২১ বছরের দাম্পত্যে স্বামী সমকামী জানার পর বদলে গেল সম্পর্ক, সামনে এলো পুরোনো লক্ষণগুলো
তিন সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতার অভাব মেনে নিয়েছিলেন এক নারী। সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, বেশিরভাগ সময় তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই ছিল। তাই সংসার টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ঘাটতিকে মেনে নেওয়াই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি সন্তান তাদের দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হলেও পরিবার ও সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি তা মেনে নেন।
তিনি বলেন, সন্তানদের কথা মনে করিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন। তাদের সংসার বেশিরভাগ সময় ভালো থাকায় ঘনিষ্ঠতার অভাবকে তিনি জীবনের একটি মূল্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।
তার এই অভিজ্ঞতা মূলত দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে আবেগিক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ব এবং পরিবার টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত চাহিদা বিসর্জন দেওয়ার বাস্তবতা সামনে এনেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreতিন সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতার অভাব মেনে নিয়েছিলেন এক নারী। সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, বেশিরভাগ সময় তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই ছিল। তাই সংসার টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ঘাটতিকে মেনে নেওয়াই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি সন্তান তাদের দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হলেও পরিবার ও সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি তা মেনে নেন। তিনি বলেন, সন্তানদের কথা মনে করিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন। তাদের সংসার বেশিরভাগ সময় ভালো থাকায় ঘনিষ্ঠতার অভাবকে তিনি জীবনের একটি মূল্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। তার এই অভিজ্ঞতা মূলত দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে আবেগিক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ব এবং পরিবার টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত চাহিদা বিসর্জন দেওয়ার বাস্তবতা সামনে এনেছে।
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলা নিয়ে মায়ের আগ্রহ, পরে ২ বছরের ছেলে হত্যার অভিযোগ
ডেনমার্কসহ ৫ দেশের উদ্যোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসী ফেরানোর পরিকল্পনা ২০২৭ সালেই
“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বোহলালে এমফাহলেলে নারীদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ একটি ডিভাইস, যা দেখতে অনেকটা সাধারণ কানের দুলের মতো। ‘অ্যালার্টিং ইয়ারপিস’ নামের এই প্রোটোটাইপে রয়েছে এমন প্রযুক্তি, যা বিপদের সময় সম্ভাব্য হামলাকারীর ছবি ধারণ করে এবং আগে থেকে সংযুক্ত ডিভাইসে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। উদ্ভাবনটির জন্য তিনি এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টসে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও এমবেডেড সিস্টেমস বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক পান। লিম্পোপোর এসজে ভ্যান ডার মারভে টেকনিক্যাল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকাকালে এমফাহলেলে এই ডিভাইস তৈরি করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবপাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তার এই উদ্ভাবনের ধারণা আসে। সরকারি সংবাদমাধ্যম সাউথ আফ্রিকান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিভাইসটি কানের দুলের ভেতরে বসানো যায় এবং বিপদের সময় ছবি ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতে পারে। প্রযুক্তিটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, বাইরে থেকে এটি সাধারণ অলংকারের মতো দেখায়। কিন্তু এর ভেতরে থাকা ক্যামেরা ও সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপদের মুহূর্তে ব্যবহারকারী নীরবে সহায়তার সংকেত দিতে পারেন। ডিভাইসটি আগে থেকে নির্ধারিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ডিভাইসটি ইতোমধ্যে বাজারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে এটি একটি প্রোটোটাইপ। বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করতে ডিভাইসটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য সংযোগ ব্যবস্থা এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের মতো আরও কাজ প্রয়োজন। এমফাহলেলের উদ্ভাবন ইতোমধ্যে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষেরও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২০ সালে লিম্পোপোর শিক্ষা বিভাগের MEC পলি বোশিয়েলো তাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা একজন তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে প্রশংসা করেন এবং ডিভাইসটির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টস দক্ষিণ আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের অন্যতম বড় আয়োজন। সেখানে এমফাহলেলের প্রকল্পের স্বীকৃতি তার ধারণাটিকে স্কুলের বিজ্ঞান মেলার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আলোচনায় নিয়ে আসে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্ভাবনটিকে প্রোটোটাইপ থেকে বাস্তব পণ্যে রূপ দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং উৎপাদনের সক্ষমতা। এমফাহলেলের এই উদ্ভাবন তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়া স্কুল প্রকল্প নয়, বরং সামাজিক সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।
এক মাসে ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি! বিতর্কে নারী বললে এটা খুব নরমাল বিষয়
বন্ধুর দুই মেয়েকে বাঁচাতে গুলির সামনে দাঁড়ালেন, নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করলেন তাদের
রোগীর কষ্টকে 'অজুহাত' ভেবে অক্সিজেন ছাড়াই মাস্ক পরিয়ে দিলেন নার্স, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলার পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোই আবারও দ্বীপগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে জোরালো করেছেন। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের সবচেয়ে বড় অধ্যায় ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধের পরও আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে ভোট দেওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দ্রুত নিজের দেশের দাবির পক্ষে কাজে লাগান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলোই। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মিলোইয়ের সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আর্জেন্টিনা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অবৈধ বলে মনে করলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের অনুমোদন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া। মিলোইয়ের বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের সরাসরি হুমকি না থাকলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে আর্জেন্টিনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্প ও মিলোইয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মিলোই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মিলোইয়ের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্যও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং তারা ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকতে চায়। দ্বীপবাসীদের এই অবস্থানের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ব্রিটেনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফকল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আর হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি কখনো শেষ হয়নি। এখন ট্রাম্পের মন্তব্য, মিলোই সরকারের নতুন তৎপরতা এবং দ্বীপগুলোর সম্ভাব্য তেলসম্পদকে ঘিরে বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুরোনো এই ভূখণ্ডগত বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছেলে সেজে পড়াশোনা, আজ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানজনক দায়িত্বে জাহরা
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবার খেয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ, দেশজুড়ে ক্ষোভ