সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংস খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ায়

Unknown প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৮:১৪
কুকুর। ছবি:সংগৃহীত
কুকুর। ছবি:সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নাগরিকদের গরম মোকাবিলায় কুকুরের মাংসের স্যুপ (ডানগোগি গুক) খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র রোদং সিনমুন সম্প্রতি প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় এ পরামর্শ দেয়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচণ্ড গরমে শরীরের শক্তি ধরে রাখতে তরমুজ, শসা, মাছের পায়েস, লাল শিমের পায়েসের পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপকে ‘উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় দীর্ঘদিন ধরেই এই খাবারকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ চলছে। উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ উচ্চ তাপমাত্রা সতর্কতাও জারি করেছে।

 

উত্তর কোরিয়ায় গ্রীষ্মের সবচেয়ে উষ্ণ সময় সামবক মৌসুমে কুকুরের মাংস খাওয়ার একটি পুরোনো সাংস্কৃতিক বিশ্বাস রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ ধরনের খাবার শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনে এবং অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে সাহায্য করে। যদিও এ দাবির পক্ষে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

 

অন্যদিকে, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন দ্রুত কমে গেছে। প্রাণীকল্যাণ নিয়ে জনমত পরিবর্তন এবং নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে কুকুরের মাংসের শিল্প কার্যত বিলুপ্তির পথে। এ কারণে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারণা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ  সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ  সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন

যুক্তরাজ্যের উত্তর-পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটসে গণেশ চতুর্থী উৎসবের পর জলাশয়ে সাতটি প্রতিমা ও বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ফেলে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিটি অব লন্ডন করপোরেশন। গত সেপ্টেম্বরে ১০ দিনব্যাপী উৎসব চলাকালে অনুমতি ছাড়া জমায়েত, উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফোটানো এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগামী বছর থেকে কঠোর নজরদারি ও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটসের আলেকজান্দ্রা লেক ও জুবিলি পন্ড এলাকায় উৎসব শেষে সাতটি প্রতিমা পাওয়া যায়। পাশাপাশি জলাশয় ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা নিয়ে অভিযোগ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের জমায়েত এবং আতশবাজির শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটস লন্ডনের ঐতিহাসিক ইপিং ফরেস্টের অংশ। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কারণে এই বনাঞ্চলের বিশেষ সংরক্ষণগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এখানে জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন এবং আবর্জনা ফেলে রাখার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জলাশয়ের পানি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ইপিং ফরেস্ট অ্যান্ড কমন্স কমিটির চেয়ারম্যান ডেপুটি ক্যারোলিন হেইনস জানিয়েছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। বিপুল এই ব্যয় কর্তৃপক্ষের বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে এই অর্থ শুধু গণেশ চতুর্থী উৎসবের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ নয়, বনাঞ্চলের সামগ্রিক আবর্জনা অপসারণের বার্ষিক ব্যয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর উৎসবকেন্দ্রিক অননুমোদিত জমায়েতের পরিধি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব আয়োজনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আইন প্রয়োগেও জটিলতা দেখা দিচ্ছে। আয়োজকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারায় অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।   এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিটি অব লন্ডন করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই প্রাকৃতিক এলাকায় অননুমোদিত জমায়েত, উচ্চ শব্দে আতশবাজি, অসামাজিক আচরণ এবং পরিবেশের ক্ষতি প্রতিরোধ করা।   ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় উৎসব পালনের পাশাপাশি জনপরিসরের নিয়ম মেনে চলা এবং সংরক্ষিত প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কর্তৃপক্ষ এখন আগামী বছরের উৎসবের আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।    

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১:৩৯
প্রবাসী বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ

হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্নই হলো কাল, প্রতারিত হয়ে সত্য জানার পর ২৪ বছরের লাইবার রহস্যজনক মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা, ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল

ব্রিটিশ পাসপোর্ট
ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়নে পরিচয় নিশ্চিতের দুই বছরের শর্ত, যা জানা জরুরি

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ পাসপোর্টের নতুন আবেদন ও নির্দিষ্ট কিছু নবায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে অন্তত দুই বছর ধরে পরিচিত একজন ব্যক্তির সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সরকারি পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে হবে এবং নির্ধারিত পেশাগত ও পরিচয়সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে এটি নতুন করে চালু হওয়া সর্বজনীন কোনো নিয়ম নয়। আগে থেকেই কার্যকর এই শর্ত সব ধরনের পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট গভ ডট ইউকে এবং হিজ ম্যাজেস্টিস পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট, প্রথমবার শিশুদের পাসপোর্ট, হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সাধারণত পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া ১১ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট নবায়ন এবং আগের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে এই যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তিকে ইংরেজিতে ‘কাউন্টারসিগনেটরি’ বা ‘রেফারি’ বলা হয়। তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তাঁকে আবেদনকারীকে অন্তত দুই বছর ধরে বন্ধু, প্রতিবেশী বা সহকর্মী হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে হবে। পাশাপাশি সমাজে গ্রহণযোগ্য অবস্থান থাকতে হবে এবং স্বীকৃত কোনো পেশায় কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত হতে হবে। শিক্ষক, সাংবাদিক, নার্স, প্রকৌশলী, আইনজীবী, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ব্যাংক কর্মকর্তা কিংবা সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য ব্যক্তিরা এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।   তবে আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য, স্বামী বা স্ত্রী, প্রেমিক বা প্রেমিকা কিংবা একই ঠিকানায় বসবাসকারী কেউ পরিচয় নিশ্চিতকারী হতে পারবেন না। যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ ব্রিটিশ অথবা আইরিশ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং তাঁকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হবে। দেশের বাইরে থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ, আইরিশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র বা কমনওয়েলথভুক্ত দেশের বৈধ পাসপোর্টধারী ব্যক্তির সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে আবেদন করার সময় পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে নির্ধারিত ব্যক্তির নাম ও ইমেইল ঠিকানা দিতে হয়। এরপর পাসপোর্ট অফিস থেকে তাঁকে একটি ইমেইল পাঠানো হয়। সেখানে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদনকারীর জন্মতারিখ, ঠিকানা ও ছবি যাচাই করতে হয়। সাধারণত এই অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মিনিট লাগে। অন্যদিকে কাগজের ফরমে আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যক্তিকে ফরম ও ছবিতে স্বাক্ষর করতে হতে পারে।   তবে সাধারণভাবে মেয়াদ শেষ হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্রিটিশ পাসপোর্ট নবায়নের জন্য নতুন করে কাউন্টারসিগনেটরি প্রয়োজন হয় না, যদি আগের পাসপোর্টের তথ্য ও ছবির সঙ্গে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। নবায়নের জন্য পুরোনো পাসপোর্ট, নতুন ছবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নথি জমা দিতে হয়। পাসপোর্ট অফিসের যাচাইয়ে অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে তা জানানো হয়।   ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির ২০ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত গবেষণা ব্রিফিংয়েও দুই বছর ধরে পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার শর্তের উল্লেখ রয়েছে। ফলে দুই বছরের শর্তকে ২০২৬ সালের নভেম্বরে নতুন করে চালু হওয়া নিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করার ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এই সময়সীমার অর্থ হলো, পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তিকে আবেদনকারীর অন্তত দুই বছরের পরিচিত হতে হবে; পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে, এমন নয়।   যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকসহ সব আবেদনকারীর জন্য পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী নিয়মগুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদন, শিশুদের পাসপোর্ট নবায়ন এবং হারানো পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আগেই যোগ্য পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তি নির্বাচন করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এড়ানো সহজ হতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:৩
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে এক মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাপানে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু, তদন্ত শুরু

ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি বদলাবে না: মোজতবা খামেনি

মানসিক চাপ কমাতে অর্থের বিনিময়ে কান্নার পরিবেশ তৈরি করার একটি অভিনব সেবা চালু হয়েছিল জাপানে। ছবি: সংগৃহীত

জাপানে কান্নার জন্য ভাড়া করা যায় সুদর্শন তরুণ, চোখের পানিও মুছে দেন তাঁরা

কুয়েতের সাদ আল আবদুল্লাহ এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি করায় কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

কুয়েতের সাদ আল আবদুল্লাহ এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে লাইসেন্সবিহীন মুদি দোকান পরিচালনা করে সেখান থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কুয়েতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্কুলের কাছাকাছি একটি মুদি দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তথ্য পায়। এরপর বিষয়টি যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।   তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চালানো হয়। কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করেন, কীভাবে তাঁরা ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার গ্রহণ, পণ্য প্রস্তুত এবং সরবরাহের ব্যবস্থা করতেন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   অভিযানের সময় প্রথমে বাড়ির বাইরে স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগে একজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও চার বাংলাদেশিকে আটক করেন কর্মকর্তারা। অভিযানে ১৩টি বড় ও ২৩টি ছোট বাক্সভর্তি ই-সিগারেট, ২১৯টি ছোট প্যাকেট তামাক এবং বিক্রির অর্থ বলে সন্দেহ করা ১ হাজার ৭২২ কুয়েতি দিনার জব্দ করা হয়।   কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দোকানটি যৌথভাবে পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করা ছিল। কেউ দোকানের কার্যক্রম তদারকি করতেন, কেউ অর্থ সংগ্রহ করতেন। অন্যরা ফোনে অর্ডার নেওয়া, পণ্য প্রস্তুত এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   সূত্র: টাইমস কুয়েত

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৫০
পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে অ্যামচ্যাম মিয়ানমার। ছবি: সংগৃহীত

৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার, মুক্ত স্পেনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলাম

ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংক ও রক্তসংগ্রহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংকে সাইবার হামলা, রক্ত সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে রোগী ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে পদত্যাগ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে ৬৯ জন নিহতের ট্রেন দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ করলেন পরিবহনমন্ত্রী

0 Comments