সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:৩৩
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের পরিবর্তে আফ্রিকার দেশে বহিষ্কারের পর আইনি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসী। তাদের কয়েকজনের দাবি, গন্তব্য দেশ সম্পর্কে তাদের আগে জানানো হয়নি এবং সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তাদের হাতে ছিল না। এ অবস্থাকে একজন অভিবাসী বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার ৩২ বছর বয়সী ইয়াসমানি মোরেনো দে আরমাস প্রায় ১০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। মিয়ামিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি তিনি একটি মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করছিলেন। অ্যাসাইলামের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা চলার মধ্যেই গত মে মাসে তাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর তাকে লুইজিয়ানার একটি কেন্দ্র থেকে বিমানে তোলা হয়।

 

মোরেনোর ভাষ্য, বিমানে ওঠার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার মতো আরও কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসীকেও একইভাবে সেখানে পাঠানো হয়েছে।

 

এই ধরনের বহিষ্কারকে ‘থার্ড-কান্ট্রি ডিপোর্টেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ কোনো অভিবাসীকে তার নিজ দেশের পরিবর্তে এমন একটি তৃতীয় দেশে পাঠানো, যার সঙ্গে তার নাগরিকত্ব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এ ধরনের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে।

 

আফ্রিকার দেশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ছাড়াও লাইবেরিয়া, ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশকে তৃতীয় দেশের গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়ানো এবং অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিশে অভিবাসীদের পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো আরেক কিউবান অভিবাসী অ্যারিস্টিদেস ফার্নান্দেজ গার্সিয়া জানান, তাদের কাছে সেখানে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বা কাগজপত্র নেই। তার দাবি, তারা দেশটির বাইরে যেতে পারছেন না। নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস বলেছে, মোরেনো ও এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলা অন্য অভিবাসীদের একটি নিরাপদ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সরকার আইন অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে অভিবাসীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

 

এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেয়, কোনো অভিবাসীকে তার সঙ্গে সম্পর্কহীন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত নোটিশ দিতে হবে এবং সেখানে নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা চ্যালেঞ্জ করার অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। আদালত ডিএইচএসের দ্রুত তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।

 

আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে তা না জানিয়ে তাকে আপত্তি জানানোর সুযোগ না দিলে সেই ব্যক্তির নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার আইনি অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। তবে ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের রায়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।

 

তৃতীয় দেশে বহিষ্কার নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার মতো তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশ সম্পর্কে আগাম নোটিশ, নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি অবস্থান—এই তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ

ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ভবনটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে এর চারপাশে মানববন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। ‘হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস’ আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অ্যারাউন্ড দ্য কেনেডি সেন্টার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হাত ধরে ভবনটির চারপাশ ঘিরে দাঁড়ান। আয়োজকদের দাবি, ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও বিদেশ থেকে ১ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন।   সূর্যাস্তের সময় বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের গে মেনস কোরাসও সেখানে গান পরিবেশন করে। ওয়ার্ল্ড প্রাইডের সময় কেনেডি সেন্টারে তাদের একটি পরিবেশনা বাতিল হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রটির বাইরে তাদের প্রথম পরিবেশনা। মানববন্ধনটি কেন্দ্রের আশপাশ থেকে প্রায় ওয়াটারগেট হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।    কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ। ট্রাম্পের নিয়োগ করা বোর্ড মঙ্গলবার কেন্দ্রটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার ভবনের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগে বাধা দেন এবং বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করা যাবে না।    এরপর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ভবনটি মেরামত না হলে শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে। বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তাকে এমন একটি প্ল্যাকার্ড দেখতে দেখা যায়, যাতে ‘কেনেডি সেন্টার ডেমোলিশড’ লেখা ছিল। ছবিটি এএফপির আলোকচিত্রী ধারণ করেন; তবে প্ল্যাকার্ডটি কোনো আনুষ্ঠানিক ধ্বংস পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি।    বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিচারক কুপার নির্দেশ দেন, কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তন—ধ্বংসের মতো কাজসহ—করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের কিছু অংশে কাঠামোগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নাম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মামলা এখনো চলমান।    এদিকে কেন্দ্রটি কর্মীসংকটে পড়েছে। শুক্রবার আরও প্রায় এক ডজন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কেন্দ্রটির বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে।    ফলে শুক্রবারের মানববন্ধন শুধু একটি ভবন বন্ধের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক-আইনি বিরোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভবনটির বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৫:০
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা

‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ। ছবি: সংগৃহীত

সান দিয়েগো মসজিদে হামলার পর হামলাকারীর আত্নহত্যা! এক বছর ছিলেন পুলিশের নজরে

হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা

সান ফ্রান্সিসকোতে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির তালিকায় ওঠা সেই বিরল ভাসমান বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭.৫ লাখ ডলারে বিক্রির তালিকায় বিরল ভাসমান বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির তালিকায় উঠেছে বিরল একটি ভাসমান বাড়ি। শহরের মিশন ক্রিক এলাকায় ওরাকল পার্কের কাছে থাকা মাত্র ২০টি হাউসবোটের একটি এটি। এসব ভাসমান বাড়ি সাধারণত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে হস্তান্তর হয়ে থাকে। ফলে প্রকাশ্য বাজারে এমন বাড়ির বিক্রি অত্যন্ত বিরল।   বিক্রির জন্য তোলা বাড়িটির মালিক টাইসন গ্রাহাম। তিনি ২০০২ সালে হাউসবোটটি কিনেছিলেন ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারে। তখন এটি ছিল মাত্র ৪০ ফুটের একটি নৌযান এবং ৪০ ফুটের নোঙর করার জায়গা। সামনে ও পেছনে দুটি ডেক থাকলেও বাড়িটির আয়তন ছিল ৩০০ বর্গফুটেরও কম।   শিকাগোর বাসিন্দা গ্রাহাম পরে নিজের শ্রম ও পরিকল্পনায় হাউসবোটটির ব্যাপক পরিবর্তন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তিনি ছোট নৌযানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি আবাসিক বাড়িতে রূপ দেন। বর্তমানে এতে রয়েছে তিনটি শয়নকক্ষ ও তিনটি বাথরুম।   হাউসবোটটি নির্মাণের সময় গ্রাহামের পরিকল্পনায় দুটি আলাদা আবাসিক ইউনিট রাখার বিষয়টি ছিল। ওপরের তলাটি তিনি আলাদা একটি ভাড়ার ইউনিট হিসেবে তৈরি করেছিলেন। আর নিচের তলাটি নিজের বসবাসের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন।   পরবর্তী সময়ে বাড়িটির ওপরের তলার সেই আলাদা ইউনিটটি পরিবর্তন করে একটি বড় মূল শয়নকক্ষে পরিণত করা হয়। সেখানে রয়েছে একটি বাথরুম এবং বড় আকারের পোশাক রাখার কক্ষ। এ পরিবর্তনের ফলে পুরো বাড়িটি এখন একটি বড় আবাসিক ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   মিশন ক্রিক এলাকায় থাকা হাউসবোটগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। গ্রাহামের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি হাউসবোট প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির জন্য উঠেছে। সেই তালিকায় থাকা তার বাড়িটির বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।   বিক্রয়মূল্যের বাইরে বাড়িটির মালিককে প্রতি মাসে নোঙর করার জায়গার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। তবে গ্রাহামের দাবি, এই মাসিক খরচ সান ফ্রান্সিসকো শহরের অধিকাংশ আবাসন মালিক সমিতির ফি থেকে কম।   পানিতে ভাসমান হলেও এই বাড়ির জীবনযাপন স্থলভাগের বাড়ির মতোই বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম। তার মতে, পানির ওপর অবস্থানের কারণে বাড়িটিতে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রবল বাতাসে বাড়িটি দুলতে শুরু করলে তখনই বোঝা যায় এটি পানির ওপর ভাসমান একটি বাড়ি।   এই হাউসবোটের সঙ্গে গ্রাহামের দীর্ঘদিনের বসবাসের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। তিনি জানিয়েছেন, ফেরি ভবনের কৃষকের বাজারে নৌকায় করে যাওয়া এবং চ্যানেল স্ট্রিটের এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় তিনি মিস করবেন।   গ্রাহাম প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করেছেন। বর্তমানে তার বাড়ি সানোমা কাউন্টিতে। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে অবসর জীবনের পরবর্তী সময় উপভোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।   নিজের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে গ্রাহাম জানিয়েছেন, তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তানও নেই, যে ভবিষ্যতে বাড়িটির দায়িত্ব নিতে পারে। কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়ার পর এখন জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাউসবোটটি বিক্রি করছেন তিনি।   সূত্র: সিবিএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১২:৭
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাকচালকদের কাজের সময় বাড়াল প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দামে জ্বালানি ট্রাকচালকদের ডিউটি ১৬ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রি-স্কুলে মেয়ের ভর্তির খরচ দেখে বিস্মিত ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনাল চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুলের ফি ৯ লাখ রুপি, যা মারুতি গাড়ির সমান, খরচ নিয়ে তুমুল আলোচনা

ওয়ালমার্টে হামলার শিকার হয়ে নিহত ৭৭ বছর বয়সী ক্রেতা বার্ট আতিয়েনজা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ওয়ালমার্টে শপিং কার্ট নিয়ে তর্কের জেরে কর্মীর বাবা-মায়ের মারধরে ৭৭ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মাথায় চাকরিচ্যুত। ছবি: সংগৃহীত
'চাকরিটা আমার দরকার ছিল’, নিউইয়র্কে 'হাইজিন সমস্যা’ দেখিয়ে নতুন চাকরিতে বরখাস্ত যুবক

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস স্মলস দাবি করেছেন, প্রায় সাড়ে নয় মাস বেকার থাকার পর পাওয়া নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তাকে জানানো হয়, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে ‘হাইজিন ইস্যু’ বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যা দেখেছে। তবে স্মলস এই কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, চাকরির আগের রাতে তিনি গোসল করেছিলেন, নতুন পোলো শার্ট পরে অফিসে গিয়েছিলেন এবং নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করেছিলেন।    স্মলসের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার পর একটি টেম্প এজেন্সির মাধ্যমে তিনি একটি এআই প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পান। সেখানে তার দায়িত্ব ছিল ‘পিপল অপস’ বিভাগে কাজ করা। নতুন চাকরিটি নিয়ে তিনি আশাবাদী ছিলেন। প্রথম দিন অফিসে গিয়ে সুপারভাইজারের কাছ থেকে কর্মস্থল ঘুরে দেখেন এবং পরে আরেক কর্মীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।   কয়েক ঘণ্টা অনবোর্ডিং ও প্রশিক্ষণের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। স্মলসকে স্বাভাবিক সময়ের আগেই লাঞ্চে যেতে বলা হয়। অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই টেম্প এজেন্সি থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার কাজের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করা হয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে ‘হাইজিন ইস্যু’ উল্লেখ করেছে কোম্পানি। স্মলসের দাবি, তাকে ঠিক কী ধরনের পরিচ্ছন্নতার সমস্যা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কোম্পানি বা এজেন্সির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।    এ ঘটনায় আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন স্মলস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চাকরিতে যাওয়ার আগে গোসল করার পাশাপাশি দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করেছিলেন এবং নতুন পোলো শার্ট পরেছিলেন। পরে নিজের পরিচিত কয়েকজনের কাছেও জানতে চান, তার শরীর বা পোশাক থেকে কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কি না। তারা এমন কোনো সমস্যা টের পাননি বলে তাকে জানান। স্মলস আরও বলেন, তার প্যান্টে হয়তো লিন্ট রোলার ব্যবহার করা দরকার ছিল, তবে এ ছাড়া নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না।    চাকরি হারানোর কারণ জানতে না পেরে স্মলস নিজের প্রথম দিনের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কী ঘটেছিল যার কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনার ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ‘হাইজিন ইস্যু’ আসলে কী ছিল, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।    ঘটনাটি স্মলস রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। সেখানে কেউ তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন, আবার কেউ ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে নিজেদের ধারণা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব মন্তব্যের কোনোটি কোম্পানির সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ হিসেবে নিশ্চিত নয়। স্মলস নিজেও বলেছেন, তিনি এখনো ঘটনার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাননি। কয়েক মাস ধরে চাকরি খোঁজার পর পাওয়া সুযোগটি প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে।    সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্মলস ওই আড়াই ঘণ্টার কাজের জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি টেম্প এজেন্সির পক্ষ থেকে তাকে নতুন কোনো কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্মলসের দাবি এবং কোম্পানির কথিত ‘হাইজিন ইস্যু’ এখনো তার ব্যক্তিগত বর্ণনার ওপরই নির্ভর করছে। কোম্পানির নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৯:২৯
গাড়ির গ্রিল থেকে উদ্ধার করা ৩ ফুট লম্বা বল পাইথন

গাড়ির গ্রিলের ভেতর ৩ ফুটের অজগর, আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্য

চিকিৎসার বদলে ‘ঘামিয়ে’ সুস্থ করার চেষ্টা, অপু ষ্টিতে শিশুর মৃ ত্যু

অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসা না দিয়ে ‘ঘামিয়ে’ সুস্থ করার চেষ্টা, অপুষ্টিতে ৩ বছরের শিশুর মৃ ত্যু

উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর তরুণীর মৃত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার

ঝগড়ার পর উবার থেকে নামিয়ে দেওয়া তরুণীর মৃ ত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার

0 Comments