত নেন, অপেক্ষা না করে সন্তানদের জন্য নিজেরাই একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করবেন। এরপর ইন্ডিয়ানার একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সেটি মেরামত করেন জোয়েল। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির কাজ। ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মেরি ও জশের বাস্তব কর্মজীবনের প্রশিক্ষণের জায়গা। আইসক্রিম বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, টাকা সামলানো, প্রশ্ন করা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগ—এসব দক্ষতা কাজ করতে করতেই অনুশীলন করছেন মেরি ও জশ। জোয়েলের মতে, সন্তানদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি কাজের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও স্বচ্ছন্দভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া ও নিয়মিত কাজ করার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। ওহাইওর লোভল্যান্ড এলাকায় শুরু হওয়া ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’ পরে বৃহত্তর সিনসিনাটি অঞ্চলেও পরিচিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল এবং কমিউনিটি আয়োজনে আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখা যায় ওয়েগেনার পরিবারকে। ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসেই তাঁদের বিক্রি প্রায় ৫ হাজার আইসক্রিমে পৌঁছেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিবেদনে মোট বিক্রি ১০ হাজারের বেশি ট্রিটে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। তবে জোয়েলের কাছে এই ব্যবসার সাফল্য শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপার বিষয় নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সন্তানদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন জোয়েল। তাঁর বিশ্বাস, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মেরি ও জশের গল্প তাই শুধু একটি আইসক্রিম ব্যবসার গল্প নয়। এটি এমন এক বাবার গল্প, যিনি সন্তানদের জন্য সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজেরাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। একটি পুরোনো আইসক্রিম ট্রাক তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে কাজ শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন দরজা।
নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস
ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা
কর ফেরত নিতে ভুলছেন অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যে পাওনা সবচেয়ে বেশি
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়ির ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী অনেক মালিককে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বাড়ির মালিক এখনো কয়েক বছর আগের বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে বেশি দাম প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ডাগ্রোসা ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জো ডাগ্রোসা বলেন, বিক্রেতাদের অনেকেরই বাড়ির দাম নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে বিক্রির সুযোগও কমবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। কম্পাসের বাওয়ার্স গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট রুবিন বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বাড়ি বিক্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও দুর্বল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি বাজারে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে এবং দাম কমানোর ঘটনাও বাড়ছে। ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা বুধবার ১২-০ ভোটে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি। সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ঋণের খরচও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। ডাগ্রোসার মতে, গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক বাড়ির মূল্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এখন যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় কিছুটা কম দাম মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ খাতেও চাপ বাড়ছে, কারণ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের কাছে এখনো ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ রয়েছে। নতুন বাড়ি কিনলে বেশি সুদের হারে বড় ঋণ নিতে হবে—এই কারণে অনেকেই বাড়ি পরিবর্তন করতে চাইছেন না। আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতিকে ‘মর্টগেজ রেট লক-ইন’ প্রভাব বলা হচ্ছে। রুবিন বলেন, কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজন না হলে নতুন বাড়ি কেনার দিকে আগ্রহী নাও হতে পারেন। তবে চাকরির কারণে স্থানান্তর বা পারিবারিক প্রয়োজনের মতো কারণে যাদের বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে হচ্ছে, তাদের উচ্চ সুদের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডাগ্রোসা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে আবাসন বাজার ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বাড়ির মজুত বাড়া এবং মৌসুমি ধীরগতির সঙ্গে উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় বিক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যারা দাম কমাতে দেরি করবেন, তাদের সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। ফলে সামনে ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম কমে যাবে—এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বাড়তে থাকলে এর প্রভাব আবাসন বাজারে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামী বসন্তের বাজার পরিস্থিতি এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষার্থী ঋণে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, কম ঋণের পেছনে যে কারণ
রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ