নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ৩০% কম দামে নিত্যপণ্য বিক্রিতে সরকারি সুপারমার্কেট আনছেন মামদানি
নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। 'এনওয়াইসি গ্রোসারিজ' (NYC Groceries) নামের এই উদ্যোগের আওতায় শহরের পাঁচটি বরোতে পাঁচটি সরকারি সুপারমার্কেট স্থাপন করা হবে, যার জন্য ৭০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সুপারমার্কেটগুলোতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, দুধ এবং ডিমের মতো প্রায় ২০টি প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি 'কোর বাস্কেট' বাজারের গড় মূল্যের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে। মেয়রের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসে প্রায় ৯০ ডলার এবং বছরে এক হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে।
এই সুপারমার্কেটগুলো সরাসরি সিটি প্রশাসন পরিচালনা করবে না; বরং প্রাইভেট অপারেটরদের মাধ্যমে এগুলো পরিচালিত হবে। শহরের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (EDC) ইতিমধ্যে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করেছে, যারা মূলত পণ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। সরকার এই সুপারমার্কেটগুলোকে স্থান ভাড়া ও প্রপার্টি ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি দেবে এবং কম দামে পণ্য বিক্রির ফলে যে আর্থিক ঘাটতি হবে, তা ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। স্থানীয় ছোট দোকান বা বোদেগাগুলোর (bodegas) ব্যবসায় যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তাই এখানে সিগারেট, বিয়ার বা গরম খাবারের মতো পণ্যগুলো বিক্রি করা হবে না। প্রথম দুটি সুপারমার্কেট ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এবং ইস্ট হারলেমের লা মার্কেটা এলাকায় যথাক্রমে ২০২৭ ও ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এই বিশাল উদ্যোগের সমালোচনাও কম হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কে সস্তা ও বড় সুপারমার্কেটের অভাব বা 'ফুড ডেজার্ট'-এর পেছনে মূল কারণ মুক্তবাজারের ব্যর্থতা নয়, বরং শহরের সেকেলে জোনিং আইন। ১৯৭০-এর দশকে তৈরি একটি আইনের কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং বা 'এম' (M) জোনগুলোতে ১০ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের রিটেইল স্টোর নির্মাণ করতে হলে সিটি প্ল্যানিং কমিশন এবং সিটি কাউন্সিলের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বড় বড় বেসরকারি সুপারমার্কেট চেইনগুলো চাইলেও অনেক এলাকায় বিনিয়োগ করতে পারে না, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারি ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের এই নীতি হিতে বিপরীত হতে পারে। পণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম থাকায় অসাধু ক্রেতারা এসব পণ্য বেশি করে কিনে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দোকানে দ্রুত মজুত ফুরিয়ে তাক খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পণ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সমালোচকদের মতে, সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি খাতের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় না গিয়ে, মেয়রের উচিত জোনিং আইন সংস্কার করে বড় বড় সুপারমার্কেট চেইনগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। এতে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে 'টিপিং কালচার' বা বকশিস দেওয়ার সংস্কৃতি যে সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ কফির দোকান—সবখানেই এখন ক্রেতাদের কাছে বকশিস প্রত্যাশা করা হয়। সম্প্রতি এক ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, একটি ফাস্টফুডের দোকানে খাবার অর্ডার করার সময়ই মেশিনের স্ক্রিনে কিচেন স্টাফ বা বাবুর্চিদের জন্য আগাম বকশিস চাওয়া হয়। এতে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান এবং প্রশ্ন তোলেন, বকশিস না দিলে কি তার খাবারে ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা কিছু মিশিয়ে দেওয়া হবে? এই ভিডিওটি এক্সে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই ব্যক্তি জানান, প্রায় ১০-১৫ বছর পর তিনি 'শ্লটজস্কিস' নামের একটি পিৎজা ও স্যান্ডউইচের চেইন শপে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো ওয়েটার বা টেবিল সার্ভিস না থাকা সত্ত্বেও পেমেন্ট মেশিন তার কাছে বকশিস দাবি করে। তিনি ভিডিওতে বলেন, যেখানে তাকে কোনো সরাসরি সেবা দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কেবল আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে কেন তাকে বকশিস দিতে হবে! এক্স প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেন, এই সংস্কৃতি এখন আর আতিথেয়তার পর্যায়ে নেই, বরং এটি ক্রেতাদের এক ধরনের মানসিক চাপে ফেলে টাকা আদায়ের শামিল। ভিডিওর নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে অসংখ্য নেটিজেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, বকশিসের ওপর খাবারের মান নির্ভর করাটা এক ধরনের চাঁদাবাজির সমতুল্য। কেউ কেউ তো এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি অর্ডার বাতিল করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। আরেক নেটিজেনের মতে, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মীদের উপযুক্ত বেতন দেয় না, তাদের বয়কট করাই শ্রেয়। এই ঘটনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান টিপিং সংস্কৃতির প্রতি সাধারণ মানুষের চরম অসন্তোষের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকেই এখন নিজেদের জন্য নিয়ম করে নিয়েছেন যে, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে অর্ডার করতে হলে তারা কোনো অবস্থাতেই বকশিস দেবেন না। পপমেন্যু (Popmenu)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপেও এই একই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ ক্রেতাই মনে করেন যে বর্তমান টিপিং কালচার একটি হাস্যকর ও অযৌক্তিক পর্যায়ে চলে গেছে। এ ছাড়া ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা লক্ষ্য করেছেন যে, রেস্তোরাঁগুলো এখন স্ক্রিনে বকশিসের প্রস্তাবিত পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে বকশিস এখন আর স্বেচ্ছায় দেওয়া কোনো উপহার বা সম্মানী নয়, বরং ক্রেতাদের জন্য এক অলিখিত বাধ্যতামূলক নিয়মে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।
নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের ওপর দিয়ে আর উড়বে না কোনো বিমান, স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের রেখে যাওয়া ৫২ লাখ ডলারের উত্তরাধিকার পেল ডিএসএ
নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ৩০% কম দামে নিত্যপণ্য বিক্রিতে সরকারি সুপারমার্কেট আনছেন মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর অভিযান জোরদার করেছে। একই সময়ে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই দুটি পরিবর্তনের ফলে যাদের অ্যাসাইলাম, স্ট্যাটাস পরিবর্তন, গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের জন্য বিমান ভ্রমণ আগের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ডেনভার, ন্যাশভিলসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীদের আটক করার ঘটনা বেড়েছে। এসব অভিযানে শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নন, কিছু ক্ষেত্রে বিচারাধীন ইমিগ্রেশন আবেদন বা ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়েছে। এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। গত সপ্তাহে বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক ফাতিমা আমেকাকে আইস আটক করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, তিনি ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণেই অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, গবেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিমানবন্দরে অভিযানের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য আইস এর কাছে পাঠায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়। ডিএইচএস বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান আইনসম্মত। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের জন্য তৈরি যাত্রী তথ্যব্যবস্থা এখন বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগেও ব্যবহৃত হওয়ায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এদিকে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। ইউএসসিআইএস সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদনটি সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠাতে পারবেন। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মামলার জট কমানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন আইন কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, সাক্ষাৎকারের সুযোগ কমে গেলে অনেক আবেদনকারী তাদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বা আশ্রয় চাওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে পারেন। যদিও কোনো আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো মানেই সেটি বাতিল নয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ পাবেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরাও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যাদের অ্যাসাইলাম মামলা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন, গ্রিন কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তারা অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। একই সঙ্গে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিচারাধীন আবেদন থাকা মানেই সবাইকে আটক করা হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থা, নথিপত্র এবং ব্যক্তির অভিবাসন ইতিহাস আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, ডিএচএস, ইউএসসিআইএস এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
জোহরান মামদানি হলেন ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা
উত্তাল ঢেউ থেকে ১০ বছরের শিশুকে বাঁচানোর অভিজ্ঞতা জানালেন ১৬ বছরের লাইফগার্ড
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ বৃদ্ধার মামলায় আটক ব্যক্তি চাইলেন ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অবৈধ ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনায় এবার অভিভাবকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ইতোমধ্যে ২৬টি তদন্ত চলছে, যেগুলো থেকে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে। অরেঞ্জ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ই-বাইকসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা মোকাবিলায় বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং দুর্ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টড স্পিটজার বলেন, অরেঞ্জ কাউন্টিতে শিশুদের জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এখন ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে এবং দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত এক বছরে অরেঞ্জ কাউন্টিতে ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে চারজন অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। একটি ঘটনায় এক মায়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, শিশু নির্যাতন ও শিশুকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ছেলের ই-বাইক চালানোর সময় সংঘটিত দুর্ঘটনায় ৮১ বছর বয়সী এক ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রবীণ নিহত হন। আরেক ঘটনায় ১২ বছর বয়সী ছেলের দুর্ঘটনার পর তার বাবার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন ও শিশুকে ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের ই-মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি নেই। তবে কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ই-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জড়িতদের বেশির ভাগের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। সম্প্রতি অরেঞ্জ কাউন্টির একটি ওয়ালমার্টে দুই কিশোর ই-বাইক চালিয়ে দোকানের ভেতরে বেপরোয়া চলাচল করে এবং ক্রেতাদের প্রায় ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ভিডিওতে ধরা পড়ে। একই মাসে পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে এক কিশোরকে ধাওয়া করার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ক্যামেরায় তার মুখ দেখা গেছে এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এছাড়া মে মাসে ১৯ বছর বয়সী হান্টার বেলিশকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভিস্তা থেকে ওশেনসাইড পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সড়কে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাওয়ায় ব্যস্ত রাখেন।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মার্কিন সেনা ইসাবেলাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাল স্বজনরা
ট্রেন কেনায় বিলম্ব, ৪০০ কোটি ডলারের তহবিল হারাল ক্যালিফোর্নিয়ার রেল প্রকল্প