সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়, ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করল ইরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৭:৪৯
বিপজ্জনক বর্জ্য’ উল্লেখ করে  ট্রাম্পকে  ব্যঙ্গ করল ইরান
বিপজ্জনক বর্জ্য’ উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়, চার ব্যক্তি ট্রাম্পকে তুলে একটি বড় ময়লার পাত্রে ফেলে দিচ্ছেন। পাত্রটির গায়ে লেখা রয়েছে ‘হ্যাজার্ডাস ওয়েস্ট’ বা বিপজ্জনক বর্জ্য। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে একটি হাসির ইমোজি দিয়েছে ইরানি দূতাবাস।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে  জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় সাফল্যের পরপরই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে হোয়াইট হাউসের সামনে চারজন স্যুট পরা ব্যক্তিকে ট্রাম্পের মতো দেখতে একটি চরিত্রকে বহন করতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিপজ্জনক বর্জ্য রাখার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়। তবে এটি বাস্তব কোনো ঘটনার ভিডিও নয়, বরং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র।

 

ইরানের দূতাবাসের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট ‘ইরান ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে শুধু লেখা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন’। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে ট্রাম্পের নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে ইরানের কড়া বিদ্রূপ হিসেবে দেখছেন। আবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে অন্য দেশের দূতাবাসের এমন প্রকাশ্য ব্যঙ্গের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

 

 এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। রিপাবলিকানদের এই পরাজয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং তার প্রভাবে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে, মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের উচিত এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া।

 

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে ইরান ইস্যুতে নিজের সিদ্ধান্তের গুরুত্বের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে আগামী দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট ও বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তেহরানের এমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্বাচনী পরাজয়ের ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ শেষ হচ্ছে না। তিনি নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

 

সংবাদসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে,  ভারতে ইরানের দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স পোস্ট।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে অ্যামচ্যাম মিয়ানমার। ছবি: সংগৃহীত
৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার, মুক্ত স্পেনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলাম

পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা প্রায় ৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন মিয়ানমার বা অ্যামচ্যাম মিয়ানমার। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা ইন্টারপোলের রেড নোটিসও বাতিল হয়েছে। স্পেনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনি জটিলতা কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিসফিট টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুমিনুল ইসলাম।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের বরাতে ইউএসনিউজ জানিয়েছে, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্পেনের বার্সেলোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছুটি কাটাতে স্পেনে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই বাংলাদেশি উদ্যোক্তা।   স্পেনের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ২৬ অক্টোবরের এক নথিতে জানায়, মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত ব্যবস্থাও বাতিল হয়।   এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অ্যামচ্যাম বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই মামলাটির সূত্রপাত। সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলো এবং সাবেক নির্বাহী পরিচালক অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইয়ে খাউং কিয়াওয়ের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। ওয়াশিংটনে লবিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ তৈরি হয়।   অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের বর্তমান বোর্ডের অভিযোগ ছিল, অনুমোদন ছাড়াই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৩ লাখ ডলারের লবিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এপি নিশ্চিত করেছে, মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ওয়াশিংটনে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী অর্থপ্রদানের তথ্য প্রকাশ করেছিল। মুমিনুলের দাবি, সম্পূর্ণ অর্থ তাঁর প্রতিষ্ঠানের মার্কিন কার্যক্রম থেকে পরিশোধ করা হয়েছিল।   মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ পরে স্পেনের বিচার বিভাগকে জানায়, বিদেশে অবস্থানকালে মুমিনুল মূলত প্রতিষ্ঠানের ইনভয়েস ও অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁর প্রত্যর্পণের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই স্পেনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।   এদিকে মুমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের কারণে তাঁকে ১৪ দিন আটক থাকতে হয়েছে এবং দুই শিশুকন্যার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। এতে তাঁর পরিবার মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামহানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট অ্যামচ্যাম কর্তৃপক্ষ ও বোর্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন এই উদ্যোক্তা।   মুমিনুলের মতে, তাঁর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ইন্টারপোল জানিয়েছে, মামলার বিস্তারিত তথ্য মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও মামলার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করেননি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:৫৩
ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংক ও রক্তসংগ্রহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংকে সাইবার হামলা, রক্ত সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে রোগী ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে পদত্যাগ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে ৬৯ জন নিহতের ট্রেন দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ করলেন পরিবহনমন্ত্রী

বিপজ্জনক বর্জ্য’ উল্লেখ করে  ট্রাম্পকে  ব্যঙ্গ করল ইরান

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়, ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করল ইরান

ব্রিটেনে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি রাইহানা
সপ্তাহে ৬০০ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে ব্রিটেনে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি রাইহানা

যুক্তরাজ্যে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ জনের বেশি মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রাইড অব ব্রিটেন’ পুরস্কারের আঞ্চলিক সম্মাননা অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সমাজসেবী রাইহানা আহমেদ। খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং খাবারের অপচয় রোধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৬ সালের লন্ডন ও হোম কাউন্টিজ অঞ্চলের ‘রিজিওনাল ফান্ডরেইজার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন।   রাইহানা আহমেদের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের আহমদনগর গ্রামে। যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা তৃতীয় প্রজন্মের এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর বাবা মজির উদ্দিন আহমেদ স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাবার মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া রাইহানা বর্তমানে ইংল্যান্ডের হার্টফোর্ডশায়ারের সেন্ট অ্যালবানস এলাকায় বসবাস করেন। তিনি দুই সন্তানের মা।   ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম লকডাউনের সময় স্বামী আলের সঙ্গে অসহায় প্রতিবেশীদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন রাইহানা। নিজেদের বাড়ি থেকে শুরু হওয়া সেই কার্যক্রম ধীরে ধীরে বড় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে পরিণত হয়। পরে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি’, যা এখন শত শত মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   রাইহানার নিজের জীবনেও একসময় আর্থিক সংকট এসেছিল। গর্ভাবস্থায় গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি কাজ করতে পারেননি। একই সময়ে তাঁর স্বামীও চাকরি হারিয়েছিলেন। তখন পরিবারের সহায়তায় কঠিন সময় পার করেন তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সামর্থ্য ফিরে পেলে অন্যদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন রাইহানা।   বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি প্রতি সপ্তাহে ৬০০ জনের বেশি মানুষকে খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে। স্থানীয় সুপারমার্কেট, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়। জরুরি খাদ্যসামগ্রীর বাক্স, তাজা ফলমূল, শাকসবজি ও রান্না করা খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   সংগঠনটির কার্যক্রমে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তায় খাবার সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশাপাশি অসুস্থ, বয়স্ক এবং চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের বাড়িতেও খাবার পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবীরা।   রাইহানা মনে করেন, অভাবী মানুষের আত্মসম্মান বজায় রেখে সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁর পরিচালিত কমিউনিটি ফ্রিজ থেকে খাবার নিতে দীর্ঘ আবেদনপ্রক্রিয়া বা পরিচয় প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি খাবারের অপচয় কমানো এবং পরিবেশ রক্ষাকেও গুরুত্ব দেন তিনি।   সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডের লন্ডন ও হোম কাউন্টিজ অঞ্চলের সম্মাননা পেয়েছেন রাইহানা। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব দিয়েছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের। তাঁর মতে, এত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়, এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।   সিলেটি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদের এই অর্জন ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানবিক ও সামাজিক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   সূত্র: সেন্ট অ্যালবানস টাইমস, স্মল গুড থিংস

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৭:৩১
একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

পিটারববরোর ক্যাবচালক শফিক আহমেদ

বিপদে পড়া নারীকে সাহায্য করে ব্রিটেনে ‘ট্যাক্সি হিরো’ হলেন বাংলাদেশি শফিক আহমেদ

তেহরানে ‘ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা বিশাল বিলবোর্ড

তেহরানে ‘ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা বিশাল বিলবোর্ড, প্রতিশোধ চায় ইরানিরা

স্পেনে সহিংস বিক্ষোভ সংগঠনের অভিযুক্ত পাকিস্তানি তরুণ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
স্পেনে সহিংস বিক্ষোভ সংগঠনের অভিযুক্ত পাকিস্তানি তরুণ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ, দোকানপাটে সংঘবদ্ধ লুটপাট ও ভাঙচুর সংগঠনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি তরুণ আয়িজ আফজাল আনোয়ারকে (২০) জামিন ছাড়া বিচারপূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক। তাঁকে স্পেনের ব্লোকুস (Blocus) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আড়ালে সহিংস কর্মকাণ্ড সংগঠিত করতে টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনা করতেন তিনি।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের সিভিল গার্ড ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশের পিকানিয়া এলাকা থেকে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একাধিক টেলিগ্রাম গ্রুপ তৈরি ও পরিচালনা করেছেন, যেগুলো ব্যবহার করে সহিংস বিক্ষোভের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধভাবে দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের সমন্বয় করা হতো। তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নামে এসব অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সংগঠিত করা হতো। বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো কর্মকাণ্ডে এসব গ্রুপের ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।   গ্রেপ্তারের পর আনোয়ারকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে জামিন ছাড়া বিচারপূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দেন বলে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে। তবে বিচারপূর্ব আটক রাখার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। আদালতে বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁর অপরাধের দায় নির্ধারিত হবে। স্পেনের সিভিল গার্ডের ৩০ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা টেলিগ্রামের একাধিক গ্রুপের সঙ্গে সন্দেহভাজন তরুণের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেছেন। কিছু গ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন গ্রুপ খোলা হয়েছিল। তদন্তে বার্তা মুছে ফেলা এবং যোগাযোগ আরও গোপন রাখার চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ অক্টোবর বার্সেলোনায় সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে এই তদন্তের যোগসূত্র রয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ৫০০ জন অংশ নিয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা ও স্পেনের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড সংগঠনের প্রস্তুতি চলছিল। ৩১ অক্টোবর নতুন কর্মসূচির আগেই সন্দেহভাজন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর ভ্যালেন্সিয়ার টরেন্ট এলাকার আদালত অভিযুক্ত তরুণকে জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কারাগারে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যায় এমন কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিভাইসে তাঁর প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ ও সিভিল গার্ডের যৌথ তদন্তে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছিল।   স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার থাকলেও এর আড়ালে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লোকুস আন্দোলনকে ঘিরে তদন্ত এখনো চলছে।   সূত্র: স্পেনের সিভিল গার্ড, ইএফই, ইউরোপা প্রেস, আরটিভিই এবং লা গাসেতা।        

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১:৩৯
টেক্সাসে ৩২ বছরের পরাজয়ের ধারা ভেঙে সিনেটে জয়ী ডেমোক্র্যাট টালারিকো

টেক্সাসে ৩২ বছরের পরাজয়ের ধারা ভেঙে সিনেটে জয়ী ডেমোক্র্যাট টালারিকো

শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স

শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স

বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত

বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত, জানাল নয়াদিল্লি

0 Comments