আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য সতর্কবার্তা: ১০টি সাধারণ ভুলেই গুনতে হতে পারে হাজার ডলারের জরিমানা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৮:৩৮
অভিযানে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত
অভিযানে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশি এমন কিছু নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন, যেগুলো অমান্য করলে কয়েকশ থেকে শুরু করে হাজার হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে কাস্টমস ঘোষণা, অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ, কর দাখিল এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে অসাবধানতা বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি সতর্কতার বিষয় তুলে ধরা হলো।

 

সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি হলো খাবার বা কৃষিজ পণ্য ঘোষণা না করা। অনেকেই বাংলাদেশ থেকে আনা শুঁটকি, আচার, মাংস কিংবা বিমানে দেওয়া ফল সঙ্গে নিয়ে আসেন, কিন্তু তা কাস্টমসে ঘোষণা করেন না। সিবিপি জানিয়েছে, এ ধরনের পণ্য ঘোষণা না করলে কয়েকশ ডলার থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। তবে আগে থেকেই ঘোষণা করলে অনেক ক্ষেত্রে শুধু পণ্যটি জব্দ বা ফেলে দিতে হয়, অতিরিক্ত জরিমানার মুখে পড়তে হয় না।

 

একইভাবে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি নগদ অর্থ, ট্রাভেলার্স চেক বা সমমানের আর্থিক দলিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তা অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে। আইন অনুযায়ী অর্থ বহন করা বৈধ হলেও ঘোষণা না করলে অর্থ জব্দ হওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 

ওষুধ আনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রেসক্রিপশন ছাড়া বা মূল লেবেলবিহীন অবস্থায় ওষুধ বহন করলে সেগুলো জব্দ হতে পারে। নিয়ন্ত্রিত ওষুধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

বিদেশ থেকে কেনা পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সীমার বেশি মূল্যের পণ্য নিয়ে প্রবেশ করলে তা সঠিকভাবে ঘোষণা করতে হয়। মূল্য কম দেখানো বা তথ্য গোপন করলে পণ্য বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি জরিমানা এবং গ্লোবাল এন্ট্রি সুবিধা বাতিল হতে পারে।

 

অভিবাসন সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ করা। অধিকাংশ নন-সিটিজেনকে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে USCIS-এ AR-11 ফর্মের মাধ্যমে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জানাতে হয়। এটি না করলে ভবিষ্যতের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

অনেক অঙ্গরাজ্যে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির বীমা ছাড়া গাড়ি চালালে কয়েকশ থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা, এমনকি লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

 

এছাড়া স্থানীয় ট্রাফিক আইন অমান্য, নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পার হওয়া সিটবেল্ট ব্যবহার না করা কিংবা অন্যান্য ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের জন্যও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আলাদা জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

কর দাখিলের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। যাদের কর দাখিল বাধ্যতামূলক, তারা নির্ধারিত সময়ে টেক্স রটার্ন জমা না দিলে আইআরএস বিলম্বজনিত জরিমানা ও সুদ আরোপ করতে পারে।

 

অনেক শহর ও কাউন্টিতে অনুমতি ছাড়া বাড়িতে নির্মাণকাজ, বেসমেন্ট সংস্কার বা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও স্থানীয় আইন অনুযায়ী জরিমানা হতে পারে। তাই কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তনের আগে স্থানীয় সিটি কর্তৃপক্ষের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।

 

এ ছাড়া পাবলিক স্থানে আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ স্থানে খোলা অ্যালকোহল পানসহ বিভিন্ন পৌর আইন ভঙ্গ করলেও অঙ্গরাজ্য ও শহরভেদে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন অভিবাসীদের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক মৌলিক আইন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কাছ থেকে তথ্য যাচাই করা। বিশেষ করে CBP কর্মকর্তাদের একটি প্রচলিত পরামর্শ হলো, "সন্দেহ হলে ঘোষণা করুন।" অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে তথ্য জানানোই ভবিষ্যতের বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি এড়ানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আবদুল এল-সায়েদ: ইতিহাসের দোরগোড়ায়।ছবি:সংগৃহীত
মিশিগানে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ; যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে জয় পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন প্রগতিশীল নেতা ও চিকিৎসক ডা. আবদুল এল-সায়েদ। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হবেন।   এনবিসি নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। ভোট গণনার প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হওয়ার সময় এল-সায়েদ পান ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট, আর স্টিভেন্স পান ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল প্রকাশের পর এ সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।   এই প্রাইমারি ছিল ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডেমোক্র্যাটিক সিনেট নির্বাচনের একটি। দলীয় প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া হেইলি স্টিভেন্সের বিপরীতে এল-সায়েদকে সমর্থন দেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের প্রভাবশালী নেতারা। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থন ও জোরালো প্রচারণার মাধ্যমে তিনি বিজয় অর্জন করেন।   ৪১ বছর বয়সী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় এবং স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় আলোচনায় পরিচিতি লাভ করেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বাস্তবায়ন, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ, অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান। এই অবস্থান তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে এবং প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন এনে দেয়।   মিশিগানে বাংলাদেশি ভোটারদের মতে, মিশিগানে আরব-আমেরিকান ও মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থন এল-সায়েদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে।   এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করতে পারলে আবদুল এল-সায়েদ শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরেরও বেশি রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হিসেবেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৯:২৪
জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে কাজ করা ব্রিটিশ মেকআপ শিল্পী আভা গিলিস।ছবি:সংগৃহীত

‘বার্বি’ ও ‘ব্রিজারটন’-এর মেকআপ আর্টিস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত! ২৬ বছরেই থেমে গেল সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার

অভিযানে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য সতর্কবার্তা: ১০টি সাধারণ ভুলেই গুনতে হতে পারে হাজার ডলারের জরিমানা

অস্ত্রধারী। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্ধারিত উপস্থিতির আগে ভেন্যুতে অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার, তদন্তে এফবিআই

অফিসে একজন কর্মী।ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাংলাদেশিদের জন্য কোন শহরে কাজ পাওয়া সহজ? প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গেলে অনেক অভিবাসীর প্রথম প্রশ্ন থাকে, কোন শহরে থাকলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে? চাকরি, বাসা, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল খাবার এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ এসব বিষয়ই নতুনদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন বাংলাদেশিদের জন্য কোন শহর সবচেয়ে উপযোগী, তা নিয়ে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রায় ৪৪ শতাংশই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। এ ছাড়া নিউ জার্সি, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ফ্লোরিডাতেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে, আর নিউ জার্সির প্যাটারসনও বাংলাদেশিদের অন্যতম পরিচিত আবাসস্থল।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কারণ এসব এলাকায় সাধারণত মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট, দেশি গ্রোসারি, কমিউনিটি সংগঠন এবং নতুনদের সহযোগিতার জন্য পরিচিত মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।   তবে কোনো শহরই সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, চাকরির সুযোগ, গণপরিবহন, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক প্রয়োজন, এসব বিষয় শহরভেদে ভিন্ন। ফলে একজনের জন্য আদর্শ কোনো শহর অন্যজনের জন্য একই রকম উপযোগী নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই নতুন অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, কোনো শহরে যাওয়ার আগে সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা জানা, স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও শহরের সরকারি তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় নতুন জীবন শুরু করা সবচেয়ে সহজ, এর নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই। তবে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ, এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখলে নতুন অভিবাসীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৭:২
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত

শেখ হাসিনার পতনের পেছনে ‘গ্যাং অব ফোর’? কী বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

আমেরিকার পাবলিক স্কুল।ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকার পাবলিক স্কুলে সন্তানের জন্য ৮টি ফ্রি সুবিধা, যা অনেক বাংলাদেশি অভিভাবক জানেন না

গ্যাং হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিউইয়র্কের মাউন্ট ভার্নন পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আদালতের বাইরে গ্যাং হামলার চেষ্টার অভিযোগে জড়ালেন

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা খেল স্পেসএক্স। ছবি: সংগৃহীত
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে ধাক্কা খেল স্পেসএক্স

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।    স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ৭৮১ কোটি ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। একই সময়ে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ৯ সেন্ট, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২৬ সেন্ট লোকসানের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কোম্পানির আয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের নিট লোকসান হয়েছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির লোকসান ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার। আয় বাড়লেও এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে।    কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্পেসএক্সের এআই বিভাগ থেকেও আয় এসেছে। কোম্পানির তিনটি প্রধান বিভাগ—মহাকাশ কার্যক্রম, সংযোগ সেবা এবং এআই বিভাগ—থেকে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।   তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মূলধনী ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৮৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমে যায়।    স্পেসএক্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্টারলিংক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এআই, মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বড় বিনিয়োগের বিপরীতে দ্রুত মুনাফা দেখাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২:৪৩
একা আসা প্রায় ২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে বার্ক ল’ গ্রুপ। ছবি: সংগৃহীত

২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর আইনি দায়িত্ব পেল ২৬ কর্মীর একটি আইন প্রতিষ্ঠান

দেউলিয়া হয়ে ৫ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা। ছবি: সংগৃহীত

দেউলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সফরের আগেই তার গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক, মিলল রাইফেল ও গুলি

0 Comments