সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ইরানের তিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা, ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় তেহরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৩:২৬
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত পাঠানো ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত পাঠানো ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত জানিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

 

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও আলোচনায় বসার জন্য তেহরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে।

 

ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তেহরানের পক্ষ থেকে এসব শর্ত পূরণকেই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

রেজাই বলেন, ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হবে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের হুমকি দিয়ে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘস্থায়ী বা চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

 

ইরানের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো তেহরানের জানা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন বিমান হামলা মোকাবিলার জন্য ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত।

 

সাক্ষাৎকারে রেজাই সাম্প্রতিক একটি সামরিক পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে ইরান জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

 

রেজাই সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থের ওপর আরও শক্তিশালীভাবে আঘাত হানবে। তার বক্তব্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাই উঠে এসেছে।

 

এদিকে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান নয়, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধও শেষ করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। রেজাই বলেন, তেহরান ওই সংঘাতের অবসান চায়।

 

রেজাইয়ের দাবি, হুথিরাও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর বিষয়টিও ইরানের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

 

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে রেজাই বলেন, আলোচনার জন্য ইরানের অবস্থান ও শর্ত তাদের জানানো হয়েছে। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এখন তেহরানের দৃষ্টি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার দিকে। ইরানের দেওয়া শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান যোগাযোগের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের জবাবের ওপর।

 

সূত্র: আল জাজিরা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স
শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স

বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক জেফ্রি ডি. স্যাক্স। বারাণসীতে অনুষ্ঠিত ‘প্রাচীন প্রজ্ঞা ও আধুনিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বিশ্ব সিম্পোজিয়ামে বক্তৃতাকালে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হবে ভারত। সে সময় দেশটির জনসংখ্যাও চীনের দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বারাণসীর ওই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেফ্রি স্যাক্স বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে বিশ্ব এখন একটি বহুকেন্দ্রিক বা বহুমেরু যুগে (multipolar era) প্রবেশ করেছে। এই নতুন বাস্তবতায় বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সভ্যতা, স্বকীয় ধারণা, ইতিহাস এবং আত্মপরিচয়কে গভীরভাবে অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।   বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর একক কোনো অঞ্চল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো দেশ বিশ্বকে একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।   অর্থনীতিবিদ স্যাক্সের এই ভবিষ্যদ্বাণী বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও জনমিতিক গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখবে, বারাণসীর এই সম্মেলনে তার সেই তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নই তুলে ধরেছেন এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৩৩
বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত

বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত, জানাল নয়াদিল্লি

কানাডার কুইবেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখ টারবান ও মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ

কানাডার কুইবেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখ টারবান ও মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ

ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বন্ধুর ‘প্রেতাত্মা’, ২০ দিন পর থানায় গিয়ে হ ত্যার স্বীকারোক্তি

ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বন্ধুর ‘প্রেতাত্মা’, ২০ দিন পর থানায় গিয়ে হ ত্যার স্বীকারোক্তি

ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে হঠাৎ পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায়সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হঠাৎ পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা প্রচার টেলিভিশনে

ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে হঠাৎ পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায়সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশটির নাগরিকদের উদ্দেশে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে পাঁচটি নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরণের দিকে না তাকানো, নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়া, শরীর থেকে তেজস্ক্রিয় কণা পরিষ্কার করা এবং অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলে অবস্থান করা।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশনে এসব নির্দেশনা প্রচার করা হয়। পারমাণবিক বিস্ফোরণের তাৎক্ষণিক অভিঘাত থেকে আত্মরক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শ এড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রথম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে সরাসরি সেদিকে তাকানো যাবে না। দ্রুত শক্ত কোনো কাঠামোর আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে এবং নিচের দিকে মুখ করে শুয়ে থাকতে হবে। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট তরঙ্গ অতিক্রম না করা পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দ্বিতীয় নির্দেশনায় বিস্ফোরণের তরঙ্গ চলে যাওয়ার পর দ্রুত নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। ভবনের ভেতরে জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে। বিস্ফোরণের পর খোলা জায়গায় থাকা কিংবা ছবি তোলার জন্য বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশনাও রয়েছে।   তৃতীয় নির্দেশনায় শরীরে তেজস্ক্রিয় কণা লেগে গেলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে কন্ডিশনারবিহীন সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গোসল করা সম্ভব না হলে অন্তত মুখ, হাত এবং শরীরের খোলা অংশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।   চতুর্থ নির্দেশনায় পারমাণবিক হামলার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়স্থলে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ সময় অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পঞ্চম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হলেই পরিস্থিতি নিরাপদ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার আগে সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে আশ্রয় নেওয়া ভবনে আগুন লাগলে কিংবা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে চলে যেতে হবে।   ইরানের টেলিভিশনে হঠাৎ এসব নির্দেশনা প্রচারের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশটির কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট পারমাণবিক হামলার সতর্কতা জারি করেছে কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি।   সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১২:৭
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের খারাপ দিন আসছে, নির্বাচনের দিনে মার্কিনদের ধন্যবাদ দিয়ে ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মন্তব্য

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুর নতুন কৌশল, বৈঠকে বিরোধী নেতারা

ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে

ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে

বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর
সূর্য ও চাঁদ হিন্দুদের, ঈদ পালনে মুসলমানদের অনুমতি নিতে হবে: বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর

ভারতে মুসলমানদের ঈদ উদযাপনের আগে হিন্দুদের অনুমতি নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, সূর্য ও চাঁদ সনাতন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মুসলিম নেতারা।   সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল, এএনআই ও জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোপালের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রামেশ্বর শর্মা চাঁদের সঙ্গে হিন্দুধর্মের দেবতা শিবের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি, মুসলমানরাও চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেন। অথচ সেই চাঁদ সনাতন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।   বিজেপির এই বিধায়ক দাবি করেন, সূর্য ও চাঁদ সনাতন ধর্মের অংশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলমানরা যে চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেন, সেটিও সনাতন ধর্মের চাঁদ। এ কারণে ঈদ উদযাপনের সময় মুসলমানদের সনাতন ধর্মের প্রশংসা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   রামেশ্বর শর্মার বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসব পালনের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অনুমতি নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসায় সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।   মুসলিম নেতা আব্বাস হাফিজ এই বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, মুসলমানদের কি এখন নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য বিজেপির কোনো বিধায়কের অনুমতি নিতে হবে? তিনি বলেন, মুসলমানরা কখনো ঈদ পালনের জন্য এ ধরনের অনুমতির প্রয়োজন অনুভব করেননি। ভবিষ্যতেও নিজেদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করবেন।   ইসলাম ধর্মে চাঁদ দেখার সঙ্গে রমজান মাসের শুরু ও শেষ এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় নির্ধারণের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপিত হয়।   ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের স্বাধীনতা রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য অন্য কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুমতি নেওয়ার সাধারণ কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।   বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। জি নিউজের প্রতিবেদনে দলটির মুখপাত্র শাহওয়ার আলম বলেন, রামেশ্বর শর্মার বক্তব্যকে অন্যভাবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, ভারতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও উৎসবের সঙ্গে চাঁদ দেখার সম্পর্ক রয়েছে।   এদিকে, বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির মধ্যপ্রদেশ শাখার সভাপতি স্বামী অনিলানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে প্রাচীনকাল থেকেই চন্দ্র, সূর্যসহ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের পূজার প্রচলন রয়েছে।   সূত্র: এএনআই, মানিকন্ট্রোল, জি নিউজ

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৭:১৪
ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা

ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, বিপুল খাদ্যপণ্য নষ্ট

৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি

৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় নিতে নারাজ উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্টো হুশিয়ারি

ইন্দোনেশিয়ায় যমজ দুই বোনের একজন মুসলিম অন্যজন ক্যাথলিক

ইন্দোনেশিয়ায় যমজ দুই বোনের একজন মুসলিম অন্যজন ক্যাথলিক, ভিন্ন ধর্মেও অটুট ভালোবাসা

0 Comments