‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব!’ মস্কো ও কিয়েভ সফরে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত
ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোয় পৌঁছে তারা রুশ পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার দুই দূত যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে গেছেন। একই সময়ে উইটকফ ও কুশনারের সফরকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের আকাশ হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি প্রস্তাবটির বিস্তারিত জানাননি। মস্কো এই পরিকল্পনায় কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত কি না, সে বিষয়েও তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি। রাশিয়ায় এটি উইটকফ ও কুশনারের তৃতীয় পরিচিত সফর। এর আগে তারা আরও দুইবার মস্কো সফর করেছেন। সর্বশেষ সফরটি হয়েছিল জানুয়ারিতে। তবে আগের দুই সফর থেকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, মস্কো সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার যুক্তি, এমন যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তি আনবে না এবং ইউক্রেনকে নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ দেবে। চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে পরে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এর জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পূর্বশর্ত তৈরি হয়নি।
মস্কো সফরের পর উইটকফ ও কুশনার রোববার ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনে এটিই তাদের প্রথম পরিচিত সফর হতে যাচ্ছে। কিয়েভে এই সফর নিয়ে প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। ইউক্রেনীয় প্রশাসন মনে করছে, মার্কিন দূতদের দেশটির পরিস্থিতি সরাসরি দেখার সুযোগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহ দেখাচ্ছে না এবং আগামী কয়েক মাসে হামলা আরও বাড়াতে পারে বলে কিয়েভের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সফর চলাকালে ইউক্রেন একতরফাভাবে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আকাশ হামলা চালাবে না। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো আকাশ হামলা হবে না এবং রাশিয়াকেও একই কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, উইটকফ ও কুশনার ইতোমধ্যে রুশ পক্ষের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিরিলো বুদানভ শনিবার বলেন, ইউক্রেন সামনের যুদ্ধক্ষেত্রেও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মস্কোর কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, উইটকফ ও কুশনারের রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরের পুরো সময় পারস্পরিক ও ব্যাপক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল কিয়েভ। এই প্রস্তাব আলোচনার বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে রুশ পক্ষের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্রেমলিন ও রুশ আলোচকদের কাছ থেকে এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, কুশনার ও উইটকফ যাতে সরাসরি বিমানে কিয়েভে পৌঁছাতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে রুশ বাহিনী রাতের বেলায় কিয়েভের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন দূতদের সরাসরি বিমানে কিয়েভে পৌঁছানো হলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই হতো কোনো বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রথম এমন সফর। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নিয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে রুশ আকাশসীমা নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিবর্তন করবেন।
বিমান চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, উইটকফ ও কুশনারকে বহনকারী বিমানটি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে প্রথমে হেলসিঙ্কিতে থামে। এরপর সেটি রাশিয়ার দিকে রওনা হয় এবং স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরের দিকে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ তাদের স্বাগত জানান। পরে মার্কিন দূতদের গাড়িবহর নিরাপত্তা যানসহ মস্কোর কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা যায়।
এর আগে ইউক্রেন বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা ও রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে বলেছিল, সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় রুশ আকাশসীমা অনিরাপদ হয়ে উঠছে। পুতিন এই পদক্ষেপকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার জন্য ভবিষ্যতে কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে বলে রাশিয়া ইউক্রেনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে।
তবে শুক্রবার রাশিয়ার একটি ড্রোন কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরে আঘাত হানে। ভবনটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর একটি এবং রাশিয়ার ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার কার্যালয়ও সেখানে রয়েছে। মস্কো ওই হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
উইটকফ ও কুশনারের মস্কো সফরের পর কিয়েভ সফর এবং দুই পক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনার ফলাফলের দিকে এখন নজর রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন দূতদের এই সফর শুরু হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত এবং পারস্পরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। ম্যাগাজিনের চিকিৎসক পরিচিতি পাতায় নেফ্রোলজি বিভাগে তাঁর নাম রয়েছে। টেম্পল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে টানা ছয় বছর তিনি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তালিকায় ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের ৩ হাজার ৮৬ জন চিকিৎসককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে টেম্পল হেলথের ২৯৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত নামের তালিকাতেও জিয়াউদ্দিন আহমেদকে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পাওয়া গিয়েছে। ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ‘টপ ডক্টর’ তালিকা তৈরিতে চিকিৎসকদের মনোনয়ন নেওয়া হয়। এরপর মনোনীত চিকিৎসকদের শিক্ষা, পেশাগত সুনাম, গবেষণা, হাসপাতাল ও শিক্ষকতার দায়িত্বসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে স্বাস্থ্যসেবা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যাসল কনলি। এটি পাঠকদের চিকিৎসক খুঁজতে সহায়তার জন্য প্রকাশিত একটি নির্বাচিত তালিকা। জিয়াউদ্দিন আহমেদ ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল নেফ্রোলজিতে চিকিৎসাসেবা দেন। টেম্পল হেলথের পরিচিতি অনুযায়ী, ডায়ালাইসিস, নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ এবং গুরুতর অবস্থায় কিডনি রোগের চিকিৎসা তাঁর কাজের ক্ষেত্র। ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের পরিচিতিতে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ ও কিডনিতে পাথরকেও তাঁর বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তালিকায় তিনি লুইস কাটজ স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন। টেম্পল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি রোগ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।
শিশু যৌন শোষণে এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে ইয়াতকোর, পুরস্কার ২৫ হাজার ডলার
অপারেশনের সময় অচেতন ভেবে রোগীকে বিদ্রূপ, অডিও রেকর্ড করে জিতলেন ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ
যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধের চিজ থেকে ই. কোলাই সংক্রমণে ১৩ জন অসুস্থ, ৯ রাজ্যে সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শহরে এককালীন অর্থের বিনিময়ে গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই রিসার্চ স্টাডিতে অংশ নিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তিরা পাবেন ১২৫ ডলার। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত হলে অতিরিক্ত ২৫ ডলার বোনাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে আগাম উপস্থিতির শর্ত পূরণ করতে পারলে একজন অংশগ্রহণকারীর মোট পারিশ্রমিক হতে পারে ১৫০ ডলার। তবে আবেদন বা নিবন্ধন করলেই অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে না। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার সেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে বস্টন, ম্যাসাচুসেটস; ডেট্রয়েট, মিশিগান; হনলুলু, হাওয়াই; আটলান্টা, জর্জিয়া এবং হোবোকেন, নিউ জার্সিতে। সেশনগুলো সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আয়োজনের কথা রয়েছে। আগ্রহীরা আবেদন করার পর উপলভ্য সময় অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের তারিখ ও সময় বেছে নিতে পারবেন। গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের স্বাভাবিক কথোপকথনে অংশ নিতে হবে। কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও ধারণ করা হতে পারে। এতে অংশ নিতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা, অভিনয়ের দক্ষতা কিংবা বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে অংশগ্রহণকারীদের ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে হবে এবং প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বিরতিতে স্বাধীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সক্ষমতা থাকতে হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে সেশন সম্পন্ন করলে অংশগ্রহণকারী ১২৫ ডলার পাবেন। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে উপস্থিতির শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত ২৫ ডলার দেওয়া হবে। অর্থ পরিশোধের জন্য হাইপারওয়ালেট ব্যবহার করা হবে। সমর্থিত পদ্ধতি অনুযায়ী পেপ্যাল, ব্যাংক ট্রান্সফার, ভেনমো অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় পেমেন্ট সেটআপ সম্পন্ন করতে হবে। এই গবেষণায় একা অথবা বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার সময় সঙ্গে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তির তথ্য নির্ধারিত রেফারেল সদস্যের অংশে দিতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তির ইমেইলে আলাদা আবেদনপত্র পাঠানো হবে এবং তাঁকেও আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। দুজনের আবেদন জমা দেওয়া হলে উপলভ্য সময় অনুযায়ী সেশনের তারিখ ও সময় নির্বাচন করা যাবে। একা অংশ নিতে চাইলে নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের তথ্য পুনরায় দিতে বলা হয়েছে। আবেদনকারীদের পূর্ণ নাম, যোগাযোগের নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়ার আগে অডিও ও ভিডিও ধারণের শর্ত, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। আগ্রহীদের জন্য আবেদনপত্র পূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আবেদন জমা দেওয়া মানেই গবেষণায় অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা নয়। অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে গবেষণার শর্ত ও উপলভ্য সময়ের ভিত্তিতে। তাই আবেদন করার আগে সব নির্দেশনা পড়ে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে নিবন্ধন ফর্মের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://whitney.telusdigital.com/registration-form?source=30
ফ্লোরিডায় পুলিশের জন্য উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন, ব্যবহারের অনুমোদন বাকি
২৮ অক্টোবর ফেডের সুদ বাড়লে চাপে পড়তে পারেন ৩১ লাখ বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী
শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য আগামী বছরও স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম দেখছে গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উচ্চ মর্টগেজ সুদ ও বাড়ির দামের চাপে ২০২৭ সালে আগে থেকে মালিকানায় থাকা বাড়ির বিক্রি আরও কমে ৩৯ লাখে নামতে পারে। এটি মহামারির আগের ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মর্টগেজের সুদ আবার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, আগে কম সুদে মর্টগেজ নেওয়া অনেক বাড়ির মালিকও বর্তমান বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়িতে যেতে চাইছেন না। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা, উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের খরচ। গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ রনি ওয়াকার ১৯ অক্টোবর গ্রাহকদের দেওয়া এক নোটে জানান, আগামী বছর বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সংকট বাজারের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি হতে পারে প্রায় ৪০ লাখ। আগামী বছরের পূর্বাভাস সেই সংখ্যারও নিচে। এই স্থবিরতার বড় কারণ পুরোনো ও নতুন মর্টগেজের সুদহারের ব্যবধান। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, বর্তমানে মর্টগেজ থাকা ঋণগ্রহীতাদের ৯৫ শতাংশের বেশি বাজারের চলতি হারের চেয়ে কম সুদ দিচ্ছেন। প্রায় ৬৫ শতাংশের সুদ চলতি হারের চেয়ে অন্তত ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। তাঁদের অনেকের জন্য বাড়ি বদলানোর অর্থ কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদে নতুন মর্টগেজ নেওয়া। এতে মাসিক কিস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাঁরা বিক্রির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। মর্টগেজ বাজার নিয়েও দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির হিসাবে, এক পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়ির জন্য মোট মর্টগেজ ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে আগামী বছর প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। এই হিসাবের মধ্যে বাড়ি কেনার ঋণ ও পুরোনো ঋণ রিফাইন্যান্স, দুটিই রয়েছে। তবে মোট মর্টগেজ ঋণ কমার পূর্বাভাস মানেই বাড়ি কেনার ঋণও একই হারে কমবে, এমন নয়। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৭ সালে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য সামান্য বাড়তে পারে। বড় পতনের আশঙ্কা রিফাইন্যান্সে, যেখানে ঋণের অর্থমূল্য প্রায় ১৭ শতাংশ কমতে পারে। তাদের মূল পূর্বাভাসে আগামী বছরও ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশের ওপরে থাকার কথা বলা হয়েছে।
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন
অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন